আর্কাইভ

মান রাখব না কুল রাখব

কথায় বলে, সময় দেখতে দেখতে ফুরিয়ে যায়। আর দুই বছর পরই মহাজোট বা আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। প্রশ্ন উঠেছে, কী দিয়ে গেল এ সরকার। উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। যখন এ লেখাটা লিখতে বসেছি তখন বিএনপির ডাকে ঢাকা শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত করে সরকার নিজেই বিরোধী মহলের হাতে মোক্ষম ইস্যু তুলে দিয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, যতদিন এক বা ঐক্যবদ্ধ ঢাকা করা না হবে ততদিন লাগাতার আন্দোলন চলবে। এদিকে গত শনিবার ৩ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেছেন, তারা যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার বন্ধ চায়। এতদিন দলের পক্ষ থেকে যে কথাই বলা হোক, এখন তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও তাদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। মওদুদ আহমদ আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও আবেদন করেছেন, বিচার বন্ধের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য। সেই সঙ্গে তারা তাদের দলীয় নেতা এবং ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সালাউদ্দিন কাদেরসহ এই মামলায় আটক সকল রাজনৈতিক নেতারও মুক্তি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার কার্যক্রম যখন শুরু হয় তখন বিএনপির বক্তব্য ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার তারাও চায়, তবে তা হতে হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে। এরপর বলেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠন হতে হবে নিরপেক্ষ বিচারকদের দিয়ে এবং বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের মানদণ্ডে।

কিছুদিন ধরে তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভা-সমাবেশ ও রোডমার্চের বক্তৃতাতেই বোঝা গিয়েছিল দলটি আগের অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধাপরাধ বিচার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এবার ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা গেল, সত্যিকার অর্থেই বিএনপি এখন স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। অর্থাত্ বিএনপি এখন যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। প্রথম প্রথম ‘নিমরাজি’ থাকলেও এখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে। মওদুদ আহমদ আবার জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। ধরে নেওয়া যায়, এতদিন এই ইস্যুতে তারা আন্তর্জাতিকভাবে কোনো সমর্থন আদায় করতে পারেনি, এখন বিদেশি কোনো মহলের মদদ পেয়েই নিজেদের অবস্থান ঘুরিয়ে নিয়েছে। পক্ষান্তরে সরকারি মহল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তারা বিচারকাজ এগিয়ে নেবেই। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। এই অবস্থায় সমাজের কারও বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়-বিএনপি বা বিরোধী মহল মেয়াদের বাকি দুই বছর সরকারকে সুস্থির থাকতে দেবে না। ঢাকা বিভক্তি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের ইস্যুর পাশাপাশি দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বন্ধসহ অন্যান্য দাবি নিয়ে তারা আন্দোলন চালাবে এবং সরকারের পদত্যাগ চাইবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত করার কাজ সরকার সম্পন্ন করেছে। প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তা ছাড়া ৯০ দিনের মধ্যে যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, তা এই কমিশনের দ্বারা সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত হয়। তাদের মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই শেষ হয়ে যাবে। এত তাড়াতাড়ি করে বিশাল ঢাকা শহরের দুটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্যভাবে করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আবার নতুন নির্বাচন কমিশন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে গঠন করাও সহজসাধ্য কাজ নয়। তারা দায়িত্ব নিয়েই ঢাকা সিটির নির্বাচন সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন কি না সে ব্যাপারেও অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে। সরকার সিটি করপোরেশন বিভক্ত করে নিজে থেকে যেসব সমস্যা ডেকে এনেছে তার সঠিক সমাধান করাও অসম্ভব ব্যাপার। তার ওপর রয়েছে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা করা।

অতীতের সব গণতান্ত্রিক অর্থাত্ বিএনপি-আওয়ামী লীগের সময়ই দেখা গেছে, মেয়াদের শেষ দুই বছরে বিরোধী মহলের সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা হয় অথবা চাঙ্গা করার ব্যাপারে বিরোধী মহল মরিয়া হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় কোনো পরিকল্পনা নিতে পারে না, আর নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারে না। কারণ সরকারকে তখন ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয় সম্মিলিত বিরোধী শক্তির হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ, রোডমার্চ ইত্যাদি মোকাবেলা করার কাজে। ধরেই নেওয়া যায়, আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকারকেও সেই একই পথে মেয়াদের বাকি সময় পার করার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে হবে। ঢাকা সিটি ভাগ করে সরকার এমন কিছু ইস্যু বিরোধী মহলের হাতে তুলে দিয়েছে যে সরকারকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলাতেই ব্যস্ত থাকতে হবে। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল কাজে হাত দিয়ে তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল যে সেসব কাজে অনিবার্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বহুসংখ্যক নেতা। যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার, বড় বড় বোমা হামলার বিচারে যারা সম্ভাব্য আসামি তাদের বেশির ভাগই জামায়াত, বিএনপি ও তাদেরই সহযোগী ইসলামী জঙ্গিরা। এসব মামলার দ্রুত তদন্ত শেষে তার বিচার শুরু করার জরুরি উদ্যোগ নিতে পারেনি সরকার। ফলে অনেক মামলারই বিচার শেষ করে যেতে পারবে না তারা। অথচ সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল, এসব মামলার বিচারকাজ তারা মেয়াদের মধ্যেই সম্পন্ন করবে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নিশ্চয়ই জানতেন-ওইসব মামলার বিচার এবং সম্ভাব্য আসামি গ্রেফতার করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত দল বসে থাকবে না। তারা অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। সরকারকেই তার মোকাবেলা করতে হবে।

আজ যখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মুখ দিয়ে বিএনপি বলেছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ বন্ধ করতে হবে এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাতিল করতে হবে, বিএনপি-জামায়াত নেতাদের মুক্তি দিতে হবে; তখন বুঝতে হবে এতদিনের ‘বস্ত্রবসন’ খুলে ফেলে বিএনপি নেতারা এবার স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে তারা মরিয়া হয়েই মাঠে নামবে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে বিরোধী মহলের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে। তাতে আর্থসামাজিক উন্নয়নের সকল কাজ অনিবার্যভাবেই স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার যদি দূরদৃষ্টি নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই ওইসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজে হাত দিত, ঢাকা সিটি যদি ভাগ করতেই হয় তা হলে তখনই তা করত, বড় বড় প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে তখনই যদি পদক্ষেপ নেওয়া হতো তা হলে এতদিনে তার অনেক কিছুই সমাপ্তির পর্যায়ে চলে আসত। কিন্তু সব কিছুতে হাত দেওয়া হয়েছে অনেক বিলম্বে। অবশ্য ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বিডিআর বিদ্রোহের মতো বড় ধরনের একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যার দরুন শুরুতেই ওই ধাক্কার কারণে পরিকল্পিতভাবে প্রথম পর্যায়ে জরুরি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজে হাত দিতে বিলম্ব হয়ে যায়। দেশের সহানুভূতিশীল মানুষ সরকারের এই প্রথম ধাপের মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কথা চিন্তা করবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও সমালোচকরা তা মানবে কেন? তারা দেখতে চাইবে সরকার কতখানি সাফল্য নিয়ে আসতে পেরেছে। ধরেই নেওয়া যায়, সরকার তার নিজের পরিকল্পনামাফিক সাফল্য শেষ পর্যন্ত বয়ে আনতে পারবে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ তো দূরের কথা।

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর মার্চের অসহযোগ আন্দোলনই কেবল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গ্রামগঞ্জে নাড়া দিয়েছিল। গ্রামগঞ্জেও ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তারপর চল্লিশ বছরে ক্ষমতাসীন সরকারবিরোধী যত আন্দোলনই হয়েছে তা কেবল হয়েছে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে। ঢাকা অচল করে দেওয়া সম্ভব হলেই সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায় অথবা সরকার বাধ্য হয় বিরোধী মহলের দাবিদাওয়া মেনে নিতে। সর্বশেষ বেগম খালেদা জিয়া বা তার দল-সহযোগীরা যেসব আন্দোলন, হরতাল-রোডমার্চ পালন করছে তাতে গোটা দেশের গ্রামগঞ্জের মানুষের কোনো উত্সাহ নেই। তারা তাদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত। কেননা তারা জানে ওসবই ক্ষমতা লাভের দ্বন্দ্ব। ক্ষমতায় গেলে সবাই ভুলে যাবে গ্রামগঞ্জের মানুষের কথা। মানুষের এই সাধারণ ধারণার মনে পরিবর্তন ঘটবে তা কেউ জানে না। বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারের আগে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে। অর্থাত্ তিনি চলমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এমন উক্তি কেউ করেনি। স্বাভাবিকভাবেই পুরনো কথা নতুন করে সামনে আসবে। ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধে শরিক হতে না পারলেও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার সমর্থন, মমত্ব বা পরোক্ষ সহযোগিতাও ছিল না। বরং এখন মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে তিনি ’৭১-এ মনেপ্রাণে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধরত স্বামী মরহুম জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশত্যাগে সেদিন তিনি রাজি হননি। এতকাল তার এই দেশদ্রোহমূলক মনোভাব চেপে রাখলেও এখন চূড়ান্ত পর্বে এসে তিনি আর তা চেপে রাখতে পারছেন না। রাখঢাকের বস্ত্র পরিত্যাগ করে এবার স্বরূপে নিজের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

অতএব যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে বদ্ধপরিকর, সমর্থন-সহযোগিতা দিয়ে যারা এই দাবিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনা বহনকারী জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তাদেরকেই এবার সরাসরি খেলতে হবে অন্য কারও সঙ্গে নয়, বেগম খালেদা জিয়া বা বিএনপির সঙ্গেই। এই খেলায় ’৭১-এ যেমন বিরুদ্ধ শক্তি বিজয়ী হয়নি, হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা জনতা; তেমনি এবারের এই বিরুদ্ধ শক্তির লড়াইয়েও তাদেরকেই বিজয়ী হতে হবে। যারা ঘোমটা খুলে আজ মাঠে নেমেছে তাদের বিরুদ্ধে লাজলজ্জা দেখানোর আর কোনো অবকাশ নেই। বেগম খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ ও বিএনপি-জামায়াতের যারাই প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কি কোনো পথ নেই? জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির দায়ে মওদুদকে গ্রেফতার করা হোক। ইনুর এ দাবি বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়, দেশের প্রতিটি জীবিত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান-পরিবার, ’৭১-এর চেতনার প্রতি যারা শ্রদ্ধাশীল সেই দেশপ্রেমিক জনতারও। বাধা সৃষ্টিকারীদের বেশি বাড়তে দিলে সঙ্কট আরও ভয়ঙ্কর হবে। বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। যারা সিটি করপোরেশন বিভক্তির বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আজ মাঠে নেমে প্রতিবাদ হরতাল করছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে তারা একইভাবে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। কেননা ’৭১-এর এই জঘন্য অপরাধ ও ধৃত অপরাধীদের বিচারের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের মান-মর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রশ্নটি জড়িত। এর সঙ্গে অন্য দশটি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে তা বিচার্য নয়।

ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির বিরুদ্ধে দেশের যে কোনো রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রতিবাদ-আন্দোলন করতেই পারে। সরকার সে পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে তার স্বাভাবিক পথে। তবে আমরা মনে করি, সরকার তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে এ কাজটি না করলেই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। করলে ক্ষমতার দ্বিতীয় বছরেই সেটা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজ শেষ করতে পারত। কিন্তু এমন এক সময়ে বিভক্তির কাজটি করা হয়েছে যখন বিরোধী মহল সরকারবিরোধী আন্দোলনের ইস্যু তৈরিরর জন্য ওঁত্ পেতে ছিল। এমন একটা সময় বিভক্তির কাজটি করা হয়েছে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনের বিদায়ের সুর বাজছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা মেয়াদ শেষে বিদায় নেবেন। ইতোমধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করতে তারা অপারগ। গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেওয়াও সহজ ব্যাপার নয়। এহেন জটিলতার মাঝে দাঁড়িয়ে সরকার বাকি দুই বছর দেশবাসীকে আকৃষ্ট করার মতো আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে কোন কোন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে? অথচ দেশ ও জনগণ তেমন লাভজনক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে না পেলে সরকারকে ব্যর্থ বলেই গণ্য করবে। তার মাসুল গুনতে হবে আগামী নির্বাচনে।

তবু আমরা বলব, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়েও আগামী দুই বছরে দেশ ও জাতির কল্যাণে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি সরকার তার মেয়াদকালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কতটুকু সাফল্য আসতে সক্ষম হয়েছে, তার যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য প্রচার দেশব্যাপী চালিয়ে জনগণকে তা অবহিত করতে হবে। তারা আজও অন্ধকারে। আমাদের বিশ্বাস, সরকার এই অন্ধকার দূর করার জন্য অবিলম্বে দৃশ্যমান পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশবাসী তাতে আশ্বস্ত হবে।

 

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »