আর্কাইভ

কল সেন্টার ব্যবসা, আতুর ঘরেই যার মৃত্যু…

 

বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের ভালবাসা আক্ষরিক অর্থেই ঐশ্বরিক। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘাড়ের উপর গর্দান রাখা মুস্কিল হয়ে পরে। তবু দুএকটা কথা না বললেই নয়। দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় সবটাই সম্ভব হলে বিদেশ পাড়ি জামায়, এটা গোপন কোন তথ্য নয়। সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও আমরা অনেকেই দেশ ছাড়ছি। দেশের বাইরে পা রাখতে গেলে যে সমস্যটা দৈন্যতা হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ায় তা আমাদের ইংরেজী জ্ঞান। ভাষা প্রেমের সমুদ্রে অবগাহন করতে গিয়ে আমরা হয়ত ভুলে যাই পেটের তাগিদে আমাদের বিদেশ পাড়ি দিতে হবে, দুনিয়ার সাথে ব্যবসা চালাতে হবে।ExitJunction.com  - Make Money From Your Exit Traffic! আর এখানেই মার খাচ্ছি প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে। দেশে ৪২ হাজার কোটি টাকার কল সেন্টার ব্যবসা কল্পনাই থেকে যাবে যতদিন ইংরেজী নিয়ে আমরা সিরিয়াস না হচ্ছি। প্রতিবেশি দেশ ভারত এ খাতে বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করছে, যা দেশের জিডিপিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বেকারত্বেও ভারসাম্য আনছে। মানব সম্পদ রফতানি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত। এ খাতে ইংরেজির জ্ঞান কতটা ভূমিকা রাখে তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন। লাইসেন্স ইস্যু করে সরকার যদি ভেবে থাকেন কল সেন্টার খাত হতে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় নিশ্চিত করা গেছে, তা দ্বিতীয় বার ভেবে দেখার অনুরোধ করব। এ ব্যবসা চালানোর মত ইংরেজী আমাদের দেশে চর্চা হয়না। বিপুল অংক ব্যায় করে যারা প্রাইভেট খাতে লেখাপড়া করে ইংরেজী শিখছে তারা কখনোই স্বল্প বেতনের কল সেন্টারে চাকরিতে আসবে না। এ জন্যে চাই ভাষাটার সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি। পরীক্ষা পাশের ইংরেজির সাথে দৈনন্দিন ইংরেজির কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে, যা দেশে চালু উপনিবেশবাদী ইংরেজির মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। এর জন্যে চাই নতুন এপ্রোচ ও চাহিদার পরিপূরক প্রস্তুতি।

কল সেন্টার ব্যবসার প্রি-কন্ডিশন কেবল ভাল ইংরেজী তা বললে নিশ্চয় ভুল বলা হবে। সংশ্লিষ্ট দেশ গুলোতে আইনের শাসন, শ্রমের মর্যাদা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাধ্যতামূলক। আউটসোর্সিংয়ের জন্যে পশ্চিমা দুনিয়া এগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রস্তুতি নিশ্চিত না করে কল সেন্টার ব্যবসায় নামতে গেলে বাংলাদেশে তা পোশাক শিল্পের ভাগ্য বরণ করতে বাধ্য হবে। এখানে সোনার ডিম দেয়া হাঁসের মত জবাই হচ্ছে পোশাক শিল্প, সমুদ্র তলায় সাবমেরিন ক্যাবল কাটা হচ্ছে ব্যক্তি বিশেষের ব্যবসায়িক স্বার্থে। বাইরের দুনিয়ায় এসব কালো খবর আমরা না পৌঁছালেও আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা পৌঁছাবে, এটা কর্পোরেট ব্যবসার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এসবে বিদেশী ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা হবে এক ধরনের আত্ম প্রতারণার শামিল।

সংকুচিত মানব সম্পদ রফতানি ও অস্থির পোশাক শিল্পের বিকল্প হতে পারে কল সেন্টার ব্যবসা। হয়ত পথ দুর্গম, কিন্তু ইচ্ছা থাকলে তা জয় করা অসম্ভব নয়। ৫৪ হাজার বর্গমাইল এলাকার দেশে ১৫ কোটি মানুষ, এই একটা বাস্তবতাই জাতি হিসাবে আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য। টিকতে হলে আমাদের লড়তে হবে এবং এ লড়াই হতে হবে সময় ও চাহিদার পরিপূরক। পিতা, ঘোষক, যোদ্ধা আর রাজাকারের লড়াই ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত করলেও ৪২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্য নিশ্চিত করার জন্যে যথেষ্ট নয়। চাহিদা ও চাওয়া পাওয়ার প্রায়োরিটি গুলো আমাদের নিজেদেরই ঠিক করতে হবে। স্যার নিনিয়ান আর আবাবিল পাখিদের আশায় বসে থাকলে তা হবে অনন্তকালের অপেক্ষা।

 

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »