আর্কাইভ

গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় আশংকাজনক হারে নিউমোনিয়ার পাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে – ভ্যাকসিন না থাকায় দিশেহারা এলাকাবাসী

মোঃ জামাল উদ্দিন ॥ বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় আশংকাজনক হারে নিমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আগৈলঝাড়ার গৈলা হাসপাতালে নিমোনিয়া আক্রান্ত ৪৫টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৫২। প্রতিটি হাসপাতালের বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে শতাধিক নিমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে হাসপাতালের চিকিৎস্যকরা জানিয়েছেন। এ দুটি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে গত ১৫ দিনে ৫৯ জন শিশু নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ শিশুকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্হিবিভাগে গড়ে প্রতিদিন ১’শ জন নিমোনিয়ায আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। দিন দিন নিমোনিয়ায় আক্রান্তর শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানিয়েছেন। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বেডের অভাবে ফ্লোরে রেখে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।

এদিকে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য অন্যতম সেইফট্রিএ্যাছোন ইনজেকশন সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ইনজেকশন ও ঔষধ কিনে সেবা নিতে হচ্ছে। বাশাইল গ্রামের আক্রান্ত রোগী জিয়াসমিন আরার স্বজন ইসমোতারা বেগম বলেন, ‘মোর মাইয়াডা লেমুনিয়া হওয়ার পর বুধবার রাতে হাসপাতালে লইয়া আহি। হাসপাতালে ভর্তির পর ডাক্তার কয় ঔষধ নাই। পরে বায়ড়া থেকে ইনজেকশন ও ওষুধ কিন্না দিতে হইচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত (দুপুর ১টা) কালুপাড়া গ্রামের আট মাসের রিজভি, আহুতি বাটরা গ্রামের তিন মাসের মহিউদ্দিন মোল্লা, বাশাইল গ্রামের পাঁচ মাসের দীপক, কোদালধোয়া গ্রামের সাড়ে চার মাসের অর্ঘ বালা, একই গ্রামের দশ মাসের নিলীমা, ছয়গ্রামের ছয়মাস বয়সি সবিতা হক তুয়া, গৈলা গ্রামের ছয় বছরের আশিষ, রাজিহার গ্রামের এগারো মাসের রিয়ামনি, বাকাল গ্রামের আড়াই মাস বয়সি মিরাজ, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আড়াই মাস বয়সি আরিফসহ ৪৫টি নিমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে গৈলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বাসুদেব চন্দ্র দাস ইনজেকশন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, দিনে গরম ও রাতে হাল্কা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারনে শিশুরা নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাস জনিত এ রোগে শুধু শিশুরাই নয় বৃদ্ধরাও কম বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ইনজেকশন সংকটের কারনে বাইরে থেকে রোগীর স্বজনদের কিছু ঔষধ সরবরাহ করতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে এলে এ রোগ অনেকটাই প্রশমিত হবে।

এদিকে গত কয়েকদিন যাবত গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নিমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গৌরনদী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হাসপাতাল ছাড়াও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত বহু শিশুকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। গৌরনদী হাসপাতালে নিমোনিয়া নিরাময়ের জন্য কোন ভ্যাকসিন নেই, নেই তেমন কোন প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র। তাই রোগীদের জন্য বাহির থেকে ঔষধ সরবরাহ করতে হয়।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »