আর্কাইভ

বরিশালে শেষ সময়ে জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা দশনার্থীদের ভীড়

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ অবশেষে শেষ সময়ে জমে উঠেছে বরিশালে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা। জেলা চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে নগরীর মেরীন ওয়ার্কসপ মাঠের আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়ে মেলা চত্বর এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। গত ১০ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন এ মেলার উদ্ভোধন করেন।

মেলার আয়োজক সুত্রে জানা গেছে, প্রথমদিকে মেলা না জমলেও এখন শেষের দিকে ব্যাপক আকারে বানিজ্য মেলা জমে উঠেছে। এবারের মেলায় মোট ১’শ ৮ টি স্টলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব স্টলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। রেডিমেট গার্মেন্টস, জুতা, কসমেটিক্স, তাঁতের পোশাক ও খেলনাসহ অসংখ্য পন্যের সমাহার ঘটেছে এবারের মেলায়। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানোর জন্য পুতুল নাচ ও হাউজি খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সর্বসাধারনের বিনোদনের জন্য মটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলনা রেল গাড়ী ও নাগর দোলা। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেলা চলছে এবং আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ মেলা চলবে।

মেলা অয়োজক কমিটির সদস্য মোঃ আসলাম জানান, প্রথমদিকে খুব একটা না জমলেও শেষ মুহুর্তে এসে মেলা জমে উঠেছে। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রথমদিকের লোকসান পুষিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। গত কয়েকদিন যাবত মেলা মাঠে দৈনিক সহস্রাধীক দশনার্থীদের লোকসমাগম হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মেলার মাঠে নিরাপত্তা দিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক কমিটি ২৫ সদস্যের নিরাপত্তা কমিটি গঠন করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা শুরু পর অন্যান্য সময়ের চেয়ে শেষ সময়ে ব্যাপক ভীর বেড়ে গিয়েছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পন্য কিনতে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করছেন। ঢাকা সু-স্টোরের উদ্যোক্তা বরিশাল সরকারি কলেজের ছাত্র সুজন বলেন, তার দোকানে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকার সু-বিক্রি হয়েছে। এখানে যে কোন জুতার জন্য ৫০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়। শেষ সময়গুলোতে মেলা আরো জমে উঠবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। মেয়েদের পোশাক ঢাকাইয়া ফ্যাসনের কামাল আহমেদ বলেন, তার স্টলে সব মেয়েদের পোশাক রয়েছে। এ পর্যন্ত তার প্রায় ১০ লাখ টাকার পোশাক বিক্রি হয়েছে। প্রথম দিকে কম বিক্রি হওয়াতে এখন শেষ সময়ে স্টল মালিকদের মধ্যে ব্যাপক ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে। নগরীর আগরপুর রোড থেকে স্ব-পরিবারে মেলায় আসা শুভব্রত দত্ত জানান, তিনি মেলা থেকে দুটি তাঁতের শাড়ি কিনেছেন। ঘুরে দেখছেন আরো কিছু ক্রয়ের জন্য। এবারের মেলায় বখাটেদের কোন উৎপাত নেই বলে তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যান্যবারের চেয়ে এবার অনেক ভালো। দর্শনার্থী  মোঃ আফসার মৃধা বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছি। নিজের জন্য কিছু না কিনলেও স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য শীতের পোশাক ক্রয় করেছি।

মেলার মাঠে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের উপ-সহকারী পরিদর্শক মোঃ শাহে আলম বলেন, এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত কোন অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটেনি। মেলায় যাতে নির্বিঘেœ দর্শনার্থীরা পরিদর্শন করতে পারেন সেজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারী রয়েছে। এছাড়া কন্ট্রোল রুম থেকে মেলায় আগত জনসাধারদের বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, মাসব্যাপী বানিজ্য মেলার শেষ সময়ে ব্যাপক আকারে মেলা জমে উঠেছে। প্রতিদিন ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা চত্বর মুখরিত হচ্ছে। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এবার মেলার ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button