গৌরনদীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু

ঢাকায় বেড়াতে এসে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের গৌরনদীতে ফিরে গিয়ে আলেয়া বেগম (৫৫) নামে একজন মারা গেছেন। মৃত আলেয়া বেগম আশোকাঠী গ্রামের আব্দুল মান্নান ফকিরের স্ত্রী ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মৃত ফকীর আবদুর রাজ্জাক এর মেঝো ভাইয়ের স্ত্রী।

ঢাকায় অবস্থানকালে আয়েলা বেগমের জ্বর হয়। জ্বরের চারদিন পরে বুধবার রক্ত পরীক্ষা করলে তার ডেঙ্গু ধরা পরে। মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থা হলে তাকে স্বজনরা রাত পৌনে ৯টায় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আলেয়া বেগমের স্বামী আব্দুল মান্না জানান, আলেয়া বেগম যখন ঢাকায় ছিলেন, সেখানে জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপরে ওই অবস্থায় বরিশালে ফিরে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসক তাকে এনএস-১ পরীক্ষার জন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান, পরীক্ষায় ডেঙ্গু জ্বর ধরা পরে। রাতে অবস্থার অবনতি হলে পৌনে ৯ টায় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আজ সকাল ৯টার সময় আশোকাঠি নিজ বাসবভনে মরহুমার জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ও গৌরনদী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিসুর রহমান হারিস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও গৌরনদী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মুন্সী, প্রথম আলো গৌরনদী প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহির, সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী ডটকম সম্পাদক ফাহিম মুরশীদ, এখনই সময় ডটকম সম্পাদক টিম এম তুহিন, পান্নু ভুইয়া, এইচ এম সুমন, আল আমিন হাওলাদার সহ প্রমুখ।

মাদক মুক্ত সমাজ গঠণে রানু স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট-২০১৯

‘মাদক একেবারেই নয়, খেলাধুলায় মিলবে জয়’ স্লোগানে শুক্রবার বিকেলে টরকী বন্দর হাইস্কুল মাঠে রানু স্মৃতি-২০১৯ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ-উদ্বোধন করা হয়েছে।

রুনু স্মৃতি ক্রড়া সংঘের সভাপতি সুজন হাওলাদারের সভাপতিত্বে আটটি দলের এই ফুটবল খেলার শুভ-উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও গৌরনদী পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা পরিষদ এর সদস্য ও সিনিয়র সহ-সভাপতি এইচ.এম হারুন অর-রশিদ, গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ বুলবুল দেওয়ান, গৌরনদী পৌরসভার (সংরক্ষিত ১,২,৩) কাউন্সিলর সেলিনা আক্তার, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিকদার মোঃ খোকন, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজি তৌফিক ইসলাম সজল, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খাউরুল খান, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সান্টু ভূইয়া, সাধারন সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমান দীপ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও গৌরনদী পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান বলেন- শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, খেলাধুলা জতির মানদন্ড, খেলাদুলার মধ্যে থাকলে যুবকরা মাদক এর মরন ছোবল থেকে দুরে থাকবে। আমি মাদকের বিরুদ্ধে খুবই কঠোর, খেলাধুলায় আমার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সার্বিক সহযোগীতা থাকবে।

উদ্ভোধনী খেলায় ধানডোবা একাদশ ৩-০ গোলে শরিয়তপুর ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে।

শুধু মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছে শতাধিক এতিম শিশু!

বরিশাল নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছ গ্রাম সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শতাধিক এতিম শিশু পানি এবং বিদ্যুই নয় বর্তমানে না খেয়েও জীবন-যাপন করছে।

সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয়রা অবগত হলেও তারা কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছে ছাত্র-শিক্ষকরা। এই সমস্যা সমাধানে অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফিরোজী।

জানা গেছে, ১ বছর আগেও একটি ভাড়া বাড়িতে ছিল এই এতিমখানা ও মাদ্রাসাটি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র ফিচার প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর। পরবর্তীতে তিনিসহ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সশরীরে উক্ত মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং শতাধিক এতিম ছাত্রের বাস্তব অবস্থা অবলোকন করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

সেই অনুদান দিয়ে জমি ক্রয়, চারতলা ভিত্তির ওপর ১ তলা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে প্লাস্টারের কাজ। এ দিকে অনুদানকৃত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চরম অর্থ সঙ্কটে ভুগছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার ওপর মরার ওপর খরার ঘায়ের মতো রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা।

শুধু তাই নয় বর্তমানে অর্থের অভাবে না খেয়ে জীবন-যাপন করছে শতাধিক এতিম শিশু। গত এক সপ্তাহ ধরে মাদ্রাসায় চাল-ডাল না থাকায় দুপুরে মুড়ি খেয়ে বেচেঁ আছে এতিমরা। অন্য দিকে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ। মাদ্রাসার পরিচালক টাকার চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ছে। এতিমদের চোখে কাঁন্না ঝড়। চলছে আর্থিক সংকটে এতিমদের জীব।

মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজী সাহেব কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘কষ্টের পরে একটু মাথা জগার ঠাই হয়েছে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ স্যারে কারনে।তবে যে টাকা পেয়েছি তার কাজের পিছনেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ সব শেষ হয়নি। তার মধ্যে ছাত্রদের খাবার, বিদ্যু, পানি সংকটের পাশাপাশি খাবার সংটক দেখা দিয়েছে।

ছোট ছোট এতিম শিশুদের দুপুরে ভাতের পরির্বতে খাওয়াতে হচ্ছে মড়ি। কোন মহান ব্যাক্তি মাদ্রাসার এতিম শিশুর খাবার জন্য চাল দান করলে এই সম্যসা দেখতে হতোনা। টাকা জন্য সমাজের বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েও হিমসিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের।’

এতিমখানাটি হওয়ায় সমাজের বিত্তবানদেরও তেমন নজর নেই বলে জানান তারা। প্রতিবছর অনেক এতিম শিশুকে ভর্তি না করেই ফেরত দিতে হয় তাদের। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় শতাধিক এতিম শিশুর মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে বলে দাবি তাদের।