গৌরনদী সংবাদ

স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ তাই মন্দিরে নেয়া হচ্ছে ক্লাশ!

স্কুল ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হচ্ছে পাশ্ববর্তী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে। ফলে ক্রমেই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ঝড়ে পড়তে শুরু করেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিদ্যালয়টি পূর্ণনির্মানের নেই কোন উদ্যোগ। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার মধ্য চাঁদশী গৌরচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার দত্ত জানান, ১৯৭২ সালে হিন্দু অধুষ্যিত মধ্য চাঁদশী গ্রামের অজপাড়া গাঁয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৩-১৯৯৪ ইং অর্থবছরে স্কুলের নতুন ভবন নির্মান করা হয়।

শুরু থেকেই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে শতভাগ পাশ করে এলাকায় সুনাম অর্জন করলেও আজো স্কুলের নানাবিধ সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।

স্কুল প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পরে আজো স্কুলের সম্মুখ ও সন্নিকটের ডোবা ভরাট করে নির্মিত হয়নি কোন খেলার মাঠ। ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ডোবায় পরে দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।

সূত্রমতে, বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ১৫২জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিকাশ গোস্বামী জানান, বিগত দেড় বছর পূর্বে বিদ্যালয়ের পুরো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরে। বর্ষা মৌসুমে ছাঁদ দিয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের বই খাতা ও স্কুলের কাগজপত্র ভিজে একাকার হয়ে যায়।

সম্প্রতি ভবনের একাধিক কক্ষের পলেস্তারা খসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন। এরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে অদ্যবর্ধি পাশ্ববর্তী দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত দে জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মান ও ডোবা ভরাট করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন সুফল মেলেনি।

এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য’র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button