চাঁদশী ইউপি সদস্য রায়হান ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাঠে গ্রামের আঃ ছালাম খলিফার ঘরের সামনে থেকে শনিবার দুপুরে ১০পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা ইউপি সদস্য রায়হান হোসেন বেপারী (২৯) ও ১১পিস ইয়াবাসহ তার (রায়হান) সহযোগী ওমর ফারুক রাকিব (২৩)কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ইউপি সদস্য রায়হান উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের নাঠৈ গ্রামের আঃ হক বেপারী ছেলে ও চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য।

গৌরনদী থানার ওসি গোলাম সরোয়ার জানান, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে থানার একদল পুলিশ গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ নাঠৈ গ্রামের আঃ ছালাম খলিফার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ মাদক বিক্রেতা পালিয়ে গেলেও ছালামের ঘরের সামনে থেকে ১০পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা ইউপি সদস্য রায়হান হোসেন বেপারী (২৯) ও ১১পিস ইয়াবাসহ তার (রায়হান) সহযোগী ওমর ফারুক রাকিব (২৩)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লা বাদি হয়ে আটককৃত ওই ২জনসহ ৪ মাদক বিক্রেতাকে আসামি করে থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

৩০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া সদর থেকে বাশাইল হাট হয়ে গৌরনদীর ঘোষেরহাট পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নির্মিত সড়কে ঢালাইয়ের একদিনের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। ফলে অত্যন্ত নিন্মমানের এ কাজের প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা ২/৩ নির্মাণ শ্রমিককে লাঞ্ছিত করে পুরো কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে বাশাইলহাট হয়ে গৌরনদীর ঘোষেরহাট পর্যন্ত দুটি কালভার্টসহ ১৮ফুট প্রশস্তের ১২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের কাজ পান এমএম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সওজ বিভাগের একই কার্যাদেশে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নে আরও প্রায় ৫৮কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সুধীর রঞ্জন ও ইউপি সদস্য কাওসার আহম্মেদসহ কয়েকজন বাসিন্দারা জানান, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের সুধীর মেম্বারের বাড়ির সামনের ব্রিজ থেকে বাকাই গ্রামের ফিরোজার মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে সড়কের কাজ অত্যন্ত নিন্মমানের করা হয়েছে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে ঢালাইয়ের একদিনের মধ্যেই বিভিন্নস্থানের কার্পেটিং উঠে গেছে। এছাড়া সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়েই টেনে তুলছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণ কাজের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট শামসুল হকের উপস্থিতিতে বুধবার রাস্তার কার্পেটিং করা হয়। ওইসময় স্থানীয়রা তাকে ভাল করে প্রাইম করে কার্পেটিং ও সিলকোড করার অনুরোধ করেও কোন সুফল পাননি। সড়ক কার্পেটিং করার একদিনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েকটি স্থানের কার্পেটিং উঠে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিন্মমানের কাজ করায় এলাকাবাসি ঠিকাদারের ২/৩ শ্রমিককে লাঞ্ছিত করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক ঠিকাদাররা জানান, সিডিউল অসুযায়ী এলএ-৩৫ গ্রেডের পাথর ও সিলেট চান বালু সমপরিমান মিশ্রন করে ম্যাকাডাম দিয়ে ঠিকাদারের সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। ম্যাকাডম শেষে লুচ পাথরে ঢেকে সিলেট চান বালু দিয়ে কমপ্যাকশন করে প্রাইম করার কথা। প্রাইম শেষে পুনরায় সিলেট চান বালু দিয়ে ঢেকে দিয়ে তা পরিস্কার করে ৪০ মিলি মিটার কার্পেটিং শেষে ১০ মিলি মিটার সিল কোড করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মচারীদের ম্যানেজ করে তাদের উপস্থিতিতে সড়কে শুধু ৩/৪ ইঞ্চি লোকাল বালু দিয়ে তার ওপর কিছু মরা পাথর দিয়ে ম্যাকাডমের কাজ করেছে। সেই ম্যাকাডমে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়াও রয়েছে। এভাবে ম্যাকাডম করে তার ওপর লোকাল বালু দিয়ে নামকাওয়াস্তে প্রাইম করে তার ওপর আবার লোকাল বালু ছিটিয়ে কমপ্যাকশন ও পরিস্কার না করেই কার্পেটিং করায় ঢালাই স্থায়ী হয়নি। তারা আরও জানান, মাগুরা থেকে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সড়কের সব জায়গাই একই অবস্থা। সিডিউল অনুযায়ী নির্মিত সড়কের কোথাও সিলকোড করা হয়নি। এছাড়া সড়কের বিভিন্নস্থানে গাইড ওয়াল দিয়ে পাইলিং করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে বাঁশ ও ড্রাম সীট দিয়ে পাইলিং করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, লেবাররা সাইট চুক্তিতে কাজ করে। সাইট বুঝিয়ে দিয়েই তাদের দ্বায়িত্ব শেষ হয়। কিন্তু, প্রতিষ্ঠানের সুনাম দুর্নাম নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। তারা ভুল করলেও তিনি নিজে প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে কাজের মান খরাপ হলে পুনরায় প্রাইম করে নতুন করে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা বরিশাল সওজ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ মিয়া জানান, কাজ নিয়ে সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। জুন মাসে ব্যস্ততার জন্য প্রতিদিন তিনি সাাইটে যেতে পারছেন না। কাজের মান খারাপের জন্য ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট, ঠিকাদারের লোকজনকে তিনি ভর্ৎসনা করেছেন। সাইট লেবার সর্দার বাবুল কন্টাকে কাজ করে। তাকে এজন্য চরম অপদস্থ করেছেন তিনি। শ্রীর্ঘই তিনি সাইটে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন আপোষ করা হবে না। কাজ খারাপ হলে ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করতে হবে। সময় সুযোগ করে তিনি সাইট পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।

// মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী

মহান সংসদে ফের গৌরনদী জেলায় উন্নীতকরণের দাবী উপস্থাপন

ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত এবং বাণিজ্যিক, ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বরিশালের গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবী আজ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এই দাবী করা হয়ে আসছে। ১৯৭৪ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফণীভূষন মজুমদার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন জামাতা তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সাথে বরিশাল উত্তর জনপদের একমাত্র মহাকুমা গৌরনদীতে সফরে এসেছিলেন। ওইসময় তিনি (ফণীভূষন মজুমদার) গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে অত্র এলাকার জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি গৌরনদীতে এক সমাবেশে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি জেলা শহরে যেসব অফিস ও অবকাঠামো প্রয়োজন তার অধিকাংশই তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বে গৌরনদীতে নির্মান করা হয়। ওই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার বোন জামাতা আবদুর রব সেরনিয়াবাতকে নির্মমভাবে হত্যার পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টানোর সাথে সাথেই পাল্টে যেতে থাকে অত্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। ফিকে হতে থাকে গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখার স্বপ্ন।

তার পরেও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন গৌরনদীবাসী। অনেক আগ থেকেই গৌরনদী ছিলো মহকুমা। ১৯৮৪ সালে যখন সব মহকুমাগুলোকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয় তখনও গৌরনদীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার বরিশাল জেলাকে ভেঙ্গে আরও পাঁচটি জেলাতে ভাগ করলেও গৌরনদীকে মহকুমা থেকে ডিমোশন দিয়ে উপজেলা বানিয়ে রাখা হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘জেলা হবে গৌরনদী’ এমনই আশায় বুক বেঁধে আছেন গৌরনদীবাসী।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সরকারের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতি ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের স্বপ্ন গৌরনদীকে জেলা ঘোষণার জন্য জোর দাবী করেছেন। গত ২২ জুন বাজেটের উপর বক্তৃতা প্রদানের সময়ে তিনি এ দাবী করেছেন। একইসাথে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনবদ্য ভূমিকায় একসময়ের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সংগঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলে আরও যেসব উন্নয়ন কাজ দরকার তা উল্লেখ করতে গিয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রথমেই বলেন, গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের জন্য আমি ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বহুবার মহান সংসদে দাবী উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করা হয়নি। গৌরনদীকে জেলা ঘোষনার বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গৌরনদী জেলার প্রস্তাবিত মানচিত্র ॥ একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জরিপ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাাবিত গৌরনদী জেলার অধীনে থাকবে গৌরনদী সদর উপজেলা, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও কালকিনি উপজেলার একাংশ (কয়ারিয়া, রমজানপুর ও সাহেবরামপুর ইউনিয়ন)। প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার মোট আয়তন হবে ১১৭৭.৮২ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে বরিশাল জেলা থেকে আসবে ১১১৪.৫৭ বর্গ কিলোমিটার ও মাদারীপুরের কালকিনি থেকে যোগ হবে ৬৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার। গৌরনদী উপজেলার ১৪৪.১৮ বর্গ কিলোমিটার, আগৈলঝাড়া উপজেলা ১৬১.৮২ বর্গ কিলোমিটার, বাবুগঞ্জ থেকে ১৬৪.৮৮ বর্গ কিলোমিটার, মুলাদী থেকে ২৬১.০২ বর্গ কিলোমিটার, উজিরপুর থেকে ২৪৮.৩৫ বর্গ কিলোমিটার, বানারীপাড়া থেকে ১৩৪.৩২ বর্গ কিলোমিটার, কালকিনি থেকে ৬৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়ন থেকে ২০.৮১ বর্গ কিলোমিটার, রমজানপুর ইউনিয়ন থেকে ১৯.৫০ বর্গ কিলোমিটার ও সাহেবরামপুর ইউনিয়ন থেকে ২২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার।

প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার আয়তন হবে ১১৭৭.৮২ বর্গ কিলোমিটার। এ আয়তন নিয়েও জেলা গঠণ করা সম্ভব কারণ এই আয়তনের চেয়েও কম আয়তন নিয়ে বাংলাদেশে একাধিক জেলা রয়েছে। এরমধ্যে ঝালকাঠি জেলা ৭৪৯ বর্গ কিলোমিটার, মেহেরপুর জেলা ৫৪৯ বর্গ কিলোমিটার. নারায়ণগঞ্জ জেলা ৭৫৯ বর্গ কিলোমিটার, ফেনী জেলা ৯২৮ বর্গ কিলোমিটার, নড়াইল ৯৯০ বর্গ কিলোমিটার, মাদারীপুর ১১৪৫ বর্গ কিলোমিটার, মুন্সীগঞ্জ ৯৫৫ বর্গ কিলোমিটার, নরসিংদী ১১৪১ বর্গ কিলোমিটার, রাজবাড়ী ১১১৯ বর্গ কিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গা ১১৭৭ বর্গ কিলোমিটার, মাগুরা ১০৪৯ বর্গ কিলোমিটার ও জয়পুরহাট জেলার আয়তন মাত্র ৯৬৫ বর্গ কিলোমিটার।

কালকিনি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন যোগ হবে গৌরনদী সদর উপজেলার সাথে। কালকিনির ওই তিনটি ইউনিয়ন গৌরনদীর সাথে যুক্ত করার পেছনেও রয়েছে বেশ কিছু যৌক্তিক ব্যাখ্যা। এ তিনটি ইউনিয়ন ভৌগলিকগতভাবে মুলাদী ও গৌরনদী উপজেলার মাঝামাঝি অবস্থিত। এসব এলাকার লোকজন কালকিনি বা মাদারীপুরের চেয়ে গৌরনদীর উপরে বেশি নির্ভরশীল। ওই তিনটি ইউনিয়ন কেটে আনা হলে গৌরনদীতে ইউনিয়নের সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়াবে মোট ১০টি। ফলে আয়তন হবে ২০৭.৪৩ বর্গ কিলোমিটার।

সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলায় পৌরসভা হবে মোট চারটি। গৌরনদী, উজিরপুর, বানরীপাড়া ও মুলাদী। ইউনিয়ন সংখ্যা হবে মোট ৪৮টি। এরমধ্যে গৌরনদীর সাতটি, আগৈলঝাড়ার পাঁচটি, বাবুগঞ্জের ছয়টি, মুলাদীর সাতটি, উজিরপুরের নয়টি, বানারীপাড়ার ১১টি ও কালকিনির তিনটি। গৌরনদী জেলা হলে বরিশাল বিভাগের জেলা সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়াবে সাতটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার আসন সংখ্যা হবে তিনটি। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ-মুলাদী ও উজিরপুর-বানারীপাড়া)।

গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের নানা কারণ ॥ বরিশাল সদর উত্তর মহাকুমা, দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের লক্ষ্যে জেলা সদরে যেসব অফিস থাকা প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত তা গৌরনদীতে স্থাপন করেছেন। পাঁচ থানা পুলিশের হেডকোয়ার্টার সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় অফিস, বন বিভাগের উপ-বিভাগীয় অফিস, বিদ্যুৎ অফিস, বিভাগীয় তাঁত বোর্ড অফিস রয়েছে গৌরনদীতে।

প্রথম উদ্যোগ ॥ ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করনের প্রথম পদক্ষেপ স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৌরনদী পৌরসভা গঠণ করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি গৌরনদীকে জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে গৌরনদীতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিভাগীয় বেবী হোমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন।

ভৌগলিক অবস্থান ॥ গোপালগঞ্জ জেলার পূর্ব সীমান্তে, মাদারীপুর জেলার দক্ষিণ, বরিশাল বিভাগীয় শহরের উত্তর সীমান্তে ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুখে ১৪৪.১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনে গৌরনদী উপজেলার অবস্থান। বরিশালের বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, আগৈলঝাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মধ্যবর্তীস্থানে গৌরনদী অবস্থিত। অতি প্রাচীণকাল থেকেই শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, ইতিহাস-ঐতিহ্যে গৌরনদীর সুনাম-সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পরে। এখনও তা বিদ্যামান রয়েছে। এখানে গড়ে উঠেছিলো উন্নত জনপদ। তাই মোগল যুগে ইসলাম প্রচারক খানজাহান আলী ও ইয়েমেনের বাদশার পুত্র হযরত মল্লিক দূত কুমার পীর সাহেব বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসে গৌরনদীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা এ অঞ্চলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, দীঘি ও সরাইখানা। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আল্লাহর মসজিদ, কমলাপুর মসজিদ, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বার্থী তাঁরা মায়ের কালী মন্দির, মাহিলাড়ার সরকার মঠ, সমাজ সেবক ছবি খাঁর হুজরা, পলাশীর যুদ্ধের দূর্গ ও কামান, শতিদাহ মঠসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশের সব মহাকুমাগুলো ইতোমধ্যে জেলা হয়ে গেলেও অবহেলিত রয়ে গেছে শুধুমাত্র গৌরনদী মহাকুমা। তাই গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হাত ধরে বাস্তবায়ন করা হবে সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন গৌরনদীবাসী।

সড়ক সংস্কারের নামে সরকারী অর্থ লুট, জনদুর্ভোগ চরমে

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলা ও পৌর সদরের প্রধান সড়ক গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরিকল বাজার পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৫০ মিটার সড়কটি গত ছয় মাসের অধিক সময় ধরে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য এলজিইডি বিভাগ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করার পরেও সড়কটি খানাখন্দ ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।

সূত্রমতে, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ওপর নির্ভরশীল উপজেলা পরিষদ, পৌর ভবন, মডেল থানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পল্লীবিদ্যুত সমিতির জোনাল অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ব্যাংক ভবন, শপিংমলসহ উপজেলা সদরে আসা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ সকল ধরনের ভিআইপিদের যাতায়াত। অথচ সড়কটির বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। সম্পূর্ণ সড়কটিতে ছোট-বড় কয়েক হাজার গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কটি জলাশয়ে পরিণত হয়। সড়কে অহরহ দুর্ঘটনাসহ ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। এ জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়? তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ কিছুদিন পর পর কয়েক ভ্যান বালি আর ইটের টুকরা ফেলে গর্ত মেরামতের নামে সরকারী অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে ওই সড়কটি পুনর্নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। পরবর্তীতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কটি দিয়ে গৌরনদী উপজেলা সদরের জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারী দফতরসমূহ, উপজেলার নলচিড়া ও সরিকল ইউনিয়ন এবং বন্দরের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন করা হয়। ২০০৫ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটি এলজিইডিকে হস্তান্তর করে। সেই থেকে সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় দায়ভার এলজিইডির।

গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১০-২০০১১ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৭০ হাজার। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ১৪ লাখ। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে এক কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ১৪ লাখ টাকাসহ সড়কটি সংস্কারে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও সড়কের কোন পরিবর্তনই হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সংস্কারে ব্যয় করা হলেও সড়কটি খানাখন্দ ও আর জলাশয়ই রয়ে গেছে। সড়ক সংস্কারে নামে সামান্য কিছু খোয়া ও বালু ফেলে পুরো টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, গৌরনদী উপজেলার সকল সরকারী দফতরে সেবা নিতে আসা জণসাধারণ ও গৌরনদী উপজেলার সরকারী খাদ্যগুদামে মালামাল পরিবহনের একমাত্র সড়ক এটি। এছাড়া ঢাকা-গৌরনদী, নারায়ণগঞ্জ-গৌরনদী লঞ্চে ব্যবসায়ীদের অমদানিকৃত পণ্য টার্মিনালে নামানোর পরে একমাত্র এ সড়কটি ব্যবহার করেই বিভিন্ন হাট-বাজারে আনা নেয়া হয়। অপরদিকে গৌরনদী বৃহৎ ব্যবসায়িক বন্দর সরিকল ও নলচিড়ার যাতায়াতের মাধ্যমও হচ্ছে এ সড়কটি। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ সড়কটি দিয়ে মন্ত্রী, এমপি, সচিবসহ প্রভাবশালী নেতারা যাতায়াত করলেও জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের কোন কার্যকরী ভূমিকা নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির বেহাল চিত্র। কয়েকদিনের বর্ষণে পুরো সড়কে সৃষ্টি হয়েছে হাজারও ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো ডুবে যাওয়ায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালকসহ মিনিট্রাক, অটো টেম্পু, নসিমন, মোটরসাইকেলসহ যানবাহন চালকরা গর্তগুলো দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিসিডিবি, ক্যাথলিক চার্চ, কারিতাস, উপজেলা পরিষদ গেট, পল্লীবিদ্যুত সমিতির জোনাল অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে, ভাই ভাই শপিং মল, থানার মোড়, তাকওয়া ভবন, সার্কেল অফিস মোড়, তুলাতলা, টিখাসার, পিঙ্গলাকাঠি, কালনা, কুতুবপুর, কা-পাশাসহ অধিকাংশ এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এসব স্থানগুলোর সড়কে ছোট-বড় হাজারো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তগুলো জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি বেহাল দশায় পরে থাকলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে উন্নয়নে দেশ ভাসলেও গৌরনদীর এ সড়কটি পানিতে ভাসছে।

গৌরনদী এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমানও জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ অহিদুর রহমান পূর্বের ন্যায় দায়সারা অফিসিয়াল বক্তব্য দিয়ে বলেন, সড়কটি বাস্তবায়নে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জনদুর্ভোগ দূর করা হবে।

// খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল

খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে: দৈনিক জনকন্ঠ

ছেলের বিল্ডিংএ ঠাই হয়নী বৃদ্ধা মায়ের

মায়ের কাছ থেকে জোড় পূর্বক জমি লিখে নিয়ে তা বিক্রি করে নিজ বাড়িতে দ্বিতল বিল্ডিং নির্মান করে স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকে ভূমিদস্যু ছেলে, আর বৃদ্ধ মাকে রেখেছে বাইরে টিনের ছাপড়া দিয়ে কাঠের মাচা (মাইচ্চা) করে পরিত্যাক্ত ঘরে। ছেলের বিল্ডিংএ বৃদ্ধ মায়ের হয়নী ঠাই নেই, নেই কোন চিকিৎসা ও যন্তদাদি।

অবশেষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের ভূমিদস্যু ইউনুসকে সোমবার গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ইউনুস গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। গ্রেফতারের পর এলাকার মানুষ ইউনুসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে।

স্থানীয় ও সরেজমিনে জানা যায়, এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে জমি দখল, রেকর্ড করানোর জন্য টাকা নেয়া, স্থানীয়দের প্রশাসন দিয়ে হয়রানি, প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোসহ অনেক অপকর্ম রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ছাড়াও এলাকায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ। খাজুরিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মুজাফর মিয়ার কাছ থেকে তার বাড়ির মধ্যে জায়গা রয়েছে দাবী করে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে ভূমিদস্যু ইউনুস মিয়া ওরয়ে লেসু।

এছাড়া এলাকার আমজেদ মিয়ার ৮০হাজার টাকা, জহুরা বেগম ও মাহবুবকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি, ও একই এলাকার হান্নান ফকিরের মুদির দোকান চুরির ঘটনায় প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ তালুকদার তাকে মারধর করলে সে এলাকা ছেড়ে ঢাকা যায়। কয়েক বছর পর এলাকায় এসে তার কয়েক অনুসারী নিয়ে শুরু করে ভূমিদস্যুতা, জালজালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ ভূমি জরিপ এর সময় দরিদ্র লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। বুধবার সকালে ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে এলাকার শতশত নারী-পুরুষ এসব অভিযোগ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য ইউনুস মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য আ.কাদের, খালেক ফকির, মজিবুর রহমান মিয়া, তরিকুল ইসলাম, হায়াতুন বিবি, জহুরা বেগম, ইসাকুল ইসলাম, রুহুল আমিন দুলাল, আ. রহিম মিয়া, আবু কাদের, শাহজাহান মিয়া, তোতা মিয়া, কালাম, জসীম মিয়া, আলতাব মিয়া, সামছুল হক প্রমুখ।

//মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী