গৌরনদীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা অহিদুল খানের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক

বরিশালের গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ অহিদুল হক খান (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহির…রাজিউন)। তিনি মা, স্ত্রী, ২ পুত্র, ১ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। সোমবার বাদআছর মরহুমের জানাজা শেষে তার লাশ পৌর শহরের দক্ষিণ বিজয়পুর এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মরহুমের নামাজে জানাজায় অন্যান্যদের মাঝে অংশ নেন উপজেলা আ. লীগের সভাপতি এইচ, এম, জয়নাল আবেদীন, সাধারন সম্পাদক, পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ নুর আলম হাওলাদার, উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মোঃ ফরহাদ হোসেন মুন্সী, আগৈলঝাড়া উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন, পৌর আ.লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন মিয়া, গৌরনদী বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান, সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আঃ বাতেন নোমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফিরোজ শরীফ, গৌরনদী বাসষ্টান্ড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর মহাম্মদ হাওলাদার, ইউপি চেয়ারম্যান  গোলাম হাফিজ মৃধা, কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন ভূইয়া, গৌরনদী ডটকম এর সম্পাদক ফাহিম মুরশেদ, সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, টিএ্যান্ডটি মার্কেটের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন।

এ ছাড়া তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বরিশাল -১ আসনের সাবেক সাংসদ এম, জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয় মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জি,এস এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বরিশাল উত্তর জেলা সহ-সভাপতি গৌরনদী উপজেলা আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা আ,ফ,ম রশিদ দুলাল, ঢাকাস্থ গৌরনদী- আগৈলঝাড়া সমিতির সভাপতি সৈয়দ জিয়াউর রহমান নবু, বরিশাল পরিক্রমার সম্পাদক কাজী শিউলী, পৌর বিএনপির সভাপতি এস,এম, মনিরুজ্জামান মনির, সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম ফকির, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান মিন্টু, সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান খান সবুজ, জাতীয়তাবাদী কর্মজীবি পরিষদের সাধারন সম্পাদক আলতাফ হোসেন,  গৌরনদী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো: খায়রুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক বেলাল হোসেন।

হত্যার হুমকিতে এলাকায় যেতে পারছেন না স্বপন

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন অভিযোগ করেছেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এলাকায় যেতে পারছেন না। গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এই অবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ‘হারিছুর বাহিনীর সন্ত্রাস’ বন্ধে নির্বাচন কমিশনের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে হারিছুর রহমান বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিরোধী পক্ষের নেতা–কর্মীরাই স্বপনকে হুমকি দিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল–১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী কামরুল ইসলাম।

জহির উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান বিভিন্ন সভা–সমাবেশে প্রকাশ্যে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আমি গৌরনদীতে গেলে আমাকে এবং দলের নেতা–কর্মীদের নিধন করার ঘোষণা দিচ্ছেন। হারিছ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন।’ স্বপন দাবি করেন, তাঁকে হুমকি দেওয়া–সংক্রান্ত হারিছুরের একাধিক ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে।

এ ধরনের একটি ভিডিওতে এক সভায় মেয়র হারিছুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘স্বপন সম্পর্কে বলতে চাই, তিনি যদি এলাকায় আসার চেষ্টা করেন তাহলে নেতা–কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করবে।’

তবে পৌর মেয়র হারিছুর রহমান গতকাল রাতে বলেন, ‘আমাদের একজন প্রার্থী। তিনি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। জহির উদ্দিন স্বপন নিজেকে লাইমলাইটে আনতে এসব অভিযোগ করছেন। আওয়ামী লীগ এখানে সুসংগঠিত। কিন্তু বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চার–পাঁচজন। নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই বিএনপির বিরোধী পক্ষের নেতা–কর্মীরা তাঁকে (স্বপন) হুমকি দিচ্ছেন, বিরোধীপক্ষের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।’

অন্যদের অভিযোগ

স্থানীয় বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতা অভিযোগ করেছেন, তফসিল ঘোষণার পর গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থানা সূত্র বলেছে, চলতি মাসে গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের ৫ নেতা বিএনপির ৪০৬ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং আগৈলঝাড়ায় যুবলীগের ২ নেতা বিএনপির ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ৭টি মামলা করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সোবাহান অভিযোগ করেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল–সমাবেশ ও মহড়া করছে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কেউ এলাকায় থাকতে পারছে না। আমাকে নির্বাচনী মাঠে না থাকতে হুমকি দিচ্ছে।’ একই অভিযোগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানও। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের আচরণ রহস্যজনক।

তবে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়েরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করেছে। তারা এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’

গৌরনদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান ফকির বলেন, বিএনপির দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছে।

স্তন ঝুলে যাওয়ার কারণ ও সমাধান

শারীরিক গঠন ফিট না থাকলে মন খারাপ হতেই পারে। নারীর ক্ষেত্রে এই মন খারাপের কারণ হতে পারে স্তন ঝুলে যাওয়া নিয়ে। অল্প বয়সেই অনেক নারীর স্তন ঝুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয়। এর অনেকগুলো কারণও আছে। তবে কারণ ও সমাধান জানা থাকলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সন্তান জন্মদানের কারণে অর্থাৎ প্রসূতিকালীন স্তনের আকার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে স্তন ঝুলে যায়। আবার স্তন অতিরিক্ত বড় ও ভারী হওয়ার কারণেও ঝুলে যেতে পারে।

বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্তন ঝুলে যায়। অপ্রতুল স্তন-সার্পোটের কারণেও স্তন ঝুলে যায়। ধূমপানের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা দুর্বল করে দেয় যা স্তন ঝুলে যেতে সাহায্য করে।

স্তন যদি ঝুলে গিয়েই থাকে, তাহলে তাকে ফিট রাখার উপায়ও আছে। জেনে নিন কয়েকটি উপায়:

সঠিক ব্রা ব্যবহার: আপনি অবশ্যই এমন ব্রা পরুন যা আপনার স্তনকে সম্পুর্ন সাপোর্ট দেয়। লক্ষ রাখতে হবে আপনার ব্রা অবশ্যই আপনার সাথে সাবলীল ভাবে চলতে পারে- অর্থাৎ চলার সময় আপনার ব্রা লেইস যেন কাঁধ থেকে খসে না পড়ে অথবা বন্ধনি অতিরিক্ত টাইট কিংবা অতিরিক্ত লুজ না হয়। যখন ব্রা সাইজ নেবার জন্য মাপতে যাবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার পুরাতন ব্রা পরনে থাকতে হবে এবং সে অবস্থায় স্তনের ঠিক নিচে মাপ নিচ্ছেন। এছাড়া কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন-

মেডিসিন বল স্ল্যাম: দু’হাতে একটা মেডিসিন বলকে ধরুন। মাথার ওপরে বলটা ধরে তুলুন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ করতে পারেন। এবার বলটাকে যত জোরে সম্ভব মাটিতে আছড়ে ফেলুন। আবার তুলে তিনটে সেটে করে মোট তিনবার করুন। আপনি বলটাকে যখন মাটিতে আছড়ে ফেলবেন,তখনই কিন্তু আপনার বুকের ব্যায়াম হয়। যত জোরে আছড়ে ফেলবেন,ততই বেশি আপনার পেশী কাজ করবে। তাই বুকের পেশীকে টোন করতে এই ব্যায়ামটা করেই ফেলুন নিয়ম করে।

পুশ আপস: ঝুলে যাওয়া স্তনকে আবার তার টোনড শেপে ফিরিয়ে আনতে পুশ আপস কিন্তু বেশ কার্যকরী। উপুড় হয়ে সোজা হয়ে শোন। হাত দুটো বগলের পাশে ভাঁজ করে রাখুন। পেটটা টান করে রাখবেন। এবার হাতের ওপর ভর দিয়ে পুশ আপস করুন। যতবার পারেন,ততবারই করবেন। নিয়ম করে করুন। আপনার স্তনকে টোনড করতে শুধু নয়, কাঁধের পেশীকে শক্তিশালী করতেও এই পুশ আপস দারুণ কাজ দেয়।বাড়িতে বসে খুব সহজেই করতে পারবেন।

ট্রাইসেপ ডিপস: একটা বেঞ্চে বসে হাত দুটো আপনার পাশে রাখুন। পা ছড়িয়ে টান করে রাখুন। এবার হাতদুটো আগের জায়গাতেই রেখে বেঞ্চ থেকে নিজেকে তুলুন। আস্তে আস্তে কনুই ভাঁজ করে নিজেকে মেঝের কাছে নিয়ে যান। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়াবেন। এভাবে নিয়মিত করবেন। এই ব্যায়াম আপনার ট্রাইসেপের ওপর জোর দিলেও বুকের পেশী আর হাতের মাসলকেও কিন্তু টোনড রাখতে সাহায্য করে। আর বাড়িতে করাও খুব সোজা।

ডাম্বেল ফ্লাইস: সোজা হয়ে শুয়ে পরুন। এবার হাতদুটোকে কনুই ভাঁজ করে বুকের কাছে এনে রাখুন। দু’হাতে দুটো ডাম্বেল যেন থাকে। বেশি ওজন তোলার দরকার নেই। হাঁটু ভাঁজ করে রাখবেন। এবার হাতদুটো ছড়িয়ে সোজা করে আস্তে করে খুলুন। আবার আগের ভাঁজ করা অবস্থায় আনুন। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। বুকের পেশীকে টান করে ঝোলা স্তনকে নিজের শেপে ফিরিয়ে আনতে এই ব্যায়াম ট্রাই করুন।

মেডিসিন বল পুশ আপস: পুশ আপ পোজিশনে শোন। তবে এবার মাটিতে হাত রাখার বদলে হাত দুটো একটা মেডিসিন বলের ওপরে রাখুন। এবার পুশ আপ করতে শুরু করুন। একটা হাত মাটিতে আর একটা হাত বলের ওপরে আধা মিটার দূরত্বে রেখে পুশ আপ করুন। ১০-২০ বার করে তিনটি বা চারটি সেটে কমপ্লিট করুন। নিয়ম করে করবেন। ঝুলে যাওয়া স্তনকে টোনড অ্যান্ড ফিট করার জন্য এটি পারফেক্ট ব্যায়াম। আর ঘরে বসেই সহজে করতে পারবেন। তাহলে এবার দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করুন নিজেকে পারফেক্ট শেপে ফিরিয়ে আনার অভিযান।

পাঁচ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জেলার গৌরনদী উপজেলার পাঁচ শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে।

শুক্রবার রাতে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে পৌর বিএনপির অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম তার তিন শতাধিক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র হারিছুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

একই সাথে গৌরনদী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী তৌফিক ইকবাল সজলের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাকিম খান তার দুই শতাধিক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম দীলিপ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়ের ইসলাম সাঁন্টু ভূইয়া প্রমুখ।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকন কুদ্দুসুর রহমান দলীয় মনোনয়ন চান। বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আকন কুদ্দুসুর রহমান। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে গণসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তিনি।

বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, আশা করি দল আমার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দলের ঐক্যের জন্য দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে আমি তার পক্ষেই কাজ করব।

বরিশাল-১ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান জহির উদ্দিন স্বপন

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে এবার লড়ছেন বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান তিনি। মূলত এ আসনটি আওয়ামী লীগের। কিন্তু ’৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন স্বপন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপিকে উপহার দেয়। আওয়ামী লীগ থেকে এবারও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নৌকার হাল ধরছেন। তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ায় তিনি প্রশাসনিক বাড়তি সুবিধাও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ জহির উদ্দিন স্বপনের। সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বেশ কিছু দিন দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকা জহির উদ্দিন স্বপন বিএনপির রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হন দেড় বছর আগে। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় বিএনপি প্রধান তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর থেকে তিনি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে তৎপর। দলের বিভিন্ন জরিপেও তার জনপ্রিয়তা প্রমাণিত। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ড তাকে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মী হিসেবে আমি সব সময় সক্রিয় ছিলাম। মাঝখানে ওয়ান ইলেভেনের বিশেষ বাস্তবতায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও দলের নির্দেশে আমি আবারও সক্রিয় হয়েছি।

আমি নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছি। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়ছি। তারা বলছেন, আমাকে ছাড়া যাকেই এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাতে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আমার প্রতি হাইকমান্ডের আস্থার কারণে সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে গৌরনদী-আগৈলঝাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। দল আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিলে এ আসনটি আমি পুনরুদ্ধার করে দেব ইনশা আল্লাহ।

বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগের একক ও বিএনপির চার জন প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আওয়ামীলীগের একক ও বিএনপির চার জন প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া জাকের পার্টির বাদশা মুন্সী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ রাসেল আহম্মেদ মেহেদী এককদলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (এমপি) দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে দলীয় অফিসে জমা দিয়েছেন।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক ও বরিশাল সদর উত্তর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, নির্বাহী সদস্য ও আইনজীবি পরিষদের সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, নির্বাহী সদস্য ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান, এন‌পি‌পি থে‌কে টি এম তু‌হি‌ন, জাকের পার্টির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সভাপতি বাদশা মুন্সী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাসেল আহম্মেদ মেহেদী দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

সকলেই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে তা পূরন করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।

 

আ. লীগের মোয়াজ্জেম ও বিএনপির সজলকে প্রার্থী চায় তৃণমূল

জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ দিয়ে রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৌকার মিছিলে রাজপথে থাকতেন। দলের সুসময়ে সুবিধাভোগীদের আগমন আর দুঃসময়ে প্রস্থান ঘটলেও অটুট ছিলেন মোয়াজ্জেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্তমানবতার সেবাসহ জনসংযোগ, পথসভা ও প্রচারে এগিয়ে মোয়াজ্জেম। নিরলস পরিশ্রমের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়। তিনি শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, শীত ও বন্যায় গরিব-অসহায় মানুষকে সাহায্য, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন, অসচ্ছল ও মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়াসহ স্কুল-কলেজের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বরিশাল-২ আসনের (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তাই সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তারা তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘১৯৭০ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ের জন্য মাঠে থেকেছি। এবার আমি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আশা রাখি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন। বরিশাল-২ আসন তাঁকে উপহার দিতে পারব।’

গাজী কামরুল ইসলাম সজল

অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, তৃণমূলের সঙ্গে সজলের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল তিনি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তিনি বিনা পয়সায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন করাচ্ছেন। হামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়াদের পরিবারকেও সহায়তা করেন তিনি। তাই বরিশাল-১ আসনে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বিএনপিদলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই দেখতে চায়। এ আসন থেকে আরো তিনজন বিএনপিদলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। তবে তাঁদের মধ্যে সজল ব্যতিক্রম। তাঁকে প্রার্থী করা হলে নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে পারবে। কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘এমন বিবেচনায় এই আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।’

প্রধানমন্ত্রীর অবদান সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে: আল্লামা শফী

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক শিক্ষা ও আরবি) স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় আজ রোববার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে শুকরানা মাহফিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শুরু করেছেন।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এই শুকরানা মাহফিল হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী সংগঠনটির চেয়ারম্যান। তিনি সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। তিনি কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আল্লামা শফী শুকরিয়া স্বারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

বেলা ১১ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেখানে পৌঁছান। বেলা পৌনে একটার দিকে প্রধানমনন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন।

তবে সকাল থেকেই মাহফিলে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন।

মাহফিল উপলক্ষে সারা দেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ইমামদের ঢাকায় আনা হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করেন। তাঁদের বহনকারী বাস শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে রেখে তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা হোন। অনেকেই হেঁটেই পৌঁছান সেখানে।

নরসিংদীর দারুল তাকওয়া মাদ্রাসা থেকে আসা দুজন শিক্ষক নুরুল আমিন ও ফয়জুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস রিজার্ভ করে আজ সকালে তাঁরা ঢাকা পোঁছান। তিনি জানান, ভোরে তাঁরা নরসিংদী থেকে রওনা হন। ব্রাহ্মনবাড়িয়া, সিলেট, নরসিংদী সহ ওই অঞ্চলের বাসগুলোকে তেজগাঁও এলাকায় রাখতে হয়েছে। বাস রেখে তাঁরা হেঁটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছেছেন। ওই দুই শিক্ষক দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তেরর স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
নরসিংদীর নাদিয়াতুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক রমজান আলী জানান, তাঁদের মাদ্রাসায় ৪০ জন ছাত্রী রয়েছে। তবে মাহফিলে শুধু তাঁরা শিক্ষকেরা অংশ নিতে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সকাল ১০টার দিকেই কওমি মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমাগম হতে দেখা যায়।

শাহবাগ মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দীর দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে, বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতারক রিপনের গোমর ফাঁস!

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যার্শী সালাউদ্দিন রিপন নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পাবার পূর্বেই প্রতারক হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন রিপন! তিনি বরিশাল সদরের বিভিন্ন এলাকাতে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যস্ত সময় পার করলেও সংবাদকর্মী বা কোন অসহয় ভুক্তভোগি রিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে দেখা বা কথা বলার চেষ্টা করা হলেই তিনি ঢাকাতে আছেন বা বিজি আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহাল্লায় কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সচেতনমহল ও চায়ের দোকানে বসে আড্ডারত একাধিক লোকের মন্তব্য যিনি এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি ঢাকাতে কিংবা বরিশালে থেকে এভাবে মুঠোফোনে মিথ্যা কথা বলেন তিনি আবার জনসেবা করবেন কিভাবে? তাদের মতে রিপন কোনমতে এমপি হতে পারলে ৫ বছরেও একবার দেখা পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রিপন মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নৌকা মার্কায় মনোনয়নপত্র পাবার আশায় নগরী সহ বরিশাল সদর উপজেলা গুলোতে তার নিজের মনোনিত কর্মীদের দিয়েই আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন।

আর সেটা নিশ্চয়ই ফটোশেসন ছাড়া কোন আথিক সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব না। অভিযোগের সূত্রধরে ‘সময়ের বার্তা’র পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের বিষয় সত্যতাও পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় স্কুলে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর পিতা-মাতাই সাবলম্ভী তাদের সন্তানদের দেয়া হয়। দেয়ার কারণ হিসাবে দেখা যায় ওইসকল শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা কেননা কোনভাবে রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী এবং তারই মনোনীতকর্মী! আর একারণেই তাদের সন্তানদের মাঝে অর্থ প্রদান করে থাকেন। যদিও তিনি বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনায় বলে বেড়ায় সমাজের অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তিনি সাহায্য করার জন্য এ অর্থ বিলি করছেন। এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায় চলতি মাসের ১ তারিখ কাশিপুর স্কুল এন্ড কলেজে ও নগরীর আমনতগঞ্জ এলাকাতে এবং গতকাল নগরীর এ.আর এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা করেন। অথচ, তার মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় ফোন করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বা ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটেদেন।

গত ফ্রেবুয়ারী মাসের দিকে বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে নিজেকে জানান দিতে নগরীতে কিছু পোস্টার, ফেস্টুন টাংঙ্গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা হিসাবে বাহির করার চেষ্টা করেন। যদিও রিপনকে এর আগে বরিশালের প্রবীণ ও নবীন কোন নেতাকর্মীরা চিনত না। পরিচিতি লাভের জন্য তিনি ব্যবহার করেন মিডিয়া ও আওয়ামীলীগের নানান কর্মসূচিতে আর্থি সহযোগিতা ও পোষ্টার সাঠিয়ে। যা আবার কোন কোন পোষ্টার দেখে দলের নেতা-কর্মিরা হতাশ হয়ে পরেন। গতবছরের ১৫ আগস্টে মাসে জাতীয় শোক দিবসে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মিরা শোকদিবসের পোষ্টারে নিজের ছবি প্রকাশ করেন নাই সেখানে এই নব্য নেতা নিজের ছবি সহ পোষ্টার ছাপিয়ে গোটা বরিশাল সদরে বিভিন্ন পয়েন্টে পোষ্টার টানিয়ে দেন। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ নেতা-কর্মীদের মাঝে রিপন একজন হাসির খোরাক হয়ে ধারান। তিনি আবার বরিশাল সদরের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাবার স্বপ্ন দেখছেন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১ তারিখ চাচাত বোনকে বউ বানিয়ে সমাজসেবক!

শিরোনামে সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর নগর জুড়ে শুরু হয়েছে তুল পাড়। ভদ্রবেশে থাকা এ যুবকের বিরুদ্ধে সময়ের বার্তা’র কার্যালয়ে আসতে থাকে জিরো থেকে হিরো হবার নানান অজানা গোপন তথ্য। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা ও এস. আর. সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান। সংস্থার নামে সরকারী বা দেশী বিদেশী কোন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা না আসলেও বরিশাল সদরের ১০ টি ইউনিয়ন ও ৩০ টি ওয়ার্ডে অসহয় নারী-পুরুষদের চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ফি প্রদান সহ আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন রিপন। এদিকে সংবাদপ্রকাশ না করার জন্য বরিশালের একাদিক কতিথ সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল দিয়ে তদবির করানো হয়।

পাশাপাশী হামলা ও মামলারও ভয় দেখানো হয়। রিপনের একজন ঘনিষ্টজন জানান, গত ১ বছরে বরিশাল সদর আসনের বিভিন্ন এলাকাতে রিপন প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মত সাহায্য করেছেন আর এই সকল অর্থ রিপনের চাচা মৃত্যু রফিকুল ইসলামের রেল ব্যবসা থেকেই তিনি কামিয়েছেন। রিপনের চাচা মারা যাবার পর রিপনের চাচী তাদের রেল ব্যবসা দেখাশুনার দায়ীত্বদেন। এই সুযোগে রিপন তার চাচত বোনকে বিয়ের অভিনয় করেন তাদের সকল অর্থ ও রেল ব্যবসায় নিজের মত করে ঘুছিয়ে নেন। আর মাত্র ১৪ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হন রিপন। রিপনের নিজের বক্ত্য ২০০০ সনে পর তিনি ২হাজার টাকার বেতনে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকারী নেন। এর পর চাচার ব্যবসার দেখশুনার দায়ীত্ব নেন রিপন ২০০৪ সালে। রিপন বর্তমানে কি পরিমান অর্থসম্পদের মালিক সে নিজেও জানেন না! সর্বশেষ কত টাকা সরকারী আয়কর প্রদান হয়েছে জানতে চাইলে সে বিষয় তিনি নিজেই জানেন না বলে দাবী করেন।

– সময়ের বার্তা

বিএনপিতে ফেরা স্বপনকে ঠেকাতে চায় আ.লীগ

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে বরিশাল-১ আসন গঠিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনপরবর্তী বিএনপির দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা তিন ভাগে বিভক্ত রয়েছেন। তবে সম্প্রতি সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত জহির উদ্দিন স্বপনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু স্বপনকে ঠেকিয়ে আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

বিএনপির দলীয় কোন্দল বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। তবে বিভক্ত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে যোগ্য প্রার্থী মনোনীত করতে পারলে আসনটিতে তুমুল ভোটযুদ্ধ হবে বলে মনে করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। বসে নেই মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিও (এরশাদ)। এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে বরিশাল-১ আসনে প্রার্থী দেবে দলটি। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীও চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।

আসনটিতে বর্তমানে ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৫। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সংসদের চিফ হুইপ হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে হাসানাত বিএনপি প্রার্থী তৎকালীন কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপনের কাছে পরাজিত হন এবং বরিশাল ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ৮ বছর পর ২০০৯ সালে তিনি বরিশালে ফেরেন এবং পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।
মাঝে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে পরাজিত করে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে আসনটির দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন ও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।
তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মনে করেন, বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন পেলে ভোটে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, স্বপনকে নিয়ে যাতে তারা জোরেশোরে মাঠে না নামতে পারেন, সে জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ দিয়ে তাকে এলাকায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক মাঠে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন বলেন, এ আসনে দলের একক প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বর্তমান সরকারের দশ বছরের উন্নয়নের কারণে হাসানাত জয়লাভ করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মাঠে ছাড় দেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে বরিশাল-১ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীরা বর্তমানে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। স্বাধীনতাপরবর্তী সব নির্বাচনে আসনটিতে জয়লাভ করে আসছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। ব্যতিক্রম ঘটে শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে। সেবার বিএনপির তৎকালীণ কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন আসনটিতে জয়লাভ করে।

কিন্তু ২০০৬ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে স্বপন কথিত সংস্কারপন্থিদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন। ওই নির্বাচনে বিএনপির মনোয়ন পান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওই সময়ের সবচেয়ে দুর্বল প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে সোবহান পরাজিত হন এবং নির্বাচনপরবর্তী দানা বাধতে শুরু করে অভ্যন্তরীণ কোন্দাল, যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তবে সম্প্রতি জহির উদ্দিন স্বপনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সিকদার বলেন, আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে জহির উদ্দিন স্বপনের বিকল্প নেই বরিশাল-১ আসনে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ছাড়াও মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এবং অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

এ ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বরিশাল-১ আসনে প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে দলটি। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তের ছেলে ড. অশোক গুপ্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা জাপা সভাপতি অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলাম হাবুল।