আর্কাইভ

এলসি ষ্টেশন না থাকায় বরিশালের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চরম দুর্ভোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ এলসি স্টেশন না থাকার কারনে নদী বেষ্টিত বরিশালের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য  শেখবাড়িয়া হয়ে প্রায় একশ নটিক্যাল মাইল বেশি পথ পাড়ি দিয়ে খুলনা এলসি ষ্টেশনে শুল্কায়ন করতে হচ্ছে। সেখান থেকে পুনরায় ঘূর্ণায়মান নদীপথে বরিশাল আসতে শিল্প মালিকদের পরিবহন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া হতে বরিশালের সরাসরি দুরত্ব অপেক্ষা খুলনার চেয়ে প্রায়  দ্বিগুণ।

শিল্প মালিকেরা জানিয়েছেন, এ কারনেই অতিরিক্ত সময় ক্ষেপনের পাশাপাশি তাদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারনে সেসব কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্যসমূহ তাদের চড়ামূল্যে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজস্ব বোর্ডের ২০০৮ সনের ২৯ জুন বরিশাল এলসি ষ্টেশন ঘোষণা করে। কিন্তু এর কার্যক্রম আজও চালু হয়নি। বর্তমানে এখানে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করছে তার মধ্যে রয়েছে খান সন্স টেক্সটাইল লিমিটেড, খান সন্স জুটেক্স লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড, অপসো স্যালাইন লিমিটেড, এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেড, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড, গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড, রেফকো ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, কেমিষ্ট ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, পদ্মা ক্যাপ লিমিটেড, এমইপি লিমিটেড (বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান), অমৃত ফুড প্রডাক্টস্ লিমিটেড, অমৃত কনজুমার প্রডাক্টস্ লিমিটেড কোম্পানী। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানিয়েছেন, একদিকে বিদ্যুৎ-গ্যাস বিহীন শহর বরিশাল। তার ওপরে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাবরেই তাদের লোকসানের মুখে পরতে হচ্ছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বরিশালে এলসি ষ্টেশনের কার্যক্রম চালু হলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন চাল, ডাল, গম, সয়াবিন, কেক, পিয়াজ, রসুন, আদা, ফলসহ অন্যান্য দ্রব্যের আমদানিকারকদের সময় ও আমদানি খরচ অনেকাংশে কম হবে। ফলে আমদানি নির্ভর পণ্য সহজলভ্য হবে।

খান সন্স টেক্সটাইল লিমিটেড ও খান সন্স জুটেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রব শাহীন জানান, ঘোষিত এলসি ষ্টেশনের কার্যক্রম চালু করার জন্য তারা ২০০৯ সনের ১৩ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আবেদন করেছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে এখানে এলসি ষ্টেশন বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে মনে করছেন অমৃত ফুড প্রোডাক্সের কর্ণধর ভানু লাল দে। তিনি জানান, শিল্প উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত বরিশালে একদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই। তার ওপরে বেড়েছে কাঁচামালের পণ্য পরিবহন ব্যায়। বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বরিশালে জরুরি ভিত্তিতে এলসি ষ্টেশনের কার্যক্রম চালু করার জন্য অতিসম্প্রতি এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »