অল্প পুঁজিতে করতে পারেন “কার ওয়াশ ব্যবসা”

সামগ্রিক বিনিয়োগ বিবেচনায় গাড়ী ধোয়ার ব্যবসাটি একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের ফলে সমগ্র বিশ্বে গাড়ীর সংখ্যা বাড়ছে। গাড়ীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দিন দিন এই ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরী হচ্ছে। যানবাহন সংশ্লিষ্ট এই ব্যবসাটি বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একটি ঝুঁকি মুক্ত ব্যবসার ধারণা। ছোট মূলধন বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়।

ব্যবসার ধরণ: এটি একটি সেবামূলক ও লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ব্যবসার অবস্থান: গাড়ী ধোয়ার ব্যবসাটি শুরু করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল এমন জায়গায় একটি খোলা মাঠের প্রয়োজন এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাব্য পুঁজি: এই ব্যবসা শুরু করতে আনুমানিক ১০০০০০ থেকে ২০০০০০ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করা প্রয়োজন হতে পারে।

গাড়ী ধোয়ার ব্যবসার বাজার পরিস্থিতি: সারা বিশ্বে এই ব্যবসার একটি বিশাল বাজার রয়েছে। তাছাড়া যেহেতু দিন দিন গাড়ীর সংখ্যা বাড়ছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই এই ব্যবসার বাজারও প্রসারিত হচ্ছে।

কিভাবে এই ব্যবসা শুরু করবেন: পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এমন স্থানে গাড়ী ধোয়ার কাজ করে এই ব্যবসাটি পরিচালনা করা হয়। ব্রাশ ও শ্যাম্পুর সাহায্যে গাড়ী ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। আপনি চাইলে গাড়ী ধোয়ায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ করেও এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

গাড়ী ধোয়ার ব্যবসাটি কেন শুরু করবেন: অন্যান্য ব্যবসার চেয়ে এই ব্যবসায় ঝামেলা ও ঝুঁকি কম থাকায় অনেক উদ্যোক্তাই এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাছাড়া এই ব্যবসার মাধ্যমে সহজেই আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া যায়। গ্রাহক: ব্যস্ততার জন্য যারা গাড়ী পরিষ্কার করতে পারেন না তারা গাড়ী পরিষ্কার করার জন্য গাড়ী ধোয়ার প্রতিষ্ঠান গুলোতে এসে থাকেন। বিশেষ করে প্রাইভেট গাড়ীর মালিক গণ এই ব্যবসার প্রধান গ্রাহক।

যোগ্যতা: এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য বিশেষ কোন দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে না। চাইলে যে কেউ কোন গাড়ী ধোয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে ২/৩ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। সাবধানতা: গাড়ী ধোয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেনো কোন ভাবেই গাড়ীতে কোন প্রকার দাগ না লাগে। সাবধানতার সাথে গাড়ীর সামনের কাচ ও লুকিং গ্লাস ধৌত করতে হবে। সম্ভাব্য আয়: গাড়ী ধোয়ার ব্যবসাটি শুরু করে মাসিক ২৫০০০ থেকে ৪০০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

টয়োটার জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি মাত্র ১১ লাখ টাকায়!

টয়োটা অ্যাকুয়া হাইব্রিড। দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে টয়োটার জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড কার। এটি একটি রিকন্ডিশন কার। এতে হাইব্রিড সিনারজি ড্রাইভিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটি জ্বালানির পাশাপাশি ব্যাটারিওতেও চলে। ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি ২০১৩ সালের মডেল। এটি ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের মডেলেও পাওয়া যাচ্ছে। মডেলেভেদে এবং গ্রেডভেদে এর দাম ভিন্ন হয়। তবে ২০১৩ সালের মডেল পাওয়া যাচ্ছে ১১ লাখ টাকায়। জাপানে জনপ্রিয় এই মডেলটি বাংলাদেশের বাজারে ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নগরের রাস্তায় এই গাড়ির দেখা মেলে।

টয়োটা অ্যাকুয়া হাইব্রিড গাড়িতে আছে ১৪৯৬ সিসির ইঞ্জিন। এতে ৪ সিলিন্ডার ওয়াটার কুলড ডিওএইচসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রোট্রেল ই ইলেকট্রিক ড্রাইভেন গাড়িটি ৭২ বিএইচপি শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

এর ম্যাক্স টর্ক ১১১ এনএম। টপস্পিড ১৮০ কিলোমিটার। ই-সিভিট ট্রান্সমিশন সমৃদ্ধ গাড়িটি ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ। বেশ কয়েকটি রঙে বাংলাদেশের বাজারে গাড়িটি পাওয়া যাচ্ছে। এর ডিজাইন দুর্দান্ত। ছোট খাটো আকৃতির গাড়িটি ফাইভ সিটার বা পাচঁজন বসতে পারে। টয়োটা দাবি করছে গাড়িটিতে ২০ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যাবে। লো মেইনট্যান্সের এই গাড়িতে ফুয়েল ট্যাংকের পাশাপাশি ব্যাটারি রয়েছে। গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকা অবস্থায় ব্যাটারি চার্জ হয়।

হাইব্রিড গাড়ি চলার জন্য প্রাথমিক শক্তি হিসেবে হাইব্রিড ব্যাটারি এবং দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়। ব্যাটারির চার্জ যদি শেষ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন চালু হয়। ব্যাটারির শক্তি গাড়ির জন্য যথেষ্ট না হলে হাইব্রিড ব্যাটারি এবং ইঞ্জিন যৌথভাবে শক্তি উৎপাদন করে এবং গাড়ির চাকাকে গতিশীল রাখে। ব্যাটারি চাকার ঘূর্ণন গতি এবং ইঞ্জিনের পরিত্যক্ত কর্মশক্তি থেকে চার্জ সংগ্রহ করে। এভাবেই হাইব্রিড গাড়ি পরিচালিত হয়।

হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা প্রসঙ্গে কথা বলেন মেভেন অটোস এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, হাইব্রিড গাড়িতে একই সঙ্গে ফুয়েল এবং ব্যাটারির শক্তি ব্যবহৃত হয়। যা ফুয়েল খরচকে অর্ধেকে নামিয়ে আনে। গাড়ির শক্তি বা কার্যক্ষমতাকে হ্রাস না করে যে সুবিধা হাইব্রিড গাড়ি প্রদান করে তা সাধারণ গাড়ি দিতে পারে না। হাইব্রিড গাড়ির মূল্য সাধারণ গাড়ি থেকে বেশি হলেও গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির খরচের সঙ্গে তুলনা করলে হাইব্রিড গাড়ি বেশ সাশ্রয়ী।

কীভাবে হাইব্রিড গাড়ি কাজ করে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাইব্রিড গাড়িতে জ্বালানি এবং ব্যাটারি শক্তি ব্যবহৃত হয়। ইঞ্জিন যখন জ্বালানিতে চলে, তখন ব্যাটারি ইঞ্জিনের পরিত্যক্ত শক্তি সংগ্রহ করে। আবার চাকা ঘুরলে (যেমন; উইন্ডমিল) যে ঘূর্ণন শক্তি উৎপাদন হয় তা থেকেও ব্যাটারি শক্তি পায়।

আর যখনি ব্যাটারি পরিপূর্ণ বা আংশিক চার্জ হচ্ছে তখন ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে ব্যাটারির শক্তিতে গাড়ি চলতে থাকে। তবে এসব পরিবর্তন গাড়ি নিজে থেকেই করে। এজন্য আলাদা কোন সুইচ চাপতে হয় না। গাড়ি নিজের প্রয়োজনে ব্যাটারি বা ফুয়েলকে জ্বালানি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে।

হাইব্রিড গাড়ি যেহেতু অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রস্তুত হয়ে আসে, সেহেতু পৃথিবীর নামকরা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বুঝে শুনেই এসব গাড়ি নির্মাণ করে। তাই এ গাড়ি সিএনজিতে রুপান্তর করা গাড়ির চেয়েও অনেক নিরাপদ এবং কার্যকরী। খরচও কম। রিকন্ডিশনড গাড়িটির দাম মাত্র ১১ লাখ টাকা।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৩০ গ্রামে ঈদ উদযাপন

সুরেশ্বর দরবার শরীফ

রাবরের মতোই সুরেশ্বর দরবার শরীফের কমপক্ষে লক্ষাধিক মুরিদ-ভক্ত রোববার (১১ আগস্ট) পবিত্র ঈদউল আজহা উদযাপন করছেন।

সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ১৪৮ বছর ধরে একদিন আগে রোজা রাখা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন তারা।

সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের গদীনশীন পীর ও আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ খাজা শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রাঃ) অনুসারীরা মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি ধর্ম প্রাণ মুসলমান রোববার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

সেই হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী ও শিবচর উপজেলার বাহেরচর, কেরানীরবাট, কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট, রমজানপুরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন।

সকালে মাদারীপুর জেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৩০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার তাল্লুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালকিনির খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।