সারা বাংলা

ভুল আইনে বিচার : ভুক্তভোগীকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ

ধর্ষণের এক মামলায় ১৫ বছর আগে ‘ভুল আইনে’ বিচার করায় ভোলার চরফ্যাশনের আব্দুল জলিলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন  হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জলিলের করা জেল আপিল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এই রায় দেয়।

আজ ‍বুধবার ওই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর আদালতের আদেশের বিস্তারিত জানা যায়।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, জলিলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচার করে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে জলিল বিচারের বদলে অবিচারের শিকার হয়েছে। তাই জলিলের দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো। তবে জীবন থেকে ১৪ বছর পার হওয়ায় আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক আসামি আব্দুল জলিলকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করাই যুক্তিযুক্ত।

তাই আদালত আসামি আব্দুল জলিলের জীবনের ১৪টি বছরের বিনিময়ে রাষ্ট্রপক্ষকে দণ্ডপ্রাপ্ত জলিলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করার আদেশ প্রদান করছে। রায়ে আদালত বলেছে, যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল জলিলের দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো, সেহেতু অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার না থাকলে আবদুল জলিলকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

জানা যায়, ২০০১ সালের এক ধর্ষণের ঘটনায় আব্দুল জলিলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিচারিক আদালত। সে সময় তার বয়স ১৫ বছর হলেও ওই মামলার বিচার চলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল জলিল আপিল করেন। কিন্তু হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আপিল নিস্পত্তি করতে গিয়ে দেখেন, ঘটনার সময় জলিলের বয়স ছিল ১৫ বছর। মামলার চার্জশিটেও তা উল্লেখ ছিল। ফলে আদালত ওই সাজা বাতিল করে নাবালক হিসেবে জলিলের বিচার পুনরায় শিশু আদালতে করতে ভোলার জেলা দায়রা জজকে নির্দেশ দেন।

Tags

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button