বরিশাল

এ দেশে কি বিচার আচার নাই? ধনী মাইনসেরা আইন আদালত কিন্যা নিছে?

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করলেন একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় একটি বসত বাড়ী উচ্ছেদ করে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতের নেজারত শাখার জারি কারক (চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী) হেমায়েত খান নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ২ শতক জমি উচ্ছেদের নামে উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের কুলসুম বিবি (৭০) নামের এক অসহায় বৃদ্ধা মহিলাকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি কুলসুম বিবির ৩১ শতক জমি ওই গ্রামের  সাবেক সাব-রেজিস্টার মোঃ শাহজাহান মৃধা নামের একজন বিত্তবান ব্যক্তির দখলে এনে দিয়েছেন। বৃদ্ধার সম্পত্তি দখলের পর অবৈধ দখলদাররা সেখানে শাক-সবজি চাষ করেছেন। অপর দিকে ঘর-বাড়ী ও সহায়-সম্বল হারিয়ে বৃদ্ধা কুলসুম এখন দিশেহারা । নিরুপায় হয়ে তিনি রাস্তার ওপর খুপরি তৈরি করে তাতে কোনমতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা চান।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,আগৈলঝাড়া উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের মোতাহার হাওলাদারের স্ত্রী কুলসুম বিবি তার বৃদ্ধ বাবা আছর উদ্দিনকে দেখা শুনার জন্য স্বামী-সন্তান নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন যাবত বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বাবা মারা যাবার পর তিনি পৈত্রিক সূত্রে মোল্লা পাড়া মৌজার এসএ ২৬৩ নং খতিয়ানের ২৬১৬ নং দাগের বাবার রেখে যাওয়া ৩১ শতক জমির মালিক হন।

সোমবার সকালে কুলসুম বিবির সাথে কথা হয় সাহেবের চর-মোহনকাঠী সড়কের পাশে তার তৈরি করা খুপরিতে। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, সাব-রেজিস্টার মোঃ শাহজাহান মৃধা তার লোকজন ও পুলিশ লইয়া  মোর বাড়ী-ঘর ভাইঙ্গা পোতায় হোউর‌্যা বুনাইছে। এ দেশে কি বিচার আচার নাই? ধনী মাইনসেরা আইন আদালত কিইন্যা নিছে, হেগো বিচার হয়না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৩ নভেম্বর সকালে আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতের নেজারত শাখার জারি কারক (চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী) হেমায়েত খান ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ২ শতক জমি উচ্ছেদের নামে তার বসত ঘর ও রান্না ঘর ভেঙ্গে ঘরের মালামাল ও আসবাবপত্র তছনছসহ দুটি পুকুর উচ্ছেদ করেন।

জানা গেছে, আদালতের আদেশে মাত্র দুই শতক জায়গা উচ্ছেদ করার কথা উল্লেখ করা  হয়। জারি কারক হেমায়েত খান ঘটনার দিন আগৈলঝাড়া থানায় এসে উচ্ছেদ কাজ পরিচালনার জন্য পুলিশ সহায়তা চান। এ সময় আগৈলঝাড়া থানার এস আই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে  ৭/৮ জন ফোর্স উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, আদালত জারী কারককে আইনি সহায়তা প্রদান করার জন্য আমাকে  নির্দেশ দিলে আমি তা পালন করি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমেনার আদালত দক্ষিণ মোল্লা পাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার শাহজাহান মৃধা অনুকূলে ২ শতক জমি ডিক্রির রায় ও পরর্তিতে উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি উচ্ছেদ বাস্তবায়ন করার জন্য একই আদালতের নাজিরকে নিদেশ প্রদান করেন। কিন্তু নাজিরের পরিবর্তে নেজারত শাখার জারি কারক হেমায়েত খান ২ শতক জমি উচ্ছেদের স্থলে সুচতুর শাহজাহানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ৩১ শতক জমি উচ্ছেদ করিয়ে দেন। এ সময় ঘরে থাকা চাল ডালসহ খাবার দ্রব্যাদি পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।  তবে উচ্ছেদ পরিচালনার আগে কুলসুম বিবিকে কোন নোটিশ প্রদান করা হয়নি।

এদিকে গত ২৬ নভেম্বর কুলসুম বেগম বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাহজাহান মৃধাসহ ১০ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়টি নিয়ে আগৈলঝাড়া সহকারী আদালতের জারী কারক হেমায়েত খানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়ার কথা অস্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে নেজারত শাখার নাজির জালাল আহম্মেদের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান। তবে নাজিরের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে বরিশাল জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী দেবজিৎ ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন জারী কারক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ নির্দেশের নোটিশ বাদী বিবাদীর কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। কিন্তু একজন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতিরেকে কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হতে পারেনা বলে তিনি জানান।

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button