আর্কাইভ

যে জীবন থামানো যায়না …WatchDog

চাঞ্চল্যকর তেমন কিছু নেই খবরটায়। তবে এমন কিছু উপাদান আছে যার সন্ধানে প্রতিদিন হাজার হাজার মাইল দূর হতেও কাগজের পাতা উলটাই। দরিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে জয়ী এক কিশোরীকে নিয়ে এ কাহিনি। খবরটা প্রকাশিত হয়েছে আজকের দৈনিক প্রথম আলোতে। ‘পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। কিন্তু বাদ সাধল দারিদ্র্য। ভ্যানচালক বাবা আবদুল লতিফ আর ধানের চাতালের শ্রমিক মা রেনু বেগম খরচের বোঝা বইতে পারলেন না। অষ্টম শ্রেণীতে থাকতেই মেয়েকে বিয়ে দিলেন তাঁরা। সেখানে যৌতুকের দাবিতে শুরু হলো স্বামীর নির্যাতন। শেষে তালাকের মাধ্যমে মুক্তি। বাবার বাড়ি ফিরে আবার পড়াশোনাকেই আঁকড়ে ধরল সে। শিক্ষকেরা সাগ্রহে মেধাবী ছাত্রীটিকে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করে নিলেন। শিক্ষকদের সেই আদর-ভালোবাসার যথার্থ প্রতিদান সে দিল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে।’।

এই রোজিনা চরিত্র দিয়ে গোটা বাংলাদেশের একটা বাস্তব চিত্র আঁকলে নিশ্চয় অন্যায় কিছু হবেনা। একদিকে দারিদ্র, পাশাপাশি বেচে থাকার অদম্য লড়াই এবং সাথে সামজিক মূল্যবোধ গুলোর অবক্ষয়। খেজুর পাতার ঘরে ৫ জনের সংসারে বড় হয়ে উঠা রোজিনাকে তার মা-বাবা অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হন ক্ষুধার কারণে। সংসারের আয় গড়ে দৈনিক ১২০টাকা। এ আয় হতেই মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিতে বাধ্য হন ২০ হাজার টাকা। যৌতুকখোর স্বামীর ক্ষুধা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় শুরু হয় রোজিনার উপর শারিরীক অত্যাচার। তালাকের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে কিশোরীর বিয়ে পর্ব। বিয়ের আগে মেধাবী ছাত্রী হিসাবে স্কুলে ভালই পরিচিতি ছিল তার। নিজ বাড়িতে ফিরে আবারও লেখাপড়ায় মন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দরিদ্র পরিবারের এই মেধাবী ছাত্রী। স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত এস এসসি পরীক্ষায় উত্কীর্ণ হয় জিপিএ-৫ নিয়ে। স্কুলের ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় জল, স্বভাবতই আনন্দের বন্যা সবখানে।

রাজনীতির দাসীবৃত্তিতে আটক একটা ক্ষয়িষ্ণু সমাজে নষ্টামীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বেচে থাকার এ এক অনন্য উদাহরণ। এ নিয়ে লেখা যেতে পারে বিশাল ক্যানভাসের কোন উপন্যাস, তৈরী হতে পারে অস্কার জয়ী ছায়াছবি। রোজিনা আর তার স্কুলের শিক্ষকদের মত মানুষরা আছে বলেই বাংলাদেশ এখনো দেশ হিসাবে আছে, ব্যক্তি অথবা পরিবারিক তাঁবেদার হয়ে নয়। রোজিনার ভাগ্য এখান হতে কোন দিকে গড়াবে তার খবর হয়ত কেউ রাখবে না। ক্ষতি কি? রোজিনা দেশের লাখ লাখ দরিদ্র পরিবারের নির্যাতিত কিশোরীদের জন্যে প্রেরণা হয়ে বেচে থাকুক, এমনটাই কামনা করি।


মূল খবর

পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। কিন্তু বাদ সাধল দারিদ্র্য। ভ্যানচালক বাবা আবদুল লতিফ আর ধানের চাতালের শ্রমিক মা রেনু বেগম খরচের বোঝা বইতে পারলেন না। অষ্টম শ্রেণীতে থাকতেই মেয়েকে বিয়ে দিলেন তাঁরা। সেখানে যৌতুকের দাবিতে শুরু হলো স্বামীর নির্যাতন। শেষে তালাকের মাধ্যমে মুক্তি। বাবার বাড়ি ফিরে আবার পড়াশোনাকেই আঁকড়ে ধরল সে। শিক্ষকেরা সাগ্রহে মেধাবী ছাত্রীটিকে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করে নিলেন। শিক্ষকদের সেই আদর-ভালোবাসার যথার্থ প্রতিদান সে দিল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে। প্রতিকূলতার দেয়ালভাঙা এই অদম্য মেধাবীর নাম রোজিনা খাতুন। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দেয় সে। বিদ্যালয়ের এই প্রথম ও একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সে।

পুঠিয়ার পূর্ব ধোপাপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে অন্যের জমিতে একটি কুঁড়েঘরে রোজিনাদের বাস। ঘরের চারদিকে খেজুরপাতা দিয়ে ঘিরে কোনো রকমে বেড়া দেওয়া হয়েছে। রোজিনা জানায়, ছোট এক ভাই ও এক বোনকে নিয়ে সে ঘরের ভেতর ঘুমায়। বাবা-মা ঘুমান বারান্দায়। দুই বছর আগে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে উপজেলার নন্দনপুর গ্রামে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আরও যৌতুকের দাবিতে স্বামী তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে স্বামী তাকে তালাক দেয়।

ধোপাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভালো ছাত্রী বলে রোজিনাকে অকালে বিয়ে দেওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। যৌতুকলোভী স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার পর সে ফিরে আসে। তখন আমরা তাকে আবার স্কুলে ভর্তি করে নিই। আমরা জানতাম, ওকে দিয়ে ভালো ফল করানো সম্ভব। ওর প্রতি আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ওর বাবা অর্ধেক টাকা জোগাড় করেন, বাকি টাকা আমরা বিদ্যালয় থেকে দিয়েছি। সহযোগিতা পেলে মেয়েটি পড়াশোনা করে অনেক দূর যেতে পারবে।’

রোজিনার মা রেনু বেগম বলেন, ‘আমি ধানের বয়লারে কাজ করি। কোনো দিন ১০ টাকা, কোনো দিন ২০ টাকা পাই। ওর বাবা ভ্যানগাড়ি চালায়। কোনো দিন ১০০ টাকা হয়, আবার কোনো দিন হয়ই না। সব দিকের খরচ বাঁচায়ে সাওয়ালের (মেয়ের) পিছে ঢালি। খুব কষ্টে চলি।

Writer : WatchDog – AmiBangladeshi.OrG

Thanks From- Fahim Murshed, Gournadi.com

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »