আর্কাইভ

এ্যাম্বুলেন্স শূণ্য গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন দুর্ঘটনায় আহতদের নিয়ে সমস্যার অন্তনেই

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বরিশালের গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পরছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ক্ষেত্রে তাদের অন্যের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। গুরুতর আহতদের  হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে আলাদা কোন বাহন না থাকায় ভ্যান অথবা ট্রাকের ওপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়া গৌরনদী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন যাবত বিকল হয়ে পড়ে থাকায় গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অন্যস্থান থেকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় আনতে হচ্ছে। দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে বিলম্ব হওয়ার কারনে অধিকাংশ সময় ঘটনাস্থলেই অসংখ্য প্রানহানী ঘটছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অত্র অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা লাঘবের জন্য তৎকালীন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ২০০১ সনে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত গৌরনদী ফায়ার ষ্টেশন থেকে বরিশাল ও মাদারীপুর জেলা সদরের দুরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। গৌরনদীসহ আশপাশ এলাকায় অগ্নিসংযোগ, সড়ক ও নৌ-দুর্ঘটনা সংঘঠিত হলে অত্র ফায়ার ষ্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরাই সবার আগে দুর্ঘটনা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও গৌরনদী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে গৌরনদী এলাকায় ১৭০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় শতাধিক লোকের প্রানহানী ঘটেছে, আহত হয়েছে কমপক্ষে সহস্রাধিক। এ ছাড়াও একই বছরে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়েছে ২০টি। এতে আহত হয়েয়ে কমপক্ষে ৮৫ জন। গত জানুয়ারি মাসে গৌরনদীতে ১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৮ জন এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে ৭০ জন। গৌরনদী ফায়ার সার্র্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মোঃ আইনুল ইসলাম জানান, আগুন নেভানোর কাজে এখানে দুটি গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে কিন্তু আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য কোন এ্যাম্বুলেন্স নেই। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে জরুরি ভিত্তিতে একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »