আর্কাইভ

কন্যা সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছে মা – গৌরনদীতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা সন্তান তামান্নাকে বোঝা মনে করে হত্যার উদ্দেশে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়েছিলো গর্ভধারীনি মা শাহিনুর বেগম। অবধারিত মৃত থেকে আলৌকিক ভাবে বেঁচে যায় শিশু তামান্না। ঘটনার দশ দিন পর সন্তান হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে গতকাল বুধবার গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী তামান্নার পিতা তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম, শ্যালক সোবহান, শ্যালিকা হেলেনা বেগম ও সেলিনা বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর পরই আসামিরা আত্মগোপন করেছে।

এজাহারে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরের তামান্না বস্ত্র বিতানের স্বত্তাধীকারি তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার ও শাহিনুর বেগমের সংসারে চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে বড় মেয়ে তামান্না (৯) জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী। তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী তামান্না জন্মের পর রাতারাতি আমার দারিদ্রতার ভাগ্য বদলে যেতে থাকে। তামান্নাকে আমি অন্য মেয়েদের চেয়ে বেশি আদর করি। কিন্তু আমার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বোঝা মনে করে প্রায়ই তামান্নার সাথে খারাপ ব্যবহার করে মারধর করে। একপর্যায়ে শাহিনুরের বাবার বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় তামান্নাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ এপ্রিল আমার অবুঝ তিনটি বাচ্চাকে রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে আমাকে কিছু না জানিয়ে তামান্নাকে নিয়ে আমার স্ত্রী বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আমার শিশু সন্তানদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা তালা ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহিনুর একা বাসায় ফিরে আসে। তার কাছে তামান্নার কথা জানতে চাইলে সে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে (শাহিনুরকে) চাপ সৃষ্টি করা হলে সে দা নিয়ে আমাকে ধাওয়া করে কোপাতে আসে। গত ১৭ এপ্রিল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে “পদ্মা থেকে ভাসমান অবস্থায় জীবিত শিশুকন্যা উদ্ধার” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের সূত্রধরে ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাওরাকান্দি ফেরি ঘাট এলাকার ইসলাম মোল্লার স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছ থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে গৌরনদীতে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে বাসায় ফিরে শাহিনুরকে চাপ প্রয়োগ করা হলে সে জানায় তামান্নাকে বোঝা মনে করে হত্যার উদ্দেশে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিলো। এ ঘটনার ১০ দিন পর গতকাল বুধবার সকালে তামান্নার পিতা তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার বাদি হয়ে তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম, শ্যালক সোবহান, শ্যালিকা হেলেনা বেগম, সেলিনা বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্ঠা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে পদ্মা নদীর শিবচরের কাঁঠালবাড়ির হাজরা এলাকা থেকে মাওয়া থেকে কাওরাকান্দিগামী একটি স্পিডবোর্ডের চালক আশরাফ হোসেন ভাসমান অবস্থায় নদী থেকে শিশু তামান্নাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »