বই পড়া কি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে?

যখন জীবনে চলার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায় তখন ঠিক কী করা উচিত? এ অবস্থায় ভাল একটি সাহিত্যের বই খুঁজে বের করে, সেটা পড়া হতে পারে, সবচেয়ে ভাল কোন প্রচেষ্টা। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে বই কীভাবে আপনার জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে?

এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিবিসি, ‘বিবলিওথেরাপিস্ট’ এর একটি প্যানেলকে একত্রিত করে যারা তাদের জীবনের নানা সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করেছে এই বইগুলোকে। তাদের থেকে নেয়া কিছু অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ জেনে নেয়া যাক।

মানসিক চাপ কমিয়ে পুনর্জীবিত করে তোলে:

সঠিক ধরণের সাহিত্য আপনাকে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ দিতে সক্ষম। যেটা কিনা আপনার মনকে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। সাহিত্যিকদের মতে “একটি বই মূলত আপনাকে যে বার্তাটি দেয়, সেটি হল নিজের নীতিতে অটল থাকার। এ কারণে নানা ধরণের মানসিক পীড়া থেকে মুক্তি মেলে আর মন পুরো পরিশুদ্ধ নতুনের মতো হয়ে যায়।”

পালিয়ে যাওয়া

বই কীভাবে আপনার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে? লেখকদের মতে, “গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য আপনাকে সবকিছু থেকে পালাতে সাহায্য করে। ইংরেজি ভাষায় যাকে বলা হয় এস্কেপিজম বা পলায়নবাদ। এই পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অন্য যেকোনো শিল্পের চেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী।”

“একটি চলচ্চিত্র বা টিভি অনুষ্ঠানে আপনাকে ছবি দেখানো হয়, যেখানে একটি উপন্যাসের সাহায্যে আপনি সেই ছবি বা দৃশ্যপট নিজেই তৈরি করেন। সুতরাং বই আসলে অন্য যেকোনো মাধ্যমের চাইতে অনেক শক্তিশালী। কারণ এতে আপনি অনেক বেশি জড়িত।”

অগোছালো জীবন শৃঙ্খলায় আনুন

বই তার কাঠামোগত বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি অগোছালো মনে শৃঙ্খলা আনতে পারে। ঔপন্যাসিকদের অনেকেই নিজেরা যখন কোন ঝামেলায় পড়েন তখন তারা বইয়ের সাহায্য নেন।

তাদের মতে, “আপনি নিজেকে চেষ্টা করতে ও সমাধান করতে পারেন বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়ার মাধ্যমে। বইয়ের কোন অতিপ্রাকৃত গল্পের সঙ্গে সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারলে আপনার নিজের মনে থাকা নানা বিষয়কে এক জায়গায় এনে সমাধানের চেষ্টা করা যায়।”

হতাশ মনকে প্রবোধ দেয়

একটি শক্তিশালী সাহিত্যের শেষটি আনন্দের না হলেও – বাস্তবে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। হুইটল নামের এক ঔপন্যাসিক বিবিসিকে জানান যে, তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন তার বাবা তাকে জ্যামাইকাতে তাঁর নিজের শৈশব সম্পর্কে বলতেন, যখন একজন গল্পকার ফসল কাটার সময় গ্রাম থেকে গ্রামে যেতেন এবং তারা দাস প্রথার গল্প বলে বেড়াতেন।”

“দাসপ্রথার এই বিষয়টি অনেক কষ্টের আর হতাশাজনক। তবে এটি ইঙ্গিত করে যে মানুষকে কতো সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টিকে থাকতে হয়েছে।” বলেন মিস্টার হুইটল।

পুনরাবৃত্তির আনন্দ

প্রিয় উপন্যাসগুলি বার বার পড়লে সেটি বিশেষ ধরণের ‘বিবলিওথেরাপি’ বা পুস্তকীয় চিকিৎসা সরবরাহ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ‘টেস অব ডি’উরবারভিল’ বইটির কথা। বইটির এক পাঠক খুব সুন্দরভাবে নিজের উপলব্ধি ব্যাখ্যা করেন, যিনি কিনা নিজেও একজন লেখক।

“আমি প্রথম যখন বইটা পড়ি, তখন আমার বয়স ছিল ১৫ বছর। আমি সত্যিই গল্পের মূল চরিত্র টেসের সাথে নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছিলাম; দ্বিতীয় বার বইটা পড়লাম আরও ১০ বছর পরে, আমি দেখতে পেলাম যে টেস আসলে কতটা প্যাসিভ ছিলেন বা অসাড় ছিলেন। এর আরও ১০ বছর পর পুনরায় আমি বইটি পড়ি – তখন আমি টেসের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে বুঝতে শুরু করি”, তিনি বলেন।

এই পাঠক কিংবা লেখকের মতে , জীবনে চলার পথে মাঝে মাঝে আপনাকে পেছনের সময়গুলোতে টেনে নিতে পারে বই- যা অনেক বড় একটি পাওয়া। আপনি নিজেকে আরও ভালভাবে জানতে পারবেন কারণ আপনি নিজের মনের স্তরগুলোয় বিচরণের সুযোগ পাবেন এই বইয়ের মাধ্যমে। যেগুলো আপনার মাথায় এতদিন পেঁয়াজের স্তরের মতো একটার সঙ্গে একটা জুড়ে ছিল।”

তরুণদের মনকে সহায়তা করছে

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবেলায় সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের জন্য এখন আরও বেশি সংখ্যক উপন্যাস লেখা হচ্ছে যা কিশোর-কিশোরীদের তাদের প্রতিদিনের জীবনে যে বিষয়গুলি মোকাবেলা করতে পারে, সেগুলি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। সেটা হত পারে বুলিং বা কটূক্তি, মাদক, সমকামিতা, সামাজিক বর্জনসহ আরও নানা ইস্যু।”

“যে বিষয়গুলি তাদের জীবনে ঘটতে পারে, অথচ এতদিন হয়তো তারা সেটা বুঝতেই পারেনি। আমি সত্যিই মনে করি যে একটি বই আমাদের মধ্যে থাকা হিমায়িত সমুদ্রকে ভেঙে দেওয়ার কুড়াল হিসেবে কাজ করতে পারে এবং এটি যে কোনও যুগের ক্ষেত্রেই সত্য।”- বলেন সেই লেখক।

লেখা কি মনের জন্য ভাল?

বই পড়ার যেমন মানসিক উপকার রয়েছে, তেমনটা কি লেখার ক্ষেত্রেও আছে? আসলে একজন লেখকের জীবন মানসিক স্বাস্থ্যের বিবেচনায় অনেকটা একটি মিশ্র ব্যাগের মতো।

যার মধ্যে অনেক প্রয়োজনীয় কিছু থাকে। এর মধ্যে একটি হল অনেক মানসিক ট্রমা বা আবেগ বের করে দেয়ার ক্ষমতা। এক্ষেত্রে লেখা লেখি দুর্দান্তভাবে কাজে আসে। পরিশেষে এটা বলতেই হয় যে, যখন কোন বই পাঠকের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে বা পাঠককে সুস্থ করে তোলে। ওই বইয়ের লেখকের জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। সূত্র : বিবিসি।

বরিশালের হোটেল সমূহের যোগাযোগের নাম্বার ও ঠিকানা

হোটেল ও আবাসন

সরকারি আবাসন

সার্কিট হাউজ, বরিশাল

কক্ষের সংখ্যা২৩ টি
ভিভিআইপি (এসি)০৪ টি
 ভিআইপি (এসি)০৮ টি
সাধারণ (এসি)০৩ টি
সাধারণ (নন-এসি)০৮ টি
যোগাযোগ০১৭৪৩১০১৩২০

 

ভাড়ার হার

ভিভিআইপি (এসি)ভিআইপি (এসি)সাধারণ (এসি)
সরকারি কর্মকর্তা

৬০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

১০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

১ সিট-২৫/-

২সিট-৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

১ সিট-৭৫/-

২ সিট-১৫০/-

 

জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, বরিশাল

কক্ষের সংখ্যা২০ টি
ভিআইপি০১ টি
সাধারণ (এসি)০৩ টি
সাধারণ (নন-এসি)১৬ টি

 

ভাড়ার হার

ভিআইপিসাধারণ (এসি)সাধারণ (নন-এসি)
সরকারি কর্মকর্তা

১৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

৩০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

৪০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

১০০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

 

বেসরকারি আবাসন

হোটেলঠিকানামোবাইল নম্বর
হোটল গ্রান্ড পার্কচাঁদমারি, বরিশাল০৪৩১-৭১৫০৮
হোটেল সেডোনাসদর রোড, বরিশাল০৪৩১-৭১৫০৮

০১৭৭৭৭৩৫১৭১-২

হোটেল এ্যাথেনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)কাটপট্টি রোড, বরিশাল০১৭১২২৬১৬৩৩
হোটেল রোদেলা (আবাসিক)ফলপট্টি, বরিশাল০১৭০৯১৪৩১৮১
হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০৪৩১-৬৪৭৩২

০১৭১১৩৩৭৫৮১

এরিনা হোটেল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০১৭২৪৪৪৪৪৮৮
হোটেল জিলানী (আবাসিক)দক্ষিণ চকবাজার, বরিশাল০১৭১৫৯৯৯৯১২
হোটেল প্যারাডাইস-১ (আবাসিক)হাসপাতাল রোড, বরিশাল০৪৩১-৬১৯৫৫

০১৭১৮৩৩৫১০৫

হোটেল প্যারাডাইস-২ (আবাসিক)হাসপাতাল রোড, বরিশাল০১৭২৪৮৫৩৫৯০
হোটেল ইম্পেরিয়াল (আবাসিক)গীর্জা মহল্লা, বরিশাল০৪৩১-৬৪৪৭৯

০১৭১১৫৮৫৭৫৮

হোটেল গোল্ডেন ইন (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০৪৩১-২১৭৫১৬৯
হোটেল ইসলামিয়া (আবাসিক)চকবাজার, বরিশাল০১৭৬৮২১৪৭৭৩
হোটেল পার্ক (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০১৭১০৯৬৪৪৪০
হোটেল ধানসিঁড়ি (আবাসিক)কাটপট্টি রোড, বরিশাল০১৭২৬০৩৪৯৬৯
হোটেল আবাবিল (আবাসিক)বগুড়া রোড, বরিশাল০৪৩১-৬৩২৬৬
হোটেল ওয়ান (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০৪৩১-২১৭৫২২৫

০১৭৪৭৯৯৩৭৩৩

হোটেল নুপুর (আবাসিক)লাইন রোড, বরিশাল০৪৩১-২১৭৩৬৩৯
হোটেল হক ইন্টান্যাশনাল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০১৭৯২১৫১১৯১
হোটেল ফেয়ার স্টার (আবাসিক)চামারপট্টি রোড, বরিশাল০১৭১১১৮৩২৯৪
মুন ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)সাদরদী, বরিশাল০১৭৩৪০৯১৫৩১
হোটেল আল জাজিরা (আবাসিক)পূর্ব বগুড়া রোড, বরিশাল০১৭৪০৮৮০৮২৫
হোটেল গ্রান্ট প্লাজা (আবাসিক)পোর্ট রোড, বরিশাল০১৯১৭৪৫০০৮৮

 

ছবি

ঈদে বিশেষ সার্ভিস দিবে বরিশালের ২৫টি লঞ্চ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবার বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সরাসরি ২৩টি নৌযান বিশেষ সার্ভিস দেবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৌযান সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির দুটি নৌযান ঈদের বিশেষ সার্ভিস দেবে। সরকারি-বেসরকারি এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল পথে আগামী ৮ আগস্ট থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে এবং তা চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় নৌযান সংস্থার নৌযানগুলো বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে ৮ আগস্ট থেকে। এবার ঈদের আগে ও পরে একদিন করে দুটি করে নৌযান রাখা হয়েছে। সংস্থার পাঁচটি নৌযান যথাক্রমে এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালি, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা এবং পিএস টার্ন ঈদের বিশেষ সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করবে। লঞ্চগুলো ঢাকা-বরিশাল-ঝালকাঠি-হুলারহাট (পিরোজপুর)-মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট) পর্যন্ত চলবে।

ঈদের আগে ১০ আগস্ট ঢাকা থেকে দুটি লঞ্চ পিএস মাহসুদ এবং পিএস লেপচা চলবে। পরদিন ১১ আগস্ট মাহসুদ মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত এবং লেপচা বড় মাছুয়া পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে যাবে। পরে লেপচা বড়মাছুয়া থেকে ফিরে বরিশাল নৌবন্দরে অবস্থান করবে। ঈদের পর ১৬ আগস্ট বিশেষ সার্ভিস হিসেবে বরিশাল থেকে দুটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাবে। লঞ্চ দুটি হলো এমভি বাঙালি ও পিএস লেপচা।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের বিশেষ সার্ভিস নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লঞ্চের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে।

বেসরকারি লঞ্চ মালিক সূত্রে জানা যায়, আগামী ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সরাসরি ২৩টি নৌযান বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে। এর মধ্যে দিবা সার্ভিসে চলাচলকারী গ্রিন লাইনের দুটি লঞ্চ রয়েছে। যাত্রী চাপ থাকলে প্রয়োজনে লঞ্চের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

বিআইডব্লিউটিসির নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি আর হয়রানি রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। টার্মিনালে হটলাইনসহ কন্ট্রোল রুম স্থাপন, পুলিশ হেল্প ডেস্ক, নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যাদির বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বরিশাল নৌবন্দর থানা পুলিশের ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী বন্দরে সার্বিক নিরাপত্তায় পোশাকধারীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারীসহ দুষ্কৃতকারীদের প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে থাকবে পুলিশ। যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।