আর্কাইভ

বানারীপাড়ায় সাতদিন আটক করে রাখার পর দু’এনজিও কর্মকর্তাকে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ সাতদিন আটক করে রাখার পর শনিবার গভীর রাতে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে এনজিও’র দু’কর্মকর্তাকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বরিশাল র‌্যাব-৮’র সদস্যরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে আটক করেছে। উদ্ধারকৃত আরডিএস এনজিও’র দু’ফ্লিড অফিসাররা হলেন মোঃ শেখ সাদি ও রাজা মিয়া। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকেলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত তিন মাস পূর্বে চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু আরডিএস’র আলোর পথের ফ্লিড অফিসার নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার যদুমনি গ্রামের শেখ সাদি ও রাজা মিয়ার কাছে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স এসেসম্যান্ট হোল্ডিং ও নম্বর প্লেট তৈরী করতে দেন। ইতোমধ্যে তারা টুকুর কাছ থেকে এ কাজের জন্য ৮০ হাজার টাকা নিয়ে চারজন ফ্লিড অফিসারের তত্বাবধানে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে দেয়। ঈদুল আযহা উপলক্ষে ছুটিতে থাকায় বাকী কাজ করতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত রবিবার টুকু মোবাইল ফোনে ওই দু’কর্মকর্তাকে চাখারে ডেকে এনে পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। তাদেরকে ঠিকমত খাবার না দেয়া, টাকা দাবি ও জীবননাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও উদ্ধারকৃত দু’এনজিও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মেছবা উদ্দিন শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দিদশা থেকে শেখ সাদি ও রাজা মিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এর কিছু সময় পরে বরিশাল র‌্যাব-৮’র ডিএডি মোঃ আলমগীর হোসেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে চাখার থেকে আটক করে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকেলে শেখ সাদি রহমান বাদি হয়ে সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর চাচাত ভাই ইউনিয়ন ইন্সুরেন্সের এমডি সৈয়দ আতাউর রহমান মুনির চাখার ও বানারীপাড়া সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের ছবি সম্বলিত ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স এসেসম্যান্ট হোল্ডিং ও নম্বর প্লেট তৈরী করে দিচ্ছেন। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু দাবি করেন আটক নয় বরিশালের এডিএম আবু ইউসুফ মোঃ রেজাউর রহমান ও বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম খান ওয়ারেশীর নির্দেশে ওই দু’জনকে দিয়ে বাকী কাজ করানোর জন্য পরিষদের কক্ষে রাখা হয়েছিল। এডিএম ও ইউএনও চেয়ারম্যান টুকুর এ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »