সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৩০ গ্রামে ঈদ উদযাপন

সুরেশ্বর দরবার শরীফ

রাবরের মতোই সুরেশ্বর দরবার শরীফের কমপক্ষে লক্ষাধিক মুরিদ-ভক্ত রোববার (১১ আগস্ট) পবিত্র ঈদউল আজহা উদযাপন করছেন।

সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ১৪৮ বছর ধরে একদিন আগে রোজা রাখা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন তারা।

সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের গদীনশীন পীর ও আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ খাজা শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রাঃ) অনুসারীরা মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি ধর্ম প্রাণ মুসলমান রোববার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

সেই হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী ও শিবচর উপজেলার বাহেরচর, কেরানীরবাট, কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট, রমজানপুরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন।

সকালে মাদারীপুর জেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৩০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার তাল্লুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালকিনির খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।

রাজৈরে মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসুল্লিকে কুপিয়ে হত্যা

Crime

মাদারীপুরে তারাবির নামাজ আদায় করা অবস্থায় মজিবর ব্যাপারী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মঠবাড়ি এলাকার একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবর ওই এলাকার মৃত নওয়াব আলী ব্যাপারীর ছেলে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া বলেন, নিহত মজিবর ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর ফুফাতো ভাই আশরাব ব্যাপারী ও লিঙ্কন ব্যাপারীর বিরোধ ছিল। এর আগেও তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তাঁর ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি শাহজাহান মিয়া আরও জানান, রাত আটটার দিকে তারাবির নামাজ আদায় করতে মসজিদে ঢোকেন মজিবর। এ সময় মসজিদের ভেতরে অর্ধশত মুসল্লি নামাজ আদায় করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। পরে মজিবরকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করেন। মজিবর দৌড়ে বাইরে চলে আসার চেষ্টা করলে মসজিদ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁর গতিরোধ করে ফের কোপানো শুরু করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে হইচই শুরু হলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মজিবরকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এই ঘটনার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাজৈর থানার পুলিশ। এলাকায় আতঙ্ক থাকায় আমগ্রাম ও মঠবাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘মসজিদে ঢুকে এমন সন্ত্রাসী হামলা যারা করেছে, তাদের আটক করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। আশা করছি দ্রুত তাদের আটক করা হবে।’

‘কেনার সামর্থ্য যাদের নেই তাদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণ’

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় জমে উঠেছে ঈদের বাজার। বিক্রিতে ব্যস্ত বিক্রেতারাও। জামা-কাপড় থেকে শুরু করে জুতা-স্যান্ডেলের দোকান সর্বত্রই এখন ভিড়। এরই মাঝেই এক ব্যবসায়ীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। শিবচর পৌর বাজারের খলিফা পট্টিতে ‘কিডস ক্লাব’ নামের বাচ্চাদের জুতা-স্যান্ডেল ও পোশাকের দোকানের সামনে ঝুলছে হাতে লেখা একটি বিজ্ঞপ্তি। তাতে লেখা “কেনার সামর্থ যাদের নেই তাদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণ”!

দোকানের সামনে আলাদা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাচ্চাদের জুতা-স্যান্ডেল। রয়েছে প্যাণ্ট ও টি শার্টও। গত বছর প্রথম শুধুমাত্র বাচ্চাদের পোশাক ও ফুটওয়্যার নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শিবচরে শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্য এ ধরণের দোকান দ্বিতীয়টি নেই। তাই রোজার প্রথম থেকেই বেশ ভিড় রয়েছে দোকানটিতে। এরই মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও পথশিশুদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় তিন হাজার পিচ জুতা-স্যান্ডেল আলাদা করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

‘কিডস ক্লাব’ এর সত্ত্বাধীকারী তানজিল আহমেদ খান জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন পোষাক, জুতা-স্যান্ডেল কিনতে সবাই ব্যস্ত। শুধু ধনীরাই নন, খেটে খাওয়া মানুষগুলোও তাদের সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন পোষাক কেনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারপরও আমাদের সমাজে এমনও দরিদ্র মানুষ আছে যারা ঈদে একটা জামা বা স্যান্ডেল কিনে দিতে পারেন না সন্তানদের জন্য। পথ শিশুরা দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। তাদের জন্যই এই ব্যবস্থা। তিনি আরো বলেন, অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের মুখে যেন হাসি ফোটে। সেই বিষয়টি চিন্তা করেই তাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জুতা-স্যান্ডেল দেবার ব্যবস্থা করেছি। প্রায় তিন হাজার পিচ পণ্য রাখা ছিল। বেশ সাড়া পড়েছে। আমি আনন্দিত এ সকল বাচ্চাদের জন্য কিছু করতে পেরে।

ঈদ বাজার করতে আসা একাধিক মানুষ জানান, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রথম দেখলাম। ভিন্ন এ আয়োজন সত্যিই প্রশংসানীয়। সমাজে হতদরিদ্রদের সহায়তায় তার মতো আরো ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসা উচিত।

যুবদলের ৩১ জেলার নতুন কমিটি গঠন

সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একযোগে ৩১টি জেলা ও মহানগর শাখার নিউক্লিয়াস কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। শুক্রবার রাতে সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এসব কমিটি অনুমোদন দেন। নিউক্লিয়াস কমিটিগুলোকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের অনুমোদন নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে টাঙ্গাইলে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৭ই জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি। দীর্ঘ ১৭ মাস পর আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩১টি জেলা শাখার নিউক্লিয়াস কমিটির অনুমোদন দিলো সংগঠনের বর্তমান কমিটি।

এদিকে নতুন কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া চারদিকে। কিছু কিছু জেলায় নতুন কমিটিকে স্বাগত জানানো হলেও কিছু জেলায় তৈরি হয়েছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। খুলনায় নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য বিলুপ্ত মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। নবগঠিত কমিটিগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা; কুমিল্লা (উত্তর) জেলা সভাপতি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদ শাহ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. তৌহিদুল ইসলাম; বান্দরবান জেলা সভাপতি হারুন অর রশিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাস, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলী মুন্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী; খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ম সম্পাদক কমল বিকাশ ত্রিপুরা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ওয়াসিম। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সিনিয়র সহ-সভাপতি নিজাম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক এমএ মুহিত, যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন; সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি আবুল মঞ্জুর শওকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কয়েছ, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আলী খান কবির, যুগ্ম সম্পাদক শিবলু খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির আহমেদ বাপ্পী; বরগুনা জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক জাবিদুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব স্বপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন; বরিশাল (উত্তর) জেলা সভাপতি মোল্লা মাহফুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন পিপলু, যুগ্ম সম্পাদক ফুয়াদ দেওয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম হাওলাদার; ভোলা জেলা সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হাসান; ঝালকাঠী জেলা সভাপতি জি এম সবুর কামরুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন তুহিন, যুগ্ম সম্পাদক আসলাম হোসেন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খান; পিরোজপুর জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান শাহীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাইদ, যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেন। ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি কাজী রায়হান উদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম রফি অপু, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুর রহমান পাভেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স; ঢাকা জেলা সভাপতি রেজাউল কবির পল, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব খান; কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সুমন, যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক তারেকুজ্জামান পার্নেল; শেরপুুর জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রুপন; নেত্রকোনা জেলা সভাপতি মশিউর রহমান মশু, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়ারেস উদ্দিন ফরাস, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দীন রিপন, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আক্তারুল ইসলাম কমল ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাসমাত হাসান সৈকত; নরসিংদী জেলা সভাপতি মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহান শাহ সানু, সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান হাসান, যুগ্ম সম্পাদক দিদার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোকারম হোসেন ভূঁইয়া। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলা সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক তাবারক হোসেন বিল্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিচ; জয়পুরহাট জেলা সভাপতি ওবায়দুর রহমান সুইট, সিনিয়র সহ-সভাপতি তহিদুল ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ কবির শুভ্র, যুগ্ম সম্পাদক আজহার আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী মোকাররম; গাইবান্ধা জেলা সভাপতি রাগীব হাসান চৌধুরী রিন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিপন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টু, যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ সেকেতুর রব অনিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শহিদুন্নবী তিমু; দিনাজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল মোনাফ মুকুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদুজ্জামান রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল নিসাত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোকসেদুল ইসলাম টুটুল; নীলফামারী জেলা সভাপতি সাইফুল্লাহ রুবেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আক্তারুজ্জামান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আল নোমান পারভেজ কল্লোল। রাজশাহী বিভাগের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি তবিউল ইসলাম তারিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মানিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান অনু, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল হক হায়দারী ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মর্তুজা; নাটোর জেলা সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সদরুল ইসলাম ডাম্বেল, সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন জহির, যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ; নওগাঁ জেলা সভাপতি বায়োজিত হোসেন পলাশ, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম গোল্ডেন, যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম খান মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হায়দার টিপু। খুলনা বিভাগের যশোর জেলা সভাপতি তমাল আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান ধনী, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বাবু; চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ বিশ্বাস মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম বিপ্লব ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ রাজিব খান; মাগুরা জেলা সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম রূপক, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব আলী মিল্টন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনজুম হাসান সুমন; নড়াইল জেলা সভাপতি মশিয়ার রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ শিহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সায়দাত কবির রুবেল, যুুগ্ম সম্পাদক হাসান জাহাঙ্গীর সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাব।

এদিকে আশরাফ পাহেলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৮১ সদস্যবিশিষ্ট টাংগাইল জেলার কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান খান টিটোন, আবদুল্লাহ হেল কাফি শাহেদ, সৈয়দ হাবিবুল আলম শাতিল, ফরহাদ আহমেদ ফারুক, মনিরুজ্জামান জুয়েল, জাহিদ হোসেন মালা, তানভির হোসেন সজল ও সদস্য সচিব মাসুদুল ইসলাম তালুকদারসহ ৬৯ জন সদস্য রয়েছেন।

মাদারীপুরে বাড়ছে কলা চাষ

কলা চাষ করে লাভবান হচ্ছে মাদারীপুরের কৃষকরা। আর প্রতি বছরই বাড়ছে কলা চাষের পরিধি। কৃষি বিভাগও কলা চাষীদের তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে তাদের পাশে থাকছেন।

দেলোয়ার হোসেন মাদারীপুর সদর উপজেলার বলাইরচর এলাকার একজন কৃষক। তিনি কয়েক বছর আগে রাজশাহী থেকে কলা গাছের চারা সংগ্রহ করে এক টুকরা জমিতে কলা চাষ শুরু করে। প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তার পরামর্শে পরিচর্যা করে কলা বাগানের। প্রথমবারেই ফলন ভাল পাওয়ায় এবং লাভবান হওয়ায় তিনি বড় আকারে কলা চাষ শুরু করেন। তার দেখা দেখি এখন এলাকার অনেকেই কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। প্রতি বছরই হচ্ছে নতুন নতুন কলার বাগান।

কলা চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। শুরুতে প্রতিটি কলাগাছের পিছনে কৃষকদের খরচ করতে হয় ১০০ টাকা। পরবর্তী বছর থেকে প্রতিটি কলা গাছে খরচ হয় ৫০ টাকা। কলার একটি ছাড়া (যাতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হালি কলা থাকে) কৃষক বিক্রি করে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। প্রথম বছর ১০ মাসে ফলন পাওয়া যায়। এরপর প্রতি ৮ মাস অন্তর ফলন পায় কৃষক।

মাদারীপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, কৃষকদের কলা চাষে আগ্রহী করা এবং তাদের নিয়মিত তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে থাকে কৃষি বিভাগ।

সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে ও স্থানীয়ভাবে কলার বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকরা কলা চাষ করে আরও লাভবান হতে পারবে দাবি কৃষকদের।

সেতুর অভাবে ২০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টংকাবতী খাল। ওই এলাকায় জলিল নগর নামক এলাকাটি ঘন জনবসতিপূর্ণ। খালের দক্ষিণ পাশে লোহাগাড়া উপজেলার সর্বশেষ উত্তর সীমানা এবং খালের উত্তর পাশে সাতকানিয়া উপজেলার সর্বশেষ দক্ষিণ সীমানা। খালের দক্ষিণ পাশে রয়েছে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর আমিরাবাদ ও জলিল নগর এবং খালের উত্তর পাশে রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা ও ধাইমার পাড়া। বিশাল জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার অসংখ্য জনগণ গ্রীষ্ম ও বর্ষায় ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি খাল পারাপারে মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, ৭০ মিটার দীর্ঘ টংকাবতী খাল পারাপারে যুগ যুগ থরে কোনো পাকা সেতু না থাকায় মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগে আছে এলাকার ২০ হাজার মানুষ। সরকারের কাছে তারা দীর্ঘদিন ধরে উল্লিখিত স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কারণ, বর্ষার অথৈ বানের পানিতে খাল পারাপার তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তখন জনজীবন একেবারে অচল হয়ে যায়। অসংখ্য স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত ঘটে এবং অনেক সময় গর্ভবতী মহিলা ও মুমূর্ষু রোগীদের স্বল্প সময়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়াও দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। গ্রীষ্মকালে পায়ে হেঁটে পারাপারের জন্য প্রতি বছর নিজেদের আর্থিক ব্যয়ে এলাকাবাসী কোনোমতে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে খাল পারাপার হন।

এ প্রসঙ্গে জলিল নগরের হাজী আবদুল জলিল কোম্পানির ছোট ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিছ জানান, তিনি বহু বছর ধরে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বর্তমান এমপিপতœী রিজিয়া রেজার সহযোগিতায় তিনি ড. আবু রেজা নদভীর শরণাপন্নও হন। এমপি নদভী তখন এলজিআরডি লোহাগাড়া শাখার চিফ প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানকে নির্দেশ দেন মাঠপর্যায়ে জরিপ করার জন্য। তিনি জরিপকাজ সম্পন্ন করে বছরখানেক আগে রিপোর্ট জমা দিলেও অদ্যাবধি সেখানে সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় তিনিসহ এলাকাবাসী হতাশ। হ

তাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একই খালের ওপর পৃথক দু’ স্থানে দুটি সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু যে স্থান দিয়ে লোকজনের চলাচল বেশি, সেই স্থান দিয়ে সেতু নির্মাণে আজো কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তিনি নদভী এমপির কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য।

শেখ হাসিনা উইমেন্স কলেজ এবারেও মাদারীপুর জেলায় শীর্ষে

এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফলে এবারেও মাদারীপুর জেলায় প্রথমস্থান অর্জন করেছে কালকিনি উপজেলার ডাসারের সরকারী শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ। কলেজটি থেকে ২০১৭সালের এইচ এস সি পরীক্ষায় ৩৮৩জন অংশগ্রহন করে ৩৮১জন সাফল্য অর্জন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ৮১জন জিপিএ-৫, ২৭৬জন এ গ্রেড ও ২৪জন এ মাইনাস প্রাপ্ত।

সরকারী শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ ২০১০সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে মাদারীপুর জেলায় ভাল ফলাফলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিজেদের সাফল্যের শীর্ষে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রবিবার পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরে নিজেদের সাফল্যে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিবাবক বৃন্দ।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।

বরিশালের বাসের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ৩

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

রোববার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কামালদী সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রাজৈর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান।

নিহতরা হলেন- বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার স্বপন কুমার ঘোষের ছেলে শুভ কুমার ঘোষ (২২), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মহিউদ্দিন খানের ছেলে সাইদুর রহমান (৪০) ও শহরের জাকির হোসেন (৪৫)।

আহতদের মধ্যে দুইজনকে পাঠানো হয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাকিদের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওসি কামরুল বলেন, সকালে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী আমবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুটি পরিবহন দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাসের দুই যাত্রী।

মিলন আদালতে নিতুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে

স্কুলছাত্রী নিতু মণ্ডল হত্যা মামলায় মিলন মণ্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ সোমবার মাদারীপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ হাকিম ফৌজিয়া হাফসার কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডাসার থানার উপপরিদর্শক মো. বায়েজিদ মৃধা জানান, মিলন মণ্ডলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের
রিমান্ড চাওয়া হয়। মিলন মণ্ডল বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। আদালত তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নিতু মণ্ডলকে (১৪) স্কুলে যাওয়ার পথে গতকাল রোববার সকালে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী মিলন মণ্ডল নামের এক যুবককে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
নিতুর বাবা নির্মল মণ্ডল কালকিনির ডাসার থানায় রোববার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় মিলন মণ্ডলকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে স্কুলছাত্রী নিতু মণ্ডল হত্যার প্রতিবাদে আজ সোমবার মুখর নবগ্রামের মানুষ। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নবগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা মানববন্ধন করেছেন। সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

nitu-mondol

কালকিনির নবগ্রামে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিতু মণ্ডল (১৫) নামের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মিলন নামের এক বখাটে।

আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিতু মণ্ডল উপজেলার আইলসাকান্দি গ্রামের নির্মল মণ্ডলের মেয়ে। সে নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

ডাসার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করেছে এবং ঘাতক বখাটেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

মাদারীপুরে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের শিক্ষককে কুপিয়ে জখম

মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় জনতা ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে ধরে ফেলে। আহত শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের পাশে শিক্ষকের বাসায় ঢুকে এ হামলা চালানো হয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা উত্তম কুমার পাল জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, আটককৃত তার নাম জানিয়েছে গোলাম ফাইজুল্লাহ। তার পিতার নাম গোলাম ফারুক। বাড়ি চাপাই নবাবগঞ্জের দীঘিয়াপাড় গ্রামে।

মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ মো. জহুরুল হক রাত পৌনে ১০টায় অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে বের হয়ে বলেন, শিক্ষকের মাথায়, ঘাড়ে ও কানে ছয়টি ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। গভীর ক্ষতের কারণে তাঁর শরীর থেকে বেশ রক্ত বের হয়ে গেছে। দ্রুত রক্ত দেওয়া শুরু হওয়ায় অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।

কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মিরাজ সরদার বলেন, ‘পৌনে পাঁচটার দিকে আমরা কলেজ গেট দিয়ে স্যারের বাসার দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় বাড়িওয়ালা চিৎকার দিয়ে বলেন, স্যারকে কুপিয়ে কয়েকজন ফেলে রেখে পালাচ্ছে। তখন ওই গেট দিয়ে তিনজন একটি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে ইজিবাইকে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে দুর্বৃত্তদের আটকে ফেললেও দুজন পলিয়ে যায়। একজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।’


পুলিশ সাংবাদিকদের কাছে আটককৃত ফাইজুল্লাহ জানিয়েছে, সে ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুইজনের সাথে এসেছিল। এ বিষয়ে সে কিছু জানে না।


পুলিশ জানায়, রিপন চক্রবর্তীর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রামে। এক বছর আগে বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজ থেকে বদলি হয়ে নাজিমউদ্দিন কলেজে যোগ দেন তিনি। কলেজের পাশে একটি বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন তিনি।
ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী আক্তার বলেন, ‘পাঁচটার দিকে আমি দোতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় ওই শিক্ষককে বাসার ভেতর ঢুকতে দেখি। তাঁর কিছুটা পেছনে তিন যুবকও আসছিল। আমি ভেবেছিলাম তারা হয়তো কলেজছাত্র। দুই মিনিট পরেই ওই শিক্ষকের চিৎকার শুনে দৌড়ে নিচে যাই। দেখি কয়েকজন যুবক তাঁকে কোপাচ্ছে, এমন অবস্থা দেখে আমরাও চিৎকার করি। তখন হামলাকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত ওই শিক্ষককে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

রিপন চক্রবর্তীর স্ত্রী মনিমালা রায় গৌরনদী পালরদী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। গত রাতে হাসপাতালে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করার কারণে রিপন মাদারীপুরে ভাড়া বাসায় একাই থাকে। কারা, কী কারণে তাকে কুপিয়েছে কিছুই জানি না।’

নাজিমউদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ হিতেন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আক্রমণের ধরন দেখে জঙ্গি হামলার মতো মনে হয়েছে। পুরো ঘটনাটিতেই আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’

ঘটনাস্থলের কাছে হামলায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি পাওয়া গেছে। জনতার হাতে আটক একজন হামলাকারী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাঁর নাম গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম (২০)। বাবার নাম গোলাম ফারুক। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দীঘিরপাড় গ্রামে।

শিক্ষক রিপন যে বাসায় ভাড়া থাকেন তার অবস্থান কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে। ওই বাসা থেকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার দূরত্ব ১০০ মিটার।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের বিলগ্রাম গ্রামের প্রয়াত রবি চক্রবর্তীর ছেলে রিপন চক্রবর্তী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। পালরদী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক চিত্তরঞ্জন দাস জানান, রিপন ছাত্রজীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সেবায়েত হিসেবে কাজ করেন।

রিপনের কাকাতো ভাইয়েরা বলেন, রিপন মাদারীপুরে চাকরি করার আগে ও পরে সেবায়েত হিসেবে এলাকায় কাজ করেন। বিভিন্ন সময় ভক্ত ও শিষ্যদের বাড়িতেও পূজায় পুরোহিত হিসেবে কাজ করেন।

গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার দারিয়াপুরে। বাবা গোলাম ফারুক ২২ বছর ধরে গ্রামের বাড়িতে থাকেন না, ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ফাহিমের জন্ম ঢাকায়। নানাবাড়ি কক্সবাজারে। তিনি ঢাকার উত্তরার একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। তাঁর মামা ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে কর্মরত। বাড়িতে থাকা চাচা মো. এমদাদুলের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারুল ইসলাম।

ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক মুঠোফোনে বলেন, ‘১২ জুন ফাহিমের একটি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার আগের দিন সে বাড়ি ছাড়ে। এ ব্যাপারে দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য র‌্যাবের কাছেও আবেদন করা হয়েছে। দুই ভাইবোনের মধ্যে ফাহিম বড়। এটাই আমার জীবনের বড় দুর্ঘটনা’ বলে বাবা মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

প্রথম আলো’র সৌজন্যে জানা যায়, জিডির বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, ১১ জুন গোলাম ফারুক জিডিটি করেন। এতে বলা হয়, ওই দিন ফাইজুল্লাহ ব্যবহারিক (প্রাকটিক্যাল) খাতা নিয়ে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাদের দক্ষিণখান থানার ১২৯ ফায়দাবাদের টিআইসি কলোনির বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ গৌরনদীর ৬ ডাকাত আটক

মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তাফাপুর জুয়েল চৌকিদারের বাগান থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গৌরনদীর ৬ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পাইপগান, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলো রুবেল ফকির, ইদ্রিস সরদার, সাদ্দাম গাজী, বাবুল দালাল, আমির বেপারী, ওসমান ফকির। আটককৃদের সবার বাড়ী বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কমলাপুর তুলাতলা গ্রামে।


মাদারীপুর ডিবি পুলিশের এসআই মো. রাজিব জানান, মঙ্গলবার রাত দু‘টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুয়েল চৌকিদারের বাগান থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের অস্ত্রসহ আটক করা হয়। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।