গৌরনদী সংবাদ

বাংলাদেশের ছয় যুবক নয় মাস যাবত ভারতের চেন্নাই জেলে

অভাব অনাটনের আট সদস্য পরিবারের এক মাত্র অবলম্বন সাইফুল ইসলাম জাহারুল কবিরাজ (৩৪)। বিদেশ নামে সোনার হরিন ধরতে গিয়ে তিনি আদম ব্যাপারীর প্রতারনায় শিকার হয়ে দীর্ঘ নয় মাস যাবত ভারতের তামিলনাডু প্রদেশের চেন্নাই জেল খানায় রয়েছেন।

তার সাথে একই ভাবে প্রতারিত হয়ে আরো পাঁচ জন যুবক কারাভোগ করছেন।

প্রতারিত যুবকদের পরিবারবর্গ সহায় সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসেছেন।

পরিবারবর্গদের দাবি বোম্বে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনার অফিস থেকে আটককৃতদের সনাক্ত করা হলেই জেল খানা থেকে মুক্তি পায়।

এসব অসহায় পরিবারের লোকজন প্রধান মন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বেজগাতি গ্রামের প্রতারিত সাইফুল ইসলাম জাহারুল কবিরাজের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘একই ইউনিয়নের রামসিদ্ধি গ্রামের নাসির উদ্দিন কারিকরের পুত্র মন্নান কারিকরের সাথে আমার স্বামী জাহারুল ও ভাই পলাশ মৃধাকে ভাল চাকুরি দিয়ে সৌদি আরব নেয়ার জন্য দশ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমরা জমি ও ব্যাংক লোন ও নগদ ধার দেনা করে দশ লক্ষ টাকা আদম ব্যাপারীর হাতে তুলে দেই।

আমার স্বামী ও ভাইকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে গত বছর ২০ মে বিমান যোগে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে নানা তালবাহানা করে সময় নষ্ট করেন আদম ব্যাপারী মন্নান। এক পর্যায়ে আদম মন্নান ও তার সহযোগীরা ভারতীয় জাল পাসর্পোট ও ভিসা দিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি তামিলনাডু প্রদেশের চেন্নাই এয়ারপোর্ট দিয়ে আমার স্বামীকে (জাহারুল) সৌদি আরব পাঠানোর চেষ্টা করেন। এসময় এয়ার পোর্টের ইমিগ্রেশন পুলিশ জাহারুলসহ ছয়জনকে আটক করেন। পরবর্তীতে আটককৃতদের চেন্নাই সিংগালপোর্ট ক্যাম্পে প্রেরন করা হয়।

প্রতারিত জাহারুলের শ্যালক পলাশ মৃধা জানান, এক পর্যায়ে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বিষয়টি তার পরিবারবর্গদের জানালে পরিবারের লোকজন আদম ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে মন্নানের বসত ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান।

আদম ব্যাপারীর খপ্পড়ে পরে চেন্নাই সিংগালপোর্ট ক্যাম্পে আটককৃত অন্যান্যরা হলেন সাভারের কুনারচর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন, বগুড়া জেলার সরপুর থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের আ. পোরা মানিকের ছেলে মো. রব্বানী, বিবাড়িয়া জেলার বাঞ্জারামপুর থানার দিদারকান্দি গ্রামের রাজ্জাক মোল্লা’র ছেলে নুর আবেদ্দীন, যশোর জেলার হউদায়ীনগর থানার দুলগ্রামের জিনদার বিশ্বাসের ছেলে সফিকুল ইসলাম বিশ্বাস ও ঝিনাইদা জেলার কালীগঞ্জ থানার চিল্লা গ্রামের হোসেন মোল্লা’র ছেলে ইসমাইল মোল্লা।

অভিযোগের ব্যাপারে আদম ব্যাপারী মন্নান কারিকরের একাধিক মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম মুঠো ফোনে বলেন, ‘আমার স্বামী আটককৃতদের মুক্তি করে সৌদি পাঠানোর চেষ্টা করছেন।’

সাইফুল ইসলাম জাহারুল কবিরাজ মুঠো ফোনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও বোম্বে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনার অফিস থেকে আমাদের সনাক্ত করা হলেই আমরা জেল খানা থেকে মুক্তি পাই। আমাদের সাথে অন্যান্য দেশের আটককৃত নাগরিকদের তাদের স্ব-স্ব দেশের হাই কমিশনালের লোকজন সনাক্ত করে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা দীর্ঘ দিন যাবত জেলে পরে রয়েছি।’

সাভারের কুনারচর গ্রামের আটককৃত বাবুল হোসেনের পিতা জামাল উদ্দিন মুঠো ফোনে বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ফিরে পেতে প্রধান মন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মো. মাহে আলম মুঠো ফোনে বলেন, ভারতের জেলে আটককৃত সাইফুল ইসলামের ঠিকানা যাচাই বাচাই করে প্রতিবেদন গত ৭ আগষ্ট ঢাকা বিশেষ শাখায় (এসবি) ফ্যাক্সের মাধ্যমে প্রেরন করেছি (যার স্বারক নং ২৫৫৩)।’

Tags

আরও সংবাদ...

Back to top button