বরিশাল

“কখনও আর ফেলে যাবনা’’ ২ শিশু কন্যা ফেলে নিখোঁজ রানা প্লাজার নারী শ্রমিক মায়ের অঙ্গিকার

দুই কন্যা এক সপ্তাহ নিখোজ থাকার মঙ্গলবার দেখা মিলল মায়ের। ৩০ নভেম্বর নগরীর রসুলপুর এলাকা থেকে সানজিদা (৯) ও সনিয়া (৪) বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় অফিস গত রোবার উদ্ধার করে নগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করে। স্ব-শরিরে হাজির হয়ে সন্তানকে আর ফেলে যাবেন না এমন অঙ্গিকার করে নিজের কাছে নিলেন মা।

মঙ্গলবার বিকেলে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে দুই শিশুকন্যা হস্তান্তরকালে  উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড  অফিসার গোলাম কবির, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আইন সহায়তা কেন্দ্রের বিভাগীয় প্রধান এ্যাড. মুনিরা বেগম, রুরাল আরবান চাইল্ড মাইগ্রেশন-লিংক প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মাসুক কামাল, উপ পরিদর্শক লিজা, সহকারী উপ পরিদর্শক চম্পা প্রমুখ।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আইন সহায়তা কেন্দ্রের বিভাগীয় প্রধান এ্যাড. মুনিরা বেগম বলেন, গত ২৬ নভেম্বর রসুলপুর এলাকার রসুলপর কমিউনিটি তথ্য কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক লিনা বেগম আমাদের ঐ শিশুর তথ্য জানালে আমরা দুই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখি এবং শিশুদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা অভিভাবকদের খোজখবর করতে থাকি। মঙ্গলবার শিশুদের মা পারভিন ফিরলে এলাকাবাসি আটক করে আমাদের অফিসে নিয়ে আসি। সেখানে কাউন্সিলিং এর পর মেয়েদের ফেলে আর না যাওয়ার শর্তে ও অঙ্গিকারের মাধ্যমে আমারা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে  মায়ের কাছে হস্তান্তর করি। আমরা এ পরিবারের উপর নিয়মিত মনিটরিং করব। উদ্ধারকৃত শিশুদের মধ্যে সানজিদা আমাদেও রুরাল আরবান চাইল্ড মাইগ্রেশন-লিংক প্রকল্পে ঝুঁকিপুর্ন শিশু হিসেবে নিবন্ধিত। তার নিবন্ধন ৫৩৬৩৮।

নিখোজ হওয়া নিয়ে মা পারভিন বেগম জানান, দেনার দায়ে দিশেহারা হয়ে বড় মেয়ে সহ মৃত স্বামীর বাড়ির সম্পত্তির দাবী নিয়ে মনপুরা গিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। প্রথম মাহফুজ ওরফে মামুন মারা গেলে ২য় স্বামী মানিক হাওলাদার কে বিয়ে করে কিন্তু সেও খোজ খবর নেয় না। এরমধ্যে প্রথম সংসারে মীম (১৩) ও সানজিদা (৯)। ২য় সংসারে সনিয়া (৪) নামের একটি সন্তান বয়েছে। সানজিদা বলেন, তার মা এক এক সময় এক স্থানে থাকে। প্রথমে ঢাকা রানা প্লাজা গার্মেন্টেসে চাকুরী করত। পরে দাদার বাড়ি ভোলা মনপুরায়। এরপর চরফ্যাশনে, ফুফু বাড়ি পিরোজপুরে, তারপর নানা বাড়ি শায়েস্তাবাদ কামারপাড়া গ্রামে। সর্বশেষ রসুলপুর এলাকায় হিরু বেগমের ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এর আগেও পিরোজপুর বসে সানজিদা ও সনিয়াকে রেখে তার মা এভাবে চলে গিয়ে ছিল।

শিশু মেয়েকে এবাবে ফেলে যায় কেন? এমন প্রশ্নে পারভিন বলেন, ছোট মেয়েরা বলতে থাকে এটা ওটা কিনে দাও। আমার বর্তমান স্বামী আামার খোজ নেয় না। মেয়েদের নিয়ে আমি খুব কষ্টে দিনাপাত করছি। অনেক দায়-দেনা হয়ছিল কোন পথ না থাকায় আমি আমার মৃত স্বামীর বাড়ি কিছু টাকার জোগার করতে গেছিলাম। একদিনের মধ্যেই ফিরতে চাইছিলাম কিন্তু টাকার জোগার না হওয়ায় ফিরতে দেরী হইছে। আমাকে মাফ কইরা দেন। আমি আর মেয়েদের ফেলে যামু না।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply