আন্তর্জাতিক

‘শেষ যৌবন’ নামে আমার কোন বই নেই: তসলিমা নাসরিন

বইয়ের নাম ‘শেষ যৌবন’। প্রচ্ছদে আমার ছবি। লেখকের নাম আমার নাম। কিন্তু বইটি আমার লেখা নয়। কে লিখেছে বইটি আমি জানিনা। কে প্রকাশক জানিনা। বইটি বিক্রি হচ্ছে ঢাকার ফুটপাথে, বইয়ের দোকানে। পাঠক যেন বিশ্বাস করে এটি আমার বই, তাই আমার কোনো বই থেকে দু’একটি নারীবাদী কলাম নিয়ে বইটিতে ঢোকানো হয়েছে। সেই নারীবাদী কলাম–যেখানে স্তন,নিতম্ব,ধর্ষণ,যৌনবস্তু, সেক্সিসম শব্দগুলো আছে। ওই শব্দগুলো থাকা মানে তারা ধরে নেয় কলামটা পিওর পর্ন। এ যে নারীর sexual objectification এর বিরুদ্ধে একটি লেখা, তা বোঝার তাদের সাধ্য নেই। আর, ‘সেক্সিসম’কে অবশ্য বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক সেক্স বা নারী পুরুষের সঙ্গম বিষয়ক কোনো শব্দ ভেবে বিষম উত্তেজিত বোধ করে। নিজেদের পঁচানব্বই পাতা নোংরা লেখার সঙ্গে আমার পাঁচ পাতা ভালো লেখা –লেখার মাথামুন্ডু না বুঝে জুড়ে দিয়ে, আমার নাম দিয়ে বিক্রি করে বিকৃত যৌনানন্দ লাভ করে।

নোংরা বইএর লেখকের জায়গায় আমার নাম বসিয়ে বই বিক্রি করা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এ পর্যন্ত আমি তিরিশটিরও বেশি বই দেখেছি যে বইগুলোর লেখক হিসেবে ছাপা হয়েছে আমার নাম, কিন্তু যে বইগুলো আমার লেখা বই নয়। সম্ভবত বাজারে আরও বেশি বই বেরিয়েছে যার খবর আমি জানি না।

আমার বইয়ের পাইরেসি বহুকাল থেকেই বেরোচ্ছে। পাইরেসির কারণে বইয়ের রয়ালটি থেকে আমি বঞ্চিত হই। কিন্তু তারপরও ওই বইগুলো খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, যত ক্ষতিকর আমার নামে আমার না লেখা কোনও বই বের হওয়া, এবং তা বাজারে বিক্রি হওয়া, এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কারও কোনও উদ্যোগ না নেওয়া।

আমার ঠিক কতটুকু ঘৃনা পাওয়ার উপযুক্ত এরা জানিনা। আজকাল এমন হয়েছে, নোংরা লোকদের নোংরা কাজ দেখে মোটেও আর অবাক হই না। বরং নারীবিদ্বেষী মুর্খ সমাজ্টায় কেউ ভালো কিছু করলেই চমকে উঠি।

লেখাটি লেখিকার ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button