আর্কাইভ

এসিডিটি – অম্লতা

আমরা যখন খাবার খাই, তখন পরিপাকে সাহায্যের জন্য পাকস্থলি এসিড নিঃসরণ করে। এটা একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা হয়তো অনেকেই ক্লাস নাইন-টেনে পরিপাকতন্ত্র (Digestion system) এ পড়েছেন। এসিড নিঃসরণ করে আপনার পাকস্থলিতে পৌছানো খাবারগুলিকে তরল এবং নরম করে ফেলাই পাকস্থলির প্রধান কাজ। সব প্রাণীর পাকস্থলিতেই এই প্রক্রিয়া ঘটে থাকে।

তবে সমস্যা শুরু হয় যখন পাকস্থলি প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি পরিমাণে এসিড নিঃসরণ করা শুরু করে। যখন এই দশা শুরু হয়, তখন আপনি যেই কষ্টে ভোগেন, সেটাকেই আমরা ‘এসিডিটি’ বুঝে থাকি। এর ফলে আমাদের পাকস্থলির ওপর জ্বালা অনুভূত হয়। বুকে জ্বালাপোড়া সবচে’ সাধারণ উপসর্গ।

অনেকের চিত হয়ে শুয়ে থাকলেও জ্বালাপোড়া হয়। মুখে টক টক স্বাদ অনুভূত হয়। এই দশাকে বলে এসিড রিগারগিটেশান। এর ফলে হৃদপিণ্ডে বা সংলগ্ন এলাকায় জ্বালাপোড়া (Heart Burn) হতে পারে।

মনে রাখবেন, আমাদের দেহ একটি যন্ত্র। আপনি যখনই খাবার খাচ্ছেন, তখনই পাকস্থলি নির্দেশ পেয়ে যাচ্ছে এসিড নিঃসরণের। এবং দেহঘড়ি অনুযায়ী, প্রতিদিনই রুটিন অনুসারে একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই এসিড নির্গত হচ্ছে। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। নয়তো নিঃসরিত এসিড বিক্রিয়া করার মতন কিছু না পেয়ে পাকস্থলির দেয়াল সংলগ্ন ঝিল্লিকেই তরল করে ফেলতে চায়। যার ফলে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। যাকে আমরা বলি আলসার (Ulcer)।

আমাদের বাঙ্গালিদের খাদ্যাভাসে মসলা এবং তেলের উপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। স্নেহ পদার্থ এবং মসলা জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি এসিড প্রয়োজন হয়। আমাদের প্রতিদিনের এই দুই উপাদান থাকছে। আমাদের এসিডিটিতে ভোগার কারণ খুবই স্বাভাবিক। নয় কি?

দীর্ঘদিন এসিডিটি’র সমস্যায় ভুগলে যে অসুখ হয়, তার নাম GERD (Gastroesophageal Reflux Disease) যাকে আমরা সাধারণত ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে থাকি।

সাধারণ এসিডিটি দূর করার জন্য ফার্মাসিতে এন্টাসিড পাওয়া যায়। আলসারের চিকিৎসা’র সময় সাধারণত এন্টাসিডের সাথে সাথে এন্টিবায়োটিক খেতে হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না!

যদি দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, হয়তো আপনি আলসার বা গ্যাস্ট্রিকে ভুগছেন। দেরি না করে ডাক্তার দেখান এবং প্রেস্ক্রিপশান অনুযায়ী অষুধ খান। নিজে নিজে ভারি কোনো ওষুধ খাবেন না।

– একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন খাবার অভ্যেস করুন।
– একবারে অনেক না খেয়ে ছোট ছোট করে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে খান। (যেমনঃ এককাপ চা, দুটো বিস্কুট আবার একঘন্টা পরে একটি আপেল, আবার এক ঘন্টা পরে দুটো বিস্কুট ইত্যাদি)
– খালি পেটে দীর্ঘসময় থাকবেন না।
– অতিরিক্ত মশলা ও তেল খাবেন না।
– শাক-সবজি-ফল খান। রান্নার সময় বেশি সিদ্ধ করে সব পুষ্টি নষ্ট করে ফেলবেন না।
– খাবার সময় ধীরে ধীরে অনেকক্ষণ ধরে খাবার চিবিয়ে খান।
– এসিডিটির সময় ভিটামিন সি যুক্ত খাবারের পরিমাণ কম রাখুন। তবে একেবারেই বন্ধ রাখবেন না।
ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার সাঁতরান।

আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনায়,

স্বাস্থ্যকথন টীম

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »