আর্কাইভ

একাধিক শিক্ষা ও ধর্মীয় ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে লুটপাটের অভিযোগ

টাকার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে এমপি’র কোটার বরাদ্দ! আগৈলঝাড়ায় দু’দফায় এমপির বরাদ্দের ৫২ লাখ ৪০ হাজার টাকার একাধিক ভূয়া প্রকল্পের বিষয়টি রহস্যজনক ও টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। এমপি’র কোটায় বরাদ্দকৃত অস্তিত্বহীন ও নির্মানাধীন প্রকল্পে কাবিটা ও নগদ অর্থের কোন কাজ না করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

সরকার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য স্থানীয় এমপিদের থোক বরাদ্দ দেয়। বরিশাল-১ আসনের এমপি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে আগৈলঝাড়ায় প্রথম কিস্তিতে ১২১ টি প্রকল্পের অনুকুলে ১৫ মে তার ডিও লেটারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা বন্টন করেন। দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৯ জুন ৩৬ টি প্রকল্পের অনুকুলে ১৩ লাখ টাকা অনুরুপ বন্টন করেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমপির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভূয়া প্রকল্প এবং প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ করিয়ে আতœসাৎ করার মহা উৎসবে মেতে উঠেছে দলীয় এক শ্রেনীর নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, চলতি অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এমপির কোটার বিশেষ বরাদ্দ থেকে নির্মানাধীন বাগধা মডেল স্কুলে সংস্কার প্রকল্পে (২য় কিস্তির) ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন বরিশাল-১ আসনের সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস। যার প্রকল্প নং- ৩৬। ওই প্রকল্পের সিপিসি হয়েছেন ওই স্কুল কমিটির প্রাথমিক পর্যায়ের সভাপতি ও স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা (এমপির শ্বশুর) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আ. হামিদ খাঁন। সদস্য সচিব শিক্ষক কানাই লাল অধিকারি, সদস্য ছিলেন- শিক্ষক মেহেদি কাওসার, তরুন কান্তি বাড়ৈ, শিক্ষক  হরি চাঁদ মন্ডল(সাবেক এটিও), সাইফুল¬্হা সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় দাস।

এদিকে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানাগেছে,দেশে ৩৪ টি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মান করছে সরকার। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাগধা মডেল স্কুলের নির্মান কাজ করছে।

ঠিকাদার সূত্রে জানাগেছে, এর জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মান সহ ৩শ জোড়া বেঞ্চ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে চেয়ার টেবিল সরবরাহ সহ টেন্ডার আহ্বান করলে বরিশালের আঞ্জুমানারা ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী আজাদ রহমান ২১ কক্ষ বিশিষ্ট তিন তলা স্কুল ভবন নির্মানের কার্যাদেশ পায়। ঠিকাদার গত বছর অক্টোবর মাসে ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন। যা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নির্মান কাজ শেষ হবে বলে জানান।

এদিকে ২০১০-১১ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এমপির কোটার ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয় বাগধা বাজার পোষ্ট অফিস সংস্কারের জন্য। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এখানেও কোন উন্নয়ন কাজ করেনি বলে ওই পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টার চাঁন মিয়া জানান। তিনি অভিযোগে আরও বলেন, তাকে বাদ দিয়েই প্রকল্প কমিটি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে অফিসের কাজ করছেন। অফিস উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা জেনে তিনি সিপিসিকে কাজ করতে বললে সিপিসি বলেছেন, ওই বরাদ্দকৃত টাকা তাদের খেতে দিয়েছেন বলে ধমক দিয়ে চেপে যেতে বলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের সিপিসি ছিলেন ওই ক্ষমতাধর নেতা হামিদ খাঁনের ছেলে আমিনুল ইসলাম (এমপি’র শ্যালক), সেক্রেটারী ছিলেন তার মেয়ে জামাতা আকবর হোসেন মিয়া, (এমপি’র ভায়রা), সদস্য ছিলেন তার অপর ছেলে রফিকুল ইসলাম তরুন(এমপি’র শ্যালক)। আরও সদস্য ছিলেন মোক্তার আলীর ছেলে বেলায়েত হোসেন, কালাই সরদারের ছেলে তাহের আলী ও সরোয়ার খন্দকারের ছেলে নয়ন খন্দকার।

এমপির প্রথম কিস্তির বরাদ্দ থেকে রাজিহার ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র বালার বাড়ির সার্বজনীন গোবিন্দ মন্দির সংস্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যার প্রকল্প নং ৪৯। সিপিসি হন ওই নেতা নিজেই। অথচ ওই বাড়িতে কোন মন্দিরই নেই!

এমপির একই বরাদ্দের আওতায় ৩৭ নং প্রকল্পে আগৈলঝাড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উন্নয়ন প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। ওই প্রকল্পের সিপিসি হন শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন বাবুল সেরনিয়াবাত। প্রকল্পের নামে গোডাউন রোডে ৭/৮ বছর আগে ভবনের ফাউন্ডেশন করা হলেও এর পর আর কোন কাজ হয়নি বলে একাধিক শিক্ষক জানান। বিস্বস্ত সূত্র জানায়, বরাদ্দের টাকা তুলে ওই দিনই বাবুল মাষ্টার ঢাকায় তার ছেলের চিকিৎসা করাতে চলে যান।
রতœপুর ইউনিয়নের দত্তেরাবাদ  হাজি বাড়ি জামে মসজিদ সংস্কার বাবদ বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা প্রকল্পের সিপিসি হারুন হাওলাদার উঠিয়ে নিলেও কোন কাজই করা হয়নি এই প্রকল্পে।
বাগধা ইউনিয়নের দক্ষিন চাদ ত্রিশিরা হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ উন্নয়ন (প্রকল্প নং-২৮) এর সিপিসি কামরুল হাসান বরাদ্দকৃত অর্থ উঠিয়ে কোন কাজই করেননি বলে স্থানীয় মুসল্ল¬ীরা জানান।

একই ডিও লেটারের ৩৪ নং প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন বাগধা দাসপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়নের জন্য। ওই প্রকল্পের সিপিসি ছিলেন মাষ্টার হামিদ খাঁন(এমপি’র শ্বশুর)। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- জাহাঙ্গির হোসেন, শেখ মতিউর, তৈয়বুর রহমান, আজাহার বেপারী, শামসুল হক ও মজিবর রহমান। এখানেও মসজিদের কোন উন্নয়ন কাজ করা হয়নি বলে এলাকার মুসল্লীরা অভিযোগ করেন। তবে প্রভাবশারী ওই নেতার ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

একই ইউনিয়নের পূর্ব বাগধা প্রগতি যুব সংঘ উন্নয়নের নামে ৩৯ নং অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে আতœসাৎ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ওই প্রকল্পের সিপিসি হয়েছেন হামিদ মাষ্টারের ছেলে আমিনুল ইসলাম(এমপি’র শ্যালক) । অপর সদস্যরা হলেন, সম্পাদক রব মিয়া, কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন শেখ, প্রচার সম্পাদক খোকন মিয়া,দপ্তর সম্পাদক রতন দাস ও সদস্য মতিউর রহমান ও রহিম মিয়া।

একই এলাকায় ৪২ নং প্রকল্পে চাঁদত্রিশিরা খাদিজাতুন কুরা মহিলা মাদ্রাসার নামে ৫০ হাজার টাকা সিপিসি হিসেবে গ্রহন করেন উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী পেয়ারা ফারুক বকতিয়ার। ওই মাদ্রাসার কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

রির্পোটটি তৈরী করেছেন- কাজী মো. জাহাঙ্গীর ও তপন বসু

আরও পড়ুন

Back to top button