আর্কাইভ

ফিলিংশ ষ্টেশনে লুটপাট করে তালা ঝুঁলানো হয়েছে – জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন গৌরনদী উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ টেন্ডার বাজিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষসহ তিনটি দপ্তরের কার্যালয়ের দরজা, জানলার গ্লাস ও আসবারপত্র ভাংচুর করেছে। এ ঘটনার একদিন পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মীরা মহড়া দিয়ে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে তল্লাশী করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল এলজিইডি বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সড়ক নির্মানের ৯টি প্রকল্পের টেন্ডারের কাজ নিয়ে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈকত গুহ পিকলুর সাথে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শাহ আলম খান, গৌরনদী পৌরসভার মেয়র, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ হারিছুর রহমান হারিছের সমর্থকদের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুদ্ধরা উপজেলা পরিষদে হামলা চালিয়ে উপজেলা সভাকক্ষের চেয়ার, টেবিল, আসবাবপত্রসহ তিনটি দপ্তরের দরজা জানালার গ্লাস ব্যাপক ভাংচুর করে। সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সাধারন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রানভয়ে দিগ্ববিদিক ছুটাছুটি করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশ্ববর্তী দু’থানার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

থানা সুত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার একদিন পরেও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২০/২৫ জন নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে ঢুকে মহড়া দিয়ে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে তল্লাশী করে কাউকে খোঁজার নামে ভীতি সৃষ্টি করে গালিগালাজ করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনার পর পর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তারা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে ইউএনওকে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন ছেলেরা পরিষদের মধ্যে আসে। পরবর্তীতে গৌরনদী থানার ওসির উপস্থিতিতে তারা ভুল স্বীকার করে। তিনি আরো বলেন, ওই ছেলেরা যতোই ভুল স্বীকার করুক না কেন উপজেলা পরিষদের মহড়া দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে গালিগালাজসহ ভীতি সৃষ্টি করার কাজটি তারা মোটেও ভাল করেনি।

অপরদিতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারির হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলুর নেতৃত্বে তার ২৫/৩০ জন সমর্থকেরা ওইদিন (বুধবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে মেয়রের সমর্থক আখ্যা দিয়ে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী ফিলিংশ ষ্টেশনে হামলা চালিয়ে মারধর করে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফিলিংশ ষ্টেশনের স্বত্তাধীকারি আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, পিকলু ও তার সহযোগীরা তাকে পৌর মেয়রের সমর্থক আখ্যা দিয়ে হামলা চালিয়ে ফিলিংশ ষ্টেশনের ম্যানেজার মোঃ নুরুল হক ও সহকারী খোকন দাসকে মারধর করে ষ্টেশন থেকে বের করে দিয়ে নগদ ২৫ হাজার টাকা, বকেয়ার হিসাবের খাতা ও প্রায় দশ হাজার টাকা মূলের তৈল লুট করে ফিলিংশ ষ্টেশনে তালা ঝুঁলিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি (আলাউদ্দিন ভূঁইয়া) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »