আর্কাইভ

আগৈলঝাড়া হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী

ঝুকিপূর্ন ভবন হিসেবে কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করতে চিঠি দিলেও সরকারের সিএমইউ বিভাগের কোন মাথা ব্যাথা নেই। এদিকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর রিপোর্টের পরেও আগৈলঝাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়।
৫০ শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও ডাক্তার সংকটের একাধিক সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী একান্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন গত ২ জুলাই আগৈলঝাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন গত ১৯ জুলাই তার তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন-১ম শ্রেণীর ২২টি পদের মধ্যে ১৫ টি পদ শূণ্য রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ টি পদের ডাক্তারাই চাকুরীতে নবীন। ওই রিপোর্টে জরুরী ভিত্তিতে পদ পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন সার্জারী, শিশু, গাইনী, কার্ডিওলজি, অর্থোপ্যাডিক, চক্ষু ও আরএমও। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী একান্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন তার রিপোর্টের অনুলিপি- স্বাপকম/ প্রতিমন্ত্রী/ পিএস-০৭/২০০৯/২৫৯ স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব, একই মন্ত্রনালয়ের (হাসপাতাল) যুগ্মসচিব, সিএমএসডি’র পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন বরিশাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে হাসপাতাল ভবন ৩য়, ৪র্থ শ্রেণীর বাসভবন নির্মাণ করা হলেও ২০০৯ সালের পরে আর কোন মেরামত করা হয়নি। তবে জানাগেছে, ১ বছর পূর্বেও বরিশালের মেসার্স লিয়াকত হোসেন খান নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮শ ৯৪ টাকায় হাসপাতাল ভবনের সংস্কারের কাজ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে কোন রকমের সংস্কার দেখিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে নেয়। ৩য় শ্রেণীর শূণ্য পদ রয়েছে ১২ টি, ৪র্থ শ্রেণীর ৫ টি। এ্যাম্বুলেন্সের গ্যারেজ নির্মাণ আজও হয়নি। হাসপাতাল পরিদর্শকালে তিনি আইটডোরে ৩ জন ও ইনডোরে তিনি ১ জন ডাক্তার পেয়েছেন। এরমধ্যে কর্মস্থলে বসবাস করছেন ২ জন ডাক্তার। আউটডোর ও ইনডোরের সেবা সম্পর্কে তার মন্তব্য, সংশ্লিষ্টদের সেবাদানের আন্তরিকতা থাকলেও হাসপাতালের যন্ত্রপাতিজনিত সিমাবদ্ধতার কারণে সার্বিক সেবা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, ওয়াটার বাথ, ফটোথেরাপী মেশিন অচল রয়েছে। এগুলো দ্রুত সচল করা প্রয়োজন বলেও তিনি তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন। গড়ে ওই হাসপাতালে প্রতিদিন ইনডোরে ৩২ জন ও আইটডোরে ৫৫ জন রোগী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য সেবার মান আরও বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছেন তিনি। হাসপাতালটি আরও পরিস্কার পরিচ্ছন থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। চিকিৎসক ও নার্সরা যথা সময়ে উপস্থিত ও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেবা প্রদান সম্পর্কে রোগীদের সাথে আলোচনার সময় তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসায় ডাক্তার ও মনোযোগী নন মর্মেও তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটর মেশিনটি গত ৭ বছর পর্যন্ত অচল রয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি সরকার সরবরাহ করলেও এখনও তা স্থাপন করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব তোফাজ্জেল হোসেন সিএমএসডি’র পরিচালক বরাবরে সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালের সেবার মান সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে হলে জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার পদায়ন সহ নষ্ট যন্ত্রপাতিগুলি মেরামতের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। এদিকে সরকারী স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বে-সরকারী পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার জন্য উপজেলায় ৩টি ক্লিনিকে খোঁজ  খবর রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নজরদারি করতে বলেছেন। পাশাপাশি ৩ টি ক্লিনিকের মধ্যে মারিয়া মাদার ক্লিনিকে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক আছেন মর্মে জানালেও এসব ক্লিনিকের কোন অনুমোদন আছে কি না সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না মর্মে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, মোট ১৬ টি শূণ্যপদ রয়েছে এরমধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথাসিয়া) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) নব সৃষ্ট পদ একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) নবসৃষ্ট পদ একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিয়লজি) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিকস) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট  (পেডিএট্রিকস, শিশু) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম/যৌন) একজন, এনেসথেসিওলজিষ্ট নব সৃষ্ট পদ একজন, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার একজন, প্যাথোলজিষ্ট নব সৃষ্ট পদ একজন, মেডিকেল অফিসার পয়সারহাট স্বাস্থ্যকেন্দ্র একজন, মেডিকেল অফিসার রতœপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র একজন। এদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রর মূল ভবনটি। কারণ একাধিকবার হাসপাতালের ছাদ ধ্বসে ইনডোরের একাধিক রোগী আহত হয়ে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। অত্যাধিক ঝুঁটিপূর্ণ হয়ে পরায় এটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার জন্য গত ৪ এপ্রিল বরিশাল সিএমইউ অফিসে হাসপাতালের মুল ভবনটি ঝুকিপূর্ন ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে চিঠি প্রেরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

Back to top button