Fakir Abdur Razzak

শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০১০

ইউনাইটেড আরব আমিরাতের কি নেই! অর্থ, প্রতিপত্তি নামে ও যশে এর খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তবে যে খবরটা বাইরের দুনিয়ায় খুব একটা প্রচার হয়না তা হল তেল সমৃদ্দ এই দেশটার মালিক একটা পরিবার। নাহিয়ান

বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০১০
চাইলে এই একটা ছবি নিয়েই লেখা যাবে বিশাল ক্যানভাসের গল্প। অনেকে বলবেন রাজনীতির গল্প, কারণ ওয়াচডগ রাজনীতি বাদে অন্যকিছু লিখতে জানে না। আপনারা সঠিক হলেও ক্ষতি নেই। অন্যের কাছে যা
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০১০

সোহেল নামে জনৈক এক বাংলাদেশী সৌদী আরবে বাসা থেকে তার খালাত ভাইয়ের কাছে যাচ্ছিল দেখা করার জন্য। কেননা সে তার পরের দিন বাংলাদেশে ফিরে আসবে। পথে ট্যাক্সি (বাংলাদেশী) ড্রাইভার ও আগে থেকে ঠিক করে রাখা নির্জন স্থানে নিয়ে সংঙ্গী সাথী মিলে মারধর করে এবং তার মালামাল নিয়ে চলে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। দুর পরবাসে একজন বাংলাদেশীর সব কিছু কেড়ে নিয়ে গেছে আরেক বাংলাদেশী। ভাবতেই লজ্জায় কুকড়ে যাই। আমরা সবই পারি, আমাদের দ্বারা সবই সম্ভব। তাই প্রবাদে আছে- ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে। বাংলাদেশের সকলের প্রতি শুভ কামনা।

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০১০

 

Photobucket
সোমবার, ২১ জুন ২০১০

Bangladeshi Children in Dubai টাকা আছে ওদের। অনেক টাকা। চাইলে দুনিয়াটাও কিনতে পারে টাকা দিয়ে। প্রয়োজন হয়না বলেই হয়ত দুনিয়া কেনার প্রসঙ্গ আসে না। কিন্তু তারা অনেক কিছু কেনে। বাড়ি, গাড়ি, নারী, আকাশ, বাতাস, পানি, এমনকি ২ বছরের শিশু পর্যন্ত। শিশু কিনতে হয় কারণ আনন্দের রসদ যোগাতে এদের প্রয়োজন হয়। ক্ষুধা আর দরিদ্রের রাজত্ব যে দেশে সেখানেই চোখ পড়ে তাদের। প্রলোভন দেখিয়ে, মা-বাবার দারিদ্রের সূযোগ নিয়ে ওদের অপহরণ করা হয়। দুই বছর বয়স হলে আরও ভাল, বয়স যত কম আনন্দের খোঁড়াক ততই বেশি, লাভ তত বেশি। এরা আর কেউ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর শেখ পরিবারবর্গ। গায়ে ধবধবে আলখেল্লা, হাতে তসবি আর মুখে কথায় কথায় ধর্মের দোহাই, এটা বাহ্যিক পরিচয় হলেও আরও একটা পরিচয় আছে এদের। এরা জুয়ার মাঠে সেরা জুয়াড়ি, রেসকোর্সের সেরা ঘোড়াটির মালিক, অভিজাত পতিতালয়ের সেরা খদ্দের।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তেমনি একটা দেশ। আমিরাতের আবুধাবি আর দুবাইয়ের খ্যাতি এখন বিশ্বব্যাপী। দেশগুলোর অর্থনীতির ঝনঝনানি কান পাতলে শোনা যাবে সূদুর নিউ ইয়র্ক হতেও। এদের সমুদ্রে গড়ে উঠছে নতুন নতুন দেশ, ইমারতের চূড়া পাড়ি দিচ্ছে নতুন নতুন উচ্চতা, ওদের মরুভূমিতে নামছে কৃত্তিম তুষারপাত। আধুনিক বিশ্ব এভাবেই জানে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোকে। শুধু জানেনা এদের আমুদ আহলাদের কিছু কালো দিক। উট দৌড় ওদের অন্যতম প্রিয় খেলা।

রবিবার, ০৬ জুন ২০১০

Photobucketখবরটা কি আপনাদের জ্ঞানের চেম্বারে ধরা দিয়াছে? না থাকিলে হাল্কার উপর নড়িয়া চড়িয়া বসিবার অনুরোধ করিতেছি। চমকপ্রদ কিছু তথ্য আছে আমার হাতে। এই তথ্যের সহিত রাজনৈতিক বিবাহ শাদীর কোন চ্যাপ্টার নাই, তাই লুঙ্গির গিট্টু হালকা করিলেও মান ইজ্জতে হাত পরিবার সম্ভাবনা থাকিবে না। এত খারাপ খবর চারিদিকে, আশাকরি এই খবর কিছুটা হইলেও আপনাদের মাঝে রসনার সঞ্চার করিবে। রসনা বিহীন জীবন কি জীবন হইতে পারে? কস্মিনকালেও না! খালি আমি না, মুরব্বিরাও একই কথা কয়।

আপনাদের অনেকেরই হয়ত ছহি-ছেলামতে হিন্দী সিনেমার রসনাঘন বায়স্কোপ দেখিবার অভিজ্ঞতা আছে। আমার ঘটনায় শ্রী দেবি অথবা মাধুরী দিক্সিতদের নিতম্ব দোলাইবার মত রসনা নাহি বটে, তবে এমন কিছু আছে যাহাতে নায়িকাদের অন্দর মহলের গোপন খবর বাহিরে পাচার করিবার কেচ্ছা জড়িত। পরাক্রমশালী ওমরেশ পুরী আপন কইন্যা শ্রী দেবীকে আটকাইয়্যা নায়ক ধর্মেন্দ্রের সহিত ফাইনাল মোলাকাতে বাধা সৃষ্টি করিতেছে, আপনারাই বলুন, এমন নাটকীয় ক্লাইমেক্স ছহি-ছেলামতে মিলনের জন্যে নায়িকাকে কি করিতে হইবে? আর কোন উপায় না থাকিলে শ্রীমতি পার্বতী পেয়ারের পোষা পায়রাকে বুকে জড়াইয়্যা একখান গানা করিবেন নিশ্চয়? গানের অন্তিমে চোখের পানি আর নাকের পানিতে পত্র লিখিয়া পায়রার পাংখায় আটকাইয়্যা অলিন্দ খুলিয়া আকাশে উড়াইয়া দিবেন, এই তো? প্রায় একই ঘটনা ঘটিয়াছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে। ঐ রাজ্যের জনৈক সর্দারজি নিত্যদিনের মত সেদিনও সর্দারি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। চারিদিকে কি ঘটিতেছে এত কিছু দেখিবার সময় কোথায়? মনের সুখে ’দুনিয়া কো মজা লেলো, দুনিয়্যা তুমহারী হ্যায়’ গানটা গাহিতেছিলেন। হঠাৎ করিয়া কোথা হইতে ধবধবে সাদা একখান পায়রা ল্যাংন্ড করিল সর্দারজির আঙ্গিনায় । নেপথ্যে চমকিয়া উঠিবার বাদ্য না বাজিলেও সর্দারজি চমকিয়া উঠিলেন। ভাবিলেন, কন্যার প্রেমিক কি শেষ পর্যন্ত পায়রা দিয়া তাহাকে ধোঁকা দিতে চাহিতেছে? ’শালে ধোকেবাজ, ম্যায় তেরে খুন পি লোংগা‘ মাথায় রক্ত চড়াইয়্যা ধাবিত হইলেন পত্র বাহকের দিকে।

বুধবার, ১৯ মে ২০১০

তাকিয়ে দেখুন ভালো করে। প্ল্যাকার্ডগুলো পড়তে পারছেন? মাত্র তিন মাস আগে তোলা ছবি, জাপানে। আপনি কি মনে করতে পারেন, তিন মাস আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম কি অশান্ত ছিল কিংবা কোনো রকম সংঘাতের ঘটনা কি ঘটেছিল? মনে করতে পারবেন না। কিন্তু লক্ষ্য করুন, একটি চক্র তখনও, খুব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীবিরোধী প্রচারণায় সক্রিয়। তাও দেশে নয়, বহু দূরের দেশ জাপানে। নিশ্চিত থাকুন, এই ছবি অনতিবিলম্বে পৌঁছে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সংস্থার কাছে। এভাবে, বিশ্বের নানা প্রান্তে, আপনার অজান্তেই প্রিয় স্বদেশ ধর্ষিত হয়ে যাচ্ছে কিছু কুলাঙ্গারের হাতে। আমরা সেই খবর রাখি না। রাখতেও বোধহয় চাই না। বরং আত্মপীড়নেই যতো সুখ আমাদের! ফলে এটা স্বাভাবিক যে, দৃকবাসী শহিদুল আলমরা পশ্চিমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ফেরি করে বেড়াবেন। বাংলাদেশী সাইট আনহিয়ার্ড ভয়েসেস ইংরেজি ভাষায় সযত্নে একপেশে ধারাবিবরণী তুলে ধরবে পশ্চিমাদের জন্য। বাঙালি সেটেলারের জামার ভেতরে তারা রামদা খুঁজে ফিরবে মরিয়া হয়ে। তানভীর মোকাম্মেলরা জাপানি ভাষার সাইটে পায়ের ওপর পা তুলে বাংলাদেশের গোষ্ঠী উদ্ধারে মগ্ন তো হতেই পারেন। মানবাধিকারের সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি তারা! তাদের কথা থাক, বরং দৃষ্টি ফেরানো যাক অন্যদিকে। দেশী ও প্রবাসী উপজাতীয়দের পরিচালিত কমপক্ষে ১৫টি ওয়েবসাইট এবং অন্তত ১০টি বিদেশী সংস্থা সরাসরি বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকার ছাড়াও তাদের প্রধান লক্ষ্য বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনী। সন্দেহ নেই, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আসুন, দেখা যাক কারা কিভাবে বাংলাদেশবিরোধী প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে-

বুধবার, ১৯ মে ২০১০
Sarah Gazdhar who died in a tragic accident yesterday

Operating a school bus without an attendant is an offence, inquiries made with transport departments at some schools found.
A four-and-a-half-year-old Indian kindergarten pupil died yesterday purportedly of heat and asphyxiation after she had failed to disembark from the bus when it reached her school. She was left in the vehicle for over four hours.
A transport manager at another school, managing more than 75 buses apart from hiring buses from outside for ferrying their students, said no driver was allowed to take the bus out of the campus without an attendant on board at his institution.
“If an attendant takes leave owing to some emergency, we ensure that a substitute takes is provided who would meet the requirements of those boarding the bus,” he said.
“Once or twice, we were forced to depute other staffers to do the duties as the attendants concerned were unable to work due to sudden indisposition,” said another manager.
“Even if it is a bus operated on contract, the school ensures that an attendant accompanies the children on board,” he said.
The official said that on hearing (yesterday’s) tragic news, his school management summoned a meeting of the transport staffers to advise them of the necessary precautions to be taken to avoid such tragedies.
At least two such deaths have been reported in other GCC states in the last two years. However, according to information available, this is the first time an incident such as this has occurred in a school in Qatar.

Source : Gulf-Times.com

রবিবার, ১৬ মে ২০১০

মুক্তিযোদ্ধাদের নামে গুলশানে দুটি রাস্তার নামকরণের


প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইসলামাবাদ!!!

লিখেছেন - আবদুল মজিদ - সমকাল

গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশন সংলগ্ন দুটি সড়কের নামকরণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হওয়ায় পাকিস্তানের দারুণ গাত্রদাহ হয়েছে। অন্তর্জ্বালা অন্তরে না রেখে ইসলামাবাদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পর্যন্ত জানিয়েছে। পাকিস্তান মনে করে এটি বাংলাদেশের 'উদ্দেশ্যমূলক ও উস্কানিমূলক' কাজ। পাকিস্তান ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিবাদ জানালেও দুই দেশের সরকার এতদিন তা গোপন রেখেছিল। সে সময় ইসলামাবাদে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় । ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন গুলশান অ্যাভিনিউয়ের নাম মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হকের নামে নামকরণ এবং গুলশান অ্যাভিনিউয়ের শেষ মাথায় একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এরপর ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই গুলশানের ৭১ নম্বর সড়ক বীর বিক্রম আমিন আহমেদ চৌধুরীর নামে নামকরণ করে ডিসিসি। এ সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশনের ঠিক উল্টো পাশে। পাকিস্তান হাইকমিশনের অবস্থান গুলশান অ্যাভিনিউয়ের শেষ মাথা ও ডানে ৭১ নম্বর সড়কের কোণে। নতুন নামকরণ হওয়া শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়ক এবং বীর বিক্রম আমিন আহমেদ চৌধুরী সড়ক দুটি পাকিস্তান হাইকমিশনের দু'পাশ দিয়ে গেছে।

রবিবার, ০৯ মে ২০১০


রবিবার, ০৯ মে ২০১০

৬। Wind and Rain Bridge (China) : এই ব্রিজটি তৈরি করেছে চায়নার Dong minority. Dong minority হল চায়নার রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ৫৬ টি minority গ্রুপের মধ্যে একটি। ব্রিজটির অবস্থান চায়নার Guizhou Province এ যেখানে Dong minority এর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বাস করে।

ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৫০ মিটারেরও বেশি এবং এটি প্রথম ১৮৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৯৫৯ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্রিজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৯৬৪ সালে ব্রিজটি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়।

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

৪। Hangzhou Bay ব্রিজ: ইস্টার্ণ চায়নায় অবস্থিত এই ব্রিজটি একটি হাইওয়ে ব্রিজ। মূলত এটি Zhejiang প্রদেশের Jiaxing এবং Ningbo এই দুটো মিউনিসিপ্যালিটিকে যুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বড় trans-oceanic ব্রিজ যার দৈর্ঘ্য হল ৩৫.৬৭৩ কিলোমিটার (২২ মাইল)!!!

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 1
খারাপউত্তম 
রবিবার, ০৯ মে ২০১০

রাশিয়ার সমর শক্তি

স্পেন, পর্তুগাল, হল্যান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড যেভাবে সমুদ্রপথে সাম্রাজ্য বিস্তôারের উদ্যোগ নেয় রাশিয়া ঠিক সেভাবে নেয়নি। রাশিয়া উত্তর আমেরিকার বেরিং প্রণালী পেরিয়ে আলাস্কা অঞ্চল নিজ অধিকারে নেয়। সেখান থেকে রম্নশরা যায়, যা এখন সানফ্রান্সিসকো নামে পরিচিত সেখানে। পরে রম্নশরা এই অঞ্চল স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে আসে। রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কা বিক্রি করে দেয় ১৮৬৭ সালে। ইউরোপের অন্যান্য জাতি যেভাবে সাম্রাজ্য বিস্তôার করেছে, রাশিয়া ঠিক সেভাবে করেনি। রাশিয়ার সাম্রাজ্য হলো মহাদেশীয়, সামুদ্রিক নয়। সামুদ্রিক সাম্রাজ্যবাদ আর মহাদেশীয় সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে মনোগতভাবে বেশ কিছু পার্থক্য পরিলড়্গিত হয়। ১৯১৭ সালে ঘটে রম্নশ বিপস্নব। এই বিপস্নবের মাধ্যমে লেনিন ড়্গমতায় আসেন। তিনি চেয়েছিলিন রম্নশ সাম্রাজ্যে জাতিসত্তার সংঘাত কমাতে। দিতে চান ভিন্ন ভাষাভাষীদের স্বাধিকার। ফলে গঠিত হয় ১৫টি ইউনিয়ন রিপাবলিক। এসব অঞ্চলের মানুষ পায় নিজ নিজ ইউনিয়নের কাজ চালানোর জন্য নিজেদের ভাষা ব্যবহারের অধিকার। শিড়্গার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা শুরম্ন হয় মাতৃভাষা। কিন্তু রম্নশ ভাষা সবাইকে শিখতে হতো কেন্দ্রীয় ভাষা হিসেবে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হতে থাকে রম্নশ ভাষারই মাধ্যমে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে যেমন ১৫টি ইউনিয়ন রিপাবলিক ছিল, তেমনি আবার ছিল বিভিন্ন স্বায়ত্বসাশিত অঞ্চল। তারা ভাষাগতভাবে ছিল ভিন্ন; কিন্তু জনসংখ্যায় ছিল কম। এসব অঞ্চলকে ঘোষণা করা হয়েছিল স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে। এদের যুক্ত থাকতে হতো কোনো না কোনো ইউনিয়ন রিপাবলিকের সাথে। এ ছাড়াও ছিল ছোট ছোট ভাষাভিত্তিক জেলা। যারা প্রতিনিধি পাঠাতে পারত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসন পরিষদে। অর্থাৎ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে জাতিসত্তার পরিস্থিতি সরল ছিল না, বরং ছিল যথেষ্ট জটিল।১৯৯০-৯১ সালে ভেঙে পড়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই ১৫টি ইউনিয়ন রিপাবলিক থেকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলও হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন। এ সময় জার্জিয়া থেকে স্বাধীন হয়ে পড়ে দড়্গিণ ওশেটিয়া ও আবখাজিয়া। রাশিয়া হয়ে পড়ে অনেকটা একা। এখন আবার ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশটি। এক সময়ে বিশাল সাম্রাজ্য সাশনকারী এই দেশ আবার পরাশক্তি হচ্ছে এমনটাই ধারণা সমর বিশেষজ্ঞদের।

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

উত্তর কোরিয়ার সমরশক্তি

পূর্ব এশিয়ার কমিউনিস্টশাসিত দেশ উত্তর কোরিয়া। দেশটির পুরো নাম ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া। ২০০৮ সালের জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ২৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন। আয়তন এক লাখ ২২ হাজার ৭৬২ বর্গকিলোমিটার। দেশটির বেশির ভাগ মানুষের ধর্মীয় কোনো বিশ্বাস নেই। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-ইল। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র পরীড়্গা নিয়ে দেশটি বেশ আলোচিত। কোনো কোনো ড়্গেত্রে সমালোচিত। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্নউ বুশ দেশটিকে শয়তান চক্রের অংশ বলেছিলেন। বর্তমানে উত্তর কোরিয়া উদীয়মান সামরিক শক্তির একটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় সামরিক শক্তির মুখোমুখি এই দেশ। আফগানিস্তôান ও পাকিস্তôানের সামরিক উত্তেজনার চেয়ে উত্তর ও দড়্গিণ কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা অনেক বেশি।

কোরিয়ান পিপলস আর্মি

দ্য কোরিয়ান পিপলস আর্মি (কেপিএ) উত্তর কোরিয়া মিলিটারির অফিসিয়াল নাম। পাঁচটি শাখার সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা। নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান ও কেপিএ’র সুপ্রিম কমান্ডার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-ইল। শাখা পাঁচটি হচ্ছে­ আর্মি গ্রাউন্ড ফোর্স, নেভি, এয়ার ফোর্স, আর্টিলারি গাইডেন্স ব্যুরো ও স্পেশাল অপারেশন ফোর্স। বার্ষিক বাজেট প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির দুই থেকে নয়টি পারমাণবিক বোমার কাঁচামাল আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বে বর্তমান সময়ে উত্তর কোরিয়া বৃহৎ সামরিক শক্তির দেশ। দেশটিতে বর্তমান আর্মির সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন। এই সংখ্যা বিশ্বে চতুর্থ। যেকোনো সামরিক পদড়্গেপে কোরিয়ান পিপলস আর্মিকে মিলিটারি অব সাউথ কোরিয়া ও ইউনাইটেড স্টেটস ফোর্সেস কোরিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। ১৯৫৩ সালে কোরিয়ান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে কোরিয়ান বেসামরিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য অবস্থান করছে। কোরিয়ান ভলান্টিয়ার আর্মি থেকে দ্য কোরিয়ান পিপলস আর্মি প্রতিষ্ঠা করা হয়। গঠন করা হয় ১৯৩৯ সালে।

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

ইরানের সমরশক্তি

লন্ডনের টাইমস পত্রিকার একটি প্রতিবেদন। পশ্চিমা গোয়েন্দারা বলেছেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশ পেলেই ইরান তার প্রথম পরমাণু বোমা তৈরির কাজ শুরু করবে। গোয়েন্দা সূত্রটি জানিয়েছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব গবেষণা ২০০৩ সালের গ্রীষ্মকালেই সম্পন্ন করেছে। এখন তারা শুধু সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তারা পরমাণু বোমা তৈরির কাজ শুরু করবেন। আর একটি বোমা তৈরিতে তাদের সময় লাগবে মাত্র এক বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এস্টিমেট গত দুই বছর আগে বলেছিল, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির সব গবেষণা ২০০৩ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করে। কারণ ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন ইরানের প্রতিও হুমকি সৃষ্টি করেছিল। আরব বিশ্বের আলোচিত দেশ ইরান। সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সন্দেহের তীর এখন ইরানের দিকে। দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে সব অস্ত্র। ইসরাইল রীতিমতো ভয় পায় ইরানকে। এ জন্য সুযোগ নিতে চেয়েছিল দেশটির নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সহিংসতা চলার সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে। কুয়েতের আলজারিদ নামের একটি দৈনিকে একজন মার্কিন কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল। হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠিও দিয়েছিল ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনজামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু মার্কিন সরকার ওই চিঠি উপেক্ষা করে। অন্য এক দিগন্তের জানা-অজানা শিরোনামে এবারের বিষয় ইরানের সমরশক্তি। বিষয়টি নিয়ে লিখলে আর দেশটির পরমাণু কর্মসূচির তথ্য না দিলে তা একেবারে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ জন্য প্রবরে অর্ধেকেরও বেশি স্থান দেয়া হয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে।

সশস্ত্র বাহিনীর সংগঠন
পুরো নাম আর্মড ফোর্সেস অব দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান। ইসলামিক রিপাবলিকের ফোর্স হিসেবে পুনর্গঠন করা হয় ১৯৮২ সালে। শাখা দু’টি। একটি ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর্মি (আইআরআইএ), অন্যটি ইসলামিক রিভ্যুলেশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আর্মির শাখা চারটি। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান গ্রাউন্ড ফোর্সেস, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান নেভি, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ফোর্স, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ডিফেন্সেস। গার্ড কর্পস’র শাখা পাঁচটি। গ্রাউন্ড ফোর্সেস, নেভি, এয়ার ফোর্স, কুদস ফোর্স ও বাসিজ। সংস্থাটির হেডকোয়ার্টার রাজধানী তেহরানে। সুপ্রিম কমান্ডার দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই। আর্মি কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল আতাওল্লাহ সালেহী। গার্ড কর্পসের কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফরি। জনবল দেখভালের দায়িত্ব আর্মড ফোর্সের জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আর্মড ফের্সেস লজিস্টিকস সংস্থাটির কৌশলগত পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করে। কিন্তু অপারেশনের কোনো নির্দেশনার সাথে যুক্ত নয়। ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর নাম বাজিস। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে আরব বিশ্বের মধ্যে অনেক বেশি ক্ষমতাশালী বলে ধরা হয়।




জনবল সাড়ে নয় লাখ
আর্মড ফোর্সের মোট অ্যাকটিভ পারসোনেল নয় লাখ ৪৫ হাজার। এর মধ্যে আইআরআইএ’র সৈন্য আট লাখ ২০ হাজার। যার অন্তর্ভুক্ত আর্মি ছয় লাখ ৫০ হাজার, নেভি ৭০ হাজার, এয়ার ফোর্সের এক লাখ। অন্য দিকে আইআরজিসি’র সৈন্য এক লাখ ২৫ হাজার।

সামরিক বাজেট গোপন রাখে
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশের মতো ইরানও তার সামরিক বাজেট পুরোপুরি প্রকাশ করে না। তবে লন্ডন’স ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে ইরানের সামরিক বাজেট ছিল ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা দেশটির মোট জিডিপি’র দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। আরব বিশ্বে এই বাজেট তুলনামূলক অনেক কম। খরচের হিসাবে বিশ্বে এর অবস্থান ৬৭তম।

প্রতিরক্ষা শিল্প ছিল যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর
ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ছিল যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর। কিছু অস্ত্র তারা ইউরোপ থেকেও আমদানি করত। ১৯৭৩ সালে প্রথম ইরান প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দেয়। এ বছর ইরান ইলেকট্রোনিকস ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। এর কাজ ছিল আমদানি করা অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংযুক্ত ও বিদেশ থেকে সরবরাহ করা অস্ত্রের মেরামত করা। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় সাফল্য হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের আরপিজি-৭, বিএম-২১ ও এসএএম-৭ মিসাইল পরিবর্তন করে নতুন সংস্করণ তৈরি করা। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান অনেকটা একা হয়ে পড়ে। সমর প্রযুক্তিবিদদের দেখা দেয় মারাত্মক অভাব। সমরাস্ত্রের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকায় সমস্যাটি আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এর ফলে ইরান এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরো ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মিসাইল ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক অর্থ জোগান দিতে শুরু করে। ১৯৯২ সালের মধ্যে এটি মিসাইল তৈরি করা ছাড়াও নিজস্ব ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি ও ক্যারিয়ার, রাডার সিস্টেম, গাইডেড মিসাইল, সাবমেরিন, মিলিটারি ভ্যাসেল তৈরি করতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ইন্ডাস্ট্রির সফলতা অনেক বেশি। ফজর-৩ (এমআইইরভি), হুট, কওসার, ফাতেহ-১১০, শাহাব-৩ মিসাইল এই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে।

ইরানের বড় সফলতা শাহাব-৩ মিসাইল তৈরি
ইরানের বড় সফলতা নিজস্ব প্রযুক্তির শাহাব-৩ নামের মধ্যম মানের ব্যালাস্টিক মিসাইল তৈরি। উত্তর কোরিয়ার নোডং-১ ব্যালাস্টিক মিসাইলের প্রযুক্তি দিয়ে এই মিসাইলটি তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে মিসাইলটি ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। বর্তমানে এর অপারেশনাল রেঞ্জ ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার। ৯০০ কেজি মারণাস্ত্র নিয়ে ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে গিয়ে আঘাত হানতে এর সময় লাগবে মাত্র ২২ মিনিট। অর্থাৎ এটি প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। এর আওতার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমে ইসরাইল আর পূর্বে ভারতসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এটি আরো সংস্কার করা হচ্ছে। শিগগিরই আসছে শাহাব-৪, শাহাব-৫, শাহাব-৬ নামের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালাস্টিক মিসাইল। শাহাব-৩ এর সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে জানিয়ে দেয় যতই অসহযোগিতা করা হোক না কেন ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে তার দেশকে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম ও বদ্ধপরিকর।

আরো মিসাইল তৈরি করেছে ইরান
শাহাব-৩ এর তিনটি সংস্করণ করা হয়েছে। শাহাব-৩ বি, শাহাব-৩ সি ও শাহাব-৩ ডি। সবগুলোই মধ্যম মানের ব্যালাস্টিক মিসাইল। রেঞ্জ হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার। ঘাদর-১১০ নামের আরেকটি মধ্যমমানের মিসাইল তৈরি করেছে ইরান। এর অপারেশন রেঞ্জ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার। ২ হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে আরো আছে আশৌরা মিসাইল। আছে ফজর-৩ নামের ওয়ারহেড।

শর্ট রেঞ্জের মিসাইলও কম নয়
ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির শর্ট রেঞ্জের মিসাইলও কম নয়। শাহাব-১ তৈরি করা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের এসএস-১সি ও স্কাড-বি থেকে। এর রেঞ্জ ৩৫০ কিলোমিটার। ৭৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের শাহাব-২ তৈরি করা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের এসএস-১ডি ও স্কাড-সি এর অনুসরণে। ২০০ কিলোমিটার রেঞ্জের ফাতেহ-১১০, ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের যিলযাল ১/২/৩ তৈরি করে ইরান। এ ছাড়াও শর্ট রেঞ্জের মিসাইলের মধ্যে আছে ফজর-৫ ও ফজর-৩ আর্টিলারি রকেট।

নিজস্ব তৈরি এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের বহর কম লম্বা নয়
১৯২৫ সাল থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, ইসরাইল ও সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে অস্ত্র আমদানি করেছে। কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলে ১৯৭৯ সালের পর। ইরানের তৈরি এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার হচ্ছে আজারাকশ। যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৫ ফ্রিডম ফাইটারের প্রযুক্তির অনুসরণে এক সিটের এই ফাইটার এয়ারক্রাফটি তৈরি করে ইরান। সায়েঘেহ-৮০ ফাইটার এয়ারক্রাফট। শাফাক অ্যাডভান্সড লাইট ফাইটার। প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার হয় এটি। রাশিয়ার এন্টোনভ এএন-১৪০ এর অনুসরণে আইআরএএন-১৪০। প্রশিক্ষণ এয়ারক্রাফট প্যারাসটো, ডোরনা, সিমোর্ঘ, ফজর এফ-৩। যুক্তরাষ্ট্রের এএইচ-১ কোবরা অনুসরণে পানহা ২০৯১। যুক্তরাষ্ট্রের বেল ২০৬ জেটর‌্যাঞ্জার অনুসরণে শাবাভিজ-২৭৫। নিজস্ব প্রযুক্তির বেল-২১৪। বেল-২০৬ ও পানহা শাবাভিজকে আরো উন্নত করে তৈরি করা হয়েছে হেসা শাহেদ-২৭৮। আরো তৈরি করা হয়েছে হেসা শাহেদ-২৮৫ নামের অ্যাটাক হেলিকপ্টার। এ ছাড়াও আবাবিল ও মোহাজের নামের বাহনও তৈরি করে ইরান। এখানেই শেষ নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ফাইটার জেট এফ-৪, এফ-৫ ও এফ-১৪ এরও উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ করছে। দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও উন্নত। আছে কমপক্ষে ১১ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র। আছে প্রয়োজনীয় নৌ নিরাপত্তাব্যবস্থাও।

পরমাণু কর্মসূচি শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রঃ চুল্লির কাজ শুরুর সময় কোনো ইরানিকে থাকতে দেয়নি
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব নানা প্রশ্ন তুললেও এর শুরুটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তায়। ইরানের পরমাণু তৎপরতা শুরু হয়েছিল দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের অনেক বছর আগে। ১৯৫৬ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ গবেষণা কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সে বছরই একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ মেগাওয়াট শক্তির একটি ছোটখাটো পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করে। যদিও শিক্ষা ও গবেষণাই ছিল এ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্য, কিন্তু তা সত্ত্বেও এ চুল্লিটি নির্মাণের সময় ইরানের প্রকৌশলীদের উপস্থিতি বা তাদের সহযোগিতার ব্যাপারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, ইরানের বিজ্ঞানীরা যাতে এ প্রযুক্তির ব্যাপারে ধারণা অর্জন করতে না পারে সে জন্য তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই চুল্লির যন্ত্রপাতি সংযোজন ও চুল্লির কাজ শুরু করার সময় কোনো ইরানি বিজ্ঞানীকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি।
১৯৭১ সালে ইরানের শাহ সরকার পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের সাথে পরমাণু বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তিগুলোর মধ্যে ইরানের বুশহরে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য জার্মানির সাথে করা চুক্তিসহ দারখুইনে অন্য একটি পরমাণু চুল্লি নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের সাথে চুক্তি, পারমাণবিক চুল্লিগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহ করতে আমেরিকার সাথে চুক্তি ও অর্ডিফ কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের ঘটনা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইরানে শাহ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ী হওয়ার পর পশ্চিমা সরকার ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলো পরমাণু বিষয়ে ইরানের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়নি। ফলে ইরান পরমাণু জ্বালানি চক্রের প্রযুক্তি অর্জন ও পারমাণবিক চুল্লিগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য অন্যান্য দেশের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু পাশ্চাত্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পরমাণু ক্ষেত্রে ইরানের সাথে সহযোগিতা মাঝপথে ব করে দেয় অথবা এ সহযোগিতা খুবই সীমিত পর্যায়ে অব্যাহত রাখে।
ইরান ১৯৮১ সালের আগে পরমাণু ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে সক্ষম হয়নি। ১৯৮২ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি অর্জন ও এ সংক্রান্ত গবেষণায় স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সারা দেশে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার কয়েকটি বিভাগ ও কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৯৮ সালে ইরানে গঠিত হয় উন্নত বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসংক্রান্ত পরিষদ। এই পরিষদ বুশাহর ছাড়াও ইরানের অন্যান্য স্থানে পরমাণু চুল্লি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইরানের ভেতরেই এসব পরমাণু চুল্লির জন্য ব্যবহৃত পরমাণু জ্বালানির অংশবিশেষ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়।
ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত করার প্রাথমিক পর্যায় তথা ইউসিএফ প্রকল্প গড়ে তোলা ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্থাপনা প্রতিষ্ঠা যে অর্থহীন সেটা এ সময়ই ইরানি কতৃêপক্ষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে ২০০০ সালে ইরানে ইউসিএফ প্রকল্প চালু করা হয়। চীনা বিশেষজ্ঞদের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ইরানের তরুণ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মাত্র চার বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সক্ষম হন। অন্য দিকে চীনা বিশেষজ্ঞদের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে এ প্রকল্প চালু করতে ইরানকে কমপক্ষে ১১ বছর অপেক্ষা করতে হতো।

নিজেরাই ইউরেনিয়ামকে ইয়েলো কেইকে পরিণত করার প্রযুক্তি আয়ত্ত করে
পরমাণু শক্তিধর অধিকাংশ দেশ, পাশ্চাত্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান নিজস্ব মেধা ও সামর্থøকে কাজে লাগিয়ে তার পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়ামের খনি আবিষ্কার ও তা উত্তোলন করে ইউরেনিয়ামকে ইয়েলো কেইকে পরিণত করার প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ইরান। এমনকি ইরান ইস্পাহানে ইয়েলো কেইককে হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাসে রূপান্তর করার স্থাপনা বা ইউরেনিয়াম কনভারশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে ও নাতাঞ্জ এলাকায় সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতেও সক্ষম হয়। এ ছাড়াও ইরানের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা হেভি ওয়াটার চুল্লি ও হেভি ওয়াটার সামগ্রী নির্মাণে সফল হয়েছে। এ স্থাপনার কার্যক্রমও পুরোদমে চালু হয়েছে। আরো বড় সাফল্যের ব্যাপার হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সেন্ট্রিফিউজ ছাড়াই বিকল্প পদ্ধতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার উপায় বের করার জন্য গবেষণা শুরু করা। এ ক্ষেত্রে লেজার পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষাগারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সফল হয়েছে দেশটি।

পরমাণু প্রযুক্তি ও তৎপরতা সম্পূর্ণ স্বদেশনির্ভর
ইরানে ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব ও বিপ্লব-উত্তর যুগের পরমাণু তৎপরতার মধ্যে পার্থক্য হলো বিপ্লবের আগে দেশটির পরমাণু তৎপরতা ছিল পুরোপুরি বিদেশনির্ভর। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পরে ইরানের পরমাণু প্রযুক্তি ও তৎপরতাগুলো সম্পূর্ণ স্বদেশনির্ভর হয়েছে। এর কারণ তৎকালীন শাহ সরকার পরমাণু ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে চায়নি। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের ইসলামি সরকার পরমাণু জ্বালানি চক্র ও এর বিভিন্ন দিকে নিজস্ব গবেষণা ও প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয় যাতে এ ক্ষেত্রে ইরান পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। ইরানের বিজ্ঞানীরা শান্তিপূর্ণ বা বেসামরিক পরমাণু প্রযুক্তির সব দিকে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০২ সালে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়। এ প্রযুক্তি সম্পূর্ণরূপে ইরানের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত। এটা স্পষ্ট ইরানের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের আত্মবিশ্বাস ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই দেশটির পক্ষে পরমাণু প্রযুক্তির অধিকারী হওয়া সম্ভব হয়েছে। ইরান তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার ও এর মানোন্নয়ন করতেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কারণ হিসেবে দেশটি মনে করে, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে পরমাণু প্রযুক্তির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরমাণু প্রযুক্তি হচ্ছে এমন এক উন্নতমানের শিল্প প্রযুক্তি যা ২০০টি শিল্পের সাথে সম্পর্কিত ও বিজ্ঞানসংক্রান্ত ৫০০টি বিষয়ের সাথে যুক্ত।

এনপিটিতে স্বাক্ষর করেছে ইরান
পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটিতে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করেছে ইরান। দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়মিত নজরদারির সুযোগ পাচ্ছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ। অথচ ইহুদিবাদী ইসরাইল, ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি ভারত, পাকিস্তান ও ইসরাইলের পরমাণু স্থাপনাগুলোয় আইএইএ’র কোনো ধরনের নজরদারিও নেই। উপরন্তু ভারত ও ইসরাইল পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কাছ থেকে পারমাণবিক সহযোগিতা পাচ্ছে। অন্য কথায় পাশ্চাত্য পরমাণু বোমার অধিকারী এ শক্তিগুলোর জন্য উন্নতমানের পারমাণবিক যন্ত্রপাতি অর্জনের পথ সুগম করে দিচ্ছে।
২০০৩ সালের আগে ইউরোপের সাথে ইরানের এক জটিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নয় দিন ধরে চলেছিল ওই আলোচনা। জটিল এই আলোচনায় ইরানের পরমাণু বিষয়টিও স্থান পায়। ওই আলোচনায় ইরানের পরমাণু বিষয় ও এর বিভিন্ন দিককে স্বচ্ছ করে তোলা হয়। এ ছাড়াও ইরানের সব পরমাণু স্থাপনা আইএইএ’র নজরদারি ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থার আওতাধীন হয়। ইরান ১৯৯৬ সালে এনপিটি থেকে সরে এলেও পুনরায় তা বিবেচনা করে এবং তাতে আবার স্বাক্ষর করে। এ ছাড়াও ইরান পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করাসংক্রান্ত চুক্তি বা সিটিবিটি ও রাসায়নিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি সিডব্লিউওসি’র মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি বা কনভেনশনেও স্বাক্ষর করে।

ইরান এনটিপি’র বাড়তি প্রটোকলেও স্বাক্ষর করে
যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো ২০০২ সালের শেষ দিকে ও ২০০৩ সালের প্রথম দিকে বিশ্বজুড়ে হই চই শুরু করে যে, ইরান শিগগিরই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছে। আর এ অজুহাতে দেশটিকে পরমাণু প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য চাপ তীব্রতর করে। ইরানও তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে সম্ভাব্য ভুল ধারণা দূর করতে স্বচ্ছতা ও আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়। ইরান এটা বোঝানোর চেষ্টা করে যে, তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। আর এ বিষয়ে আস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইরান বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। ইরানের এই পদক্ষেপগুলো ছিলঃ তেহরান স্বেচ্ছায় এনপিটি’র বাড়তি প্রটোকলে স্বাক্ষর করে। অথচ আইএইএ’র ৮১টি সদস্য রাষ্ট্রের বেশির ভাগই এ প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও নয়। তেহরান আইএইএ’র বিধান ও নিয়মের বাইরেও এ সংস্থাকে সহযোগিতা করেছে। ২০০৮ সালের এপ্রিলের আগ পর্যন্ত আইএইএ’র পরিদর্শকরা ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে ১ হাজার ৬ শ’রও বেশি কর্মদিবস ব্যয় করেছে যা এ সংস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর অর্থ হলো প্রতিদিন গড়ে আইএইএ’র তিনজন পরিদর্শক ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন। তেহরান তার পরমাণু তৎপরতা সম্পর্কে ১০৩০ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট তৈরি করে এবং এতে ইরানের পরমাণু তৎপরতার সব বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও তেহরান নিয়মিতভাবে ও বিভিন্ন উপলক্ষে তার পরমাণু তৎপরতা সম্পর্কে লিখিত ও মৌখিক রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে। ইরান তার পরমাণু বিজ্ঞানী ও পরমাণু স্থাপনার কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নিতে আইএইএকে অনুমতি দিয়েছে। ইরানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা পরিদর্শন করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ইরান এক পর্যায়ে তার সব পরমাণু তৎপরতা স্বেচ্ছায় স্থগিত রাখে। পরমাণু তৎপরতার জন্য ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি নির্মাণ, পারমাণবিক গবেষণা ও পারমাণবিক উপজাত পদার্থ তৈরির কেন্দ্র নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানের ইউসিএফ পরমাণু তৎপরতা­ এ সবই প্রায় দুই বছর স্থগিত রাখা হয়।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ
রেডিও তেহরানের গত ৮ আগস্টের একটি খবর। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে রেডিওটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান পরমাণু বোমা পরীক্ষা করার জন্য অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। গত ৭ আগস্ট প্রকাশিত এ রিপোর্টে বলা হয়, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজে অগ্রগতি অর্জন করা সত্ত্বেও ২০১৩ সালের আগে পরমাণু বোমা তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে না। ২০০৭ সালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন প্রধান ডেনিস ব্লেয়ারও গত ফেব্রুয়ারিতে এক রিপোর্টে ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থার ওই রিপোর্টকে সত্য বলে ঘোষণা করেন। তিনি এ-ও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পায়নি।

পাশ্চাত্যের ভয় ইরান বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে
পাশ্চাত্য বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হয় তাহলে ইরানের জাতীয় শক্তি আঞ্চলিক ও বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে এবং তা বিস্ময়কর পরিবর্তন সৃষ্টি করবে। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বলেছেন, ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানসংক্রান্ত পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান আইজেনস্টাইনসহ মার্কিন সরকারের কৌশলগত নীতিনির্ধারকদের অনেকেই ঠিক এ মতই পোষণ করেন। এ প্রসঙ্গে আইজেনস্টাইন লিখেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে তাহলে পরমাণু শক্তিধর ইরানকে এ শক্তির কারণে রাজনৈতিক প্রভাবের অধিকারী হতে না দেয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জিং নীতিতে পরিণত হবে।

তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ব্যাপারে তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যগুলো হলোঃ প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক সাফল্যগুলো ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিরোধের পরিণাম সম্পর্কে ইরানিদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া ও পরমাণু প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা কোনো লাভজনক বিষয় নয় বলে বোঝানোর চেষ্টা করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের জনগণ ও সরকারের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা এবং তৃতীয়ত, সরকারকে দুর্বল করা। এ জন্য বর্তমান সরকারকে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শেষ সরকার হিসেবে দেখতে চায় পশ্চিমা বিশ্ব।

শেষ কথা
১৯৫০-এর দশকে পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের তেল জাতীয়করণকে বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। কিন্তু ইরানের তৎকালীন সরকার ও ইরানি জাতির প্রতিরোধের কারণে ওই অন্যায় প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। ইরানি জাতি এটা ভালো করেই জানে যে, অধিকার সহজেই আদায় করা যায় না। অধিকার আদায় করে নিতে হয়। ইরানি জাতি অতীতে যেমনটি তেল জাতীয়করণ আন্দোলনের সময় পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় সফল হয়েছিল, পরমাণু শক্তির অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও তারা তেমনি সফল হবে। কারণ ইসলামের শিক্ষায় গভীরভাবে বিশ্বাসী ইরানি জাতি এটা জানে যে, ন্যায় বা সৎ উদ্দেশ্যের ওপর যদি তারা অবিচল থাকতে পারে তাহলে তাদের সংখ্যা বা বাহ্যিক শক্তি সীমিত হলেও তারা শেষ পর্যন্ত এ সংগ্রামে বিজয়ী হবে।

একনজরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীপ্রতিষ্ঠাঃ ১৯৮২ (ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধীন)।
শাখাঃ দু’টি। ইরান আর্মি ও গার্ডস কর্পস।
আর্মির শাখাঃ চারটি। গ্রাউন্ড ফোর্সেস, নেভি, এয়ার ফোর্স, এয়ার ডিফেন্স।
গার্ডস কর্পসের শাখাঃ পাঁচটি। গ্রাউন্ড ফোর্সেস, নেভি, এয়ার ফোর্স, কুদস ফোর্স, বাসিজ।
হেডকোয়ার্টার্সঃ তেহরান।
সুপ্রিম কমান্ডারঃ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
বাজেটঃ ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৫)
অ্যাকটিভ পার্সোনেলঃ ৯,৪৫,০০০ জন।

Source : www.pavelmostafiz.blogspot.com

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

যুক্তরাষ্ট্রের সমরশক্তি

ইউনাইটেড স্টেটস অব অ্যামেরিকা। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই দেশটি ব্রিটেনের শাসন থেকে মুক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এক সময় সমগ্র বিশ্বের কাছে মুক্ত বিশ্ব হিসেবেই পরিচিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে এখানে ইউরোপিয়ান উপনিবেশ স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তô থেকে লোক এসে জড়ো হয় আটলান্টিকের অপর পাড়ে। জনপ্রবাহের সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। তাই ছয়টি টাইম জোনে বিভক্ত এ বিশাল দেশটিকে বলা হয় ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসীদের দেশ। একটি স্বাধীন ফেডারেশন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আন্তôর্জাতিক ড়্গেত্রে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান বিশ্ব বাস্তôবতা বলে দিচ্ছে, বিশ্বশান্তিô অনেকটাই নির্ভর করে এ দেশটির ভূমিকার ওপর। প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের আদর্শ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র পারে মানবজাতির কল্যাণে আরো ইতিবাচক কাজ করতে। সে সামর্থø দেশটির রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাকালীন সে উদ্দেশ্য থেকে দেশটি অনেক দূরে সরে এসেছে। বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করেছে একক আধিপত্য। এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী

মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সংগঠন
যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির পাঁচটি মিলিটারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত। সংস্থাগুলো হচ্ছে- সেনাবাহিনী, মেরিন কর্পস, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী ও কোস্টগার্ড। দেশটির প্রথম মিলিটারি গঠন করা হয় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরম্নদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন। ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার আগেই ১৭৭৫ সালে সেনা, মেরিন ও নৌ বাহিনীর সৈন্যদের নিয়ে প্রথম সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোস্টগার্ড গঠন করা হয় ১৭৯০ সালে। দেশটির বিশ্বের বৃহৎ বিমান বাহিনী থাকলেও ১৯৪৭ সালের আগে এই বাহিনী স্বাধীন কোনো অপারেশন পরিচালনা করতে পারত না।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হচ্ছেন ইউএস প্রেসিডেন্ট। কোস্টগার্ড ছাড়া অন্য সংস্থাগুলো প্রতিরড়্গা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্তô। কোস্টগার্ড নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। কিন্তু যুদ্ধকালীন এই বাহিনীকেও প্রতিরড়্গা মন্ত্রণালয়ের অধীন নেয়া হয়।




বাজেট
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাজেটের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৫ সালে বিশ্বের সামরিক বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশ ছিল এই দেশটির। এ বছর বিশ্বের সামরিক বাজেট ১ হাজার ৪১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ৭১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উলেস্নখযোগ্য খাত হচ্ছে অপারেশনস ও মেইটেনেন্সে ১৭৯·৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৯·৫ ভাগ বেশি। মিলিটারি পারসোনেল খাতে ১২৫·২ বিলিয়ন যা গত বছরের তুলনায় ৭·৫ ভাগ বেশি। প্রকিউরমেন্ট খাতে ১০৪·২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৫·৩ ভাগ বেশি। রিসার্স, ডেভেলপমেন্ট, টেস্টিং ও ইভ্যালুয়েশন খাতে ৭৯·৬ বিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনায় ৪·১ ভাগ বেশি। মিলিটারি কনস্ট্রাকশন খাতে ২১·২ বিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনায় ১৯·১ ভাগ বেশি। ফ্যামিলি হাউজিং ৩·২ বিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনায় ১০·৩ ভাগ বেশি। রিসলভিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফান্ডস খাতে ২·২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৮·৫ ভাগ কম। উলিস্নখিত খাতগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে খরচ কমানো হলেও বাকি সব খাতেই খরচ বাড়ানো হয়েছে।

স্টাফ কলেজ
মিলিটারি অফিসারদের প্রশিড়্গণ দেয়ার জন্য রয়েছে অনেকগুলো স্টাফ কলেজ। এগুলো কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ওয়ার কলেজ নামেও পরিচিত। কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজগুলো হচ্ছে এয়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি কমান্ড অ্যান্ড জেনারেল স্টাফ কলেজ, নেভাল ওয়ার কলেজ, মেরিন করপোরেশনস ইউনিভার্সিটি ও জয়েন্ট ফোর্সেস স্টাফ কলেজ। ওয়ার কলেজগুলো হচ্ছে- নেভাল ওয়ার কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি, ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ ও এয়ার ইউনিভার্সিটি। গ্র্যাজুয়েট স্কুল হচ্ছে নেভাল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুল, এয়ারফোর্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কলেজ অব দ্য আর্মড ফোর্সেস।

মিলিটারি একাডেমি
জুনিয়র রিজার্ভ অফিসারদের প্রশিড়্গণের জন্য রয়েছে পাবলিক মিলিটারি স্কুল। এগুলো হচ্ছে কার্ভার মিলিটারি একাডেমি, শিকাগো মিলিটারি একাডেমি, কিভল্যান্ড জুনিয়র নেভাল একাডেমি, ফোর্স্টভিল মিলিটারি একাডেমি, ফ্রাঙ্কলিন মিলিটারি একাডেমি, কিনোশা মিলিটারি একাডেমি, মেরিন মিলিটারি একাডেমি, মেরিন একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিলাডেলফিয়া মিলিটারি একাডেমি ও টুল মিলিটারি ম্যাগনেট একাডেমি।

মিলিটারি জুনিয়র কলেজ
সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর কমিশন প্রাপ্তির আগ পর্যন্তô দু’বছর প্রশিড়্গণ দেয়ার জন্য রয়েছে পাঁচটি মিলিটারি জুনিয়র কলেজ। দুই বছরের এই প্রোগ্রামকে বলা হয় আর্লি কমিশনিং প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীতে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ওয়েন্টওর্থ মিলিটারি একাডেমি অ্যান্ড কলেজ, ভেলি ফোর্গ মিলিটারি একাডেমি অ্যান্ড কলেজ, নিউ মেিকো মিলিটারি ইনস্টিটিউট, ম্যারিয়ন মিলিটারি ইনস্টিটিউট ও জর্জিয়া মিলিটারি কলেজ।

আরো প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিড়্গণের জন্য রয়েছে আরো অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে পাঁচটি ফেডারেল সার্ভিস একাডেমি, সাতটি প্রাইভেট/স্টেট কলেজ লেভেল মিলিটারি একাডেমি, ছয়টি স্টেট-সাপোর্টেড মেরিটাইম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনেকগুলো প্রাইভেট কলেজ-প্রিপারেটরি মিলিটারি স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে বেসামরিক লোকদের পড়ারও সুযোগ রয়েছে।

রণতরী
বাংলাদেশে গত বছরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর-বিধ্বস্তô এলাকায় ইউএসএস তারাওয়া ও ইউএসএস কেয়ারসার্স নামে দু’টি মার্কিন রণতরী এসেছিল ত্রাণসহায়তার জন্য। ছোটখাটো একটা দ্বীপের মতো এসব জাহাজ। এ দু’টির মধ্যে বড় ছিল তারাওয়া। এর দৈর্ঘø ৮২০ ফুট, প্রস্থ (বিম) ১০৬ ফুট। জাহাজটির খোলা (ড্রাফট) ২৭ ফুট প্রশস্তô। তারাওয়া সমুদ্রে ভেসে থাকার জন্য ৪০ হাজার টন পানি সরিয়ে ফেলে। তারাওয়াকে বলা হয় সমুদ্রের ঈগল। এই ঈগলটি ৩০টির মতো আকাশযান বহন করতে পারে। একসাথে ২০টি আকাশযান ওঠানামা করতে পারে এতে। যেসব আকাশযান এতে বহন করা হয়, সেগুলো হলো হ্যারিয়ার (এভি-৮বি) জাম্প জেট, সি নাইট (সিএইচ-৪৬), সুপার স্ট্যালিয়ন (সিএইচ-৫৩), সুপার কোবরা (এএইচ-১ ডবিস্নউ), হুয়ি (ইউএইচ-১ এন) ও সি হক (এমএইচ-৬০ এস)। এতে আছে সুসজ্জিত ট্যাঙ্ক, হালকা যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী যান, মাল ও সেনা বহনকারী গাড়ি, দরকারি জিনিসপত্র বহনকারী গাড়ি ইত্যাদি। পেটের মধ্যে উভযান হোভারক্রাফট রাখার জন্য বিশাল ফাঁকা জায়গা। জেমস বন্ডের মুভিতে হোভারক্রাফটের অনেকগুলো দৃশ্য দেখা যাবে। জাহাজটিতে রয়েছে তিন শতাধিক টেলিভিশন সেট। ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিউটার। মোট তলা রয়েছে ২০টি।
অন্য দিকে ১৩তলাবিশিষ্ট ও এক কিলোমিটার দৈর্ঘেøর অপর জাহাজটি কেয়ারসার্সের প্রথম তলা থেকে সাততলা পর্যন্তô রয়েছে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা। নিচতলা থেকে ভারী মালামাল ওঠানামা করার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। জাহাজটিতে বিমানবন্দরের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আছে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর এ ধরনের ১৩টি জাহাজ বা রণতরী রয়েছে। এর সবগুলোতেই রয়েছে আত্মরড়্গামূলক ব্যবস্থা। এসব জাহাজকে বিমানবাহী জাহাজও বলা হয়।

নৌঘাঁটি
গত বছর ফেব্রম্নয়ারিতে মিউনিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিরাপত্তা সম্মেলন। সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইসসহ বিশ্বের অন্তôত ২৫০ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রম্নশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন তার বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একপাড়্গিকতার নিন্দা করে বেশ কিছু শক্ত কথা উচ্চারণ করেন। বিশেষ করে এই পরাশক্তির আন্তôর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইন্ধন ও বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরম্নদ্ধে তীব্র অভিযোগ উঠে আসে তার ভাষণে। পুতিনের দৃষ্টিতে এসব মার্কিন কর্মকাণ্ডই দেশে দেশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আহরণে প্ররোচনা জোগায় এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ উসকে দেয়। এত কিছু করার পরও মার্কিনিরা কিভাবে সমগ্র বিশ্বে মোড়লিপনা করছে তা ভাবার বিষয়।
রণতরীর কথা বলা হয়েছে। তার বিশালত্বের সামান্য বিষয় প্রবন্ধে উলেস্নখ করতে পেরেছি। এসব রণতরী সারা বিশ্ব চষে বেড়াচ্ছে। এদের দেখভালের জন্য মার্কিন নৌ বাহিনীর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নৌঘাঁটি। এ রকম একটি ঘাঁটি রয়েছে ভারত মহাসাগরের একটি প্রবাল দ্বীপে। দ্বীপটির নাম ডিইগো গার্সিয়া। দড়্গিণ ভারতের সমুদ্র সৈকত থেকে এর দূরত্ব ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বা ১ হাজার মাইল। দ্বীপটি লম্বায় ৬০ কিলোমিটার। ১৯৬০ সালে মৌরিতানিয়ার কাছ থেকে দ্বীপটি ব্রিটেন বনায়নের কথা বলে লিজ নেয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে দ্বীপটিতে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির জন্য ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিবদ্ধ হয়। ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭০০ সামরিক, ১ হাজার ৫০০ বেসামরিক ও ব্রিটেনের মাত্র ৫০ জন সামরিক সদস্য রয়েছে। দ্বীপটিতে বসানো হয়েছে উচ্চ ড়্গমতাসম্পন্ন বেতারতরঙ্গ। যার মাধ্যমে পুরো বিশ্বের খবরাখবর খুব সহজ ও অল্প সময়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ঘাঁটি থেকে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ইরাক যুদ্ধের কারণে গুয়ানতানামো বে অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। গোপন কারাগারে বন্দী নির্যাতনের কারণে গুয়ানতানামো বে ব্যাপক আলোচনায়ও আসে। এখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌঘাঁটি। নাম গুয়ানতানামো বে নেভাল বেইজ। কিউবার দড়্গিণ-পূর্ব সমুদ্র সৈকতের গুয়ানতানামো বে এলাকায় ঘাঁটিটি প্রায় এক শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা লিজ নেয়া হয় কিউবার কাছ থেকে। অবশ্য বর্তমানে কিউবা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে মেয়াদ এখনো চলছে। দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ২০০২ সালে ঘাঁটিটিতে গুয়ানতানামো বে ডিটেনশন ক্যাম্প নামে একটি বন্দিশিবির তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে এই কারাগারে তালেবান জঙ্গিদের রাখা হলেও পরে ইরাকের যোদ্ধাদের রাখা হয়। কারাগারটি জেনেভা কনভেনশনের আওতায় পড়ে না বলে বুশ প্রশাসন মনে করে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরো চারটি বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে স্পেনের জেলেদের আবাসভূমি ও পর্যটন কেন্দ্র রোটা গ্রামে ইউএস নেভাল স্টেশন রোটা। জাপানের কায়ুশু দ্বীপে ইউএস ফেট অ্যাকটিভিটিস সাসেবো। গুয়ামের আপরা বন্দরে নেভাল বেইজ গুয়াম। বাহরাইন প্রজাতন্ত্রের নেভাল সাপোর্ট অ্যাকটিভিটিস বাহরাইন।

বেইজ স্টেশন
দেশের অভ্যন্তôর ছাড়াও সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বেইজ স্টেশন ছড়িয়ে রয়েছে। এ প্রবন্ধে দেশের বাইরে বিভিন্ন বাহিনীর বেইজের একটি তালিকা দেবো। এসব বেইজের কোনো কোনোটি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আবার কোনোটি ওই দেশ কিংবা আন্তôর্জাতিক কোনো সংস্থার সাথে যৌথ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিমানবন্দর, দ্বীপ এমনকি সামরিক সদর দফতরেও দেশটির বেইজ রয়েছে। স্টেশনগুলোর বেশির ভাগই যুদ্ধকালীন অথবা কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে করা হয়েছে।
ইকুয়েডর, জার্মানি, গ্রিস, গ্রিনল্যান্ড, গুয়াম, ইতালি, জাপান, দড়্গিণ কোরিয়া, কিরঘিজস্তôান, নেদারল্যান্ড, পানামা, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, স্পেন, তুর্কি ও যুক্তরাজ্যে রয়েছে দেশটির বিমান বাহিনীর বেইজ।
জার্মানি, ইতালি, জাপান, কুয়েত, কসোভো, ফিলিপাইন, দড়্গিণ কোরিয়া ও ইসরাইলে রয়েছে আর্মির বেইজ।
মেরিন সেনাদের বেইজ রয়েছে আফগানিস্তôান, কিউবা, জিবুতি, জার্মানি, ইরাক, জাপান ও কুয়েতে।
নৌ বাহিনীর বেইজ রয়েছে ব্রিটিশ-ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, কিউবা, স্পেন, জাপান, গুয়াম, বাহরাইন, ইতালি, গ্রিস ও দড়্গিণ কোরিয়ায়। নৌ বাহিনীর বেইজ স্টেশনগুলো নৌঘাঁটি নামেও পরিচিত।

সামরিক চুক্তি
বিভিন্ন যুদ্ধ ও অস্ত্র বিক্রিসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন দেশের রয়েছে সামরিক চুক্তি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ন্যাটো, আনজুস ট্রিটি, ইন্টার অ্যামেরিকান ট্রিটি অব রিসিপ্রোক্যাল অ্যাসিসট্যান্স, নোয়াড-এর সাথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চুক্তি। বৃহৎ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চুক্তি রয়েছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, মিসর, ইসরাইল, জাপান, জর্ডান, ভারত, কুয়েত, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তôান, ফিলিপাইন, দড়্গিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের সাথে।

বাইরের দেশে সৈন্যের অবস্থান
বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য রয়েছে। এর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার। এসব সৈন্যের বেশির ভাগই পাঠানো হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শীতল লড়াইয়ের সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ধ্বংস করার জন্য। কোনো কোনো দেশে এক শ’র নিচেও সৈন্য রয়েছে। ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধের নামে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সেনাদের।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার সৈন্য অবস্থান করছে। যৌথ বাহিনীর নামে এ দেশে অন্যান্য দেশের সৈন্য রয়েছে ২৬ হাজারের মতো। আফগানিস্তôানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য রয়েছে ১৯ হাজার ৫০০। অন্যান্য দেশের রয়েছে ৬ হাজার ৫০০।
আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতিতে ২ হাজার ৪০০, কেনিয়ায় ১৫৩ এবং মিসরের কায়রোতে ২৯ ও সিনাই মরম্নভূমিতে ৫০০ যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য রয়েছে।
এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য ও সেন্ট্রাল এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য রয়েছে অন্তôত ৯৭ হাজার। এর মধ্যে ইরাক, সৌদি আরব ও আফগানিস্তôান ছাড়া কাতারে ১৫৮, বাহরাইনে ২ হাজার ৩৩৩, কুয়েতে ১০, ওমানে ১০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩৭ জন সৈন্য রয়েছে। এ ছাড়া দড়্গিণ কোরিয়ায় রয়েছে ২৬ হাজার ৪৭৭, জাপানে ৪৮ হাজার ৮৪৪, ফিলিপাইনে ৬৬০, দিয়াগো গার্সিয়ায় ৩১১, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ১৯, সিঙ্গাপুরে ১১৫, থাইল্যান্ডে ১ হাজার ১১৩ ও মালয়েশিয়ায় ১০ জন সৈন্য।
অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের অস্ট্রেলিয়ায় ১২৬, মার্শাল আইল্যান্ডে ২৬ ও নিউজিল্যান্ডে রয়েছে ১২ জন মার্কিন সেনা।
ইউরোপ মহাদেশের শুধু বসনিয়া অথবা কসোভোতেই মার্কিন সৈন্য রয়েছে ৯০ হাজার। অন্যান্য দেশের মধ্যে জার্মানিতে ৬৩ হাজার ৯৫৮, গ্রিসে ৩৮৬, ইতালিতে ১১ হাজার ৬৯৩, যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার ৯৬৭, স্পেনে ১ হাজার ২৬৮, নরওয়েতে ২৩, সুইডেনে ২৩, তুরস্কে ১ হাজার ৩৬৫, বেলজিয়ামে ১ হাজার ৩৬৭, পর্তুগালে ৮৬৪, নেদারল্যান্ডে ৪৪৪, গ্রিসে ৫৬২, রাশিয়ায় ১৮ ও গ্রিনল্যান্ডে ১৩৮ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
এসব সেনা যৌথ বাহিনী, ন্যাটো, জাতিসঙ্ঘের বিশেষ বাহিনী কিংবা আন্তôর্জাতিক অন্য কোনো সংস্থা অথবা এককভাবে অবস্থান করছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা রয়েছে প্রধানত দেশটির দূতাবাসে। ছোট ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর হিসাব এখানে আনা হয়নি।

যুদ্ধে অংশগ্রহণ
যুদ্ধবাজ দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম অনেক পুরনো। ১৭৭৬ সালে ব্রিটেনের শাসন থেকে মুক্ত হয় দেশটি। প্রায় প্রতি বছরই দেশটি কোনো না কোনো যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল। উলেস্নখযোগ্য যুদ্ধের একটি সংড়্গিপ্ত তালিকা এ প্রবন্ধে তুলে ধরা হলো। এসব যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অফিসিয়ালি অংশগ্রহণ করে। এ প্রবন্ধে নামও দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল নামে।
১৭৭৫ সাল থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্তô দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ করে। এর এক পড়্গে ছিল ইংরেজ উপনিবেশ। অন্য পড়্গে গ্রেট ব্রিটেন। এই যুদ্ধের পরই সৃষ্টি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ যুদ্ধের আগেও দেশটি অনেকগুলো যুদ্ধে নিজেকে জড়ায়। ১৬৭৫ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৬৭৬ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্তô চলে কিং ফিলিপ ওয়ার। এর এক পড়্গে ছিল নতুন ইংল্যান্ড উপনিবেশ। অন্য পড়্গে ওয়ামপানাগ, ন্যারাগানমেট ও নিপমুফ ইন্ডিয়ান। ১৬৮৯ সাল থেকে ১৬৯৭ সাল পর্যন্তô চলে কিং উইলিয়াম যুদ্ধ। এক পড়্গে ইংলিশ উপনিবেশ অন্য পড়্গে ছিল ফ্রান্স। ১৭০২ সাল থেকে ১৭১৩ সাল পর্যন্তô ইংলিশ উপনিবেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে হয় কুইন এনি যুদ্ধ। ফ্রান্স উপনিবেশ ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে কিং জর্জ ওয়ার হয় ১৭৪৪ সাল থেকে ১৭৪৮ সাল পর্যন্তô। একই দেশগুলোর সাথে ১৭৫৬ সালে আবার যুদ্ধ শুরম্ন হয়। শেষ হয় ১৭৬৩ সালে। এটি ছিল ফ্রান্স ও ইন্ডিয়ান যুদ্ধ। এই যুদ্ধকে সেভেন ইয়ারস ওয়ারও বলা হয়। ইংলিশ উপনিবেশ ও চিরোকি ইন্ডিয়ানদের মধ্যে চিরোকি যুদ্ধ হয় ১৭৫৯ সাল থেকে ১৭৬১ সাল পর্যন্তô। এর পরই শুরম্ন হয় দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধ। শুরম্ন হয় ১৭৭৫ সালে আর শেষ হয় ১৭৮৩ সালে।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশটির যুদ্ধের ইতিহাস অনেক লম্বা। এক উপনিবেশ থেকে দেশ মুক্ত হলেও দেশটি নিজেই সাম্রাজ্য বাড়ানোর লড়াই শুরম্ন করে। এসব যুদ্ধের বেশির ভাগই ছিল সমাজতন্ত্রের বিরম্নদ্ধে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা ও এককভাবে বিশ্বের মোড়লিপনার উদ্দেশ্যে।
১৭৯৮ সালে দেশটি জড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের সাথে ফ্রান্সো-অ্যামেরিকান নেভাল ওয়ারে। যুদ্ধ চলে ১৮০০ সাল পর্যন্তô। ১৮০১ সাল থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্তô ও ১৮১৫ সালে বারবারি ওয়ার সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপড়্গে ছিল মরক্কো, আলজিয়ার্স, তিউনিস ও ট্রিপলি। ওয়ার অব ১৮১২ চলে ১৮১২ সাল থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্তô। বিপড়্গে ছিল গ্রেট ব্রিটেন। ১৮১৩ সালে দেশটি চেক ইন্ডিয়ানদের সাথে শুরম্ন করে চেক যুদ্ধ। শেষ হয় ১৮১৪ সালে। দেশটির টোস রাজ্যের সাথে মেিকোর যুদ্ধ হয় ১৮৩৬ সালে। এটি ছিল ওয়ার অব টোস ইনডিপেন্ডেন্স। মেিকোর সাথে মেঙ্কিান ওয়ার সংঘটিত হয় ১৮৪৬ সাল থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্তô। কনফেডারেশন যুদ্ধ হয় ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্তô। এটি সিভিল ওয়ার নামে পরিচিত। স্পেনের সাথে স্পেনিশ-অ্যামেরিকান যুদ্ধ হয় ১৮৯৮ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরম্ন হয় ১৯১৪ সালে। শেষ হয় ১৯১৮ সালে। এ যুদ্ধে এক পড়্গে ছিল জার্মানি, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া। অপর পড়্গে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে ১৯১৭ সালে। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্তô চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধের এক পড়্গে ছিল জার্মান, ইতালি ও জাপান। অপর পড়্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া। কোরিয়ান যুদ্ধ শুরম্ন হয় ১৯৫০ সালে, শেষ হয় ১৯৫৩ সালে। এই যুদ্ধে এক পড়্গে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘের অংশ হিসেবে ও দড়্গিণ কোরিয়া এবং অপর পড়্গে উত্তর কোরিয়া ও সমাজতান্ত্রিক চীন জড়িয়ে পড়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরম্ন হয় ১৯৬০ সালে, শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। এই যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামের বিপড়্গে ছিল দড়্গিণ ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র। বে অব পিগস ইনভেসন যুদ্ধ হয় ১৯৬১ সালে। পড়্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা। গ্রেনাডার যুদ্ধ হয় ১৯৮৩ সালে। পানামার বিরম্নদ্ধে দেশটি ইউএস ইনভেসন অব পানামা যুদ্ধ করে ১৯৮৯ সালে। পারসিয়ান গালফ ওয়ার পরিচালনা করে ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ সালে। ইরাকের বিরম্নদ্ধে যৌথ বাহিনীর নামে এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মধ্যে যুদ্ধে ন্যাটোর হয়ে হস্তôড়্গেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর সময়কাল ছিল ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্তô। আফগান যুদ্ধে এই দেশ জড়িয়ে পড়ে ২০০১ সালে। সবশেষে ২০০৩ সালে যৌথ বাহিনীর নামে ইরাকের বিরম্নদ্ধে দেশটি শুরম্ন করে একতরফা যুদ্ধ।

একনজরে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী
শাখাঃ আর্মি
মেরিন কর্পস
নেভি
এয়ারফোর্স
কোস্টগার্ড
কমান্ডার ইন চিফঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
প্রতিরড়্গা সচিবঃ রবার্ট এম গেটস
জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যানঃ অ্যাডমিরাল মাইকেল মুলেন
সামরিক বয়সঃ ১৭-৪৫ বছর
সামরিক বাহিনী সদস্যঃ ৭,২৭,১৫,৩৩২ জন পুরম্নষ ও
৭,১৬,৩৮,৭৮৫ জন মহিলা
মিলিটারি সার্ভিসের উপযুক্তঃ পুরম্নষ ৫,৯৪,১৩,৩৫৮ জন
মহিলা ৫,৯১,৮৭,১৮৩ জন
অ্যাকটিভ পার্সোনেলঃ ১৪,৩৬,৬৪২ (র‌্যাঙ্ক-২) জন
রিজার্ভ পার্সোনেলঃ ৮,৪৮,০৫৬ জন

সামরিক শক্তি
কার্যকর সৈন্যঃ ১৩,৮০,০০০
রিজার্ভ সৈন্যঃ ১৪,৬৩,০০০
সামরিক বাজেটঃ ৭১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
ট্যাঙ্কঃ ৭,৮২১
এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারঃ ১৩
(বিমানবাহী জাহাজ)
ক্রুজারঃ ২২
ডেসট্রয়ারঃ ৫৬
ফ্রিগেটঃ ৩৪
করভেট্টঃ ৪৮
সাবমেরিনঃ ৭৪
যুদ্ধবিমানঃ ২,৬০৪
পারমাণবিক বোমাঃ ৯,২০০

Source : www.pavelmostafiz.blogspot.com

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

ইসরাইলের সমরশক্তি

ছয় দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ৫ জুন। এদিন ইসরাইল আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছিল। মাত্র ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, মিশরের সাইনাই ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে মিশর ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিলে ইসরাইল সাইনাই এলাকা মিশরের কাছে ফেরত দেয়। কিন্তু বাকি সব এলাকাতেই এখনো চলছে ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্ব। ইসরাইলি বর্বরতা ও নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য ফিলিস্তিনীদের প্রতি কোনো পরাশক্তি সাহয্যের হাত বাড়ায়নি। এমনকি বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘও ফিলিস্তিনীদের জন্য তেমন কিছুই করেনি। অধিকন্তু বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তার বিশ্বস্ত মিত্র বৃটেনসহ পশ্চিমারা ইসরাইলকে তার সব কর্মের জন্য নিঃশর্ত সমর্থন ও সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। তাদেরই প্রত্যক্ষ সাহায্য সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ইসরাইল আজ পৃথিবীর অন্যতম সামরিক শক্তির অধিকারী একটি দেশ। এই সামরিক শক্তি অর্জনে ইসরাইলের যে বাহিনী ভূমিকা পালন করছে সেই বাহিনীর নাম ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। বাহিনীটির অস্ত্র ও যুদ্ধ কৌশল বিশ্বের সব দেশ থেকে ভিন্ন। সে নিষ্ঠুরতার দিক থেকে হোক আর প্রযুক্তি ও রণকৌশলই হোক। জানা-অজানার এবারের বিষয় ইসরাইলের এই বাহিনী নিয়ে।




ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনীর সংগঠন
ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী (আইডিএফ) তিনটি মিলিটারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত। সংস্থাগুলো হচ্ছে- গ্রাউন্ড ফোর্সেস, এয়ার ফোর্স ও নেভি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র বাহিনীতে বেসামরিক লোক নিয়োগ দেয়া হলেও ইসরাইল এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী সে দেশের সামরিক ব্যক্তিত্বরা পরিচালনা করে। এই বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। অবশ্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনেক বেসামরিক লোককে পদস্থ কর্মকর্তা করা হয়। অফিসিয়ালি ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৪৮ সালের ২৬ মে কেবিনেটের সিদ্ধান্তক্রমে। এ জন্য লিখিত আদেশ দেয় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলকভাবে অনেক ইহুদীকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও ইহুদীদের তিনটি গোপন সংগঠন হাগানা, ইরগান ও লেহির সদস্যদের নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই বাহিনী গঠন করা হয়। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা আর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ের রাখতে অনেকগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয় এই বাহিনীকে।
বিভিন্ন দেশের সাথে এই বাহিনীর অস্ত্র ও প্রযুক্তির বেশ পার্থক্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মারকাভা মেইন ব্যটল ট্যাঙ্ক, উজি সাবমেরিন গান এবং গালিল ও টাভর অ্যাস্যল্ট রাইফেল। আইডিএফ’র উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে অর্থ সহযোগিতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে- এফ-১৫১ জেট বিমান, টিএইচইএল লেজার ডিফেন্স সিস্টেম ও এরো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলা সদস্যদের স্বেচ্ছায় নিয়োগ দেয়া হলেও ইসরাইলে দেয়া হয় অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে। পুরুষ সদস্যদের উৎসাহ দেয়ার জন্য তিনটি বাহিনীতেই এই নিয়োগ দেয়া হয়।

উদ্দেশ্য ভৌগলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব
আইডিএফ’র লক্ষ্য ইসরাইলের অস্তিত্ব, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এজন্য কয়েকটি বিষয়ে তারা কোনো ছাড় দেয় না। আইডিএফ কোনো ছোট যুদ্ধেও হারতে রাজি নয়। নিজ এলাকার মধ্যে সর্বোচ্চ আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয় আইডিএফ। রাজনৈতিক সুযোগ থাকলে ভয় দেখিয়ে সমস্যা সমাধান করে। যুদ্ধের তীব্রতা প্রতিরোধ, দ্রুত যুদ্ধের লাভ-ক্ষতি কী হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়া। সন্ত্রাস দমনে লড়াই করা। যুদ্ধে যান মালের খুব সামান্য ক্ষতি হতে দেবে। সম্ভব হলে কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। অবশ্য এ সবই কাগজের কথা। অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার দিক থেকে এই বাহিনী সারা বিশ্বে ব্যাপক সমালোচিত।

বার্ষিক ব্যয় গোপন রাখে
১৯৫০-১৯৬৬ সালে ইসরাইল দেশটির জিডিপির ৯% খরচ করেছে প্রতিরক্ষা খাতে। ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর নাটকীয়ভাবে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ১৯৮০ সালে প্রতিরক্ষা খাতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ শতাংশে। কিন্তু জর্দান ও মিশরের সাথে শান্তিচুক্তির পর এই ব্যয় আবার ৯ শতাংশে নেমে আসে এমন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে আসল কথা হচ্ছে ইসরাইলের সামরিক ব্যয় বা এই সংস্থা সম্পর্কে নির্ভর করার মতো কোনো তথ্য কখনোই পাওয়া যায় না। যেটুকু জানা যায় তাতে ২০০৯ সালে ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনীর বাজেট ১ হাজার ৩৩ কোটি মার্কিন ডলার।

নিয়মিত সার্ভিসে যোগ দেয়া বাধ্যতামূলক
ধর্মীয়, স্বাস্থ্যগত ও মানসিক সমস্যা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি ইসরাইল নাগরিকদের মধ্যে ইহুদি ও দ্রুজদের মিলিটারি সার্ভসে যোগ দেয়া বাধ্যতামূলক। পুরুষদের কমপক্ষে তিন বছর ও মহিলাদের কমপক্ষে দুই বছর মিলিটারিতে কাজ করতে হবে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে হবে এমন মহিলাদের ট্রেনিংয়ের জন্য তিন বছর থাকতে হয়। মহিলাদের আরো কিছু ট্রেনিং আছে যা শেষ করতে তাকে তিন বছরেরও বেশি সময় মিলিটারিতে থাকতে হয়। মহিলাদের এই সময়দানকে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন বলা হলেও বিশেষ কারণেই এটি করা হয়। কোনো মহিলা মিলিটারি সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিতে চাইলেও তাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে পুরুষদের বিষয়টা ভিন্ন।

বর্ডার পুলিশ সার্ভিসে আইডিএফ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়
ইসরাইলের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বর্ডার পুলিশ সার্ভিসের। আইডিএফ’র কিছু সদস্যকে এই সার্ভিসে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে হয়। সাধারণত সামরিকবাহিনীর সদস্যদের কমব্যাট ট্রেনিং শেষে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ হিসেবে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং নিতে হয়। এই প্রশিক্ষণের কারণ হচ্ছে যে কোনো সীমান্ত সমস্যা যেন সহজে আইডিএফ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বর্ডার পুলিশ সার্ভিস ইইডএফ’র নিয়মিত কমব্যাট ইউনিটের পাশাপাশি কাজ করে। সংস্থাটি সী,ান্ত এলাকা ছাড়া জেরুজালেমসহ অন্যান্য উপশহর ও গ্রাম্য এলাকায়ও দায়ত্ব পালন করে। জরুরি মুহূর্তে বর্ডার পুলিশ সার্ভিস সরাসরি আইডিএফ’র নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

বছরে এক মাস রিজার্ভ সার্ভিসে কাজ করতে হয়
নিয়মিত সার্ভিস ছাড়াও ৪৩ থেকে ৪৫ বছরের কম বয়সী পুরুষদের বার্ষিক অন্তত এক মাস আইডিএফ-এ কাজ করতে হয়। এটি রিজার্ভ সার্ভিস নামে বেশি পরিচিত। সঙ্কটকালে এই সার্ভিসের সদস্যদের নিয়মিত কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। ৪৫ বছরের পর এই সার্ভিসে কাজ করা বাধ্যতামূলক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিজার্ভ সার্ভিসের সদস্যদের আগের ইউনিটের অধীনেই কাজ করতে দেয়া হয়। মহিলাদেরও এই সার্ভিসে এক মাস সময় দিতে হয়।

অস্ত্রের উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বব্যপি স্বীকৃত
ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ও কম্পিউটার পদ্ধতি ব্যবহার করে। এটি বিশ্বের সব দেশই কম বেশি অবগত। আইডিএফ’র মানব বিধ্বংসী অস্ত্র বিশ্বের যে কোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করার মতো। এসব অস্ত্রের কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যা তৈরি করে তা কোনো না কোনো ভাবে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- এম৪এ১ অ্যাসল্ট রাইফেল, এফ-১৫ ঈগল ও এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, এএইচ-৬৪ অ্যাপেচ, এএইচ-১ কোবরা এটাক হেলিকপ্টার। ইসরাইলের অস্ত্র তৈরির নিজস্ব কারখানা রয়েছে। যেখানে অস্ত্র ও সামরিক যানের উন্নত সংস্কার করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মার্কাভা ব্যটল ট্যাঙ্ক সিরিজ, কেফির ফাইটার এয়াক্রাফট। এছাড়া ছোট ইসরাইলের তৈরি গালিল ও টাভোর অ্যাসল্ট রাইফেলস এবং উজি সাবমেরিন গান বিশ্বের ছোট অস্ত্রের মধ্যে প্রথম সারির।
অস্ত্র তৈরির জন্য আইডিএফ’র আভ্যন্তরীণ বৃহৎ গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগ নিজ দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসরাইলি সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে অনেক প্রযুক্তি পণ্য ক্রয় করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- আইএআই, আইএমআই, এলবিট, ইল-ওপি, রাফায়েল, সোলটাম। এছাড়াও অন্তত ডজনখানের প্রতিষ্ঠান থেকে তার প্রযুক্তি পণ্য ক্রয় করে।

ইসরাইলি মিলিটারি প্রযুক্তি বিখ্যাত অনেক কারণে
অনেকগুলো কারণেই ইসরাইলের মিলিটারি প্রযুক্তি বিখ্যাত। ইসরাইলের রিভলভর, বর্মাচ্ছাদিত যুদ্ধযান (ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক-কনভার্টার এপিসি, বর্মাচ্ছাদিত বুলডোজার ইত্যাদি), মানুষ্যবিহীন বায়বীয় যান ও রকেট্রি (মিসাইল ও রকেট) ইত্যাদি মারনাস্ত্র বিশ্বখ্যাত। ইসরাইল বিশ্বের একমাত্র দেশ যার রয়েছে অপারেশনাল এন্টি-ব্যালস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এছাড়া ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে মধ্যম রেঞ্জের রকেট বিধ্বংসের জন্য উচ্চ প্রযুক্তির লেজার সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে। এর নাম দেয়া হয়েছে নটিলাস বা টিএইচইএল। মহাকাশে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইসরাইলের স্বাধীন পরিদর্শন ক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষমতা ইসরাইল ছাড়া রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, ভারত, জাপান ও ইউক্রেনের রয়েছে। তবে স্যাটেলাইটের উন্নয়ন ইসরাইল নিজেই করে।

পারমানবিক বোমার অফিসিয়াল ঘোষণা নেই
ইসরাইল পারমানবিক বোমার এখনো কোনো পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ করেনি। কতটি বোমা আছে তাও দেশটি প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে দেশটির নিয়ন্ত্রণে ৭৫ থেকে ২০০ পারমানবিক অস্ত্র থাকতে পারে। কেউ কেউ এই সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করছে। অবশ্য আইডিএফ সবসময় বলে আসছে তারা পারমানবিক গবেষণা ব করে দিয়েছে।

ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করে নিয়েছিল আরব বিশ্বের বিশাল ভূমি
ফিলিস্তিনের যে মানুষগুলোর বয়স এখন ৪২ তারা জন্মের পর থেকেই ইসরাইলের নির্যাতনকে মোকাবেলা করে আসছে। সে নির্যাতনে নিহত হয়েছে হাজার ফিলিস্তিনী। কারাগারে বছরের পর বছর ধরে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনী আর বাকিরা চালিয়ে যাচ্ছে কঠিন ও অসম এক স্বাধীনতা সংগ্রাম। কয়েক লাখ ফিলিস্তিনী জন্ম থেকেই উদ্বাস্তু। এর শুরুূটা হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ৫ জুন। এ প্রবরে শুরুতে বলা হয়েছে এদিন ইসরাইল আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছিল। মাত্র ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, মিশরের সাইনাই ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে মিশর ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিলে ইসরাইল সাইনাই এলাকা মিশরের কাছে ফেরত দেয়। কিন্তু বাকি সব এলাকাতেই এখনো চলছে ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্ব।
আরো একটু পিছনের কথা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২২ সালে ফিলিস্তিন এলাকা বৃটিশ ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হয়। ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ফ্রাংকলিন রুজভেল্ট একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইহুদি কমনওয়েলথ গঠনের অনুমোদন দেন। ১৯৪৭ সালে বৃটেন ফিলিস্তিন প্রস্তাবটি জাতিসংঘে উত্থাপন করে। সে বছর ৩১ আগস্ট ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ কমিটির রিপোর্টে ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে বিভক্তির সুপারিশ করা হয়। ২৯ নভেম্বর প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এতে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের ৫৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় একটি ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য এবং আরবদের জন্য রাখা হয় ৪৫ শতাংশ। অথচ তখন ফিলিস্তিনে আরব ছিল ১২ লাখ ৬৯ হাজার আর ইহুদি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার।
১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনের ওপর বৃটিশ ম্যান্ডেট অবসানের তারিখ ঘোষিত হয় এবং এর একদিন আগেই ইসরাইল তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট স্টালিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান তাৎক্ষণাৎ ইসরাইলকে স্বীকৃত দেয়। এভাবেই জন্ম হয় ইসরাইল রাষ্ট্রের।
বিভক্তির পরপরই শুরু হয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ। ১৯৪৮ সালের জুলাইয়ের ১০ দিনের ওই যুদ্ধে ইসরাইলের কাছে আরব বাহিনী পরাজিত হয়। অক্টোবরে ইসরাইল চূড়ান্ত হামলা চালায় উত্তর লেবাননের সীমান্ত ও গোলান মালভূমি এবং দক্ষিণ আকাবা উপসাগর ও সাইনাই উপত্যকায়। এতে ফিলিস্তিনের ৭০ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড ইসরাইরের দখলে চলে যায়। পরে ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালে ইসরাইল আবারো আরব দেশ আক্রমণ করে তার সীমানাকে বিস্তৃত করে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনী মুসলমানদের ওপর ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্ব, সীমাহীন নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও বর্বরতা চলে আসছে। আর এই বর্বরতার চলছে যে বাহিনীর মাধ্যমে সেই বাহিনীই হচ্ছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)।

শেষ কথা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, ইসরাইল অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন থেকে ধারণা ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের অপরাজেয় শক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে হামাস এবং আরো আগে হিজবুল্লাহ প্রমাণ করেছে ইসরাইলও পরাজয় বরণ করবে। শুধু তাই নয়, যে ইসরাইল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিজেকে মনে করতো অপ্রতিরোধ্য শক্তি সে ইসরাইল এখন নিজেই পতনের সম্ভাবনায় ভীত। ইসরাইলের উচিত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ফিলিস্তিন থেকে এখনই সেনা প্রত্যাহার করা। উচিত আাগ্রাসন ও দখলদারিত্ব ব করে ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতা দেয়া। সারা বিশ্বেই সমর শক্তি সমস্যা সমাধানে ধীরে ধীরে ব্যর্থ হচ্ছে।

একনজরে ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী
শাখাঃ আর্মি, নেভি, এয়ার
সামরিক বয়সঃ ১৮ বছর
অ্যভেইল্যবল ফর মিলিটারি সার্ভিসঃ পুরুষ ১৪,৯৯,১৮৬ জন ও মহিলা ১৪,৬২,০৬৩ জন।
ফিট ফর মিলিটারি সার্ভিসঃ পুরুষ ১,২২,৯০৩ জন ও মহিলা ১১,৯২,৩১৯ জন।
রিচিং মিলিটারি এইজ এনুয়ালিঃ পুরুষ ৫০,৩৪৮ জন ও মহিলা ৪৭,৯৯৬ জন।
অ্যাকটিভ পার্সোনেলঃ ১,৭৬,৫০০ (র‌্যাঙ্ক-৩১) জন

সমর শক্তি
উচ্চমানের ট্যাঙ্কঃ ৯৭০
মধ্যম ও নিম্নমানের ট্যাঙ্কঃ ১৮৩০
এপিএস, আইএফভি, এআরভি, এলসিভিঃ ৬৯৩০
সেল্ফ-প্রোপেলড আর্টিলারিঃ ১২০৪
কমব্যাট ওয়ারপ্লেনঃ ৮৭৫
ট্রান্সপোর্ট ওয়ারপ্লেনঃ ৮৪
ট্রেনিং ওয়ারপ্লেনঃ ১৭১
মিলিটারি হেলিকপ্টারঃ ২৮৬
হেভি এসএএম ব্যাটারিঃ ২৫ ওয়ারশিপঃ ১৩
সাবমেরিনঃ ৩
পেট্রোল বোটঃ ৫০

Source : www.pavelmostafiz.blogspot.com

রবিবার, ০৯ মে ২০১০

মিয়ানমারের সমরশক্তি

দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শাসিত দেশ মিয়ানমার। মোট আয়তন ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫২ বর্গকিলোমিটার। উত্তর-দক্ষিণ এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৮৫ কিলোমিটার। সর্বপশ্চিমে এর সর্বোচ্চ বিস্তার প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার। উপকূলীয় এলাকাটি নিম্ন মিয়ানমার ও অভ্যন্তরীণ অংশটি ঊর্ধ্ব মিয়ানমার নামে পরিচিত। অশ্বখুরাকৃতি পর্বতব্যবস্থা ও ইরাবতী নদীর উপত্যকা দেশটির ভূ-সংস্থানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উত্তরের পর্বতগুলোর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হকাকাবো রাজির উচ্চতা ৫ হাজার ৮৮১ মিটার। এটি দণি-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আরো দু’টি পর্বতব্যবস্থা উত্তর থেকে দক্ষিণ বিস্তৃত। আরাকান ইয়োমা পর্বতমালাটি মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে। এর পর্বতগুলোর উচ্চতা প্রধানত ৯১৫ মিটার থেকে ১ হাজার ৫২৫ মিটার পর্যন্ত। অন্য দিকে শান মালভূমি থেকে বিলাউকতাউং পর্বতশ্রেণীটি প্রসারিত হয়ে দণি-পূর্ব নিম্ন মিয়ানমার ও দণি-পশ্চিম থাইল্যান্ডের সীমান্ত বরাবর চলে গেছে। শান মালভূমিটি চীন থেকে প্রসারিত হয়েছে। এর গড় উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ২১৫ মিটার। মিয়ানমারের অভ্যন্তরভাগে কেন্দ্রীয় নিম্নভূমিগুলো মূলত সরু ও দীর্ঘ। এগুলো ইরাবতী-সিত্তাং নদীর ব-দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এ ব-দ্বীপীয় সমভূমিগুলো অত্যন্ত উর্বর ও দেশের সবচেয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্ববিশিষ্ট অঞ্চল। এর মোট আয়তন প্রায় ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের আরাকান উপকূল ও দণি-পশ্চিমের তেনাসসেরিম উপকূল উভয়েই শিলাময় এবং এগুলোর কাছে অনেক দ্বীপ অবস্থিত। মিয়ানমারে বেশ কিছু উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় আছে।

সশস্ত্র বাহিনীর নাম টাটমাডো
দ্য মিলিটারি অব মিয়ানমারের অফিসিয়াল নাম টাটমাডো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ বাহিনীর শাখা হচ্ছেÑ আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্স। সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী বাহিনী দু’টি। একটি মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স। অন্যটি পিপলস মিলিশিয়া ইউনিটস অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। স্থানীয়ভাবে এটি নাসাকা নামে পরিচিত। নাসাকা মিয়ানমারের সীমান্ত প্রহরার কাজে নিয়োজিত। তবে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে এ পাঁচ বাহিনীর যেকোনো বাহিনীকে যেকোনো কাজ দেয় দেশটির সামরিক সরকার। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভের পর টাটমাডো দেশ পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বর্তমানে দেশটির শাসন ক্ষমতা এ বাহিনীর হাতে।




মোট সৈন্য সাড়ে পাঁচ লাখ, বাজেট ৭.০৭ বিলিয়ন ডলার
মিয়ানমারের মোট সৈন্য ৫ লাখ ৬৪ হাজার। এ সংখ্যা বিশ্বে ২৬তম। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯২ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। বাকি ৭২ হাজার আধাসামরিক বাহিনী বা নাসাকার সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে মিয়ানমারের র‌্যাঙ্ক নবম। আর আধাসামরিক বাহিনী ২৬তম। টাটমাডোর বার্ষিক খরচ জানা না গেলেও ২০০৫ সালে সংস্থাটির জন্য সরকারের বাজেট ছিল ৭.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা জিডিপি’র দুই দশমিক এক শতাংশ।

সমরসজ্জার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট
মিয়ানমারের সীমান্তে পরিত্যক্ত বিমানবন্দর যুদ্ধ বিমানের ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া। কেউ বলছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে চাচ্ছে। অনেকের ধারণা, বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই মিয়ানমারের এই সমরসজ্জা। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে ব্যাপক সমর প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘমেয়াদি কোনো ল্য নিয়ে বেশ কয়েকটি স্থায়ী সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে তারা। মিয়ানমারের এ সমরসজ্জার উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট। কারো কারো মতে, পরমাণু শক্তি অর্জন ও এ সম্পর্কিত গোপন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরাবলয় তৈরি করছে মিয়ানমার। আবার কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশের সাথে বিতর্কিত সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তারা। এত বড় বড় বিষয়ের খোঁজ রাখেন না যারা, সেসব সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ করাটাই আসল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য এর কোনোটিই উপোর নয়।

সেনাবাহিনীতে গড়ে তোলা হয়েছে নিউকিয়ার ব্যাটালিয়ন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড সম্প্রতি সপ ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের দুই সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এক সংবাদ প্রকাশ করেছে। সাবেক সেনাকর্মকর্তা মোয়ে জোঁ জানিয়েছেন, বিদেশে গোপনে প্রশিণ পাওয়া সৈনিক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সেনাবাহিনীতে গড়ে তোলা হয়েছে নিউকিয়ার ব্যাটালিয়ন। এর কার্যক্রম চলছে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সেত পাহাড়ে। নোং লেইং পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে পরমাণু কমপ্লেক্স। মিয়ানমারের গোপন পারমাণবিক চুক্তি ও প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পে সহায়তা করছে উত্তর কোরিয়া। দণি মিয়ানমার হয়ে নৌপথে অতি গোপনে পারমাণবিক সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার একটি রহস্যজনক জাহাজ জুলাই মাসের প্রথম দিকে অজ্ঞাত বন্দরের উদ্দেশে ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রা করে। এক পর্যায়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সেটি অনুসরণ করতে থাকায় জাহাজটি পাঁচ দিন পর আচমকা দিক পরিবর্তন করে উত্তর কোরিয়ার পথে ফিরতি যাত্রা করে। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রে প্রকাশ পাওয়া আগের তথ্যটির সমর্থন মিলেছে। রহস্যজনক জাহাজটি মিয়ানমারের জন্য পারমাণবিক সরঞ্জাম বহন করছিল বলেই ধারণা করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ
খুব কম লোকই বিশ্বাস করে যে, সামরিক শাসনকবলিত হতদরিদ্র দেশ মিয়ানমার অদূর ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এশিয়ার এ দেশটির প্রতি তাদের সন্দেহের তীর ছুড়ে দিয়েছেন। কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিতে বিশ্বের দরিদ্রতম এ দেশটিকে সহায়তা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের উদ্দেশে উত্তর কোরিয়ার একটি জাহাজের যাত্রা, মিয়ানমারে বিশাল বিশাল সুড়ঙ্গ খননের ছবি ও দু’দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একটি গোপন বৈঠক থেকে এ সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সিরিয়ার সাথে মিয়ানমারের সহযোগিতামূলক সম্পর্ককেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। মিয়ানমারের মতো সিরিয়াও রুশদের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু রুশরা দু’টি দেশকেই বিমুখ করেছে।
স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে দণি কোরীয় গোয়েন্দা সংস্থা সন্দেহ করছে যে, গত জুলাই মাসের গোড়ার দিকে ‘কাং নাম-১’ নামে একটি উত্তর কোরীয় জাহাজ সন্দেহভাজন উপকরণ নিয়ে মিয়ানমারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বাধা দেয়ায় কোরীয় জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য হয়। বাধা পেয়ে জাহাজটি স্বদেশে ফিরে আসে। ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সায়েন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির সভাপতি ডেভিড অলব্রাইট বলেছেন, ‘সন্দেহজনক কোনো একটি ঘটনা ঘটছে। পরমাণু কর্মসূচিতে মিয়ানমারকে উত্তর কোরিয়া ক্রমবর্ধমান সহায়তা দান করছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখছি।’

রাখাইন রাজ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিরক্ষা বলয়
মিয়ানমারের অনেকেই এখন মনে করেন ভূগর্ভে পারমাণবিক বিস্ফোরণ কিংবা বিকল্প পারমাণবিক স্থাপনা তৈরি হচ্ছে রাখাইন রাজ্যে। আর এ জন্যই এর আশপাশের ২৬টি গ্রামের মানুষকে আশ্রয়হীন করা হয়েছে। এদের অনেকেই এখন বাংলাদেশে। মিয়ানমারের পারমাণবিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের পাশে মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটে প্রতিরাবলয় গড়ে তোলা হচ্ছে বলে সে দেশের সচেতন অংশ ধারণা করছে। আগে থেকেই আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমা পাহারায় এ অঞ্চলে তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনীর অবস্থান রয়েছে। তার ওপর সাবমেরিন তৈরি কিংবা ঘাঁটি স্থাপনের দিকেও তারা অগ্রসর হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দুর্গম পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে যুদ্ধবিমান ওঠানামার স্থায়ী ব্যবস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি যেসব এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হয়েছিল এত দিন তার অধিকাংশই ছিল অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত। এর সংখ্যা প্রায় এক ডজন। সাবেক আরাকান বর্তমান রাখাইনের এসব এয়ারস্ট্র্রিপের মধ্যে টেনডুয়ে, নাপলিত, টংগু এয়ার বেজকে মিয়ানমার বিমান বাহিনী আগেই ব্যবহার উপযোগী করে নিয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর তীরের আকিয়াব অঞ্চলে আন, সামরি, তান্ডুয়ে এবং মইউ বা মউ নদীর পাশে মরাউকের পরিত্যক্ত চারটি সামরিক এয়ারস্ট্রিপ হস্তান্তর করা হয়েছে নৌবাহিনীর কাছে। নৌবাহিনী এগুলোকে তাদের নিজস্ব যুদ্ধ ও পরিবহন বিমানের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে নেবে। গত বছর আকিয়াবের একটি স্থানীয় দৈনিকে খবরটি প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত এসব এয়ারস্ট্রিপের সংস্কার শুরু হয়নি। তবে নতুন করে কমপে আরো চারটিকে সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আধুনিক বিমান ঘাঁটি
বুচিডং শহরের ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের লউ-এ ডং বিমান ঘাঁটিটি বিমান বাহিনীর নিজস্ব সুবিশাল আধুনিক বিমান ঘাঁটি হিসেবে তৈরি করছে তারা। আকাশপথে বাংলাদেশ সীমান্তের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই এর অবস্থান। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার চওড়া এ বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করে। এর চার পাশে কমপে ২০টি দূরপাল্লার কামান বসিয়ে সার্বণিক পাহারা দেয়া হচ্ছে। কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে কাছাকাছি ঘেঁষতে দেয়া হয় না বলে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। বর্তমানের আকিয়াব তথা সিটওয়ের বিমান ঘাঁটিটি লউ-এ ডং বিমান বন্দরসংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরিত হবে, নাকি দ্বিতীয় একটি বিমান ঘাঁটি হিসেবেই এটাকে রাখা হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বাংলাদেশের আরো কাছে নাইনচং এয়ারস্ট্রিপকেও সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ছাড়াও পুরনো সেসনা ধরনের ুদ্র বিমান ওঠানামার উপযোগী সাহেববাজার ও দরগার বিল এয়ারস্ট্রিপকে বাড়িয়ে মিগ-২৯ এর মতো যুদ্ধজাহাজের ব্যবহার উপযোগী রানওয়ে তৈরির কাজ শুরু করা হয় গত শীতে। যদিও বর্ষার শুরুতেই প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার এ দু’টি সংস্কারকাজ থেমে গেছে। উখিয়া (কক্সবাজার) থানার ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে সোজা পূর্ব দিকে আকাশপথে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে দরগার বিল এয়ারস্ট্রিপ।

আরো একটি বড় বিমান ঘাঁটি
বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছে আকিয়াব তথা (সাবেক আরাকান) বর্তমানের রাখাইন রাজ্যের সর্বপশ্চিমের বেসামরিক বিমান বন্দরটিকেও মিয়ানমার সম্প্রতি অন্যতম বড় বিমানবন্দর আকারে সম্প্রসারিত করেছে। বঙ্গোপসাগর তীরের এ সিটওয়ে বিমানবন্দরকে মিয়ানমারের অন্যতম বড় এয়ারফোর্স ঘাঁটি বলেও বিবেচনা করা হয়। যদিও সিটওয়ের কিয়াকপ্রু এবং থান্ডওয়েতে এয়ারফোর্স ঘাঁটির নিজস্ব দু’টি স্বতন্ত্র রানওয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফে মাছ বিক্রি করতে আসা আকিয়াবের একাধিক ব্যবসায়ী। এসব সংবাদ স¤প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে। জানা গেছে, এগুলোকে মিগ-২৯সহ অন্যান্য আধুনিক জঙ্গি ও বৃহদাকার বোমারু বিমান রাখা ও ওঠানামার উপযোগী করা হয়েছে গত বছর। সাথে বসানো হয়েছে সামরিক হেলিপ্যাড। শোনা যায়, সিটওয়ের এ বিমান ঘাঁটির অধীনে ২৪টি মিগ-২৯ জঙ্গি বিমান রয়েছে।
তা ছাড়াও সিটওয়ে বিমানবন্দরে এর মধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে শক্তিশালী রাডার। একটি সূত্র দাবি করেছে, বাংলাদেশের কুমিল্লা কিংবা বরিশালের যেকোনো স্থান থেকে আকাশে কোনো বিমান উঠলেই মিয়ানমারের এ রাডারে ধরা পড়বে।

সমুদ্রে কর্তৃত্ব বিস্তারে রয়েছে বড় ধরনের প্রস্তুতি
বিমান বাহিনীর পাশাপাশি সমুদ্রে কর্তৃত্ব বিস্তারেও মিয়ানমারের বড় ধরনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের মংডু ও বুচিডং থানাকে বিভক্ত করা মইউ নদীর মোহনায় আছে মিয়ানমার নৌবাহিনীর অন্যতম বড় ঘাঁটি। এখান থেকেই বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের পশ্চিমাংশের টহল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাথেই আছে নৌবাহিনীর নিজস্ব ডকইয়ার্ড। মইউ নদীর মোহনার গভীরতম স্থানকে এর মধ্যেই বিশেষভাবে সংরতি করা হয়েছে। এলাকাটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বয়া দিয়ে চিহ্নিত করা হয় গত জানুয়ারি মাসে। ডকইয়ার্ডকেও নাকি সেদিকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আর এসব আয়োজনকে আকিয়াব ও রেঙ্গুনের মানুষ সাবমেরিনের প্রস্তুতি বলে বিবেচনা করছে। কিন্তু স্থানীয় এ নেভাল ডকইয়ার্ডে সাবমেরিন তৈরির আয়োজন চলছে, নাকি পশ্চিমাঞ্চলীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা সাবমেরিনের ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

মইউ মোহনার আয়োজনের নেপথ্যে পারমাণবিক প্রস্তুতির গন্ধ
সাবমেরিন ধারণার বাইরে কেউ কেউ আবার মইউ মোহনার আয়োজনের নেপথ্যে পারমাণবিক প্রস্তুতির গন্ধও পাচ্ছেন। বিশেষ করে স¤প্রতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পিছু নেয়ায় ভারত মহাসাগরমুখী উত্তর কোরিয়ার একটি রহস্যজনক জাহাজ ফিরে যাওয়ার পর এ ধারণার জন্ম নেয়। রহস্যজনক জাহাজটি মিয়ানমারের জন্য পারমাণবিক সরঞ্জাম বহন করছে বলে খবর প্রকাশ পাওয়ায় এবং নৌবাহিনীর মিইউ নৌঘাঁটিতে বাড়তি যেসব ব্যবস্থা করা হয়েছে সে প্রোপটেই এ ধারণা জোরালো হয়। নিরাপদে জাহাজ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম খালাস করা ও এ কাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সাবমেরিনের ব্যবহার হতেই পারে বলে তারা মনে করেন।

জনবসতি তুলে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে টানেল
মিইউ নৌঘাঁটির পার্শ্ববর্তী ইয়াওয়ার্দি রেঞ্জে পাহাড়ের নিচে সুড়ঙ্গ (টানেল) তৈরি করা হচ্ছে। টানেলটি সামরিক কারণে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২৬টি গ্রামের জনবসতি তুলে দিয়ে এ টানেল তৈরি করা হচ্ছে আরাকান সড়কের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনার ল্য সামনে রেখে। ২০০৪ সালে নাপাউলি থেকে টংগু পর্যন্ত পাহাড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং কুলাডাইঙ্গা নদীতে সেতু বসিয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা কমিয়ে আনতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়। কিন্তু টানেল তথা সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে বিস্তর সময় নেয়া, তদারকিতে বিশেষ সামরিক টিমের তৎপরতার পাশাপাশি অতিমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনে সন্দেহ ক্রমেই ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষ করে এর আগে মিয়ানমারের সামরিক সরকারবিরোধী প্রবাসীদের পরিচালিত নরওয়েভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘ডেমোক্র্যাটিক ভয়েস অব বার্মা’ সংগৃহীত ও প্রচারিত নির্মীয়মাণ টানেলের ছবির অনুরূপ টানেল এ অঞ্চলে তৈরি হতে দেখে এ সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা বড় ধরনের বোমা হামলা থেকে সুরতি করে উত্তর কোরিয়ার প্রকৌশলীদের প্রত্য তত্ত্বাবধানে বিশেষভাবে নির্মাণকাজের ছবিটি তারাও সন্দেহজনক হিসেবে প্রকাশ করেছিল।

মিয়ানমার একটি নাটকের সরঞ্জাম, যার স্ক্রিপ্ট রচিত হয়েছে ওয়াশিংটনে
মিয়ানমার আয়তনে প্রায় জর্জ ডব্লিউ বুশের টেক্সাসের সমান। মিয়ানমারের ট্রাজেডি হচ্ছে, এখানকার জনগণ একটি নাটকের পাত্রপাত্রী বা সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যে নাটকের স্ক্রিপ্ট রচিত হয়েছে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাসি (এনইডি), জর্জ সরস ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট, ফ্রিডম হাউস ও জিন শার্পের আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউট দ্বারা। এই আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউট ইউএস ইন্টেলিজিন্সের একটি অ্যাসেট হিসেবে বিবেচিত। যেটি বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বৈদেশিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে রক্তপাতহীন শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের ‘অরেঞ্জ বিপ্লব’ কিংবা জর্জিয়ার ‘রোজ বিপ্লব’ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার চার পাশের কৌশলগত বিরোধী দেশগুলোর অন্যান্য রঙ-বেরঙয়ের বিপ্লবের মতোই মিয়ানমারের ‘সাফ্রোন বিপ্লব’টি হচ্ছে ওয়াশিংটন-পরিচালিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি অনুশীলন। বার্তা সংস্থা সিএনএন গত বছরের সেপ্টেম্বরের একটি ব্রডকাস্টে মিয়ানমারের বিােভগুলোতে এনইইডি’র সক্রিয় উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। এনইডি হচ্ছে ইউএস সরকারের অর্থায়নে চালিত একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানÑ যার কার্যকলাপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও উদ্দেশ্য সফল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। কোল্ড ওয়ারের সময় সিআইএ যা করত, এনইডি’র কাজ আজ অনুরূপ। মিয়ানমারের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এনইডি, সরস ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউটকে অর্থায়ন করে। ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়,‘ঞযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং ধষংড় ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃং ড়ৎমধহরুধঃরড়হং ংঁপয ধং ঃযব ঘধঃরড়হধষ ঊহফড়সিবহঃ ভড়ৎ উবসড়পৎধপু, ঃযব ঙঢ়বহ ঝড়পরবঃু ওহংঃরঃঁঃব’ বাস্তবে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সরকারবিরোধী সংগঠনের প্রধান নেতাদের নিযুক্ত করেছে ও প্রশতি করেছে। মিয়ানমারে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট কম করে হলেও এনইডিকে বছরে ২.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে। যতটা জানা গেছে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই সাফ্রোন বিপ্লব অনেকাংশেই মিয়ানমারে সীমান্তবর্তী এলাকা থাইল্যান্ডের চাইং মাই থেকে পরিচালিত হয়েছে। কিছু কিছু েেত্র মিয়ানমারে বিপ্লবকে সংগঠিত করার কাজে যাওয়ার আগে কর্মীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রশতি হয়েছে। এনইডি স্বীকার করেছে যে, তারা প্রধান বিরোধী মিডিয়া ‘নিউ এরা জার্নাল’, ‘ওৎৎধধিফফু’ ও ‘ডেমোক্র্যাটিক ভয়েস অব বার্মা রেডিও’-কে অর্থায়ন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন এত আগ্রহ
এসব আলোচনার পর একটি প্রশ্ন সবার মনেই উদ্রেক হতে পারে। মিয়ানমারের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের এত আগ্রহ কেন? গণতন্ত্র, ন্যায় ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক বলেই মিয়ানমারের সামরিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়Ñ এ ধারণা আমরা প্রথমেই বর্জন করতে পারি। ইরাক ও আফগানিস্তানের ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচারণার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব উদ্দেশ্য হাসিলের বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তাহলে প্রশ্নটি হচ্ছে, কোন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন দূরবর্তী এলাকা মিয়ানমারের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে এত উৎসাহিত করেছে? বিশ্বব্যাপী ‘ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা এর উত্তর হতে পারে। এ েেত্র নিয়ন্ত্রণটি হচ্ছেÑ পারস্য উপসাগর থেকে দণি চীন সাগর পর্যন্ত কৌশলগত সমুদ্র পথটির নিয়ন্ত্রণ। আর মিয়ানমারের উপকূলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, পৃথিবীর অন্যতম প্রধান কৌশলগত সমুদ্রপথ ‘মালাক্কা প্রণালী’ তে নৌ-প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। মালাক্কা প্রণালীটি হচ্ছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্বর্তী জাহাজ চলাচলের একটি সমুদ্র রুট বা পথ।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই সাম্ভাব্য সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রতিহত করার ধুয়া তুলে পেন্টাগন ওই অঞ্চলে সামরিকীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোত্তর পয়েন্ট ইধহফধ অপবয এ সুলতান ইস্কান্দার মুদা বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপন করেছে। মিয়ানমারসহ এ অঞ্চলের সরকারগুলো অবশ্য এখানে মার্কিন সামিরিকীকরণকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। মানচিত্রের দিকে এক পলক তাকালেই মিয়ানমারের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।
ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী মালাক্কা প্রণালী পারস্য উপসাগর ও চীন সাগরের মধ্যে ুদ্রতম সমুদ্র রুট। চীনের আমদানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি এই মালাক্কা প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ মারফত চীনে পৌঁছে। এর সরুতম অংশটি হচ্ছে সিঙ্গাপুর প্রণালীর ফিলিপস চ্যানেলÑ যা মাত্র ১.৫ মাইল প্রশস্ত। এই সরুতম চ্যানেলরিট পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম গড়ে ওঠা এনার্জি মার্কেট চীন ও জাপানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ। এখান দিয়ে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল তেলবাহী জাহাজে করে পার হয়ে যায়। যদি প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পৃথিবীর অর্ধেক তেলবাহী জাহাজকে অনেক বেশি সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে। ফলে বিশ্বব্যাপী জলপথে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক গুণ বেড়ে যাবে। প্রতি বছর ৫০ হাজারেরও বেশি পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ এই মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। মিয়ানমার থেকে ইন্দোনেশিয়ার ইধহফধ অপবয পর্যন্ত এলাকাটি দ্রুতই পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট হয়ে উঠছে। এই চোকপয়েন্টটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে চীনের এনার্জি সাপ্লাইকেও নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তাই এ অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বেইজিং হারিয়ে ফেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সাল নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করলে চীন অনেক বেশি মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমারের সাথে এ ঘনিষ্ঠতা মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট নয়। বরং এর সাথে এনার্জি ও সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

বেইজিং মিয়ানমারকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং মিয়ানমারকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। যার মধ্যে আছে ফাইটার, গ্রাউন্ড অ্যাটাক ও ট্রান্সপোর্ট, ট্যাঙ্ক, আরমার্ড মোটরযান, নৌবহর, এয়ার মিসাইল। চীন মিয়ানমারে পাকা রাস্তা, রেললাইন স্থাপন করে দিয়েছে ও বিনিময়ে মিয়ানমারে তাদের মিলিটারি ট্রুপসের প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রতিরা সূত্র মতে, চীন মিয়ানমারের কোকো দ্বীপে একটি ইলেকট্রনিক নজরদারি কেন্দ্র স্থাপন করেছে ও ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। প্রকৃতপ,ে মিয়ানমার হচ্ছে চীনের ভাষায় ‘মুক্তার মালা’। মালাক্কা প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে মোকাবেলা করার জন্য কৌশলগতভাবে মিয়ানমারকে চীনের প্রয়োজন। উপরন্তু, মিয়ানমার, কী উপকূলবর্তী অংশÑ কী উপকূল দূরবর্তী অংশ, জ্বালানি-খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ।

শেষ কথা
মিয়ানমার আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে পাঁচ গুণ বড়। দেশটির উপকূলের দৈর্ঘ্যও বাংলাদেশ থেকে পাঁচ গুণ বড়। প্রায় ২ হাজার ৮৩২ কিলোমিটার। কিন্তু জনসংখ্যা বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম। বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার জলসীমা। বাকি ২০৮ কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে দুর্গম পাহাড়ি অরণ্য ও বিচ্ছিন্ন জনপদ। এর সবটাই প্রতিবেশী দেশটির সাবেক আরাকান তথা বর্তমানের রাখাইন রাজ্য। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে তমব্রুর যোগবইন্যা থেকে থানচির বড় মোদক পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দুর্গম ও অনেকটাই অরতি। বর্তমানে মিয়ানমার যেভাবে সামরিক স্থাপনা সম্প্রসারণ শুরু করেছে তাতে বিষয়টিকে আর সীমান্ত রার আয়োজন বলে বিবেচনা করার অবকাশ নেই।

একনজরে টাটমাডো
শাখা : মিয়ানমার আর্মি, মিয়ানমার নেভি, মিয়ানমার এয়ার ফোর্স
সহযোগী শাখা : মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স, মিয়ানমার ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (নাসাকা)
আর্মড ফোর্সেস : ৪,৯২,০০০ জন
অ্যাকটিভ সৈন্য : ৪,৯২,০০০ জন
আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য : ৭২,০০০ জন
মোট সৈন্য : ৫,৬৪,২৫০ জন
বার্ষিক বাজেট : ৭.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৫)
ব্যাটের ট্যাঙ্ক : ১৫০
এলটি ট্যাঙ্ক : ১০৫
এপিসি : ৩২৫
টুয়ার্ড আর্টিলারি : ২৭৮
মর্টার : ৮০
এ এ গান : ৪৬
কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট : ১২৫
ফাইটার গ্র্যাউন্ড অ্যাটাক : ২২
ফাইটার : ৫৮
পরিবহন বিমান : ১৫
হেলিকপ্টার : ৬৬
করভেটস : ৪
মিসাইল : ১১
টর্পেডো : ১৩
ইনসোর রিভারইন : ৪৭
ল্যান্ডিং ক্র্যাফট : ১১

সূত্র : মিলিটারি ব্যালান্স, উইকিপিডিয়া, ওয়েবসাইট

Source : www.pavelmostafiz.blogspot.com

শনিবার, ০৮ মে ২০১০
female soldiersআজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত করবো বিশ্বের অন্যান্য কিছু রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরতা মহিলাদের ছবি। তারা যেমন কর্মে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তেমনি সুন্দরীও বটে! প্রথমেই তাহলে দেখে নেওয়া যাক রুশ বাহিনীকে, আচ্ছা, ভেবে দেখুন দেখি, এরা যদি সামনে আসে তাহলে শত্রুপক্ষ কি এদেরকে গুলি করতে চাইবে? যার কাছে এই ছবি পেয়েছি, তিনি বলেছেন যে এরা একটিও গুলি খরচ না করেই যুদ্ধ জিতে যাবে...

প্রতিটি ছবিতে ক্লিক করলেই শিরোনামে জানতে পারবেন কোন সেনাবাহিনীর এরা...

RUSSIAN SOLDIERS

শুক্রবার, ০৭ মে ২০১০

Now a day, it is seen that the Muslims are being neglected, persecuted and even harassed. They are suffering as because they are Muslim. They are being harassed as all of the so called gentle people think the Muslims who has long beard, who are Cap worn, who are Hijab worn (female) tend to make terrorism. It seems, the terrorisms are being occurred in all over the world is done either any Muslims or any Islam related organization. It’s what???

Osama Bin Laden (A terrorist who named by Muslim) once destroyed the Twin Tower and interestingly, after this incident all of the terrorism is being imputed upon Muslims.

Why the world don’t try to understand that, anyone can make a terrorism by the name of Muslim and it doesn’t sense that all of the Muslims are terrorist. Accusing Muslim as terrorist is not telling the truth; rather it’s one kind of impeachment towards the Muslims that can easily be given to a Muslim for the sake of Muslimism without having any cause.

But…We, the Muslims are not TERRORIST. Peace is our religion. Our Holy Quran teaches us the peace, the manner to stay in peace and to keep others in peace. In our religion, there is no place of Terrorism. Our prophet Hazrat Muhmmad SM (PUBH) was famous due to his kindness and magnanimity. Almighty Allah orders us to obey the talks of Quran and Prophets. A Muslim who takes ablution 5 times a day, a Muslim who says prayer 5 times in a day, a Muslim who extends hands towards Almighty Allah 5 times in a day for peace, for happiness; he/she can never be involved with Terrorism.

শুক্রবার, ০২ এপ্রিল ২০১০

যুক্তরাষ্ট্রে এখন Census 2010 অর্থাৎ আদম শুমারী চলছে। কোন ব্যাত্যয় না ঘটলে প্রত্যেক রেসিডেন্ট ডাকযোগে একটি ফর্ম পাবেন। ঐ ফর্মটি যথাযথ ভাবে পুরন করে যথাশীঘ্র রিটার্ন মেইলের খামে করে পাঠিয়ে দিন। ফর্ম পুরন করেন পাঠানো অপশনাল নহে,আইন। সুতরাং সবাইকে এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ফর্মে প্রত্যেক পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং প্রত্যেকের নাম বয়স এবং জন্মস্থান সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছে। সর্বমোট ১০ টি প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।৯ নম্বর প্রশ্নে রেইস অর্থাৎ জাতীয়তা চাওয়া হয়েছে। ঐখানে other asian নামে একটি ঘর আছে।বাংলাদেশিরা ওই ঘরটিতে টিক চিহ্ন দিয়ে ঠিক তার নীচের ফর্ম্যাটে BANGLADESHI লিখবেন। আর একটি কথা এই আদমশুমারীর মাধ্যমে জনসংখ্যা নির্ধারন করা হবে। কে বৈধ আর কে অবৈধ এইসব প্রশ্নের কোন বালাই নেই। নির্ভয়ে সবাই এই ফর্ম পুরন করে পাঠিয়ে দিন। জাতিয়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী লিখতে ভুল করবেন না। এই গননার মাধ্যমে কোন দেশে জন্মগ্রহনকারী কতজন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তা জানা যাবে। সুতরাং আমাদের দেশের জন্য ইহা গুরুত্বপুর্ন।

কেউ ইচ্ছা করলে অনলাইন থেকে ফর্মটি ডাওনলোড করে প্রিন্ট নিতে পারেন। আরো তথ্যের জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। http://2010.census.gov/2010census/how/interactive-form.php

শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০১০

বিশ্বের যে কটি স্থানে এখনো প্রতিদিন মায়েরা সন্তান হারানোর বেদনায়-সন্তানরা মাতা পিতা হারানোর বেদনায়-বোনেরা ভাই হারানোর বেদনায় মাতম করে আকাশ-বাতাস-প্রকৃতি প্রকম্পিত করে , সেগুলোর মধ্যে একটি হলো : গাজা ।

গাজার অবস্থান :

ইসরাইলের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় ভূমধ্যসাগর ঘেঁষে গাজার অবস্থান। আয়তন ৩৬০ বর্গকিলোমিটার (১৩৯ বর্গমাইল); দৈর্ঘ্যে ৪১ কিলোমিটার আর প্রস্থ স্থান বিশেষে ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার। এখানে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনির বাস। বলা হয়ে থাকে যে , গাজা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি জনপদ।

মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০

আবিদ রহমান, মেলবোর্ণ থেকে:
আশির নব্বুই দশকের তুমল তুখোড়, রিপোর্টার আশরাফ খান। তিনি আশি-নব্বুই দশকে দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকতায় পা-রাখা উৎসাহীদের আইডল ছিলেন। ছিলেন অনুপ্রেরণার অফুরন্ত ভান্ডার। দিশারী। অভিভাবক। বিভিন্ন দৈনিকের আংগিনা ঘুরে আশরাফ খান এখন দৈনিক সমকাল-এ থিতু।

আশরাফ ভাইয়ের ফকিরাপুলের বাসায় কার না যাতায়াত ছিলো? ভাবীর হাতের রান্নার স্বাদ নেননি কে? আপনাদের নিশ্চয় অন্তরাকে মনে আছে। অন্তরা আশরাফ ভাই-ভাবীর একমাত্র কন্যা। সেই দিনের শিশু অন্তরা আজ যুবতী। তবে চোখে রংগিন স্বপ্ন নেই। অন্তরার অসুস্খ ধূসর চোখে এখন দুরারোগ্য ব্যাধির যন্ত্রনা। অন্তরার দুটো কিডনী প্রায় অকেজো। মাত্র বিশ ভাগ কাজ করে।

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১০

যানজটের তিক্ত অভিজ্ঞতা, অর্ধেক দিনই কেটেছে গাড়িতে

এনা, নিউইয়র্ক থেকে: বিশেষ প্রয়োজনে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশিষ্ট প্রবাসী। তাদের একজন ছিলেন ১২ দিন। এর ৬ দিনই কেটেছে গাড়িতে। আরেকজন ঢাকায় এয়ারপোর্টে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং লাগেজ গ্রহণে চরম অব্যবস্খাপনায় অতীষ্ঠ হয়েছেন। এছাড়া উত্তরা ক্লাব এবং গুলশান ক্লাবের ভেতরে অবাধে সিগারেট টানার ঘটনায় তিনি হতভম্ব হয়েছেন, যারা হরদম ইউরোপ-আমেরিকায় এসে নিজ হোটেল কক্ষ অথবা বাসার ভেতরে সিগারেট পান করেন না, তেমন লোকেরা কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন!

ফ্লোরিডার ব্যবসায়ী হাজী শওকত হোসেন ইংরেজী নতুন বছরের প্রথম দিন ঢাকায় পৌঁছেন। মোট ১২ দিনের ট্রিপ ছিল। উত্তরায় নিজ বাসায় অবস্খান করে জন্মস্খান বিক্রমপুরে যান এবং অসুস্খ মাকে নিয়ে এপোলো হাসপাতালে যাতায়াত করেন নিজ গাড়িতে। এজন্যে তার ব্যয় হয় ৬ দিন। জনাব শওকত বলেন, উত্তরা থেকে এপোলো হাসপাতালে যেতে কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে অর্থাৎ হাসপাতালে যাতায়াতে ব্যয় হয় ৫ ঘন্টা করে। যদিও লাগার কথা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট করে মোট এক ঘন্টা। উত্তরা থেকে বিক্রমপুরের বাড়ি যেতে সময় লেগেছে ৪ ঘন্টা। ফিরতেও লাগে ৪ ঘন্টা। অথচ লাগার কথা যাতায়াতে সর্বোচ্চ দু’ঘন্টা। উত্তরা থেকে মতিঝিলে যাতায়াতে ব্যয় হয়েছে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা করে।

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১০

গ্রেফতার হলো বাংলাদেশী রাহেল হাকিম

নিউইয়র্ক সিটির ডাউন টাউন ম্যানহাটানে মদিনা মসজিদের দান বাক্স থেকে দীর্ঘদিন যাবত অর্থ চুরির দায়ে ১৯ জানুয়ারি প্রত্যুষে রাহেল হাকিম (২৫)নামক এক বাংলাদেশীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ডলার চুরির সময় হাতে-নাতে ঘটেছে গ্রেফতারের এ ঘটনা এবং মুহূর্তেই তা কম্যুনিটিতে ছড়িয়ে পড়লে ছি: ছি: ধ্বনি পড়ে সর্বত্র। গ্রেফতারকৃত রাহেলের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। এর আগেও সে চুরির ঘটনায় কয়েক দফা গ্রেফতার হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মদিনা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এনাকে জানান, দানবাক্স থেকে অনেক দিন ধরেই ডলার চুরি হচ্ছিল। বিষয়টি আমাদের সকলকেই বিচলিত করে। এক সময় আমরা ভিডিও ক্যামেরা পরীক্ষা করে পরিস্খিতি উদঘাটনে সক্ষম হলেও চোরকে হাতে-নাতে ধরার অপেক্ষায় ছিলাম। সে সুযোগটি ঘটলো ১৯ জানুয়ারি ভোর রাতে। চুরির ঘটনাটি ভিডিওতেও ধারণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেছে হাতকড়া পরিয়ে। তিনি বলেন, ঘটনাটি এতই দু:খজনক এবং লজ্জাজনক যে কাউকে বলাও যায় না। কিন্তু মসজিদের এহেন ঘটনা বেশীক্ষণ গোপন রইলো না। মুসুল্লীগণের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আমি দোয়া করছি, আল্লাহ্‌ যেন তাকে ভাল হবার সুমতি দেন।

সর্বশেষ মন্তব্যঃ

আরও সংবাদ...