আর্কাইভ

আমি চাইনা আমার গোপনীয়তা কেউ দেখে ফেলুক! চাইনা আমার প্রাইভেসি নষ্ট হোক‍

মৌচাকে ঢিল : ধরুন আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে বিছানায় শুয়ে আছে। নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে, পরম নির্ভরতায় আপনার স্ত্রী আপনার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। নিজের বেডরুম, নিজের বিছানা, নিজের স্বামী। প্রেমালাপ চলছে দুজনের মাঝে। আপনি কিছুক্ষন পর পর প্রিয়তমা স্ত্রীর চুলে হাত বুলাচ্ছেন, দুষ্টুমি করে গালে চুমু খাচ্ছেন। স্ত্রীর ঠোটে চুমু খাওয়ার ধান্দায় আছেন কিন্তু পারছেননা। হটাৎ চুমু দিয়ে ফেললেন সুযোগ বুঝে। সঙ্গে সঙ্গে দেখলেন বিছানার পাশে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। চোখে কালো চশমা। ইউনিফর্ম পরিহিত। কাধে রাইফেল ঝুলিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন লাগবে আপনার? আপনার স্ত্রীর কেমন লাগবে?

একটু কল্পনা করা যাক ব্যাপারটা।

নতুন স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনে গেছেন। স্বামী-স্ত্রী যে রুমে থাকবে সেইটা তাদের বেডরুম। নতুন বিয়ে। উত্তেজনা বেশি। বউকে আদর-সোহাগ করতে শুরু করেছেন। ভালোবাসা-বাসি শেষে দেখলেন কয়েক হাত দূরে আইন শৃঙ্গখা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। বড় বড় চোখ দিয়ে দেখছেন আপনাদেরকে। আসুন ব্যাপারটা কল্পনা করি।

তরুনী তার রুমে এলোমেলো পোশাক পড়ে শুয়ে বই পড়ছে কিংবা গান শুনছে কিংবা চ্যাট করছে। তার দিকে তাকিয়ে রাইফেল কাধে ঝুলানো পুলিশ!!

আসুন কল্পনা করি ব্যাপারটা। আপনার, আমার সবার বেডরুমে সরকারের পক্ষ থেকে পাহারার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। হাসছেন? ভাবছেন আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে? আবোল-তাবোল বকছেন?

আমার কথা শুনে হাসলে বুঝবো আমি অন্য দুনিয়ায় বাস করেন। খোজ খবর কিছু রাখেননা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘সরকারের পক্ষে সবার বেডরুম পাহাড়া দেয়া সম্ভব না।’ কথা সত্য। ১৬কোটি মানুষের জন্য পাহারার ব্যাবস্থা কি করে করা সম্ভব? অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে আগে এই ব্যাবস্থা ছিলো এখন তিনি এই ব্যাবস্থার উপর বিরক্ত। অবশ্য আমি অশিক্ষিত মানুষ, বেশি বুঝি সবসময়!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কিভাবে ভাব্লেন আমরা আমাদের বেডরুমে পাহারা বসানোর জন্য আপনার কাছে আশা করি? এই চিন্তা কিভাবে আসলো? কেউ কি আপনাকে বলেছে যে সাগর-রুনী খুন হত না যদিনা তাদের বেডরুমে পাহারা থাকত? বলে থাকলে সে একজন অপদার্থ।

মাননীয়া, আমরা এতটা আশা করিনা। আশা করিনা আমরা যা চাইব আমাদের সব আশা আপনি, বা দেশের সরকার তা পূরন করবেন। এটাও আশা করিনা সরকার অন্তত আমাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিন্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী বেডরুম পাহারা দেয়ার দরকার নেই। শুধু বেডরুমে খুন হলে সেই খুনের বিচারটা মানুষ পায়। এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই আপনার কাছে।

সংযোজনঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেডরুমের সাথে সাথে আমাদের দেশের সীমান্তও আজ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বেডরুম পাহারা দেয়ার দরকার নেই, সীমান্ত পাহারা দেয়ার ব্যাবস্থা করুন প্লিজ।

AmarBlog.com Blogger

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »