আর্কাইভ

সাধারন রোগীরা অসাধু চিকিৎসক আর চিকিৎসকেরা প্যাথলজির মালিকদের হাতে জিম্মি

গৌরনদী হাসপাতাল

 

মোঃ জামাল উদ্দিন ॥  গৌরনদী হাসপাতালের সামনের প্যাথলজি সেন্টারে রোগী না পাঠালে চিকিৎসকদের রক্ষা নেই। টেস্টের জন্য রোগী বাগিয়ে নিতে প্রতিদিন সকাল থেকে চিকিৎস্যকদের কক্ষের সামনে দলবেধে বসে থাকেন প্যথলজির মালিকরা। রোগীদের পেসক্রিপশন দেখে তারা (প্যাথলজির মালিকরা) নিশ্চিত হন তার সেন্টারে টেস্ট পাঠানো হয়েছে কিনা! না হলে রক্ষে নেই। সাথে সাথে চিকিৎস্যকদের কৈফিয়ত তলব।  বকাঝকা, ভয়ভীতি এ যেন প্রতিদিনের ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গৌরনদী হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসকেরা বলেন, আমরা প্যাথলজির মালিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছি। কিন্ত আমরা নিরুপায়, বিচার পাইনা। আমাদের সব কিছুই মুখবুঁজে সহ্য করতে হয়।

জানা গেছে, হয়রানীর কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অনেক চিকিসৎকেরাই এখানে যোগদানের পরপরই অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান। গৌরনদী পৌরসভার প্যানের মেয়র এস.এম ফিরোজ রহমান জানান, গৌরনদী হাসপাতালে চিকিৎসক হয়রানী চলছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্ত অধিকাংশ প্যাথলজির মালিক সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেউ। গত কয়েকদিন আগে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ডায়গনস্টিক সেন্টারে টেস্টের জন্য রোগী না পাঠানোর অপরাধে লাঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মনির। এ ঘটনায় হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী হাসপাতালের সামনে ১৩ টি প্যাথলজিক্যাল সেন্টার। এ সব প্যাথলজির ৮টির বৈধ লাইসেন্স নেই। অধিকাংশ প্যাথলজিতে নেই কোন টেকনিশিয়ান বা প্যাথলজিস্ট। এ গুলোর অনেকটিতে নেই টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র। এমনকি নেই বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রধান উপকরন রি-এজেন্ট। গত মাস দুয়েক আগে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মাদ মাকসুদ চৌধুরী ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অপরাধে গৌরনদী হাসপাতালের সম্মুখস্থ ১০ টি প্যাথলজি সিলগালা করে বন্ধ করে দেন। ওই সময় ৬টি প্যাথলজির মালিককে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন যেতে না যেতেই ওইসব প্যাথলজির মালিকরা পূনরায় অবৈধভাবে ব্যবসা শুরু করেন।

হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ সুনীল চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালের সম্মুখের প্যাথলজিতে টেষ্ট না পাঠালে চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত প্যাথলজির মালিকদের দ্বারা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা ১৩টি প্যাথলজির ৮টির লাইসেন্স নেই। অধিকংশ প্যাথলজিতে প্যাথলজিষ্ট বা টেকনোলজিষ্ট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অপরদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কতিপয় অসাধু চিকিৎসকেরা আগত সামান্য জ্বরের রোগীকেও বাহির থেকে টেষ্ট করানোর নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রচুর অর্থ। যে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে মোটা অংকের কমিশন দেয়া হয় সেইসব সেন্টারেই ওইসব অসাধু চিকিৎসকেরা টেষ্টের জন্য রোগীদের পাঠিয়ে থাকেন। বতর্মানে একেকটি সেন্টার থেকে ওইসব অসাধু কর্মকর্তারা শতকরা ৬০% পর্যন্ত কমিশন নিয়ে থাকেন। এনিয়ে সেন্টারের মালিকদের সাথে প্রায়ই ওইসব অসাধু চিকিৎসকদের বাকবিতন্ডা হয়। স্থানীয়রা হাসপাতালের চিকিৎসকদের টেষ্ট বানিজ্য বন্ধের মাধ্যমে সাধারন রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »