আর্কাইভ

পাল্টে গেছে মাহিলাড়া ইউনিয়নবাসীর জীবন চিত্র

উন্নত তথ্য সেবা

হাসান মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার ॥  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কর্মকান্ডে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার ও তথ্য প্রযুক্তির সেবা দিয়ে বেশ অল্প দিনেই পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তরুন চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। ইউনিয়নবাসীর মাঝে আরো উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল চেয়ারম্যানখ্যাত সৈকত গুহ পিকলু গত ৩০ জুন ৫ দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াজেদ আলী বেপারী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ইতোমধ্যে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তথ্য প্রযুক্তির নতুন নতুন সেবা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহবায়ক সৈকত গুহ পিকলু গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ডিজিটাল চেয়ারম্যানের খেতাব অর্জন করেছেন। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পিকলুকে স্বর্ণ পদকে ভূষিত করে এ খেতাব দেয়া হয়। প্যানেল চেয়ারম্যান আরো জানান, বিদেশের তথ্য প্রযুক্তিকে স্বচক্ষে পরিদর্শন করে সেটিকে নিজ ইউনিয়নবাসীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরিষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পিকলুকে ৫ দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিলো।

সূত্রমতে, মাহিলাড়া ইউনিয়নের উন্নত তথ্য সেবার বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন মহলেও বেশ প্রশাংসা কুড়িয়েছে। ফলশ্র“তিতে সম্প্রতি মাহিলাড়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে জনপ্রশাসন সচিব আব্দুস সোবাহান সিকদার বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। এধারা অব্যহত থাকলে অতিশীঘ্রই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে। সচিব মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবার কেন্দ্রের মান দেখে ভূয়শী প্রসংশা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় মাহিলাড়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র পর্যবেক্ষন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাউথ ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ও প্রকল্পের সিনিয়র এ্যাডভাইজার ওয়াল্ডল্যান্ড রিসোর্স সাইন্স জাপানের প্রতিনিধি তশিফুমি সেরিজাওয়া, সাউথ ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের ইন্টরন্যাশনাল বিশেষজ্ঞ ড. এআরএম মমতাজউদ্দিন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নুরুল আমিন, জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল আলম, বে-সরকারী মানবিক সংস্থা পদক্ষেপের চেয়ারম্যান মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বেসরকারী অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন।

গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ হবে দেশের মধ্যে প্রথম ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে একনিষ্ঠ ভাবে ইউনিয়নবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন মাহিলাড়া ইউনিয়নের তরুন চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। শুধু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেই তার সুনাম থেমে থাকেনি। তিনি একই সাথে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের গৌরনদী উপজেলা শাখার আহবায়ক ও ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া এ.এন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। মুজিব আদর্শের সৈনিক সৈকত গুহ পিকলু মাহিলাড়া ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি ফেরেস্তা নই-সামান্য একজন মানুষ মাত্র। আমার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগীতা নিয়েই আমি মাহিলাড়া ইউনিয়নকে দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম একটি ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তরুন চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু প্রতি সপ্তাহে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের জনগনের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জবাবদিহীতা মূলক ব্যতিক্রমধর্মী সভার আয়োজন করে ইতোমধ্যে পুরো দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ওইসব সভায় তিনি জনগনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে তাদের পরামর্শ নিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক অবস্থার আলোচনা করেন। সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবার কথাও জনগনের মাঝে তুলে ধরেন। স্থানীয় জনগন ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে ওইসব সভায় অংশগ্রহন করে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান পিকলু নিজ উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে এ ব্যতিক্রমধর্মী সভার আয়োজন করে আসছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সৈকত গুহ পিকলু। তার পিতা গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিয়া দমন গুহ।

মাহিলাড়া ইউনিয়নের জঙ্গলপট্টি গ্রামের আবুল কালাম জানান, তথ্য সেবা হেইডা আবার কি, আগে বুঝিনায়। তয় এ্যাহন দেহি এহ্যানে সব আছে। মোর পোলায় বিদাশে থায়ে। এই কেন্দ্রে আইসা অর ছবি দেহি আর মোরা অর লগে কথা কই। মোর পোলায়ও নাকি মোগো ছবি দেখতে পায়। এতো সুযোগ-সুবিধা আগে কোতায় আছেলে। মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের সেবা পেয়ে আবুল কালাম উল্লেখিত কথাগুলো বলেছেন। এ কথাশুধু তার একারই নয় একইভাবে জানালেন, ওই কেন্দ্রে তথ্য সেবা পাওয়া দাদন আলী শিকদার, মাহিলাড়া গ্রামের রবিন দাস, বেজহার গ্রামের আনোয়ার হোসেন, মিন্টু শিকদার, মনির হোসেন, সোহেল হাওলাদার, মজিবুর রহমান হাওলাদারসহ অনেকেই। সময়ের ব্যবধানে রাতারাতি বদলে গেছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নবাসীর জীবন চিত্র। তারা এখন প্রতিদিন ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে নিচ্ছেন তথ্য প্রযুক্তির সেবা।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ২০১০ সনের ১১ নবেম্বর দেশের ৪ হাজার ৫’শ ১টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয় ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র। তারই ধারাবাহিকতায় বরিশালের প্রতিটি ইউনিয়নে এ সেবাকেন্দ্রের সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও কোন ইউনিয়নই এখন পর্যন্ত তেমন কোন সাড়াযাগাতে পারেনি। এরইমধ্যে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তরুন চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর প্রচেষ্ঠায় খুব স্বল্প সময়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রের সেবা দানের মাধ্যমে মাহিলাড়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রটি পুরো জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফলশ্র“তিতে জেলার ডিজিটাল মেলায় অংশগ্রহন করে চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পিকলুকে তথ্য সেবায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করায় “ডিজিটাল চেয়ারম্যান” হিসেবে স্বর্ণ পদকে ভূষিত করা হয়।

মাহিলাড়া গ্রামের আবুল মোল্লা জানান, এ তথ্য কেন্দ্রে মানুষের সবচেয়ে বেশি চাহিদা স্বাস্থ্য, কৃষি পরামর্শ, জমির পর্চা-খতিয়ান সংক্রান্ত তথ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি আবেদন ফরম নিতে আসেন অনেকেই। এছাড়া ই-মেইলে যোগাযোগ, ইন্টারনেটে কথা বলার পাশাপাশি প্রিয়জনের ছবি দেখতে পারছেন প্রবাসীদের স্বজনেরা। কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ফটোকপি, পরীক্ষার ফলাফল জানা নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন এবং মোবাইল ব্যাংকিং, স্ক্যানার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সুবিধা পাচ্ছেন এ তথ্য সেবা কেন্দ্রে। তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সেবা নিয়ে থাকেন। সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ইউনিয়নের মানুষকে সেবা দেয়া হয়। অপর উদ্যোক্তা নুপুর বেপারী জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাপটপ নিয়ে পরিষদের বাহিরে গিয়েও ইউনিয়নবাসীর সেবা দেয়া হয়ে থাকে।

মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, বাহিরে বাণিজ্যিকভাবে যে সেবা স্থানীয়রা পেয়ে থাকেন তার চেয়ে ৫০ ভাগ কম খরচে ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র সেবা দেয়া হয়। তিনি (চেয়ারম্যান পিকলু) আরো জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফ, ভিজিডি’র চাল বিতরনসহ সকল কর্মকান্ডে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তথ্য প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দেয়া, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমসহ তিনিই দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম ইউনিয়ন ভিত্তিক জনপ্রতিনিধির জবাবদিহিতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম মাহিলাড়া ইউনিয়নকে ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু সকলের বিশেষ করে মাহিলাড়া ইউনিয়নবাসীর সহযোগীতা কামনা করেছেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছুটা ক্রটি বিচ্যুতি থাকলেও কেবলমাত্র মাহিলাড়া ইউনিয়নেই তথ্য সেবাকেন্দ্রের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। এর কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ফলেই ইউনিয়নবাসী এ সেবা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »