আর্কাইভ

প্রেমের ফাঁদে এক কলেজ ছাত্রী – কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের অশ্লীল ছবি মোবাইলে-সিডি ও ইন্টারনেটে

এ দৃশ্য গোপনে স্থাপন করা ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায়। এরপর ওই দৃশ্য পর্ণো ছবি আকারে মোবাইল ফোনের দোকানে বিক্রি করে দেয়া হয়। এ দৃশ্য মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে লোড করে একজন আরেকজনের মোবাইল ফোনে পাঠাতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে তার এসএমএসের মাধ্যমে দৃশ্য পাঠায়। এ ছবি ওই ছাত্রী দেখে হতবাক ! ঘটনাটি কুমিল্লার চান্দিনার। কুমিল্লার চান্দিনা আর.এ কলেজ থেকে শুরু করে মহিলা কলেজ, ডাঃ ফিরোজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে অশ্লীল ছবি তুলে তা ইন্টারনেট, মোবাইল ও সিডিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হচ্ছে ঐ সব স্কুল কলেজের হোস্টেলে বসবাসকারী মেয়েরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও প্রতারিত মেয়েরা মানসম্মান রক্ষার্থে কারো কাছে অভিযোগ না করায় প্রতারকরা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।

চান্দিনার পৌর শহরের বাসিন্দা প্রতারক সায়মনের সাথে চান্দিনা আর.এ কলেজ কলেজের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের কারণে সায়মনের সাথে ঐ মেয়ে বিভিন্ন স্থানে দেখা করতো। প্রতারক সায়মন এ সুযোগে তার সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো ভিডিওতে রেকর্ডিং করে রেখে দেয়। এক পর্যায়ে মেয়েটির অন্যত্র জায়গায় বিয়ের আলোচনা, অতঃপর বিয়েও হয়। বিয়ে হওয়ার পর প্রতারক সায়মন যে ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে হয় সেই ছেলেটিকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয় এবং তার সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো ভিডিওতে রেকর্ডিং তা ইন্টারনেট, মোবাইল ও সিডিতে ছড়িয়ে দেয়। ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েই প্রতারক সায়মন ক্ষান্ত হয়নি। বন্ধু-বান্ধব এমনকি ঐ মেয়েটির বান্ধবীদেরকেও তা জানিয়ে দেয়। চান্দিনার বিভিন্ন কলেজের একাধিক ছাত্র-ছাত্রী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, তারা ইন্টারনেটের ফেইসবুকে ঐ মেয়েটির ছবি দেখেছে। এভাবে একজন দু’জন করে পুরো উপজেলার সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটি।
তার মোবাইলেও একাধিক কল আসে। পরবর্তীকালে প্রতারিত মেয়েটি বিষয়টি জানতে পেরে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার পর মেয়েটি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। প্রতারিত মেয়েটিকে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে তার বেশ কয়েকজন বান্ধবী। প্রতারিত মেয়েটির বান্ধবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সে একটি ভদ্র ঘরের মেয়ে। মেয়েটির বাড়ির পাশে প্রতারক সায়মনের বাসা। সে প্রায় সময় মেয়েটিকে উত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে মেয়েটি বাধ্য হয়েই সায়মনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। পরবর্তীতে তার বিয়ে হলেও সায়মন ক্ষান্ত না হওয়ায় মেয়েটির পরিবার র‌্যাবকে অবহিত করলে সায়মনকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতারিত মেয়েটি জানায়, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কেউ এত বড় ক্ষতি করতে পারে তা তার জানা ছিল না।

ছবিটি প্রকাশ করা নীতিগত ঠিক নয়, তবে এই ধরণের মেয়েদের সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিবাদ সৃষ্টির লক্ষে ছবিটি প্রকাশ করা হলো। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয়ই আরো সচেতন হবেন- সম্পাদক

সায়মনের বিষয়টি প্রকাশ পেলেও এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চান্দিনায় বসবাসরত মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত গোপন মোবাইলে অথবা ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। এরপর ইন্টারনেট, মোবাইল ও সিডির মাধ্যমে তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কোনভাবে ঐ ছবি প্রতারিত মেয়েটি দেখে ফেললে অথবা কারো মাধ্যমে জেনে গেলে সে আর কলেজে যায় না। তড়িঘড়ি করে হোস্টেল ছেড়ে বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পারলে তারা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। অনেকে আবার কলেজ থেকে বদলি হয়ে দেশের অন্য শহরের কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করে। অনেকে আবার বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। চান্দিনার মহিলা কলেজের একাধিক ছাত্রীরা জানায়, যেসব মেয়েরা এভাবে প্রতারিত হয়েছে তাদের বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে ঐ সকল মেয়েদের বান্ধবীরা। ঐ সকল মেয়েরা স্বীকার করে সমাজের জন্য তারা বিষয়টি কাউকে বলতে পারে না বলে প্রতারক লম্পট টাইপের ছেলেগুলোও রয়ে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে কুমিল্লা জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি এডভোকেট মহিউদ্দিন আলম জানান, ঐ সকল ঘটনায় প্রতারিত মেয়ে অথবা তার পরিবারের লোকজন আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে এক সময় প্রতারিত মেয়েটিকে আদালতে হাজির হতে হবে। তিনিও স্বীকার করেন, সামাজিকতার কারণে ঐ সকল বিষয়ে আমাদের দেশে কোন মামলা না হওয়ায় প্রতারকরা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »