আর্কাইভ

বিএম কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবীতে ছাত্রলীগের ভাংচুর

নির্বাচনের দাবীতে অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ ও যানবাহনে ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ।  

এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মিরদের  ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় এঘটনায় সূত্রপাত হয়। চলে দুপুর পর্র্যন্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাকসু নির্বাচনের দাবীতে পূর্বে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টায় দিকে ক্যাম্পাসে জড়ো হয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এক অংশ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভকারীদের সাথে অন্যান্য কলেজের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও বহিরাগতরা যোগ দেয় বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।

তারা সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াতের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করে কলেজের প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখে।  

এ সময় সড়কের উপর টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে তারা।

তখন ওই সড়ক অতিক্রমকালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে একটি গাড়ি ও একটি যাত্রীবাহী টেম্পু ভাংচুর করে বিক্ষোভকারীরা।

পরে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করা চেষ্টা করলে ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।

এক পর্যায়ে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এতে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালা ভাংচুর করে।

অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে জিম্মি করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালগাল দেয় তারা জানিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের অপর যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ সেন বলেন, অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাংচুর ও তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচারন করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

ছাত্র নেতাদের দাবীর মুখে মৌখিকভাবে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষন ঘোষনা করলেও তার কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত নেয় ছাত্রলীগের নেতারা বলে অভিযোগ অধ্যক্ষের।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মঈন তুষার বলেন, আমি ভিপি হতে চাই না। তবে বাকসু নির্বাচন আমাদের গনতান্ত্রিক দাবী। অধ্যক্ষ দীর্ঘ দিন যাবত আজ নয়, কাল নয় করে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়েই সকল শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা ভাংচুরের কথা অস্বীকার করে মঈন তুষার বলেন, পুলিশ উল্টো আমাদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে লঠিচার্জ করেছে। এতে ছাত্রলীগের ৭/৮ জন কর্মী আহত হয়েছে।

মঈন তুষারের অভিযোগের সম্পর্কে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা ভাংচুর চালালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ধস্তাধস্তি ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে ক্যাম্পাস পুরোপুরি শান্ত।

কলেজ অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস বলেন, নির্বাচন প্রতিটি মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার। তবে একটি নির্বাচনের আয়োজন করতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আমরা বরিশালে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনে তফসিল ঘোষনা করা হতে পারে। তবুও ছাত্রনেতারা আমার কক্ষে ভাংচুর চালিয়েছে। ইট মেরে ভেঙ্গে ফেলেছে জানালার কাচ।

আরও পড়ুন

Back to top button