আর্কাইভ

ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিবাদ

তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। ইসরাইলের এসব আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ এ নিন্দা জানাল। ইসরাইল পূর্ব বাইতুল মোকাদ্দাসে বসতি নির্মাণ বন্ধ না করায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী রবার্ট সেরি তেলআবিবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণ অবৈধ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের মাধ্যমে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তেলআবিব সব সময় আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। ইহুদিবাদীরা পাশ্চাত্যের সহায়তায় ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অবৈধ বসতি নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয় এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এখনো তা অব্যাহত রেখেছে। বলতে গেলে গোটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জুড়ে রয়েছে এরকম অসংখ্য ইহুদি বসতি। ফিলিস্তিনিরা যাতে বাইতুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে না পারে, সেজন্য ইহুদিবাদীরা অবৈধ বসতিগুলোকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জালের মতো বিস্তার করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন আনাও এসব বসতি নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা করা। প্রতিটি ইহুদি বসতি এক একটি সামরিক চেক পোস্ট হিসেবে হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজন মতো ফিলিস্তিনিদের দমনের কাজে এসব বসতিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ইহুদি বসতির সাধারণ মানুষের কাছে সমরাস্ত্র দিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি কেড়ে নিয়ে তাতে দখলদার শক্তির জন্য বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থি। সব আন্তর্জাতিক কনভেনশন বিশেষ করে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসরাইল দখলীকৃত এলাকাগুলোতে কোন রকম নির্মাণ কাজ বা অন্য কোন ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলোতেও দখলীকৃত সব এলাকা থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে সরে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে এবং অবৈধ সকল ইহুদি স্থাপনা ধ্বংস করে ফেলতে বলা হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে তেলআবিব যে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও এর প্রকাশ্য সমালোচনা করে অবৈধ বসতি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছেন।

http://bangla.irib.ir/index.php/2010-04-21-08-29-09/2010-04-21-08-32-06/23511-2010-12-15-12-55-40.html

আরও পড়ুন

আরও দেখুন...
Close
Back to top button
Translate »