আর্কাইভ

টিকিট পেতে যোগ্যতা লাগে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চের

কোন লঞ্চে কেবিন ও সোফার টিকিট নেই। কাউন্টারের সামনে টানিয়ে দেয়া হয়েছে কেবিন খালি নাই বিজ্ঞপ্তি। তবুও প্রতিদিন বরিশাল লঞ্চঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চের একটি কেবিনের জন্য বরিশালে বুকিং কাউন্টারগুলো ভীড় করছে টিকিট প্রত্যাশীরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ লঞ্চের মালিক বরিশালের হওয়ায় ঢাকার তুলনায় বরিশালেই টিকিট প্রত্যাশীদের ভীড় বেশি। তারা ঢাকা থেকে বরিশাল এবং বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে কাউন্টারগুলোতে কেবিন ও সোফার টিকিত পেতে ধর্না দিচ্ছে বিভিন্ন মহলে। নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা ওলিউল ইসলাম ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় মেসার্স সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানীর টিকিট বুকিং কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী এক যাত্রীকে বলেন, লঞ্চের কেবিনের টিকিট পেতে হলেও যোগ্যতা লাগে। যোগ্যতা না থাকলে টিকিট মিলবে না বলে জানান তিনি। নগরীর প্রভাশালী ব্যক্তি কিংবা তার আত্মীয়, প্রশাসনের কর্মকর্তা তা না হলে লঞ্চ মালিকদের আত্মীয় হলে মিলে লঞ্চের টিকিট। সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেক কাউন্টারে কেবিন খালি নাই বিজ্ঞপ্তি। তবুও লঞ্চ কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে টিকেট প্রত্যাশীদের লম্বা লাইন। একটি কেবিনের জন্য দ্বিগুন-তিনগুন টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি অনেকে। তবুও মিলছে না কেবিন। কেবিন প্রত্যাশীরা জানায়, কেবিনের জন্য কাউন্টারে গেলেই দায়িত্বরত কর্মচারীদের সরাসরি কথা কেবিনের ব্যাপারে আমরা কিছুই যানি না। মালিক জানে সব। তারা (মালিকপক্ষ) রমজানের শুরুতেই কেবিন বুকিংয়ের খাতা নিয়ে গেছে। তবে অধিক মূল্যে দালালদারে কাছে থেকে কেবিন মিলছে বলে দাবী করেছেন অনেকে। কাউন্টারে ঈদের পর বরিশাল থেকে ঢাকাগামী টিকিটের চাওয়া হলে দায়িত্বরতরা জানান, তা এখন দেয়া শুরু হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে লঞ্চ মালিক সমিতির এক সদস্য জানিয়েছেন, ঢাকাগামী টিকিটও অনেক আগেই দেয়া হয়ে গেছে। ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চের সংথ্যা ১২টি। লঞ্চগুলো হলো – মেসার্স রাবেয়া শিপিং কোম্পানীর পারবাবত – ২, ৭, ৯ ও ১১। মেসার্স সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানীর সুন্দরবন – ৭ ও ৮। মেসার্স স্টার নেভিগেশন কোম্পানীর সুরভী – ৭ ও ৮। সুন্দবন লঞ্চ বুকিং কাউন্টারমেসার্স ফারুক শিপিং লাইন্স’র কালাম খান – ১। টিপু কোম্পানীর এমভি টিপু এবং মেসার্স শাহ আমাতন (র:) শিপিং’র দ্বীপরাজ ও কীর্তনখোল – ১। তবে মালিকানা নিয়ে আইনী জটিলতার কারনে কীর্তনখোলা – ১ লঞ্চটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঈদে এমভি টিপু লঞ্চটিও চলবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এইসব লঞ্চ আগামী ২৮ আগষ্ট থেকে শুরু করবে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস। ওই দিন ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে মোট ৮টি লঞ্চ ছেড়ে আসার কথা রয়েছে। এভাবেই চলবে ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত। এর পরে ৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে শুরু হবে ফিরতি ঈদ স্পেশাল সার্ভিস। চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই ৬দিন একইভাবে ৮টি লঞ্চ বরিশাল ঘাট ত্যাগ করবে।

গত ১৫ আগষ্ট লঞ্চ মালিক সমিতির জরুরী সভায় ভাড়া বাড়ানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চের ১১শ’ টাকার ডবল কেবিনের ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫শ’ টাকা। ৬শ’ টাকার সিঙ্গেল কেবিন করা হয়েছে ৮শ’ টাকা। ৩শ’ টাকার সোফা ৫শ’ টাকা। ৩হাজার ও সাড়ে ৩হাজার টাকা ভিআইপ কেবিনের ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে ৪হাজার-৫হাজার টাকা। মেসার্স রাবেয়া শিপিং কোম্পানীর ৪টি লঞ্চে মোট ডবল কেবিনের সংখ্যা ১৬৩টি। সিঙ্গেল কেবিন রয়েছে ১৫১টি। ভিআইপি কেবিনের সংখ্যা ১৮টি। এই ঈদ মৌসুমে প্রতি ট্রীপে শুরুমাত্র কেবিন দিয়ে রাবেয়া শিপিং কোম্পানী আয় করবে ৯ লাখ ১০হাজার ৬শ’ টাকা। সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানী তাদের সুন্দরবন ৭ ও ৮ লঞ্চের ৮১টি ডবল, ৮৫টি সিঙ্গেল, ৮৯টি সোফা এবং ৭টি ভিআইপি কেবিন থেকে প্রতিবার আপ ডাউনে আয় করবে ৫লাখ ৩৮হাজার টাকা। মেসার্স স্টার নেভিগেশন কোম্পানীর সুরভী ৭ ও ৮ লঞ্চ দুটিতে রয়েছে ৭৭টি ডবল, ৪৮টি সিঙ্গেল এবং ১০টি ভিআইপি কেবিন। এছাড়া রয়েছে ৯৮টি সোফা। কেবিন ও সোফা থেকে প্রতিবার আপ ডাউনে লঞ্চ দুটি থেকে আয় হবে ৫লাখ ৫হাজার ৮শ’ টাকা। মেসার্স ফারুক শিপিং লাইন্স’র কালাম খান – ১ লঞ্চের ৪৫টি ডবল, ৫৫টি সিঙ্গেল ও ৪টি ভিআইপি কেবিনের প্রেক্ষিতে এ কোম্পানী আয় করবে ২লাখ ৮৩হাজার টাকা। এছাড়া মেসার্স শাহ আমানত (র:) শিপিং কোম্পানীর দ্বীপরাজ লঞ্চের ১৫টি ডবল, ৩০ সিঙ্গেল এবং ২টি ভিআইপি কেবিনের মাধ্যমো মালিক পক্ষ আয় করছে ১ লাখ ১৩হাজার টাকা। আইনী জটিলতা কাটিয়ে কীর্তনখোল-১ লঞ্চ চলাচল শুরু করলে এই মৌসুমে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মোট ৭১টি ডবল, ৩৯টি সিঙ্গেল এবং ৭টি ভিআইপি কেবিনের বিপরীতে আয় করবে ৩লাখ ৪৫হাজার ৪শ’ টাকা

তবুও লঞ্চ মালিকদের মুখে একটাই সুর যাত্রী সেবা মহৎ সেবা তাই যাত্রী সেবায় বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হয় তাদের। লঞ্চ মালিক পক্ষের দাবী তারা ঈদ ছাড়া তারা সারা বছর যাত্রীদের সেবায় লোকসান দেয়। শুধুমাদ্র ঈদের সময়ই তারা একটু লাভ করেন। সুন্দরবন লঞ্চের অফিস প্রধান মোঃ জাকির হোসেন জানান, এবছর ১১-১৬ আগস্ট পর্যন্ত টিকেটের জন্য স্লিপ নিয়েছেন তারা। ওই স্লিপের সবাইকে টিকেট দেয়া সম্ভব হয়নি। ঈদে আসা ও যাওয়ার কোন টিকেট তাদের কাছে নেই । তিনি জানান, তাদের কোম্পানীর কোন টিকিট কালো বাজারীর হাতে যায় নি। কাউন্টার থেকেই টিকিট বিক্রি হয়েছে। সুরভী লঞ্চের পলাশ মজুমদার বলেন, মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ওই রেট সরকারী রেটের চেয়ে কম বলে জানান তিনি। তাদের দাবী একমাত্র ঈদের মৌসুমেই তারা ন্যায্য ভাড়া নেয়।

আরও পড়ুন

Back to top button