আর্কাইভ

সিটি নির্বাচন : বরিশালে হিরনকে সমর্থন দিলেন বামপন্থী সংগঠন

হাসান মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি ॥  বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) নির্বাচনে বামপন্থী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মহাজোট সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী ও টেলিভিশন মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরনকে সমর্থন করেছেন। বামপন্থী সংগঠন বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি)’র বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট একে আজাদ আজ শনিবার সকালে জানান, দলের সর্বস্তুরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে আধুনিক নগর উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার হিসেবে শওকত হোসেন হিরনকে একমাত্র যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শওকত হোসেন হিরনের টেলিভিশন মার্কার সমর্থনে ইতোমধ্যে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারনায় পুরো নগরীতে ঝড় তুলেছেন বামপন্থি সংগঠন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।

 

ইভিএম’র প্রতীকি ভোট

বিসিসি’র নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ‘ইভিএম’। ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎসাহিত করার লক্ষ্য আজ রবিবার প্রতীকি ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটি ওয়ার্ডের ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন। ইভিএম পদ্ধতির জন্য নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের দুটি ভোট কেন্দ্র নির্ধারন করা হয়েছে। ওই কেন্দ্র দুটিতে আজ রবিবার প্রতীকি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্র দুটি হলো- বরিশাল জিলা স্কুল ও সরকারি কমার্শিয়াল কলেজ। ১৬নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ১৮১ জন। এদের মধ্যে ২ হাজার ৪৪৭ জন পুরুষ ভোটার জিলা স্কুল কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে এবং ১ হাজার ৭৩৪ জন নারী ভোটার সরকারি কমার্শিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ৫টি কক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে আজ রবিবারের প্রতীকি ভোটে সকল ভোটাররা অংশগ্রহন করবেন না। রিটার্নিং অফিসার মুজিবুর রহমান আরো জানান, ১৬নং ওয়ার্ডে ৪জন সাধারন কাউন্সিলর এবং ৬ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া আছেন তিন জন মেয়র প্রার্থী। প্রত্যেক প্রার্থীর ১০জন করে প্রতিনিধি প্রতীকি ভোটে অংশগ্রহন করতে পারবেন।

 

শতাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে র‌্যাব ও পুলিশ মাঠে

নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল প্রকার সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড রুক্ষতে তালিকাভুক্ত ১’শ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছেন র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। এ তালিকায় রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রয়েছে  ২৫জন। আগামি ১৫জুনের সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এজন্যই ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে নগরীর ৪ থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চলতি মাস থেকে তালিকাভুক্ত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, যেকোন উপায়ে হোক সন্ত্রাস মুক্ত সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করাই হচ্ছে এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৫ জুনের সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। এজন্য এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নগরীতে ২ হাজার ৩৩১ জন পুলিশ ও ৩২ জন ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটে মোতায়েন করা হয়েছে ১৩টি চেক পোস্ট এবং একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এ.টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুুষ্ঠ করতে গত ১৩ মে থেকে বিএমপি অপারেশন শুরু করা হয়েছে। এ জন্য সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ওই তালিকায় পলাতক আসামিরাও রয়েছে। এছাড়া নতুন তালিকায় রয়েছে ১’শ সন্ত্রাসীর নাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিশেষ গোয়েন্দা শাখার (সিটিএসবি) এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন উপলক্ষ্যে নগরীতে বেশকিছু নতুন মুখের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীও রয়েছে। সূত্রমতে, গত ১৩ মে থেকে পুলিশ অদ্যবর্ধি ৪৫০ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে প্রায় ১’শ জন। এছাড়াও একটি পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

রথী-মহারথীরা বরিশালে

নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোট সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরন-টেলিভিশন ও ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের আহসান হাবিব কামালের আনারস মার্কার পক্ষে ভোট চাইতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সিনিয়র রথী-মহারথী ও ব্যাংকাররা এসেছেন প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশালে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী মেয়র ও কাউন্সিলার পদপ্রার্থীদের আত্মীয়-স্বজনেরাও এসেছেন প্রবাস থেকে। তারা প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন নির্বাচনী মাঠের। ইতোমধ্যে টেলিভিশন মার্কার সমর্থনে বরিশালে ভোট প্রার্থনায় অংশগ্রহন করেছেন আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু-এমপি, সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস-এমপি, অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, আ’লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, আখম জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাজিব হোসেন ভূঁইয়া রাজুসহ দলের সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় একাধিক শীর্ষ নেতারা। এখনও অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তারা গণসংযোগের পাশাপাশি একাধিক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখছেন।

১৮ দলের প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের আনারস মার্কার পক্ষে গত ৭ জুন গভীর রাত পর্যন্তগণসংযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ-বীর বিক্রম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবায়েদুল হক চাঁন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহিম, বরিশাল-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও লন্ডন প্রবাসী মুলাদীর প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন-অর রশিদ খান আগামী দু’একদিনের মধ্যে বরিশালে এসে কামালের সমর্থনে গণসংযোগ ও সভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। দু’জোটের রথী-মহারথীদের বরিশালের নির্বাচনী মাঠে আগমনে শেষসময়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে।

 

নগরবাসীকে কখনো শাসন করিনি

আওয়ামীলীগ ও ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী, সদ্য বিদায়ী মেয়র আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরন বলেছেন, আমি মেয়র থাকাকালীন নগরবাসীর সেবা করেছি। কখনোই নগরবাসীকে শাসনের চেষ্টা করিনি। মধ্যরাতে কারো বাড়ির দেয়াল ভাঙ্গিনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাস্তা বড় করে নগরীর উন্নয়ন করেছি। সেবার জন্য এসে আমার কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফিরেছেন-এমন নজির নেই। নিজে সারারাত পুরো নগরী ঘুরে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের নিজহাতে ধরে পুলিশে সোর্পদ করেছি। আমি নগর উন্নয়নের সকল কাজ এখনো সমাপ্ত করতে পারিনি। তাই আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আপনাদের কাছে শেষবারের মতো টেলিভিশন মার্কায় আরেকটি ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি। আজ শনিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভায় মেয়র প্রার্থী হিরন ভোটারদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

 
সাড়ে চার হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য

বিসিসি নির্বাচনের দিন পুলিশসহ সাড়ে চার হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার। এছাড়াও প্রয়োজন মনে করলে ইলেকশন কমিশনার সেনা মোতায়েন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন, রিটানিং অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে এবার ২ লাখ ১০ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার ১’শ টি  ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটের দিন নিরাপদে ও নির্বিঘেœ ভোট প্রদানের জন্য পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, কোস্টগার্ড ও বিজিবি’র সাড়ে চার হাজার সদস্য মোতায়েন থাকার কথা বলেছেন, বরিশাল নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শোয়েব আহম্মেদ-পিপিএম। তিনি আরো বলেন, এছাড়াও সাদা পোষাকে তাদের ৭ থেকে ৮’শ পুলিশ সদস্য ও ২৮ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়ে মোবাইল টিম চিহ্নিত ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে থাকবেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »