আর্কাইভ

আগুন কখনো চেঁপে রাখা যায়

আরেকবার বাস্তব প্রমান মিলেছে সদস্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ৪ নং মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলু। আনারস প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। তার (পিকলুর) পিতা গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, বার বার Pikluনির্যাতিত বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মাহিলাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিয়া দমন গুহ। গৌরনদীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে একটি পরিবার যদি নির্যাতিত হয়ে থাকেন সেই পরিবারটি হচ্ছে কালিয়া দমন গুহর পরিবার। সারাজীবন যারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা না ভেবে রাজনীতির পিছনে ব্যয় করেছেন তাদের সকল শ্রম। বিনিময়ে বরাবরের ন্যায়ই রয়ে গেছেন তারা উপেক্ষিত। তাদের যতো অন্যায় অপবাদ সব কিছুর মূলই হচ্ছে আওয়ামীলীগকে ভালবেসে দলের দুর্দীনে নিজেদের উৎস্বর্গ করা। মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হবার পর পরই দলের র্শীর্ষ কতিপয় নেতার চোখের শুল হয়ে দাঁড়ায় গুহ পরিবার। কতিপয় ওইসব নেতা পিকলুর প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান আরেক আওয়ামীলীগ কর্মীকে।

সৈকত গুহ পিকলুর অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের দিন র্শীর্ষ ওইসব কতিপয় ক্ষমতাসীন নেতা র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে হয়রানী শুরু করেন পিকলু ও তার সমর্থকদের। নির্বাচনের দিন ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা পর আনারস মার্কার ব্যাজ লাগিয়ে বেজহার ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বেরুনোর সময় র‌্যাব সদস্যরা পিকলুর আনারস মার্কার দুজন কর্মীকে বেধম মারধর করে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওইদিন বিকেলে বরিশাল নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য গৌরনদীর ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি র‌্যাবের কড়া মহরা ছিলো মাহিলাড়ায়। নির্বাচনের দিন রাতে বেসরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষনা করা হয় পিকলু বিপুল ভোটের ব্যবধানে মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এ সংবাদের পিকলুর সমর্থক ভোটররা তাকে (পিকলুকে) ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার জন্য তার মাহিলাড়া বাজারের নির্বাচনী ক্যাম্পে ভীড় করেন। এসময় র্যাব সদস্যরা ওই ক্যাম্পের সম্মুখে গিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুসহ তার সমর্থক ভোটারদের গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্বাচনী ক্যাম্পের সম্মুখে রাখা পিকলুর সমর্থক আল-আমিনের মটরসাইকেলসহ রনি নামের আরেক কর্মীকে মারধর করে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। গাড়ির মধ্যে বসে র‌্যাব সদস্যরা রনিকে শ্বাসিয়ে দেয়ার সময় পিকলুর বিরোধীতা করা আওয়ামীলীগের র্শীর্ষ কয়েক নেতার নাম প্রকাশ পেয়ে যায়।

পরবর্তীতে রনিকে গৌরনদী থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়। যে গুহ পরিবারটি আওয়ামীলীগের জন্য তাদের সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে আসছে তাদের পরিনতিই যদি এমন হয় সেখানে অন্যসব আওয়ামীলীগ কর্মীদের কি হবে সে কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। তার পরেও সাধারন জনগনের ভালবাসা ও ভোটারদের ভোট দানের মাধ্যমে আরেকবার দলের ওইসব কতিপয় র্শীর্ষ ক্ষমতাসীন নেতাদের বৃদ্ধাঅঙ্গুলি দেখানো হলো “আগুন কখনো চেঁপে রাখা যায় না-সে নিজের মতোই জ্বলে উঠবে”।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »