আর্কাইভ

পুড়ে না মরতে ১১ তলা থেকে লাফ দেয়

হা-মীম গ্রুপের কারখানায় আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা। শিনশিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি ১৭ চিকিৎসাধীন শ্রমিকের একজন হলেন মোতাহার মিয়া। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগুন লাগার পরপরই ১১ তলার ক্যান্টিনে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক ডেনিম প্যান্টের রোল (জিন্সের কাপড়) ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে জালানা দিয়ে নামতে থাকেন। অনেকেই এ সময় কাপড় ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়।

জরুরি অবতরণ সিড়ির ছয়টির মধ্যে তিনটি বন্ধ ছিল উল্লেখ করে মোতাহর বলেন, বাকি তিনটি সিঁড়ির দরজা খোলা থাকলে শ্রমিকরা এভাবে নামতে চেষ্টা করত না। সিঁড়ি বন্ধ পেয়ে সবাই জালানা দিয়ে নামতে চেষ্টা করে। তিনি বলেন, প্রচণ্ড ধোয়ায় অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। যারা জালানা দিয়ে কাপড় বেয়ে নামার চেষ্টা করেছে তাদের অনেকেই হাত ফসকে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে তারা মারা যায়। চিকিৎসাধীন আরেক শ্রমিক জাকির হোসেন জানান, ১১ তলার ক্যান্টিনে প্রায় এক থেকে দেড়’শ শ্রমিক তাদের দুপুরের খাবাব খাচ্ছিলেন। এ সময় ১০ তলা থেকে আগুন ১১ তলার দিকে উঠতে থাকলে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কে কার আগে নিচে নামবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। অনেকেই হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। একজন আরেকজনের পায়ের নিচে পড়ে আহত হয়।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, আগুনে পুড়ে মরে যাওয়া খুব কষ্টের। তাই প্রয়োজনে নিচে লাফিয়ে পড়ে মরা ভাল। এ কথা চিন্তা করেই অনেকে লাফ দিয়েছে। ভবনের ৮ তলার সুইং অপারেটর আবু সায়েম বলেন, আগুনে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা নিচে নামার চেষ্টা করেন। তবে এ সময় ৮ তলার মূল দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার পর দরজা খুলে দেওয়া হয়। অপারেটর নূর মো. রাজু জানান, আগুন ধরার পরপরই তিন তলার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আধঘণ্টা পর তা খুলে দিলে তারা নিচে নামেন। শ্রমিক আবু সায়েম জানান, প্রতিমাসে শ্রমিকদের আগুন ধরলে কি করতে হবে সে ধরনের ট্রেনিং দেওয়া হতো। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে কিভাবে আগুন নেভানো যায় তা তাদের শেখানো হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক শ্রমিক জানান, ১১ তলায় আগুন নির্বাপক যন্ত্র ছিল। তবে তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তারা জানতেন না।

শ্রমিক সালমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি খাবার খেতে বাইরে এসে জীবন বাঁচিয়েছি। কিন্তু আমার চার ভাই বোনের খবর এখনো পাইনি। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও জানি না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এসএইচএ/ডিডি/০১০৮ ঘ.

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »