আর্কাইভ

বাটাজোরের সিংগা গ্রামে চোরের অপবাদ দিয়ে এক কাঠমিস্ত্রিকে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ – মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সিংগা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মামুনুর রশিদ জুয়েলকে (২২) চোর অপবাদ দিয়ে বর্বরোচিত  নির্যাতন করে ডান হাত ও বাম পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মুর্মুর্ষ অবস্থায় জুয়েলকে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতিত কাঠমিস্ত্রি জানায়, উপজেলার চন্দ্রহার বাজারের ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেনের মুদি দোকানে গত ১২ নবেম্বর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ চুরির অপবাদ দিয়ে ব্যবসায়ীর নিকট আত্মীয় মোশারফ হাওলাদার, হারুন প্যাদা, ফারুক প্যাদা, মোক্তার মোল্ল¬াসহ ৮/৯ জনে গত ১৪ নবেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিংগা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের পুত্র কাঠ মিস্ত্রি মামুনুর রশিদ জুয়েলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা শাহজিরা গ্রামের হারুন প্যাদার মেহগনি গাছের বাগানে নিয়ে জুয়েলের গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা ও প্ল¬াস দিয়ে হাত পায়ের আঙ্গুল থেঁতলে দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। এতে জুয়েলের ডান হাত ও বাম পা ভেঙ্গে যায়। এ সময় জুয়েলের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলেও কাউকে বাগানের ঘটনাস্থলে এগুতে দেয়নি হামলাকারীরা। বর্বরোচিত নির্যাতনের পর হামলাকারীরা অজ্ঞান অবস্থায় জুয়েলকে ওই বাগানে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা মুর্মুর্ষ অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জুয়েলের বিধবা মা মাহিনুর বেগম বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮ জনকে আসামি করে গত ১৬ নবেম্বর গৌরনদী থানায় একটি মামলা দয়ের করেন।

গৌরনদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল শনিবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা তাদের কয়েক জন সহযোগীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার জন্য হুমকি দেয়। আমরা গরিব হওয়ায় আমাদের পাশে কেউ নেই। মামলার বাদিনী মাহিনুর বেগম বলেন, আসামিরা ও তাদের স্বজনেরা আমাকে  মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

বাটাজোর ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে চোরের অপবাদ দিয়ে এক কাঠমিস্ত্রিকে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ - মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »