news-today-mohsen

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মহাসেন এর পর দেশের উপকূলীয় এলাকায় যে সব ঝড় আঘাত হানবে তার নাম নির্ধারন করা হয়ে গেছে। এর পর আসছে ফাইলিন- হেলেন- লহর- মাদী-  নানাউক-হুদহুদ- নিলুফার- প্রিয়া সহ অনেক। গত বৃহস্পতিবার সাইক্লোন মহাসেনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার পর আবহাওয়া বিদদের ওয়েব সাইট ও আবহাওয়া বিশেষ সাইটে অনুসন্ধান করে এ সব নাম জানা গেছে। ঝড় জল”ছ¡াসের সাথে লড়াই  করে বেচে থাকা এ অঞ্চলের মানুষ  শীত-বসন্ত পেরোলেই এদেশের আতংকে  থাকে- কখন না জানি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিডর, আইলা, মহাসেন—এমনি কত নামের কত ঘূর্ণিঝড়ের ধকল সয়ে সয়ে জীবন কাটাতে হয় তাদের। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে লড়াই করে বেচে থাকা মানুষ গুলো হঠাৎ করেই কোন দিন দেখেন সূর্যটা চলে গেছে ঘন মেঘের আড়ালে, ঝড়ো হাওয়া বইছে এলোমেলো, অবিশ্রাম বৃষ্টিও নেমেছে আকাশ ভেঙে। উপকূলবাসীর অভিজ্ঞতা বলে দেয় লক্ষন ভাল নয়।  আবার ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় । সবাই কান পাতেন রেডিওতে, ছুটে যান টিভির সামনে । সবার চোখে শঙ্কা, মুখে একই প্রশ্ন কত নম্বর সংকেত? উপকূলবাসীর জীবন মোটামুটি এমনি একটা আতঙ্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছর ধরে। যুগে যুগে এসব ঘূর্ণিঝড়ে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তার কোন হিসাব নেই। মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করে ঝড়ের মাঝেই বসবাস বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেষে থাকা কোটি মানুষের।

 

ইতিহাসে দেখা যায়, ১৫৮২ সালের সাইক্লোনে বরিশাল এলাকায় প্রাণ হারান দুই লাখেরও বেশি মানুষ। ১৬৯৯ সালে সুন্দরবন এলাকায় মারা যান ৫০ হাজার। বরিশালে ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন ১৭৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে। ১৮২২ সালেও বরিশালে মারা যায় ৫০ হাজার মানুষ। ১৮৩১ সালে ২২ হাজার, ১৮৭৬ সালে প্রায় দুই লাখ লোক মারা যায় বরিশাল ও নোয়াখালিতে। ১৯৭০ সালে যে ঘূর্ণিঝড় ভোলা এলাকায় আঘাত হেনেছিল, সেটাকে বলা যায় বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম। এতে প্রাণহানি হয়েছিল ৫ লাখ মানুষের। ১৯৯১ সালে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যান চট্টগ্রাম অঞ্চলে। ২০০৭ সালে ১০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ভয়াবহ সিডর। এর মাত্র দুই বছর পর ২০০৯ সালে আইলাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭ হাজার মানুষ।

 

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেনে’র আঘাতে প্রাণ দিয়েছেন অন্তত ২০ জন। উপকূলে এখন চলছে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর লড়াই। তাই এই ‘মহাসেন’ কে? কোথায় তার বাড়ি, আসলে তিনি কেমন ছিলেন, কেনই বা তার নামে দেয়া হল ঝড়ের নাম? এসব প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মনে।

অতীতে শ্রীলংকায় এক পরাক্রমশালী রাজা ছিলেন মহাসেন। তার নামেই করা হয়েছিল এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ মহাসেন। ২৭৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৩০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি নিজে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হলেও তিনি এর ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করেন। তিনি অন্য পক্ষের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উপর হামলা, মহাবিহার ভেঙে ফেলেন। তবে লোনা পানির সমুদ্র বেষ্টিত শ্রীলংকাবাসীর পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে বহুসংখ্যক দীঘি খনন করিয়ে তিনি প্রজাদের শ্রদ্ধার আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

যেভাবে নামকরণ ও ভবিষ্যত্ ঝড়ের নাম
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউইউএমও) আওতায় জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপের আবহাওয়াবিদদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি বিশ্বের বড় ঝড়গুলোর নাম দিয়ে থাকে। এস্কেপের প্যানেলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং ওমানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। ২০০০ সালে এস্কেপের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিটি দেশ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করার জন্য ১০টি নাম জমা নেয়া হয়। এখান থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হয়। এস্কেপের সদস্যরা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে এমন ঝড়গুলোর আগাম নাম প্রস্তাব করে রাখে। তথ্য সংরক্ষণ ও বোঝানোর সুবিধার জন্য আগে থেকেই ঝড়ের নাম ঠিক করে রাখা হয়।

 

তবে যে দেশ থেকে ঝড়ের উত্পত্তি মূলত সে দেশের দেয়া নামেই ঝড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগরে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘ফাইলিন’। থাইল্যান্ড থেকে এই ঘূর্ণিঝড়ের উত্পত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাদের দেয়া নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ফাইলিন’।  ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ নিয়ে কৌতূহল সবারই। বর্তমানে সহজ নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নামগুলোর বেশিরভাগই নারীদের নামে। যেমন রিটা, ক্যাটরিনা, নার্গিস, সিডর, রেশমী, বিজলী। আমেরিকায় যে প্রলয়ঙ্করী ঝড় আঘাত হেনেছে, সেই স্যান্ডির নামও নারীর। আগে শুধু নারীদের নামে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হলেও ১৯৮৯ সাল থেকে পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বর্তমান তালিকায় সমানভাবে পর্যায়ক্রমে মহিলা ও পুরুষের নাম রয়েছে। ঝড় যেহেতু মৃত্যু ও ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, তাই কোনো নাম দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না।

 

অতীতে ঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। যেমন ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি এখন বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে- এটি বলার চেয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ধেয়ে আসছে’ বলা অনেক সহজ। এস্কেপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা আছে। মহাসেনের পর আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফাইলিন’। তারপর পর্যায়ক্রমে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর যেভাবে নামকরণ করা হয়েছে হেলেন, লহর, মাদী, নানাউক, হুদহুদ, নিলুফার, প্রিয়া, কোমেন, চপলা, মেঘ, ভালি, কায়ন্ত, নাদা, ভরদাহ, সামা, মোরা, অক্ষি, সাগর, বাজু, দায়ে, লুবান, তিতলি, দাস, ফেথাই, ফণী, বায়ু, হিকা, কায়ের, মহা, বুলবুল, সোবা ও আমপান।

 

সর্বশেষ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল ২০০৯ সালের ২৫ মে। ভারত মহাসাগর থেকে সৃষ্ট এ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন। ২০০৮ সালের ৩ মে উত্তর ভারত মহাসাগর থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল ‘নার্গিস’। এটি আঘাত হেনেছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার উপকূলে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ‘সিডর’। আবহাওয়াবিদরা জানান, ভয়াবহতার দিক থেকে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য প্রায় একই। তবে স্থানীয়ভাবে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নাম ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন ‘সাইক্লোন’ বলা হয় ভারত মহাসগরীয় অঞ্চল থেকে উত্পন্ন ঘূর্ণিঝড়গুলোকে। প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় ‘টাইফুন’। আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়গুলোকে বলা হয় ‘হারিকেন’।

 

ঘূর্ণিঝড়ের উত্পত্তি যেভাবে
গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকা প্রয়োজন। অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উত্পত্তি ঘটে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে। সাধারণত ৫ ডিগ্রি উত্তর থেকে ৩০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে ৩০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর উত্পত্তি ঘটে। ধারণা করা হয় যে, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ক্ষেত্রে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন বলয়- এর কিছু ভূমিকা রয়েছে। আন্তঃক্রান্তীয় মিলন বলয়ের অবস্থান হলো বিষুবরেখার কাছাকাছি, যেখানে দুই গোলার্ধের বায়ুপ্রবাহ এসে মিলিত হয়, তবে এর অবস্থান ঋতুভেদের উপর নির্ভর করে। একটি ঘূর্ণিঝড় পৃথিবীর আবর্তন থেকে সৃষ্ট ‘কোরিওলিস ফোর্স’ থেকে তার ঘূর্ণায়মান গতি প্রাপ্ত হয়। কার্যত বিষুবরেখায় এই শক্তি শূন্যের (০) পর্যায়ে থাকে। সুতরাং ঘূর্ণিঝড়গুলো ঠিক বিষুবরেখা থেকে সৃষ্টি হয় না। প্রয়োজনীয় ঘূর্ণিগতির জন্য ঝড়গুলোর উত্পত্তি ঘটে বিষুবরেখা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে। সম্ভবত পূর্বদিক থেকে আসা ঢেউরাজিও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় কিছু ভূমিকা রাখে।

 

বিভিন্ন ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় বিপর্যয়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হলো সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। একটি ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাস ৩০০ থেকে ৬০০ কি:মি: পর্যন্ত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে সবসময়ই বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ১১৯ কিমি এর বেশী এবং তা শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ুর চাপ থাকে ৫০ থেকে ৬০ হেক্সা প্যাসেকেল এবং প্রান্তদেশে এর পরিমাণ আরও বেশি হয়। প্রচণ্ড বায়ুপ্রবাহ প্রচুর পরিমাপে আর্দ্রতা এবং সুস্থ তাপ নিম্নচাপের কেন্দ্রের দিকে বয়ে নিয়ে আসে যা ঘূর্ণিঝড়ের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়। সাপের মতো কুণ্ডলী পাকানো ঘূর্ণায়মান বাতাস নিম্নচাপের কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হলে সেখানে প্রচণ্ড গতিবেগ সৃষ্টি করে।

 

ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর গাঠনিক চিত্র হলো এর ‘চোখ’ । উপগ্রহ চিত্রগুলিতে এই চোখের গঠন বা আকৃতি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। ঘূর্ণিঝড়ের চোখের মতো অংশটি ক্ষুদ্র এবং প্রায় বৃত্তাকার বা কখনও এ টি চ্যাপ্টা হয়। এ অঞ্চলটির ব্যাস থাকে ৮-৫০ কিমি। চোখে বায়ুচাপ থাকে সর্বনিম্ন এবং তাপমাত্রা থাকে সর্বোচ্চ। ঘূর্ণিঝড়ের চোখ যত উষ্ণ থাকে ঝড় ততো বেশি শক্তিশালী হয়। চোখে বায়ুপ্রবাহ থাকে খুবই হালকা সাধারণত ঘন্টায় ২৫ থেকে ৩০ কিমি এর বেশী নয়। এবং মেঘ থাকে না বললেই চলে। এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় চোখটির পরিসীমার বাইরে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় যাকে চোখ দেয়াল বলা হয়। এখানে বাতাসের বেগ এবং বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বেশি।

 

যে কারণে এদেশে বারবার আঘাত হানে ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলভাগ একটি বৃহত্ ফানেলের মত এবং বাংলাদেশের অবস্থান এই ফ্যানেলের শেষ প্রান্তে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বারবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের শিকারে পরিণত হয় এই ভূখণ্ডটি। উপসাগরীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর গতিপথের আওতায় আরও রয়েছে ভারতের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল, মিয়ানমার এবং কখনও শ্রীলংকা। কিন্তু যখন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় আঘাত হানে তখন ঘূর্ণিঝড়গুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করে। এই অঞ্চলের নিচু সমতল ভূমি, ঘন জনবসতি এবং নিম্নমানের উপকরণে নির্মিত বাড়িঘরের জন্যই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এবং উপকূলবর্তী দ্বীপ ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, মনপুরা, কুতুবদিয়া, মহেশখালী,নিঝুম দ্বীপ, উড়ির চর ও নতুন জেগে ওঠা অন্য দ্বীপগুলো।