বরিশালের হোটেল সমূহের যোগাযোগের নাম্বার ও ঠিকানা

হোটেল ও আবাসন

সরকারি আবাসন

সার্কিট হাউজ, বরিশাল

কক্ষের সংখ্যা২৩ টি
ভিভিআইপি (এসি)০৪ টি
 ভিআইপি (এসি)০৮ টি
সাধারণ (এসি)০৩ টি
সাধারণ (নন-এসি)০৮ টি
যোগাযোগ০১৭৪৩১০১৩২০

 

ভাড়ার হার

ভিভিআইপি (এসি)ভিআইপি (এসি)সাধারণ (এসি)
সরকারি কর্মকর্তা

৬০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

১০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

১ সিট-২৫/-

২সিট-৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

১ সিট-৭৫/-

২ সিট-১৫০/-

 

জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, বরিশাল

কক্ষের সংখ্যা২০ টি
ভিআইপি০১ টি
সাধারণ (এসি)০৩ টি
সাধারণ (নন-এসি)১৬ টি

 

ভাড়ার হার

ভিআইপিসাধারণ (এসি)সাধারণ (নন-এসি)
সরকারি কর্মকর্তা

১৫০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

৩০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

৪০০/-

সরকারি কর্মকর্তা

১০০/-

বেসরকারি কর্মকর্তা

২০০/-

 

বেসরকারি আবাসন

হোটেলঠিকানামোবাইল নম্বর
হোটল গ্রান্ড পার্কচাঁদমারি, বরিশাল০৪৩১-৭১৫০৮
হোটেল সেডোনাসদর রোড, বরিশাল০৪৩১-৭১৫০৮

০১৭৭৭৭৩৫১৭১-২

হোটেল এ্যাথেনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)কাটপট্টি রোড, বরিশাল০১৭১২২৬১৬৩৩
হোটেল রোদেলা (আবাসিক)ফলপট্টি, বরিশাল০১৭০৯১৪৩১৮১
হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০৪৩১-৬৪৭৩২

০১৭১১৩৩৭৫৮১

এরিনা হোটেল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০১৭২৪৪৪৪৪৮৮
হোটেল জিলানী (আবাসিক)দক্ষিণ চকবাজার, বরিশাল০১৭১৫৯৯৯৯১২
হোটেল প্যারাডাইস-১ (আবাসিক)হাসপাতাল রোড, বরিশাল০৪৩১-৬১৯৫৫

০১৭১৮৩৩৫১০৫

হোটেল প্যারাডাইস-২ (আবাসিক)হাসপাতাল রোড, বরিশাল০১৭২৪৮৫৩৫৯০
হোটেল ইম্পেরিয়াল (আবাসিক)গীর্জা মহল্লা, বরিশাল০৪৩১-৬৪৪৭৯

০১৭১১৫৮৫৭৫৮

হোটেল গোল্ডেন ইন (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০৪৩১-২১৭৫১৬৯
হোটেল ইসলামিয়া (আবাসিক)চকবাজার, বরিশাল০১৭৬৮২১৪৭৭৩
হোটেল পার্ক (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০১৭১০৯৬৪৪৪০
হোটেল ধানসিঁড়ি (আবাসিক)কাটপট্টি রোড, বরিশাল০১৭২৬০৩৪৯৬৯
হোটেল আবাবিল (আবাসিক)বগুড়া রোড, বরিশাল০৪৩১-৬৩২৬৬
হোটেল ওয়ান (আবাসিক)এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল০৪৩১-২১৭৫২২৫

০১৭৪৭৯৯৩৭৩৩

হোটেল নুপুর (আবাসিক)লাইন রোড, বরিশাল০৪৩১-২১৭৩৬৩৯
হোটেল হক ইন্টান্যাশনাল (আবাসিক)সদর রোড, বরিশাল০১৭৯২১৫১১৯১
হোটেল ফেয়ার স্টার (আবাসিক)চামারপট্টি রোড, বরিশাল০১৭১১১৮৩২৯৪
মুন ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)সাদরদী, বরিশাল০১৭৩৪০৯১৫৩১
হোটেল আল জাজিরা (আবাসিক)পূর্ব বগুড়া রোড, বরিশাল০১৭৪০৮৮০৮২৫
হোটেল গ্রান্ট প্লাজা (আবাসিক)পোর্ট রোড, বরিশাল০১৯১৭৪৫০০৮৮

 

ছবি

ঈদে বিশেষ সার্ভিস দিবে বরিশালের ২৫টি লঞ্চ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবার বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সরাসরি ২৩টি নৌযান বিশেষ সার্ভিস দেবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৌযান সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির দুটি নৌযান ঈদের বিশেষ সার্ভিস দেবে। সরকারি-বেসরকারি এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল পথে আগামী ৮ আগস্ট থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে এবং তা চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় নৌযান সংস্থার নৌযানগুলো বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে ৮ আগস্ট থেকে। এবার ঈদের আগে ও পরে একদিন করে দুটি করে নৌযান রাখা হয়েছে। সংস্থার পাঁচটি নৌযান যথাক্রমে এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালি, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা এবং পিএস টার্ন ঈদের বিশেষ সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করবে। লঞ্চগুলো ঢাকা-বরিশাল-ঝালকাঠি-হুলারহাট (পিরোজপুর)-মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট) পর্যন্ত চলবে।

ঈদের আগে ১০ আগস্ট ঢাকা থেকে দুটি লঞ্চ পিএস মাহসুদ এবং পিএস লেপচা চলবে। পরদিন ১১ আগস্ট মাহসুদ মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত এবং লেপচা বড় মাছুয়া পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে যাবে। পরে লেপচা বড়মাছুয়া থেকে ফিরে বরিশাল নৌবন্দরে অবস্থান করবে। ঈদের পর ১৬ আগস্ট বিশেষ সার্ভিস হিসেবে বরিশাল থেকে দুটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাবে। লঞ্চ দুটি হলো এমভি বাঙালি ও পিএস লেপচা।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের বিশেষ সার্ভিস নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লঞ্চের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে।

বেসরকারি লঞ্চ মালিক সূত্রে জানা যায়, আগামী ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সরাসরি ২৩টি নৌযান বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে। এর মধ্যে দিবা সার্ভিসে চলাচলকারী গ্রিন লাইনের দুটি লঞ্চ রয়েছে। যাত্রী চাপ থাকলে প্রয়োজনে লঞ্চের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

বিআইডব্লিউটিসির নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি আর হয়রানি রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। টার্মিনালে হটলাইনসহ কন্ট্রোল রুম স্থাপন, পুলিশ হেল্প ডেস্ক, নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যাদির বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বরিশাল নৌবন্দর থানা পুলিশের ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী বন্দরে সার্বিক নিরাপত্তায় পোশাকধারীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারীসহ দুষ্কৃতকারীদের প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে থাকবে পুলিশ। যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

শুধু মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছে শতাধিক এতিম শিশু!

বরিশাল নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছ গ্রাম সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শতাধিক এতিম শিশু পানি এবং বিদ্যুই নয় বর্তমানে না খেয়েও জীবন-যাপন করছে।

সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয়রা অবগত হলেও তারা কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছে ছাত্র-শিক্ষকরা। এই সমস্যা সমাধানে অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফিরোজী।

জানা গেছে, ১ বছর আগেও একটি ভাড়া বাড়িতে ছিল এই এতিমখানা ও মাদ্রাসাটি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র ফিচার প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর। পরবর্তীতে তিনিসহ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সশরীরে উক্ত মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং শতাধিক এতিম ছাত্রের বাস্তব অবস্থা অবলোকন করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

সেই অনুদান দিয়ে জমি ক্রয়, চারতলা ভিত্তির ওপর ১ তলা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে প্লাস্টারের কাজ। এ দিকে অনুদানকৃত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চরম অর্থ সঙ্কটে ভুগছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার ওপর মরার ওপর খরার ঘায়ের মতো রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা।

শুধু তাই নয় বর্তমানে অর্থের অভাবে না খেয়ে জীবন-যাপন করছে শতাধিক এতিম শিশু। গত এক সপ্তাহ ধরে মাদ্রাসায় চাল-ডাল না থাকায় দুপুরে মুড়ি খেয়ে বেচেঁ আছে এতিমরা। অন্য দিকে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ। মাদ্রাসার পরিচালক টাকার চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ছে। এতিমদের চোখে কাঁন্না ঝড়। চলছে আর্থিক সংকটে এতিমদের জীব।

মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজী সাহেব কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘কষ্টের পরে একটু মাথা জগার ঠাই হয়েছে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ স্যারে কারনে।তবে যে টাকা পেয়েছি তার কাজের পিছনেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ সব শেষ হয়নি। তার মধ্যে ছাত্রদের খাবার, বিদ্যু, পানি সংকটের পাশাপাশি খাবার সংটক দেখা দিয়েছে।

ছোট ছোট এতিম শিশুদের দুপুরে ভাতের পরির্বতে খাওয়াতে হচ্ছে মড়ি। কোন মহান ব্যাক্তি মাদ্রাসার এতিম শিশুর খাবার জন্য চাল দান করলে এই সম্যসা দেখতে হতোনা। টাকা জন্য সমাজের বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েও হিমসিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের।’

এতিমখানাটি হওয়ায় সমাজের বিত্তবানদেরও তেমন নজর নেই বলে জানান তারা। প্রতিবছর অনেক এতিম শিশুকে ভর্তি না করেই ফেরত দিতে হয় তাদের। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় শতাধিক এতিম শিশুর মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে বলে দাবি তাদের।

ছেলের বিল্ডিংএ ঠাই হয়নী বৃদ্ধা মায়ের

মায়ের কাছ থেকে জোড় পূর্বক জমি লিখে নিয়ে তা বিক্রি করে নিজ বাড়িতে দ্বিতল বিল্ডিং নির্মান করে স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকে ভূমিদস্যু ছেলে, আর বৃদ্ধ মাকে রেখেছে বাইরে টিনের ছাপড়া দিয়ে কাঠের মাচা (মাইচ্চা) করে পরিত্যাক্ত ঘরে। ছেলের বিল্ডিংএ বৃদ্ধ মায়ের হয়নী ঠাই নেই, নেই কোন চিকিৎসা ও যন্তদাদি।

অবশেষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের ভূমিদস্যু ইউনুসকে সোমবার গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ইউনুস গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। গ্রেফতারের পর এলাকার মানুষ ইউনুসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে।

স্থানীয় ও সরেজমিনে জানা যায়, এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে জমি দখল, রেকর্ড করানোর জন্য টাকা নেয়া, স্থানীয়দের প্রশাসন দিয়ে হয়রানি, প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোসহ অনেক অপকর্ম রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ছাড়াও এলাকায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ। খাজুরিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মুজাফর মিয়ার কাছ থেকে তার বাড়ির মধ্যে জায়গা রয়েছে দাবী করে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে ভূমিদস্যু ইউনুস মিয়া ওরয়ে লেসু।

এছাড়া এলাকার আমজেদ মিয়ার ৮০হাজার টাকা, জহুরা বেগম ও মাহবুবকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি, ও একই এলাকার হান্নান ফকিরের মুদির দোকান চুরির ঘটনায় প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ তালুকদার তাকে মারধর করলে সে এলাকা ছেড়ে ঢাকা যায়। কয়েক বছর পর এলাকায় এসে তার কয়েক অনুসারী নিয়ে শুরু করে ভূমিদস্যুতা, জালজালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ ভূমি জরিপ এর সময় দরিদ্র লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। বুধবার সকালে ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে এলাকার শতশত নারী-পুরুষ এসব অভিযোগ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য ইউনুস মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য আ.কাদের, খালেক ফকির, মজিবুর রহমান মিয়া, তরিকুল ইসলাম, হায়াতুন বিবি, জহুরা বেগম, ইসাকুল ইসলাম, রুহুল আমিন দুলাল, আ. রহিম মিয়া, আবু কাদের, শাহজাহান মিয়া, তোতা মিয়া, কালাম, জসীম মিয়া, আলতাব মিয়া, সামছুল হক প্রমুখ।

//মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী 

বরিশালের রাস্তায় দেশের প্রথম থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং

মানুষকে নিরাপদে রাস্তা পারাপার করার সুবিধা দেয়ার জন্য বরিশাল নগরীর রাস্তায় আঁকা হয়েছে থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক জেব্রা ক্রসিং। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম কোনো রাস্তায় থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং আঁকা হলো বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার রাতে চারুকলা শিল্পীদের সহযোগিতায় নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনা এড়িয়ে রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। তবে এসব জেব্রা ক্রসিং প্রায়ই রাস্তার পরিস্থিতির জন্য চোখে পড়ে না। এ সমস্যা দূর করতে এবং বিষয়টিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এগুলো তিন রঙের স্ট্রাইপ দিয়ে রঙিন করে তোলা হয়েছে। ফলে গাড়িচালকরা যেমন পথচারীদের রাস্তা পারাপারকে গুরুত্ব দেবে- তেমন পথচারীরাও এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই জেব্রা ক্রসিংটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন দূর থেকে দেখে একে মনে হয় চৌকোণা কিছু বাক্স রাস্তার ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে। এই বিভ্রমটি চোখের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে। উঁচু স্থান থেকে দেখে মনে হয় সাদা রেখাগুলো একটি করে দেয়াল তৈরি করেছে রাস্তা বরাবর। আর গাড়িচালকের চোখ থেকে মনে হবে কতগুলো সাদা বাক্স রাস্তার ওপরে ভেসে বেড়াচ্ছে। এর কারণে গাড়ি চালকেরা ওই স্থানে তাদের গাড়ির গতি কমিয়ে দেবে। এতে করে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারী সহজেই চলাচল করতে পারবে এবং দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে।

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মিছিল

উজিরপুরে সরকারি শেরে বাংলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ছাত্রীদের সাথে অশ্লীল আচরণের প্রতিবাদে এবং অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল মাহমুদ আউয়াল এর নেতৃত্বে শত শত শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মীর জাহিদ, মো. উজ্জ্বল বেপারী, জুলমত সরকার, এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র সাব্বির ফকির, সাগর শরীফ, মেহেদী সরদারসহ অভিযোগকারী ছাত্রীরা।

সূত্রে জানা যায়, ডিগ্রি পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকারি নির্ধারিত ফি ৮০০ টাকা থাকা সত্ত্বেও কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন ৩৫২০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৩৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। তিনি অনলাইনে ফি বাবদ জনপ্রতি শিক্ষার্থীর কাছে থেকে ২০০ টাকা এবং প্রশংসাপত্র প্রদান বাবদ ৭০০-১০০০ টাকা হাতিয়ে নেন। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে সরকারি ধার্যকৃত ফি নেওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এমনকি টাকা দিতে না পারলে কয়েকজন ছাত্রীর মায়েদেরকে কাজের জন্য তার বাসায় আসতে বলেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আরো জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনের ৪টি চাম্বল ও ২টি মেহগনি গাছ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, মাদকগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের যৌন হয়ারিনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২টি টাওয়ার থেকে ভাড়া বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

আরো জানা যায়, কলেজে কোন ক্রীড়া অনুষ্ঠান হয় না, ক্যান্টিন-কমনরুম নেই। কিন্তু সে অজুহাতেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে নেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ জানান, আমি কোন শিক্ষার্থীর সাথে অশ্লীল আচরণ করিনি তবে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ মেরামতের জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় করেছি। এ টাকাগুলো শিওর ক্যাশের মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকে কলেজের একটি অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এ রকম অতিরিক্ত ফি আদায় প্রতিটি কলেজই করে থাকে। কেউ অভিযোগ করলে তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তার জানান, অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম কলেজের কোন বিষয়েই আমার সাথে কিছু শেয়ার করেন না, নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেন।

এবারও বরিশালে সেরা মেয়েরা

এ বছরও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ নিয়ে পরপর তিন বছর বোর্ডটিতে পাসের হার ও ভালো ফলে এগিয়ে থাকল মেয়েরা।

এ ছাড়া, গত বছরের তুলনায় এবার এ শিক্ষা বোর্ডে মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাটাও বেড়েছে। এ বছর এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা গতবারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩০ ভাগ বেশি। অন্যদিকে গতবারের থেকে এবার ৭২৭টি জিপিএ-৫ বেড়েছে। ফলে এবার জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ জন।

সোমবার দুপর ১২টায় এসএসসি ও সমমানের ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আনোয়ারুল আ‌জম। তিনি বলেন, এ বছর ওই বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৬ হাজার ৬৬১ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ৫৯৯ জন এবং ছাত্রী ৫৪ হাজার ২২ জন। মোট পাস করেছে ৮২ হাজার ৫৩৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ৩৯ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী ৪৩ হাজার ৫৩৫ জন। এ ছাড়াও বিভাগটিতে পা‌সের হারে এগিয়ে রয়েছে পি‌রোজপুর জেলা।

এ বছরে ছেলেদের পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪১ ও মেয়েদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি মেয়েদের ২ হাজার ২১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জন। বিষয় ভিত্তিতেও পাসের হারেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

বিএম কলেজের হোস্টেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৌরনদীর মানিক নিহত

বরিশালের সরকারি বিএম কলেজের ডিগ্রি হোস্টেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে মানিক হাসান (২৩) নামে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স ১ম বর্ষের ছাত্র ও ডিগ্রি হোস্টেলের ডি-ব্লকের ১২৩ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা। সে গৌরনদীর নন্দনপট্টি গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে।

মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্র ও ডিগ্রি হোস্টেলের বাসিন্দা মো. আজিম জানান, প্রতিদিনের মতো মানিক কোচিং শেষ করে হোস্টেলে ফিরে গোসল করতে যায়। গোসল থেকে ফিরে হোস্টেলের টানানো গুনায় তার ভেজা লুঙ্গি শুকাতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। দ্রুত তাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আজিম আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে হোস্টেলে আরথিং অনুভব করায় বিষয়টি হোস্টেল সুপার ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ সময় উপস্থিত মানিকের সহপাঠী থেকে শুরু করে ডিগ্রি হোস্টেলের আবাসিক বাসিন্দারা হোস্টেল সুপার রফিকুল ইসলামের বিচার দাবি করেন।

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সফিকুর রহমান সিকদার জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল সড়কে ১৫০ ঝুকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি

বরিশাল শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের একাধিক স্থানে সড়কের ওপরে অন্তত ১৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এসব খুঁটির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কের একই স্থানে একাধিক খুঁটি থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক রিটে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত দেশের সড়ক-মহাসড়কের ওপর থাকা সব ধরনের খুঁটি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখনো এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বরিশালে। ফলে যানবাহন চালক-মালিকসহ যাত্রীদের মাঝে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। সড়কের ওপরের বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত অপসারণে পদক্ষেপ নিতে দাবি জানাচ্ছেন যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়টি জানে না বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি আদালতের আদেশের কোনো নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আসেনি দাবি করে বলা হচ্ছে, এ কারণে সড়ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বরিশাল শহরের একাধিক যানবাহন মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি ঝুঁঁকিও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হলে কখনো কখনো বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। প্রতিনিয়িত আতঙ্কের মধ্যে যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করতে হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃৃপক্ষ বলছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যে শহরের সদর রোডসহ ৪০টি সড়কের ওপর ওয়েস্টার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানির ১৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা অর্থাৎ ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কের ওপর রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ৩০টি খুঁটি। সাম্প্রতিককালে বিসিসির বিদ্যুৎ বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে এসব খুঁটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) খাইরুল ইসলাম জানান, সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখান থেকে খুঁটি অপসারণে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎকে দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং চিঠিরও উত্তর দেয়নি।

খাইরুল ইসলাম বলেন, সবশেষ গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন সহকারী প্রকৌশলীকে তাদের অফিসে পাঠিয়ে খুঁটি অপসারণে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে আদালতের আদেশ হাতে পাননি বলে জানান বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (ওজোপাডিকো ১) নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন। তবে সিটি করপোরেশনের চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্রীয় অফিসকে অবহিত করেছি। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আদালতের আদেশের বিষয়ে কোনো কাগজপত্র না পেলেও পত্রিকার মাধ্যমে খবরটি পেয়েছেন বলে জানান পল্লী বিদ্যুতের বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার শঙ্কর কুমার কর। তিনি বলেন, ‘সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে সিটি করপোরেশনের একটি চিঠিও এসেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসামাত্র আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনস্বার্থে সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

ম্যাজিষ্ট্রেট কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর জালিয়াতির বিচার চেয়ে আইন ও বিচার বিভাগ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সচিব, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন’র চেয়ারম্যান, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন’র সচিব, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বরিশাল পুলিশ কমিশনার, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন।

দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা’র পক্ষ থেকে জানা গেছে চলতি মাসের ২১ শে মার্চ প্রকাশক ও সম্পাদক লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্বাধীনতার স্বপক্ষের গণমানুষের দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক তিনি। উক্ত পত্রিকাটি তার সম্পাদনায় নিয়মিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা পরিষদের বেশ কিছু দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন। উক্ত সংবাদের প্রতিবাদে তিনি সহ তার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০/০১/২০১৯ ইং তারিখ বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির একটি মামলা দায়ের করেন। এসময় উক্ত মামলায় ২০১৮ সনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৬ এর ২৫/২৯ ধারায় এবং দঃ বিঃ আইনের ৫০০,৫০১, ৫০২ ও ১০৯ ধারা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফ.আই.আর হিসাবে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। যাহার নালিশী মামলা নং- এমপি ২৩/২০১৯ (কোতয়ালী),তারিখ ৩০/১/২০১৯। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ মার্চ মাসের ১৩ তারিখ উক্ত মামলাটির নথি (নালিশী, আদেশ) সরিয়ে দিয়ে একটি নতুন নথি যোগ করেন। যাহার নালিশীতে দঃবিঃ আইনের ৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ ধারার পাশাপাশি আরো নতুন কিছু ধারা যেমন- ৩৮৫ /৩৮৬/ ৩৮৭ /৩৭৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারা উল্লখ করা হয়নি। উল্লেখ্য, এই মামলার নাম্বারটাও দেখা যায় এম.পি-২৩/২০১৯ ( কোতয়ালী) এবং, আদেশে দেখা যায় যে, এই মামলাটি দায়ের হয়েছে ৩০/১/২০১৯ ইং তারিখে। যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারায় অর্থাৎ, দঃ বিঃ আইনের ৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহন করে এফ.আই.আর এর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৩০/১/২০১৯ তারিখের দায়েরকৃত নালিশীতে দঃবিঃআইনের ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারা আদৌ ছিলনা। এমনকি উক্ত ৩০/১/২০১৯ তারিখের ফাইলিং রেজিস্টারেও এই ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারার কোন অস্তিত্ব নেই।

অর্থাৎ, সম্পুর্ণ বে-আইনী ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড স্বয়ং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামানিক করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে দাবী করা হয়েছে। যা, উক্ত উভয় নথিপত্র, ফাইলিং রেজিস্টার তলব দিলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার কোর্টে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামলা করলেই কেন তিনি সব এফ.আই.আর দেন সেটা আমলঅযোগ্য অপরাধ হোক কিংবা আমলযোগ্য হোক প্রকৃতপক্ষে, যখন ১ম মামলাটা দায়ের করা হয়েছিল তখন তিনি বে-আইনীভাবে তা সরাসরি এফ.আই.আর এর নির্দেশ দিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ যখন আদেশ পেয়ে দেখলেন এটা তারা এফ.আই.আর হিসেবে নিতে পারেন না ঠিক তখনই তিনি মনস্থির করলেন যে, মামলার নাম্বার ঠিক রেখে সেখানে নতুন নালিশী স্থলাভিষিক্ত করে তিনি এফ.আই.আর এর নির্দেশ প্রদান করবেন যা তিনি মামলা দায়েরের প্রায় দেড় মাস পরে অর্থাৎ বিগত ১৩/৩/২০১৯ তারিখে বাস্তবায়ন করে সরকারি নথিপত্র তিনি নিজেই জাল জালিয়াতি করেছেন। কিন্তু ততক্ষনে ১ম দায়েরকৃত মামলার নালিশীর কপি, ও ফাইলিং রেজিস্ট্রার এর তথ্য বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টাররা সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনার সূত্র ধরে উক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির বিষয়ে বিগত ১৮ ই মার্চ, ২০১৯ তারিখে দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা ও বিভিন্ন পত্রিকার পাশাপাশী অনলাইন নিউজ পোর্টলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাদের হয়রানী ও সায়েস্তা করার জন্য তিনি সহ সময়ের বার্তা’র ৪ জন স্টাফের বিরুদ্ধে বিচারক তার কোর্টের নাজির কামরুল হাসানকে বাদী করে ৪ জনকে আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় অজ্ঞাত করা হয়েছে আরো ৩ থেকে ৪ জানকে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ তারিখ রাত ১০টার দিকে সময়ের বার্তা’র পত্রিকা অফিস থেকে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক গাজী আল আমিনকে (এজাহারে নাম নেই) গ্রেফতার করে নিয়ে যায় কোতয়ালী থানা পুলিশ। এসময় থানা পুলিশ তার সকল স্টাফদের নানানভাবে ভয় ভিতি প্রদর্শন করেন।

বর্তমানে পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সহ সকল স্টাফরা অফিসে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এতেই প্রতিয়মান হয় বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামানিক পত্রিকার সম্পাদক সহ তার সকল সহকর্মী এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্যেশ্যে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। ন্যায় বিচার পেতে পারেন এবং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যাহাতে তাহার জালিয়াতির আলামত ও কোন মামলার কোন তথ্যপ্রমান নষ্ট ও গায়েব না করিতে পারে তাহার প্রতি উপরে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আ. লীগের মোয়াজ্জেম ও বিএনপির সজলকে প্রার্থী চায় তৃণমূল

জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ দিয়ে রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৌকার মিছিলে রাজপথে থাকতেন। দলের সুসময়ে সুবিধাভোগীদের আগমন আর দুঃসময়ে প্রস্থান ঘটলেও অটুট ছিলেন মোয়াজ্জেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্তমানবতার সেবাসহ জনসংযোগ, পথসভা ও প্রচারে এগিয়ে মোয়াজ্জেম। নিরলস পরিশ্রমের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়। তিনি শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, শীত ও বন্যায় গরিব-অসহায় মানুষকে সাহায্য, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন, অসচ্ছল ও মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়াসহ স্কুল-কলেজের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বরিশাল-২ আসনের (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তাই সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তারা তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘১৯৭০ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ের জন্য মাঠে থেকেছি। এবার আমি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আশা রাখি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন। বরিশাল-২ আসন তাঁকে উপহার দিতে পারব।’

গাজী কামরুল ইসলাম সজল

অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, তৃণমূলের সঙ্গে সজলের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল তিনি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তিনি বিনা পয়সায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন করাচ্ছেন। হামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়াদের পরিবারকেও সহায়তা করেন তিনি। তাই বরিশাল-১ আসনে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বিএনপিদলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই দেখতে চায়। এ আসন থেকে আরো তিনজন বিএনপিদলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। তবে তাঁদের মধ্যে সজল ব্যতিক্রম। তাঁকে প্রার্থী করা হলে নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে পারবে। কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘এমন বিবেচনায় এই আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।’

প্রতারক রিপনের গোমর ফাঁস!

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যার্শী সালাউদ্দিন রিপন নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পাবার পূর্বেই প্রতারক হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন রিপন! তিনি বরিশাল সদরের বিভিন্ন এলাকাতে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যস্ত সময় পার করলেও সংবাদকর্মী বা কোন অসহয় ভুক্তভোগি রিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে দেখা বা কথা বলার চেষ্টা করা হলেই তিনি ঢাকাতে আছেন বা বিজি আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহাল্লায় কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সচেতনমহল ও চায়ের দোকানে বসে আড্ডারত একাধিক লোকের মন্তব্য যিনি এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি ঢাকাতে কিংবা বরিশালে থেকে এভাবে মুঠোফোনে মিথ্যা কথা বলেন তিনি আবার জনসেবা করবেন কিভাবে? তাদের মতে রিপন কোনমতে এমপি হতে পারলে ৫ বছরেও একবার দেখা পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রিপন মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নৌকা মার্কায় মনোনয়নপত্র পাবার আশায় নগরী সহ বরিশাল সদর উপজেলা গুলোতে তার নিজের মনোনিত কর্মীদের দিয়েই আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন।

আর সেটা নিশ্চয়ই ফটোশেসন ছাড়া কোন আথিক সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব না। অভিযোগের সূত্রধরে ‘সময়ের বার্তা’র পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের বিষয় সত্যতাও পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় স্কুলে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর পিতা-মাতাই সাবলম্ভী তাদের সন্তানদের দেয়া হয়। দেয়ার কারণ হিসাবে দেখা যায় ওইসকল শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা কেননা কোনভাবে রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী এবং তারই মনোনীতকর্মী! আর একারণেই তাদের সন্তানদের মাঝে অর্থ প্রদান করে থাকেন। যদিও তিনি বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনায় বলে বেড়ায় সমাজের অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তিনি সাহায্য করার জন্য এ অর্থ বিলি করছেন। এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায় চলতি মাসের ১ তারিখ কাশিপুর স্কুল এন্ড কলেজে ও নগরীর আমনতগঞ্জ এলাকাতে এবং গতকাল নগরীর এ.আর এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা করেন। অথচ, তার মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় ফোন করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বা ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটেদেন।

গত ফ্রেবুয়ারী মাসের দিকে বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে নিজেকে জানান দিতে নগরীতে কিছু পোস্টার, ফেস্টুন টাংঙ্গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা হিসাবে বাহির করার চেষ্টা করেন। যদিও রিপনকে এর আগে বরিশালের প্রবীণ ও নবীন কোন নেতাকর্মীরা চিনত না। পরিচিতি লাভের জন্য তিনি ব্যবহার করেন মিডিয়া ও আওয়ামীলীগের নানান কর্মসূচিতে আর্থি সহযোগিতা ও পোষ্টার সাঠিয়ে। যা আবার কোন কোন পোষ্টার দেখে দলের নেতা-কর্মিরা হতাশ হয়ে পরেন। গতবছরের ১৫ আগস্টে মাসে জাতীয় শোক দিবসে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মিরা শোকদিবসের পোষ্টারে নিজের ছবি প্রকাশ করেন নাই সেখানে এই নব্য নেতা নিজের ছবি সহ পোষ্টার ছাপিয়ে গোটা বরিশাল সদরে বিভিন্ন পয়েন্টে পোষ্টার টানিয়ে দেন। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ নেতা-কর্মীদের মাঝে রিপন একজন হাসির খোরাক হয়ে ধারান। তিনি আবার বরিশাল সদরের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাবার স্বপ্ন দেখছেন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১ তারিখ চাচাত বোনকে বউ বানিয়ে সমাজসেবক!

শিরোনামে সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর নগর জুড়ে শুরু হয়েছে তুল পাড়। ভদ্রবেশে থাকা এ যুবকের বিরুদ্ধে সময়ের বার্তা’র কার্যালয়ে আসতে থাকে জিরো থেকে হিরো হবার নানান অজানা গোপন তথ্য। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা ও এস. আর. সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান। সংস্থার নামে সরকারী বা দেশী বিদেশী কোন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা না আসলেও বরিশাল সদরের ১০ টি ইউনিয়ন ও ৩০ টি ওয়ার্ডে অসহয় নারী-পুরুষদের চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ফি প্রদান সহ আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন রিপন। এদিকে সংবাদপ্রকাশ না করার জন্য বরিশালের একাদিক কতিথ সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল দিয়ে তদবির করানো হয়।

পাশাপাশী হামলা ও মামলারও ভয় দেখানো হয়। রিপনের একজন ঘনিষ্টজন জানান, গত ১ বছরে বরিশাল সদর আসনের বিভিন্ন এলাকাতে রিপন প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মত সাহায্য করেছেন আর এই সকল অর্থ রিপনের চাচা মৃত্যু রফিকুল ইসলামের রেল ব্যবসা থেকেই তিনি কামিয়েছেন। রিপনের চাচা মারা যাবার পর রিপনের চাচী তাদের রেল ব্যবসা দেখাশুনার দায়ীত্বদেন। এই সুযোগে রিপন তার চাচত বোনকে বিয়ের অভিনয় করেন তাদের সকল অর্থ ও রেল ব্যবসায় নিজের মত করে ঘুছিয়ে নেন। আর মাত্র ১৪ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হন রিপন। রিপনের নিজের বক্ত্য ২০০০ সনে পর তিনি ২হাজার টাকার বেতনে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকারী নেন। এর পর চাচার ব্যবসার দেখশুনার দায়ীত্ব নেন রিপন ২০০৪ সালে। রিপন বর্তমানে কি পরিমান অর্থসম্পদের মালিক সে নিজেও জানেন না! সর্বশেষ কত টাকা সরকারী আয়কর প্রদান হয়েছে জানতে চাইলে সে বিষয় তিনি নিজেই জানেন না বলে দাবী করেন।

– সময়ের বার্তা