বরিশাল

পর্যটকদের মন কাড়ছে সাতলা’র শাপলা বিল

শাপলার লাল গালিচায় পা রাখবার সময় এসেছে প্রিয় বন্ধুগণ। হ্যাঁ, চলমান এই আগস্ট-সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসই শাপলার বিলে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়। যারা শাপলার বিলে চোখা ধাঁধানো সব ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াতে দেখে মনে মনে ভাবছিলেন ‘কবে যাবো?’ তারা এবার বেড়িয়ে পড়ুন। ফুটন্ত শাপলারা হাসিমুখে অপেক্ষা করছে বাংলার বিলে বিলে।

বরিশাল শহর থেকে থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিলে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। প্রকৃতির বুকে আঁকা এ যেন এক নকশি কাঁথা। অপরুপ এ সৌন্দর্য উজিরপুরের উত্তর সাতলা গ্রামের প্রায় এক হাজার ছয় শত হেক্টর জমি জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আগাছা আর লতা-পাতায়, বিলের কোটি কোটি শাপলা, চোখ জুড়ায় পথচারিদের। বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। এ বিলে ঠিক কবে থেকে, শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা নিয়ে নেই সঠিক কোন তথ্য। তবে, স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই, এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এ বিলে লাল শাপলা ফুল ফোটে। ঐতিহ্যবাহি এ শাপলা বিলের চারপাশে গাঢ় সবুজের পটভূমিতে যেন বাংলার এক মুখরিত “শাপলার সাম্রাজ্য”। দূর থেকে সবুজের মধ্যে লাল রং দেখে দুরূহ হয়ে উঠার মতো অবস্থা। দূরত্ব কমার সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফুলের অস্তিত্ব। আগাছা আর লতা পাতায় ভরা বিলের পানিতে ফুটন্ত লাল শাপলা সত্যিই সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ফুটন্ত লাল শাপলা দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যায়। মনোমুগ্ধকর সাতলা বিলের শাপলা দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমন পিপাসু প্রকৃতি প্রেমিরা।

শাপলার বিলে ঘুরতে আসা নাদিয়া,নীলিমা,রুপাসহ বেশ কয়েকজন নারী পর্যটক অভিযোগ করে বলেন এখানে এসে মন ভরে গেছে, কিন্তু কোথাও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থা না থাকায় নারী পর্যটকদের বিপাকে পরতে হয়েছে।

সাইফুল নামে আরেক পর্যটক জানান, এখানে পর্যটকদের জন্য ভাল মানের কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্ট নেই, ফলে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

এব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, মূলত এই বিলটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিল হিসেবেই পরিচিত ছিল এতদিন, কিন্তু বিভিন্ন পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে সংবার প্রকাশের ফলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পেয়েছে মাত্র কয়েকবছর আগে। ফলে স্থানীয়রা এখনো সেরকমভাবে উদ্যোগ নিতে পারেনি। তবে কেউ কেউ উদ্যোগ নিয়ে এবছর ছোটখাটো রেস্তোরা খুলেছে। তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগের চেয়েও শাপলার বিলের ব্যাবস্থাপনার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি।

এব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই উজিরপুরের শাপলা বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। শাপলার বিলকে পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...