আর্কাইভ

ছয় উপজেলার ঘাঁটি ও গুট্টি আর ইঞ্চির দখলে গৌরনদী – সরবরাহ করছে নারী সদস্যরা

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ গুট্টি আর ইঞ্চির দখলে বরিশালের গৌরনদী। মাদক বিক্রেতারা মরন নেশা ইয়াবাকে স্থানীয় ভাষায় নাম দিয়েছে গুট্টি আর ফেনসিডিলের নাম রেখেছে ইঞ্চি। পুলিশ ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের চোখ থেকে মাদকদ্রব্যকে আড়াল করে রাখার জন্যই এ ছন্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মাদক বিক্রেতারা। গৌরনদী থেকে পাশ্ববর্তী ছয়টি উপজেলার এ মরন নেশা সরবরাহ করা হয়। আর এ মরন নেশাকে সহজেই সরবরাহ করার জন্য বিক্রেতারা ব্যবহার করছেন নারী সদস্যদের। একে একে এখানে বর্তমানে দশজন নারী সদস্য এ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। আর এ ব্যবসা বন্ধের জন্য ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে এখানে একাধিকবার এলাকাবাসির সাথে মাদকবিক্রেতাদের বাকবিতন্ডা থেকে শুরু করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ উঠেছে থানার কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই এখানকার মাদক বিক্রেতারা পর্যায়ক্রমে তাদের ভীত আরো শক্ত করেছে। ফলে হরহামায়াশেই ওইসব বিক্রেতারা দেদারছে মাদক বিক্রি করে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়তই যুব ও তরুন সমাজ ধ্বংসের মুখে ধাবিত হচ্ছে। এলাকাবাসি যুব ও তরুন সমাজকে মাদকের ভয়াল কালো থাবা থেকে মুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে মাদক আমদানিকারকদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে তারা (এলাকাবাসি) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিশেষ অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, কোটালীপাড়া, কালকিনি, বাবুগঞ্জ উপজেলার খুচরা বিক্রেতারা গৌরনদী পৌর সদরের ৭ নং ওয়ার্ড (দক্ষিণ বিজয়পুর) মহল্লা থেকে মরন নেশা ইয়াবা (বিক্রেতাদের স্থানীয় ভাষায় গুট্টি) ও ফেনসিডিল (ইঞ্চি) পাইকারী হিসেবে ক্রয় করে নিয়ে স্ব-স্ব উপজেলা কিংবা স্পটে বিক্রি করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার শারমিন ক্লিনিকের পাশ্ববর্তী এলাকা ও খালপাড়ে প্রায় প্রতিনিয়তই মাদক বিক্রেতাদের হাট বসে। অনেকেই বরিশাল, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্ধুত্বের পরিচয়ে মাদক সেবনের জন্য এখানে আসে। এখানে হাত বাড়ালে সহজেই মিলে যাচ্ছে এসব মাদক দ্রব্য। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাঝে মধ্যে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করার কয়েক ঘন্টা পরেই আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে তারা (ক্রেতা-বিক্রেতারা) সহজেই বেড়িয়ে পূর্ণরায় এ ব্যবসার চালিয়ে যাচ্ছে। তাই মদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। সূত্রমতে, গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম-পিপিএম গৌরনদীতে থাকাকালীন অবস্থায় বিভিন্ন সময় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের গ্রেফতার করেছিলো। ওইসময় অনেকটাই ঝিমিয়ে পরেছিলো মাদক বিক্রেতাদের বিকিনিকি। এরইমধ্যে গত ১৯ নবেম্বর ওসি নুরুল ইসলাম গৌরনদী থেকে বদলী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর পরই এখানে পূর্ণরায় মাথাচারা দিয়ে ওঠে ঝিমিয়ে পরা মাদক বিক্রেতারা। গৌরনদী থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ ওসি আবুল কালাম গৌরনদীতে নতুন। তাই তিনি কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাদক বিক্রেতারা দেদারছে মাদক বিক্রি শুরু করেছেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক বিক্রেতা জানায়, থানার কতিপয় দারোগাকে মাসোয়ারা দিয়েই তারা এ ব্যবসা করছেন। সূত্রে আরো জানা গেছে, অতিসম্প্রতি দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লাকে মাদক মুক্ত করার জন্য স্থানীয় কতিপয় যুবকেরা উদ্যোগ গ্রহন করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়। তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় মাদক বিক্রেতাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা স্থানীয় যুবকদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ নিয়ে মাদক বিক্রেতাদের সাথে কয়েক দফা স্থানীয় যুবকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। দক্ষিণ বিজয়পুর ছাড়াও গৌরনদীর দক্ষিন পালরদী, ভূরঘাটা, ইল্লা, বার্থী, কটকস্থল, গৌরনদী ও টরকী বাসষ্ট্যান্ড, গৌরনদী ও টরকী বন্দর, টরকীরচর, কসবা, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বিল্লগ্রাম, চন্দ্রহার, নলচিড়া, সরিকল, পিঙ্গলাকাঠি, সাকোকাঠী, শাহজিরা, ঘোষেরহাট, হোসনাবাদ, দোনারকান্দি, ধানডোবা, রামসিদ্ধিসহ উপজেলার ৩০ টি স্পটে মরন নেশা ইয়াবা, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। সূত্রে আরো জানা গেছে, স্থানীয় কতিপয় সরকার দলীয় প্রভাবশালী মাদক সম্রাটেরা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য আমদানী করে পাইকারী দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে আসছে। এদের সাথে রয়েছে একাধিক মাদক সম্রাজ্ঞী (মহিলা সদস্যরা)। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রত্যেক স্পটের খুচরা মাদক বিক্রেতারা দাপটের সাথে স্পট গুলোতে মদ, গাঁজা, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল ও ইয়াবা (বাবা) সহ মাদক দ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক সেবীরা স্পটগুলোতে হাত বাড়ালেই মাদক কিনতে পারছে। ফলে এখানে মাদক সেবীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় যুব সমাজ মাদক সেবন করে দিন দিন নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে বেশকিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের কতিপয় দারোগার জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাদক নিমূর্লে অতীতের ওসির ন্যায় এখনো কারো সাথে কোন আপোষ করা হবে না। সে যে দলের নেতাই হোক না কেন। যদি কোন পুলিশ সদস্যরা মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আনতে যায় তাদের এলাকাবাসী আটক করে আমাকে খবর দিবেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »