আর্কাইভ

মামলাবাজ সোহরাবের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গৌরনদীর কয়েকটি পরিবার

পরেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব গরঙ্গল ও কুতুবপুর গ্রামের কয়েকটি নিরিহ পরিবার। তার আপন বোন, ভাগ্নে, ভাই, ভাতিজা পর্যন্ত রেহাই পায়নি সোহরাব খানের হাত থেকে। এলাকায় নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সে নানান অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে কেহ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

সোহরাব খানের প্রতিবেশী পূর্ব গরঙ্গল গ্রামের মফসের খান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনার জেরধরে সোহরাব খানের নেতৃত্বে তার পুত্ররা আমার বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। ওইসময় হামলাকারীরা মফসের খানের স্ত্রী মালঞ্চ বেগম ও পুত্র মিরাজকে মারধর করে আহত করে। এ ঘটনার পর উল্টোভাবে সে মিথ্যে মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানি করছে। ওই মামলায় দীর্ঘ ১২দিন হাজত বাস করে তার কলেজ পড়য়া পুত্র এনামুল খান (২০)। সোহরাব খানের বড়ভাই লোকমান খানের বিধবা স্ত্রী সুফিয়া বেগম কান্নারত কন্ঠে বলেন, সোহরাব খান মোরে রাখছে অসুস্থ্যর ওপর। মোর পোলাগো নামে ৩/৪টি মিথ্যে মামলা দিয়া জোরকইর‌্যা মোগো কেনা জমিতে ঘুর তুলছে। সোহরাব খা সবই থানার জোরে করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সোহরাব খানের মেঝ ভাই মুক্তিযোদ্ধা আয়নাল খান অভিযোগ করেন, আমি বরিশাল চিনি নাই। সোহরাব খান মিথ্যা গাছ কাটা মামলা দিয়া মোরে বরিশাল চিনাইছে। মোর অপরাধ ছিলো ছোট বোন ফুলজানের মামলায় মুই স্বাক্ষী দিছিলাম। সম্পত্তি নিয়া বোনের সাথে সোহরাবের বিরোধ ছিলো। সোহরাব ৪ বছর আগে ভাগ্নে সবুজ গোমস্তাকে পিটিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করেছিলো। চরকুতুবপুর গ্রামের কালাম সরদার অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে হাকিম খা কর্তৃক সোহরাব খানের প্রত্যক্ষ মদদে মোর কবলা করা ৮০ শতক জমির ফসল কেটে দখল করে নিয়েছে। ওই জমি নিয়ে এখনো মামলা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বোরো মৌসুমে ইরি-ব্লক নিয়া বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কুতুবপুর গ্রামের কুদ্দুস খানকে মারধর করে তার ২টি দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিলো সোহরাব খান ও তার পুত্ররা। ৪/৫ বছর আগে ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো সোহরাব খান। এছাড়াও ৭/৮ বছর আগে হোসনাবাদ গ্রামের কালু নামের এক ভ্যানচালকের একটি কান কেটেছে সোহরাব খান। ভুক্তভোগীরা কেহই সোহরাব খানের ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। অভিযুক্ত সোহরাব খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি থানার দালাল নই। তবে থানা পুলিশের সাথে আমার ভালো সর্ম্পক রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা আমার অভিযোগ করেছে তারাও সাধু নয়।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »