Fakir Abdur Razzak

বুধবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০

হাই হাই রে; হেহই-হেহই। এই কিডা কনে আছিস, পাড়ার মুরগীতি ধানগুলো যে খায়ে গ্যালো।

সোমবার, ০৭ জুন ২০১০

Columbia - South Americaকথা ছিল এ যাত্রায় ক্যরাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ ডমিনিকান রিপাবলিক যাব। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ডমিনিকান, একসাথে নিউ ইয়র্কে অনেকদিন কাজ করেছি। তার মুখে দ্বীপটার বর্ণনা শুনেতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা। দূর সস্পর্কের আত্মীয়ের হলিডে রিসোর্টে ডিসকাউন্ট রেটে থাকার ব্যবস্থা করতে পারবে এমন একটা নিশ্চয়তা দিয়ে অনেকদিন ধরেই অনুরোধ করছিল ঘুরে আসার জন্যে। প্ল্যান মাফিক রাজধানী সান্তা ডমিনংগোতে দুটো দিন কাটিয়ে বাকি সময়টা কাটাব পুন্তা কানায় বন্ধুর আত্মীয়ের রিসোর্টে, এভাবেই পরিকল্পনা এগুচ্ছিল। কিন্তূ বাধ সেধে বসল আমার গিন্নী। ডমিনিকান রিপাবলিক নয়, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ায় যেতে হবে বিশেষ কোন কারণ ছাড়াই। পুরা ট্রিপটাই ছিল একটা বিশেষ দিনে গিন্নীকে দেয়া আমার উপহার। পছন্দটা ছিল তার জন্যে বরাদ্দ, সুতরাং মেনে নেয়া ছাড়া উপায় ছিলনা। কলম্বিয়ার রাজধানী বগোটা ইতিমধ্যে ঘুরে এসেছি আমি, দ্বিতীয় বার দেশটায় কি দেখব গিন্নীকে জিজ্ঞেষ করতেই তেলে বেগুলে জ্বলে উঠল। হয় কলম্বিয়া নয়ত কোথাও না, এক কথায় চরমপত্র।

তর্কাতর্কি শেষে ভ্রমনের যে আইটেনারীরা আমরা দাঁড় করালাম তা দেখে অভিযোগ করার মত কিছু খুঁজে পেলামনা। রাজধানী বগোটা নয়, আমরা যাব ক্যারাবিয়ান সাগর পাড়ের শহর সান্তা মারতা ও কার্তাহেনা দ্যা ইন্ডিয়াতে। পথে একটা দিন কাটাব দেশটার অন্যতম বড় শহর বারাংকিয়ায়। সান্তা মারতার ’ইরোতামা’ নামের যে রিসোর্টে বুকিং দিলাম তার কিছু ছবি ইন্টারনেটে দেখে মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থা। সমুদ্রের নীলাভ ঢেউ আর মাথার উপর ঝকঝকা সূর্য্য, এ দু’য়ের সমন্বয়ের সাথে সুন্দরীদের অতি সংক্ষিপ্ত পোশাকে উদ্দাম চলাফেরা, সবকিছুই দারুন একটা সময়ের স্বপ্নালু হাতছানি হয়ে সামনে দাঁড়াল। সান্তা মারতা হতে কার্তাহেনা তূলনামুলক খুব একটা দূরের শহর নয়, আইটেনিনারীতে এ শহরটা আমিই যোগ করেছি অন্য একটা কারণে। আমার অন্যতম প্রিয় লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এ শহরে বাস করেছেন এবং ভূবনখ্যাত উপন্যাস ’ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিট্যুড’ লেখার সময় মাঝে মধ্যে এখানে এসে সময় কাটাতেন। এ দু’টা সমুদ্র শহরের মাঝের শহর বারাংকিয়া বিখ্যাত অন্য কারণে। এ শহরেই জন্ম কলম্বিয়ার বিখ্যাত গায়িকা শাকিরার, এবং শহরটার পরিচিতি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতার চ্যম্পিয়ন তৈরীর কারখানা হিসাবে।

শুক্রবার, ২৮ মে ২০১০

প্রথম আলো বন্ধু সভা গৌরনদীর উদ্যোগে নজরুল ও রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে গত ২৬ মে বুধবার বিকেলে গৌরনদী আল হেলাল একাডেমি মিলনায়তনে নজরুল ও রবীন্দ্র স্বরনে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গৌরনদী প্রথম আলো বন্ধু সভার সভাপতি পলাশ তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বন্ধু সভার উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লোকমান, জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, আল হেলাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, বন্ধু সভার সহ-সভানেত্রী চায়না দেবনাথ, ঝর্না দাস, সম্পাদক মোঃ বেলাল প্রমুখ। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বন্ধু সভার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আকর্ষন ছিল বন্ধু সভার বন্ধু সিলভিয়া মুনের নৃত্য।
-এইচ এম সুমন, প্রচার সম্পাদক, গৌরনদী প্রথম আলো বন্ধু সভা

বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০১০

‘গাহি সাম্যের গান-মানুষের চেয়ে বড়কিছু নাই-নহে কিছু মহিয়ান’ সুরের মুর্ছনায় বরিশালের গৌরনদী কালের কন্ঠ শুভ সংঘের উদ্যোগে পালিত হয়েছে বিদ্রাহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১১ তম জন্মজয়ন্তী উৎসব।

রবিবার, ২৩ মে ২০১০

সকাল থেকে অন্বেষা খুব চুপচাপ। বিষয়টা অরিন লক্ষ্য করেছে। সকালে দুটা ক্লাস ছিল আজ। এখন শেষটা চলছে। ব্যস্ততার কারণে জানতে চাওয়া হয় নি কী হয়েছে। এখন মার্কেটিং ক্লাসের পেছনের দিকে বসে কথা বলার সুযোগ হওয়ায় অরিন জিজ্ঞেস করে। অন্বেষা মাথা নেড়ে বলে কিছু হয় নি।
“ভাব মারিস?” অরিন বিরক্ত হয়। সামনে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে আবার বলে, “কিছুতো হয়েছে আমি বুঝতে পারছি। কী হয়েছে সেটা বল।”
ক্লাস নিচ্ছে নায়লা খান। অন্বেষাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন তিনি। এরপর এ্যামেরিকার ইউনিভার্সিটি অব পেনসেলভেনিয়া থেকে MBA করে এসেছেন। “আইভি লীগ”-এর হাওয়া লাগার পর থেকে তার কাছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একদমই “যাচ্ছেতাই” হয়ে গিয়েছে। এদেশে আদৌ লেখাপড়ার পরিবেশ আছে কিনা সেটা নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত। ভাব দেখে বোঝার উপায় নেই যে বছর তিনেক আগে এখান থেকেই তিনি BBA শেষ করেছিলেন।
অরিন আবার অন্বেষাকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, তখনই নায়লা খানের চোখে পড়ে।
“এ্যাই মেয়ে, তোমরা কথা বলছ কেন?”
অন্বেষা মাথা নিচু করে থাকে, কিছু বলে না। এতে নায়লা খানের মেজাজ আরো গরম হয়।
“কথা বলি, গায়ে লাগে না? দাঁড়াও, ঐ যে ব্যাক-বেঞ্চার, উঠে দাঁড়াও বলছি”।
অন্বেষা উঠে দাঁড়িয়ে বলে, “আমরা লেকচারের টপিক নিয়েই কথা বলছিলাম।”
“মিথ্যা কথা। তোমার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তুমি মিথ্যা বলছো। আমাকে শেখাতে এসেছো? আমি আইভি লীগ ভাজি করে রেখে এসেছি আর তুমি আমাকে শেখাও লেকচারের টপিক নিয়ে কেমন করে কথা বলে?”
এবার অন্বেষার মেজাজা খারাপ হয়। বিরক্ত হয়ে বলে, “আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা প্রেমের গল্প করছিলাম। তো কী হয়েছে? বের হয়ে যাবো? তবু আপনার আইভি লীগ কপচানো থামান।”
অন্বেষার জবাব শুনে নায়লা খানের মুখে কথা আটকে যায়। তোতলাতে তোতলাতে কোনক্রমে বলেন, “তুমি দুই মিডে কত পেয়েছো?”
“পঞ্চাশে আটচল্লিশ এবং পঁয়তাল্লিশ।” অন্বেষা ভাবলেশহীন গলায় জবাব দেয়।
“আমি দেখে নেব তুমি ফাইনালে কী করে এত মার্কস পাও। এখন ক্লাস থেকে সোজা বের হয়ে যাও।”
অন্বেষা কিছু বলে না। বেচারির ভাগ্যটাই এমন যে মিডটার্ম পরীক্ষায় খুব ভালো মার্কস পেয়েও ফাইনালে যে কী হয়, দেখা যায় A পাবার পরিবর্তে B+ পেয়ে বসে আছে। সে জন্যে ম্যাডামের হুমকি গায়ে মাখে না। এমনিতেও B+ পাবে, ওমনিতেও B+ আসবে। তাই নির্লিপ্ত ভাবে হেঁটে ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে আসে।
অন্বেষা বের হয়ে আসার সাথে সাথে নায়লা খান আবার চিৎকার করে উঠেন, “এ্যাই মেয়ে। তুমি বসে আছো কেন? তুমিও বের হও।”

রবিবার, ২৩ মে ২০১০

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “চোখ গোল গোল করে তাকানো”। অন্বেষার ধারণা ছিল এই প্রবাদে “টেকনিকাল ফল্ট” রয়েছে। মানুষ চোখ গোল গোল করে তাকাতে পারবে না কারণ তার চোখ উপবৃত্তাকার। বড়জোর মানুষ চোখ ডিম্ব ডিম্ব করে তাকাতে পারবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেতে বসে অরিনের কাছে সায়েমের কথা বলার সময় অরিন যেভাবে অন্বেষার দিকে তাকিয়ে ছিল তাতে অন্বেষার মনে হচ্ছিল মানুষের এই ডিম্বাকৃতির চোখ কখনও কখনও গোল হলেও হতে পারে।

“তুই আমাকে এটা পরিষ্কার করে বল হঠাৎ এই ছেলের প্রতি এত আগ্রহ দেখাচ্ছিস কেন?”
প্রশ্নটা খুব কঠিন। অন্বেষা জবাব খুঁজে পায় না। মাত্র দুই দিন যার সাথে কথা হয়েছে তার প্রতি আগ্রহ দেখানোটা নিতান্তই ছেলেমানুষী। তবুও অন্বেষা দেখাচ্ছে। হয়তো নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই। অরিনের প্রশ্নের উত্তরে তাই অন্বেষা “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” ধরণের অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে, “আমার ছেলেটার প্রতি আগ্রহ নেই। তবে কিউরিওসিটি আছে।”
“আমারে বাল শিখাইতে আসছিস?” অরিন চরম বিরক্তি নিয়ে বলে। “তোর কোন রুমে ফিন্যান্স ক্লাস হয় সেটা ছেলেটা জানে বলে এত প্রেম?”
“দোস্ত, তুই ব্যাপারটাকে অনেক সিরিয়াসলি নিচ্ছিস। প্রেম-ট্রেম কোথা থেকে আসলো? আমার কিউরিওসিটি এ জন্যে যে ছেলেটা জানে কোন রুমে ক্লাস, কোন কোর্স এবং কোন স্যার ক্লাস নিচ্ছে। এত তথ্য সে কোথায় পেলো?”
“অন্বেষা, গ্রো আপ।” এবার অরিন চিৎকার করে উঠে। “এটা জানা কঠিন কিছু না। একটু খোঁজ নিলে আর ক্লাস শিডিউলের একটা কপি পেলে যে কেউ বলতে পারবে। শুধু তোরটা না। আমারটা, পোরশিরটা অথবা লিজারটা - যে কারোটাই পারবে। এটা খুবই তুচ্ছ একটা ব্যাপার”
অন্বেষা জানে অরিন যা বলছে সেটা ভুল না। তবুও এটা ভাবতে ওর ভালো লাগছে যে ছেলেটা ওর জন্যে কষ্ট করে এসব তথ্য জোগাড় করেছে। তারপর যেন নিজের মনের কথাটাকেই প্রতিষ্ঠা করার জন্যে বলে, “তবুও ছেলেটার আগ্রহ আছে বলেই খোঁজ নিয়েছে। তুচ্ছ একটা ব্যাপার নিয়ে সে সময় নষ্ট করেছে।”
“সো হ্যোয়াট? তোর পেছনে সময় নষ্ট করার ছেলের অভাব কি NSU-তে কম আছে? কই, তাদের জন্যে তো তোর এত দরদ উথলে পড়ছে না?”
অন্বেষা এবার হতাশ ভাবে বলে, “আমি সত্যিই জানি না কেন এমন করছি। কিন্তু আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে ছেলেটা কে।”
এবার অরিন একটু নরম হয়। তারপর বলে, “ছেলেটা কী করে?”
“কলা। কলা তার নেশা এবং পেশা।” অন্বেষার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে আবার।
পর মুহূর্তে গলার কোমল স্বরটা অরিন হারিয়ে ফেলে আবার, “হ্যোয়াট? ব্যানানা! ব্যানানার ব্যবসায়ী?”
“না দোস্ত। এই কলা, ঐ কলা না। এই কলা মানে আর্ট। সে আর্টিস্ট মানুষ। ছবি আঁকে, ভাস্কর্য বানায়। পড়ালেখাও এটা নিয়েই করছে।”
অরিন এবার সত্যিই বোঝে না এই পাগলীকে কী বলবে। অন্বেষার হাতে একটা হাত রেখে বলে, “দোস্ত, তোকে তোর বাবা-মা অনেক আদর দিয়ে মানুষ করেছেন। গাড়ি ছাড়া তোকে রাস্তায় বের হতে দেন না। দেশের সবচেয়ে ব্যায়বহুল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াচ্ছেন। মোবাইল চাওয়া মাত্র তোকে মোবাইল কিনে দিয়েছেন। এই ক্যাম্পাসেই তাকিয়ে দেখ, কয় জনের মোবাইল ফোন আছে। আর তুই এমন একটা ছেলের জন্যে পাগলামি করতে শুরু করেছিস যাকে তুই প্রথমতঃ চিনিসই না। তার উপর সে তোকে একদিনের জন্যেও হয়তো তোর মত করে চালাতে পারবে না। এ সব পাগলামি বন্ধ কর। ঐ ছেলে এরপর ফোন দিলে আর কথা বলবি না। আজ, এখানেই এই টপিকের দ্যা এন্ড।”

রবিবার, ২৩ মে ২০১০


“আপু, তুই পারিসও”। শৈলী হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে। রাত আড়াইটা বাজে। অন্বেষা ওর বোন শৈলীকে সাথে নিয়ে একটা “ফেইক নিক” ব্যবহার করে আই.আর.সি'র বাংলাদেশ রুমে চ্যাট করছিল। আজ অন্বেষার নিক “মিথিলা”। আঠাশ বছরের গৃহবধু। স্বামী বিদেশে থাকে। একাকী রাত কাটাচ্ছে। ঘুম আসছে না! এ ধরণের কথা বার্তা শুনলে ছেলেদের মাথা এমনিতেই খারাপ হয়, তার উপর যদি “লবি”তে বসে এমন চ্যাট করে কেউ, তাহলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাইভেট ম্যাসেজ এসে স্ক্রিন ভরে যায়। অন্বেষা তখন খুব ভাবের সাথে লবিতে ঘোষণা করে, “আমাকে কেউ প্রাইভেট ম্যাসেজ পাঠাবেন না”। এটা কিন্তু ছেলেদের উস্কে দেয়ার অন্যতম হাতিয়ার অন্বেষার। এতে ছেলেরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং প্রাইভেট ম্যাসেজ পাঠিয়েই জিজ্ঞেস করে “কেন প্রাইভেট ম্যাসেজ পাঠাবো না”! তারপর দুই বোন মিলে তাদের এক সাথে পচাতে শুরু করে।

আজ “ঢাকাইয়া মাস্তান” নামের একটা নিককে লবিতে পচাতে শুরু করলো দুই বোন। আধ ঘণ্টা চ্যাট করার পর যখন ছেলেটা বুঝতে পারলো আসলে তাকে পচানো হচ্ছে, তখন সে “ম”, “খ” ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া গালি দেয়া শুরু করলো। এবার মিথিলা নামের অন্বেষা যেন কী প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছে এভাবে লিখে, “মডারেটর ভাইয়ারা, দেখেন আমাকে বাজে কথা বলছে”। বোনের সম্ভ্রমে আঘাত! বাংলাদেশ রুমের মডারেটরদের রক্তে ঝড় উঠে। তারা তেড়ে আসে মিথিলার ডাকে। একটু পর লেখা উঠে, “ঢাকাইয়া মাস্তান হ্যাজ বিন কিকড্ ফ্রম দ্যা চ্যানেল বাই কুয়াশা”। তারপর কুয়াশার থেকে একটা প্রাইভেট ম্যাসেজ আসে, “আর কেউ বিরক্ত করলে আমাকে জানাবেন। আমরা রাত জেগে থাকি আপনাদের নিরাপদ চ্যাটের নিশ্চয়তা দেয়ার জন্যে”। ভাব খানা এমন যেন কাজী আনোয়ার হোসেনের কুয়াশা এখন চ্যাট রুমে ঘুরে বেড়াচ্ছে!

বুধবার, ১২ মে ২০১০

image_155_53778[1]আপনাকে প্রিয় সম্বোধন করতেই পারি। আপনি আমার অন্যতম প্রিয় লেখক। আপনার ছোট-বড় সব লেখাই আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি; পড়েছি। অনেক ভালোলাগা অনুভূতির সাথে আপনার লেখা আমাকে আবিষ্ট করেছে। এ অনেক ভালো অনুভূতি। আমি খুশি। আপনি লিখতে থাকবেন। আমরা পড়ব। লেখক-পাঠক সম্পর্ক অম্লান থাকবে।

একজন লেখক কতটা ক্ষমতাবান হতে পারেন তার উদাহরণ আপনি দেখিয়েছেন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার সময় জাতি আপনার ক্ষমতার নমুনা পেয়েছিল। আমি কুড়িগ্রামে ছিলাম সেই সময়টা। মানুষের সৃজনশীলতা’র ক্ষমতা দেখে চোছে পানি এসেছিল সেদিন। মানুষ কত অপার সম্ভাবনাময়!

আপনি আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। আপনি খুব ভালোই ধারনা রাখেন আপনার লেখার প্রভাব কোথায় কোথায় পরে। আপনার যেকোন মতামত অনেক বড় ব্যাপার। আপনি অনেক জ্ঞানী মানুষ। আপনার মতামতকে আমরা অনেক বড় করে দেখতে শিখেছি।

কিছুদিন হলো কালের কন্ঠে আপনার ফাউনটেন পেন পড়ছি। আপনার অমচনীয় কালিতে লেখা আত্মজিবনী। অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। প্রিয় লেখকের অনেক তথ‍্য জানতে পারছি। নিজেকে অন‍্যভাবে একাত্ম করতে পারছি। সেখানে আপনি খুব সুন্দর করে বলেছেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ছোট্ট একটা ভুল নিয়ে। বলেছেন গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ভুল করতে নেই। আপনার কাছ থেকে এই তথ্যটি পেলাম। আমি সম্পূর্ণ একমত।

শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০১০

অবশেষে একটা টিউশনি পেলাম। আর এজন্য কজোড়া চটির তলা যে ক্ষয় করতে হয়েছে সে হিসাব না দেওয়াই মনে হয় ভালো। কারণ চটির দাম আর বেতনের ৭০% মিডিয়াকে দেওয়ার পর হাতে যা থাকবে তা গুনতে গেলে হয়তো আমার অন্য সব হিসাবে দেখা দিবে বড় রকমের গড়মিল। অতঃপর-টিউশনিটা পেয়ে,একটা সর্বজনবিদিত প্রবাদ সম্পর্কে আমার যেটুকু সন্দেহ ছিল,তা সম্ভবত মঙ্গল গ্রহেই চলে গেল;“সবুরে মেওয়া ফলে”। নির্ধারিত দিনে গত ঈদে কেনা ওয়ান ম্যান শার্টটাকে (বিমলদার মান্ধাতার আমলের আয়রণ এর সাহায্যে ভদ্রস্থ করে) গায়ে জড়িয়ে,একটা দোনলা বন্দুকের ভিতর পা দুটোকে(সাথে কোমরটাও) ঢুকিয়ে আর নাকের উপর যক্ষের ধন চশমাটা লাগিয়ে;একটু আগেভাগেই হাজির হলাম ছাত্রের বাড়িতে।

ছাত্রের মায়ের সাথে পরিচয়পর্ব শেষে বসলাম ড্রয়িংরুমে সাজানো কভার ছাড়া সোফাগুলোর একটিতে। সামনেই পাতা আছে ছয়টা চেয়ার দ্বারা বেষ্টিত একখানা টেবিল। চেয়ারগুলোর সার্বক্ষণিক প্রহরা স্বত্বেও টেবিল ক্লথটার অবস্থা ‘কেরোসিন!’ (শব্দটা ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে)। মোচড়ানো ক্লথটা দেখে মনে হল,কোন নবীন প্রেমিক হয়ত এটার উপর প্রেমের চিঠি লিখতে গিয়ে পছন্দ না হওয়ায় ফেলে দিয়েছে। একটু খেয়াল করে দেখলাম সত্যি সত্যি এর উপর বিভিন্ন রঙের অসংখ্য লেখা। মাঝে মাঝে আবার চক আর পেন্সিলের সাহায্যে হৃদয় আঁকা না হলেও, কিছু একটা শিল্পকর্ম অঙ্কনের চেষ্টা যে ( সম্ভবত বেশ আন্তরিকতার সহিত ) করা হয়েছিল সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কিছুক্ষণ পরেই জংলি ছাপের একটা শার্ট আর কালো রঙের হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় হাজির হল আমার ভাবি ছাত্র। দেখে মনে হল সে সম্ভবত একটু আগেই কুস্তি অথবা হা-ডু-ডু টাইপের কোন খেলা খেলে এসেছে। ওর হাতে কনুইয়ের ওপর থেকে লেগে আছে আদম তৈরির কাঁচামাল মাটি। প্যান্টের ডান পাশের পকেটটা অর্ধেক ছিড়ে বাকিটা ছেড়ার অপেক্ষায় ঝুলে আছে আর শার্টের নিচের দিকের বোতাম দুইটি উধাও। ছাত্রের স্কুলপ্রীতি কেমন জানতে জিগ্যেস করলাম, গত সপ্তাহে কয়দিন স্কুলে গিয়েছো ? আমার গর্দভ ছাত্র উত্তর দিল,৩০ দিন।

শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০১০

আলোর সামনে বসে আছে জয়তী। চুল আঁচড়াচ্ছে। বুকের কাপড়টা ঘাড় থেকে পিছলে বুকের মাঝে কোনোমতে বিঁধে রয়েছে। জয়তীর বুকের ছোট ছোট সোনালী লোম আর লোমকুপগুলো দেখা যাচ্ছে। মাটিতে নতুন ঘাসের মতো। আলো পড়াতে সেগুলো আরও উজ্জ্বল লাগছে। জয়তীর নিঃশ্বাসের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে তার বুকটাও ওঠানামা করছে। সোনায় ঝলসানো লোমগুলোর দিকে শুভ অপলক তাকিয়ে আছে। চেষ্টা করেও পলক ফেলতে পারছে না-পাছে এই দৃশ্য জীবনে আর যদি ফিরে না আসে! তাছাড়া সে জানে এমন দৃশ্য চোখে পড়ার পর পলক ফেলতে নেই। ওতে সৃষ্টিকর্তা রাগান্বিত হতে পারেন। শুভ বিশ্বাস করে, ঈশ্বর নিজের হাতে গড়েছেন জয়তীকে।

প্রায়ই এরকম হয়। মাঝে মাঝে জয়তীর শরীরে কোনো না কোনো পাগল করা ব্যাপার সে নতুন করে আবিষ্কার করে। তখন দৃষ্টি স্থির হয়ে যায়। নড়ে না। তার নিজের শরীরে রক্ত চলাচল তখন অস্বাভাবিকতার দিকে ছোটে। তখন জয়তীর দিকে তাকিয়ে থাকা দুষ্কর হয়ে ওঠে। তখন চোখবুঁজে জয়তীকে ছুঁতে ইচ্ছে করে। যেনতেন ছোঁয়া নয়; পাগলের মতো ছোঁয়া।
জয়তীর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে নিজের বাড়ির গলিতে ঢুকে পড়েছে শুভ বোঝেনি। যখন বুঝলো, দেখল সে নিজের অজান্তেই গাড়ির গতি কমিয়ে ফেলেছে। দিনশেষে ফেরার পথে বাড়ির গলিতে ঢুকলেই সে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। একেবারে দশ কিলোমিটারে নামিয়ে আনে। এই গতিতে রাস্তার অর্ধেক জুড়ে গাড়ি চালালে পেছন থেকে আসা গাড়িগুলোর খুব অসুবিধা হয়। উন্মাদের মতো তারা হর্ন বাজাতে থাকে। কতদিন বিরক্তিভরে কত ড্রাইভার তাকে গালি দিয়ে গেছে তার ঠিক নেই।
শুভ তোয়াক্কা করে না। এটা ‘তার’ বাড়ির গলি। এখানে সে তার ইচ্ছেমত গতিতে গাড়ি চালাবে।

সর্বশেষ মন্তব্যঃ

আরও সংবাদ...