বরিশাল

দক্ষিণ গৈলায় সুদের টাকা আদায় করতে বসতঘর ভাংচুর ও মালামাল লুট

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সুদের টাকা আদায় করতে সমিতির লোকজন মৎস্যজীবির ঘর ভেঙে চালাসহ সকল মালামাল লুটপাট করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে  ওই মৎস্যজীবির পরিবারটি স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঘরের ভিটি আঁকড়ে পরে রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিণ গৈলা গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত সুখরঞ্জন ঢালীর ছেলে মৎস্যজীবি মনোরঞ্জন ঢালী (৩৫) অসুখে পরে স্থানীয় সততা সমবায় সুদী সমিতি থেকে প্রায় একবছর আগে ৯ হাজার টাকা লোন নেয়। অন্যান্য লোকের কাছ থেকেও টাকা ধার করে সে। একমাত্র আয়ের সংসারে দেনায় জর্জরিত হয়ে বুধবার সকালে মনোরঞ্জন তার স্ত্রীকে নিয়ে কাজের খোঁজে বরিশালে ছোটভাইয়ের কাছে যায়। মনোরঞ্জন বাড়ি না থাকার সুযোগে একই বাড়ির সুখলাল মন্ডল, তার স্ত্রী ও তার ছেলে ওই সুদী সমিতির সেক্রেটারী নকুল মন্ডলসহ তার লোকজন টাকা আদায়ের জন্য ঘরের চালা খুলে ঘরের সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় অপর পাওনাদার একই বাড়ির শচীন ঢালী বাড়ির রেইনট্রি গাছ কেটে নেয়ার চেষ্টা চালায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনোরঞ্জন বাড়ি এসে তার ভিটে ছাড়া আর কিছুই দেখতে না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পরেন। পরিবার সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত্রিযাপন করছেন তিনি।

এঘটনায় স্থানীয় রবি সমদ্দারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালিশের নামে একটি প্রহসনের বৈঠক করে। ওই বৈঠকে স্থানীয় শ্যামলাল সমদ্দার, দুলাল মুন্সী, সিরাজ আকন, আলম সরদার, মীর জাফর সিকদার, বাবুল সিকদারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে ওই পরিবারকে খোলা আকাশের নীচে অভুক্ত থাকতে দেখা গেছে। প্রভাবশালী সুদী মহাজনদের ভয়ে সে বাড়ি থেকেও বের হতে পারছেনা।

এব্যাপারে ওই সমিতির সভাপতি প্রদীপ ঢালীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সময় তিনি বাড়ি ছিলেন না দাবি করে বলেন, আমরা টাকা পাব- তবে তাদের ঘর ভাঙা ও মালামাল নেয়া ঠিক হয়নি। এজন্য আমরা মর্মাহত। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের ঘর উঠিয়ে দেয়া হবে।

এব্যপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। তারপরেও তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আরও সংবাদ...

Back to top button