বরিশাল

পটুয়াখালীতে শিশুদের হাতে হাতে কনডম!

বরিশালস্থ বেসরকারী সংস্থা আভাস’র কুয়াকাটায় এইচআইভি প্রকল্পের যৌনকর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত প্যানথার কনডম এখন পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার কোমলমতি শিশুদের হাতে হাতে।

অভিযোগ রয়েছে প্রকল্পের নারী কর্মীরা শিশুদের কাছে এসব প্যানথার কমমূল্যে বিক্রি করছে। প্রতিনিয়ত এলাকার শিশুদের হাতে এই প্যানথার নিয়ে খেলা করতে দেখা যায়। গোটা এলাকা ছেয়ে গেছে এসব প্যানথারের প্যাকেট ও পরিত্যাক্ত ছেড়া অংশে।

একদিকে পরিবেশ দূষন, অপরদিকে শিশুদের মুখে ঘাসহ বিভিন্ন রকমের রোগবালাই হতে পারে এমন আশংকা করছেন অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আভাস এর এক পুরুষ কর্মী জানান, আসলে যেই প্রজেক্ট নিয়ে আভাস কাজ করছে সেই ধরনের যৌনকর্মী এখন কুয়াকাটায় নেই। এমনকি কিছুদিন পূর্বে এইচ আইভি আক্রন্ত বা ঝুকিপূর্ন রোগীদের ডাক্তারী পরীক্ষায় নারী কর্মীদের আত্মিয় স্বজন এনে প্রজেক্ট টিকিয়ে রাখতে ভূয়া রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে।

আভাস এর কুয়াকাটা প্রকল্প ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক সভাপতি ও কুয়াকাটা পৌর কাউন্সেলর সাগর মোল্লা জানান, আমাকে সভাপতি করার পরে দেখলাম এখানে কোন যৌন কর্মীর কাজ নাই শুধু প্রকল্পের নামে লুটপাট করে খাওয়া। নারী কর্মীরা এক দুই হাজার করে প্রতি সপ্তাহে প্যানথার ভাগ করে নেয়, তা বাইরে শিশুদের কাছে কমদামে বিক্রি করে। শিশুরা জানেনা এতে তাদের কি ক্ষতি হতে পারে। আমি এর প্রতিবাদ করেছি অনেকবার, তারা না শোনায় আমি তাদের কমিটি থেকে সরে এসেছি।

অভিভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় আভাসের অনেক নারী কর্মী বাসা ভাড়া থাকে তারা এসব প্যানথার শিশুদের কাছে অহরাহ বিক্রি করছে। এলাকার গোটা পরিবেশ নষ্ট করছে এই আভাস।

খাজুরা এলাকার যুবক খোকন জানান, আমাদের ফাঁসিপাড়া এলাকায় আভাসের একজন নারী শিশুদের কাছে ১টাকয় ৮টি করে প্যানথার বিক্রি করছে। সব শিশুরা বাবা মায়ের কাছ থেকে টিফিনের জন্য টাকা নিয়ে এই সব প্যানথার কিনছে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ আঃ রহিম জানান, এটি শিশুদের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ন। কোন ভাবেই এগুলো শিশুদের মুখে নেয়া ঠিকনা। এতে মুখে ঘা সহ পেট খারাপের মত রোগবালাই হতে পারে।

এ ব্যাপারে আভাস এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল জানান, এটি একটি এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রকল্প। এই প্রকল্পের কোন প্যানথার শিশুদের হাতে যেতেই পারেনা। আমি যখন শুনেছি আগামীকালই বরিশাল থেকে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব।

Tags

আরও সংবাদ...

Back to top button