বই পড়া কি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে?

যখন জীবনে চলার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায় তখন ঠিক কী করা উচিত? এ অবস্থায় ভাল একটি সাহিত্যের বই খুঁজে বের করে, সেটা পড়া হতে পারে, সবচেয়ে ভাল কোন প্রচেষ্টা। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে বই কীভাবে আপনার জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে?

এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিবিসি, ‘বিবলিওথেরাপিস্ট’ এর একটি প্যানেলকে একত্রিত করে যারা তাদের জীবনের নানা সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করেছে এই বইগুলোকে। তাদের থেকে নেয়া কিছু অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ জেনে নেয়া যাক।

মানসিক চাপ কমিয়ে পুনর্জীবিত করে তোলে:

সঠিক ধরণের সাহিত্য আপনাকে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ দিতে সক্ষম। যেটা কিনা আপনার মনকে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। সাহিত্যিকদের মতে “একটি বই মূলত আপনাকে যে বার্তাটি দেয়, সেটি হল নিজের নীতিতে অটল থাকার। এ কারণে নানা ধরণের মানসিক পীড়া থেকে মুক্তি মেলে আর মন পুরো পরিশুদ্ধ নতুনের মতো হয়ে যায়।”

পালিয়ে যাওয়া

বই কীভাবে আপনার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে? লেখকদের মতে, “গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য আপনাকে সবকিছু থেকে পালাতে সাহায্য করে। ইংরেজি ভাষায় যাকে বলা হয় এস্কেপিজম বা পলায়নবাদ। এই পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অন্য যেকোনো শিল্পের চেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী।”

“একটি চলচ্চিত্র বা টিভি অনুষ্ঠানে আপনাকে ছবি দেখানো হয়, যেখানে একটি উপন্যাসের সাহায্যে আপনি সেই ছবি বা দৃশ্যপট নিজেই তৈরি করেন। সুতরাং বই আসলে অন্য যেকোনো মাধ্যমের চাইতে অনেক শক্তিশালী। কারণ এতে আপনি অনেক বেশি জড়িত।”

অগোছালো জীবন শৃঙ্খলায় আনুন

বই তার কাঠামোগত বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি অগোছালো মনে শৃঙ্খলা আনতে পারে। ঔপন্যাসিকদের অনেকেই নিজেরা যখন কোন ঝামেলায় পড়েন তখন তারা বইয়ের সাহায্য নেন।

তাদের মতে, “আপনি নিজেকে চেষ্টা করতে ও সমাধান করতে পারেন বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়ার মাধ্যমে। বইয়ের কোন অতিপ্রাকৃত গল্পের সঙ্গে সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারলে আপনার নিজের মনে থাকা নানা বিষয়কে এক জায়গায় এনে সমাধানের চেষ্টা করা যায়।”

হতাশ মনকে প্রবোধ দেয়

একটি শক্তিশালী সাহিত্যের শেষটি আনন্দের না হলেও – বাস্তবে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। হুইটল নামের এক ঔপন্যাসিক বিবিসিকে জানান যে, তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন তার বাবা তাকে জ্যামাইকাতে তাঁর নিজের শৈশব সম্পর্কে বলতেন, যখন একজন গল্পকার ফসল কাটার সময় গ্রাম থেকে গ্রামে যেতেন এবং তারা দাস প্রথার গল্প বলে বেড়াতেন।”

“দাসপ্রথার এই বিষয়টি অনেক কষ্টের আর হতাশাজনক। তবে এটি ইঙ্গিত করে যে মানুষকে কতো সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টিকে থাকতে হয়েছে।” বলেন মিস্টার হুইটল।

পুনরাবৃত্তির আনন্দ

প্রিয় উপন্যাসগুলি বার বার পড়লে সেটি বিশেষ ধরণের ‘বিবলিওথেরাপি’ বা পুস্তকীয় চিকিৎসা সরবরাহ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ‘টেস অব ডি’উরবারভিল’ বইটির কথা। বইটির এক পাঠক খুব সুন্দরভাবে নিজের উপলব্ধি ব্যাখ্যা করেন, যিনি কিনা নিজেও একজন লেখক।

“আমি প্রথম যখন বইটা পড়ি, তখন আমার বয়স ছিল ১৫ বছর। আমি সত্যিই গল্পের মূল চরিত্র টেসের সাথে নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছিলাম; দ্বিতীয় বার বইটা পড়লাম আরও ১০ বছর পরে, আমি দেখতে পেলাম যে টেস আসলে কতটা প্যাসিভ ছিলেন বা অসাড় ছিলেন। এর আরও ১০ বছর পর পুনরায় আমি বইটি পড়ি – তখন আমি টেসের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে বুঝতে শুরু করি”, তিনি বলেন।

এই পাঠক কিংবা লেখকের মতে , জীবনে চলার পথে মাঝে মাঝে আপনাকে পেছনের সময়গুলোতে টেনে নিতে পারে বই- যা অনেক বড় একটি পাওয়া। আপনি নিজেকে আরও ভালভাবে জানতে পারবেন কারণ আপনি নিজের মনের স্তরগুলোয় বিচরণের সুযোগ পাবেন এই বইয়ের মাধ্যমে। যেগুলো আপনার মাথায় এতদিন পেঁয়াজের স্তরের মতো একটার সঙ্গে একটা জুড়ে ছিল।”

তরুণদের মনকে সহায়তা করছে

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবেলায় সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের জন্য এখন আরও বেশি সংখ্যক উপন্যাস লেখা হচ্ছে যা কিশোর-কিশোরীদের তাদের প্রতিদিনের জীবনে যে বিষয়গুলি মোকাবেলা করতে পারে, সেগুলি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। সেটা হত পারে বুলিং বা কটূক্তি, মাদক, সমকামিতা, সামাজিক বর্জনসহ আরও নানা ইস্যু।”

“যে বিষয়গুলি তাদের জীবনে ঘটতে পারে, অথচ এতদিন হয়তো তারা সেটা বুঝতেই পারেনি। আমি সত্যিই মনে করি যে একটি বই আমাদের মধ্যে থাকা হিমায়িত সমুদ্রকে ভেঙে দেওয়ার কুড়াল হিসেবে কাজ করতে পারে এবং এটি যে কোনও যুগের ক্ষেত্রেই সত্য।”- বলেন সেই লেখক।

লেখা কি মনের জন্য ভাল?

বই পড়ার যেমন মানসিক উপকার রয়েছে, তেমনটা কি লেখার ক্ষেত্রেও আছে? আসলে একজন লেখকের জীবন মানসিক স্বাস্থ্যের বিবেচনায় অনেকটা একটি মিশ্র ব্যাগের মতো।

যার মধ্যে অনেক প্রয়োজনীয় কিছু থাকে। এর মধ্যে একটি হল অনেক মানসিক ট্রমা বা আবেগ বের করে দেয়ার ক্ষমতা। এক্ষেত্রে লেখা লেখি দুর্দান্তভাবে কাজে আসে। পরিশেষে এটা বলতেই হয় যে, যখন কোন বই পাঠকের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে বা পাঠককে সুস্থ করে তোলে। ওই বইয়ের লেখকের জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। সূত্র : বিবিসি।

স্তন ঝুলে যাওয়ার কারণ ও সমাধান

শারীরিক গঠন ফিট না থাকলে মন খারাপ হতেই পারে। নারীর ক্ষেত্রে এই মন খারাপের কারণ হতে পারে স্তন ঝুলে যাওয়া নিয়ে। অল্প বয়সেই অনেক নারীর স্তন ঝুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয়। এর অনেকগুলো কারণও আছে। তবে কারণ ও সমাধান জানা থাকলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সন্তান জন্মদানের কারণে অর্থাৎ প্রসূতিকালীন স্তনের আকার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে স্তন ঝুলে যায়। আবার স্তন অতিরিক্ত বড় ও ভারী হওয়ার কারণেও ঝুলে যেতে পারে।

বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্তন ঝুলে যায়। অপ্রতুল স্তন-সার্পোটের কারণেও স্তন ঝুলে যায়। ধূমপানের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা দুর্বল করে দেয় যা স্তন ঝুলে যেতে সাহায্য করে।

স্তন যদি ঝুলে গিয়েই থাকে, তাহলে তাকে ফিট রাখার উপায়ও আছে। জেনে নিন কয়েকটি উপায়:

সঠিক ব্রা ব্যবহার: আপনি অবশ্যই এমন ব্রা পরুন যা আপনার স্তনকে সম্পুর্ন সাপোর্ট দেয়। লক্ষ রাখতে হবে আপনার ব্রা অবশ্যই আপনার সাথে সাবলীল ভাবে চলতে পারে- অর্থাৎ চলার সময় আপনার ব্রা লেইস যেন কাঁধ থেকে খসে না পড়ে অথবা বন্ধনি অতিরিক্ত টাইট কিংবা অতিরিক্ত লুজ না হয়। যখন ব্রা সাইজ নেবার জন্য মাপতে যাবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার পুরাতন ব্রা পরনে থাকতে হবে এবং সে অবস্থায় স্তনের ঠিক নিচে মাপ নিচ্ছেন। এছাড়া কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন-

মেডিসিন বল স্ল্যাম: দু’হাতে একটা মেডিসিন বলকে ধরুন। মাথার ওপরে বলটা ধরে তুলুন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ করতে পারেন। এবার বলটাকে যত জোরে সম্ভব মাটিতে আছড়ে ফেলুন। আবার তুলে তিনটে সেটে করে মোট তিনবার করুন। আপনি বলটাকে যখন মাটিতে আছড়ে ফেলবেন,তখনই কিন্তু আপনার বুকের ব্যায়াম হয়। যত জোরে আছড়ে ফেলবেন,ততই বেশি আপনার পেশী কাজ করবে। তাই বুকের পেশীকে টোন করতে এই ব্যায়ামটা করেই ফেলুন নিয়ম করে।

পুশ আপস: ঝুলে যাওয়া স্তনকে আবার তার টোনড শেপে ফিরিয়ে আনতে পুশ আপস কিন্তু বেশ কার্যকরী। উপুড় হয়ে সোজা হয়ে শোন। হাত দুটো বগলের পাশে ভাঁজ করে রাখুন। পেটটা টান করে রাখবেন। এবার হাতের ওপর ভর দিয়ে পুশ আপস করুন। যতবার পারেন,ততবারই করবেন। নিয়ম করে করুন। আপনার স্তনকে টোনড করতে শুধু নয়, কাঁধের পেশীকে শক্তিশালী করতেও এই পুশ আপস দারুণ কাজ দেয়।বাড়িতে বসে খুব সহজেই করতে পারবেন।

ট্রাইসেপ ডিপস: একটা বেঞ্চে বসে হাত দুটো আপনার পাশে রাখুন। পা ছড়িয়ে টান করে রাখুন। এবার হাতদুটো আগের জায়গাতেই রেখে বেঞ্চ থেকে নিজেকে তুলুন। আস্তে আস্তে কনুই ভাঁজ করে নিজেকে মেঝের কাছে নিয়ে যান। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়াবেন। এভাবে নিয়মিত করবেন। এই ব্যায়াম আপনার ট্রাইসেপের ওপর জোর দিলেও বুকের পেশী আর হাতের মাসলকেও কিন্তু টোনড রাখতে সাহায্য করে। আর বাড়িতে করাও খুব সোজা।

ডাম্বেল ফ্লাইস: সোজা হয়ে শুয়ে পরুন। এবার হাতদুটোকে কনুই ভাঁজ করে বুকের কাছে এনে রাখুন। দু’হাতে দুটো ডাম্বেল যেন থাকে। বেশি ওজন তোলার দরকার নেই। হাঁটু ভাঁজ করে রাখবেন। এবার হাতদুটো ছড়িয়ে সোজা করে আস্তে করে খুলুন। আবার আগের ভাঁজ করা অবস্থায় আনুন। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। বুকের পেশীকে টান করে ঝোলা স্তনকে নিজের শেপে ফিরিয়ে আনতে এই ব্যায়াম ট্রাই করুন।

মেডিসিন বল পুশ আপস: পুশ আপ পোজিশনে শোন। তবে এবার মাটিতে হাত রাখার বদলে হাত দুটো একটা মেডিসিন বলের ওপরে রাখুন। এবার পুশ আপ করতে শুরু করুন। একটা হাত মাটিতে আর একটা হাত বলের ওপরে আধা মিটার দূরত্বে রেখে পুশ আপ করুন। ১০-২০ বার করে তিনটি বা চারটি সেটে কমপ্লিট করুন। নিয়ম করে করবেন। ঝুলে যাওয়া স্তনকে টোনড অ্যান্ড ফিট করার জন্য এটি পারফেক্ট ব্যায়াম। আর ঘরে বসেই সহজে করতে পারবেন। তাহলে এবার দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করুন নিজেকে পারফেক্ট শেপে ফিরিয়ে আনার অভিযান।

শিশুর পড়াশোনা ভীতি কাটানোর ৬টি বৈজ্ঞানিক উপায়!

পড়তে ভালো লাগে না, এ কথা শুনতে কোনো অভিভাবকেরই ভালো লাগবে না সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অল্প কিছু জিনিসের অদল বদলেই পড়াশোনা হয়ে উঠতে পারে আনন্দময়! কী সেগুলো? চলুন জেনে নেই কীভাবে সন্তানের পড়ার সময়টাকে সুন্দর করে মনোযোগ ধরে রাখা যায়।

১। ঠিক রাখুন টেলিভিশন ম্যানেজমেন্ট 
এটা ঠিক যে টেলিভিশনে আসক্তি পড়ার ক্ষতি করে, কিন্তু তাই বলে টেলিভিশন দেখা বন্ধ করে দেয়া মোটেও কোনো সমাধান নয়। প্রিয় অনুষ্ঠানটি দেখে ওর মন ভালো হয়ে যাবে, তখন আপনি পড়তে বসতে বললে খুব একটু আপত্তি করবে না হয়তো।

২। ব্রেক নিতে দিন!
শিশুরা স্বভাবগত ভাবেই কিছুটা চঞ্চল হয়ে থাকে। ক্লাশ টেনে পড়া একজন শিক্ষার্থী টানা এক ঘন্টা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারে, অপরদিকে একজন কিন্ডারগার্টেনে পড়া শিশুর পক্ষে টানা পনের মিনিট পড়াটাই অনেক। তাই তার চঞ্চলতাকে কিছুটা প্রশ্রয় দিতেই হবে।

৩। নোট নিতে শেখান 
বেশিরভাগ শিশুই মনে করে যে ক্লাশে শিক্ষক যা লিখছেন তার প্রতিটি শব্দ লিখে ফেললেই নোট নেয়া হয়ে যায়। হ্যাঁ, তা হয়, তবে তা সবসময় খুব ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। নোট লিখতে গেলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা, অথবা বিশেষ অংশগুলো হাইলাইট করলে তা পড়ার সময় সহায়তা করতে পারে।​

৪। খেলতে খেলতেই শিখুক পড়া!
তাকে সায়েন্স কিট বা এ জাতীয় শিক্ষণীয় উপকরণ দিতে পারেন। এতে করে হবে কী, সে এক্সপেরিমেন্টগুলো করবে, ম্যানুয়াল বই পড়বে, সেই সাথে খেলতে খেলতেই শিখে যাবে! এটা একদম ম্যাজিকের মত কাজ করে, ট্রাই করেই দেখুন না!

৫। ক্যালেন্ডারে থাকুক পাঠচিহ্ন 
একটা বড় রঙচঙে ক্যালেন্ডার কিনুন। সেখানে বিশেষ দিনগুলিকে রঙিন পেন্সিল দিয়ে দাগ দিতে বলুন আপনার সন্তানকে। যেমন, ক্লাস টেস্ট, সেমিস্টার ফাইনাল, ইত্যাদি দিনগুলিকে আলাদা আলাদা রঙে রাঙাতে দিন। এতে করে সে পরীক্ষার জন্যে মানসিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। দূর হবে পরীক্ষা ভীতি।

৬। হোমওয়ার্ক হোক সঠিক নিয়মে 
কোনরকমে হোমওয়ার্ক করাটাই কিন্তু সব নয়!  অনীহা থেকে তা করলে মোটেও ভালো ফল এনে দেবে না। এজন্যে এ কাজগুলো করতে পারেন-
*প্রতিটি অধ্যায় পড়া শেষে ছোট্ট নোট নিতে বলতে পারেন।
* বড় কোন কিছু করতে না দিয়ে স্রেফ বইটি উল্টে-পাল্টে দেখতে বলুন।
* টেবিল এবং চার্ট আকারে তার পড়া প্রস্তুত করে দিন।
* সুন্দর নকশা করা কার্ডে সূত্র, বানান, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, ইত্যাদি লিখে দিন।
* পড়া শেষে সে কী শিখলো? তাকে নিজের ভাষায় বলতে দিন, মোটেও গতানুগতিক কেতাবী ভঙ্গিতে নয়।

সর্বদা খুশি থাকুন নিজের জীবন নিয়ে

পরিতৃপ্ত জীবনের জন্য কি চাই মানুষের? খুব ভালো চাকরি? বাড়ি-গাড়ি সম্পত্তি? অথবা একেবারে মনের মতো জীবনসঙ্গী? কিচ্ছু নয়। শুধুই প্রয়োজন সুখি হবার ইচ্ছেটুকু। আমাদের জীবনে সুখের সবচাইতে বড় বাধা তৈরি করি আমরা নিজেরাই। কারণ আমরা অলীক কিছু স্বপ্নের পেছনে দৌড়ে দৌড়ে নিজের জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে পার করে দেই। এখন সময় এসেছে এই পুরনো ধারণা পাল্টে ফেলার। জীবনে সুখি হবার জন্য পুরো পৃথিবীটাকে নয়, শুধু নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটাকে একটু পাল্টে ফেলুন। সুখ নিজে থেকেই আপনার কাছে ধরা দেবে।

এমন কিছু জিনিসের তালিকা করুন যেগুলো আপনাকে আনন্দ দেয়

খুব সাধারণ কিছু জিনিসের তালিকা করুন। তালিকা বেশী বড় করবেন না। কি লিখবেন তা একান্ত আপনার ওপরেই নির্ভর করছে। আপনি হয়ত বন্ধুদের সাথে বেড়াতে পছন্দ করেন, অথবা ভালোবাসেন মাঝরাতে ছাদে গিয়ে পরিষ্কার আকাশের তারা গুনতে। খুব সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু সেটা করলে এক নিমিষেই আপনার মন ভালো হয়ে যায়- এমন কোনও একটি ব্যাপার তো নিশ্চয়ই আছে। এগুলো দিয়েই একটা তালিকা তৈরি করুন। এরপর কি করবেন? তালিকাটি অনুসরণ করুন। সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার এই তালিকার কোনও একটি কাজ করুন। এ ব্যাপারটা অভ্যাস হয়ে গেলে দেখবেন আপনার দিনগুলো এমনিতেই ভালো হয়ে যাচ্ছে।

সক্রিয় থাকুন

কি ধরণের ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন আপনি? অনেকে নাচতে খুব ভালোবাসেন, কেউ নিয়মিত জিমে যান, কেউ আবার যোগব্যায়াম করতে ভালোবাসেন। সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, মার্শাল আর্ট- এসব ব্যাপারেও অনেকেই উৎসাহী থাকেন। আপনার যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করুন। যে ভাবেই হোক শরীরকে চালু রাখুন। শরীর সক্রিয় থাকলে মনটাও ভালো থাকবে। খুব দ্রুত মনকে হালকা করার জন্য ব্যায়ামের জুড়ি নেই।

পরিমিত খাদ্যগ্রহণ

বেশী খেলেই যে শরীর বেশী ভালো থাকবে তা কিন্তু নয়! হালকা খাবার খান। আপনার যতটুকু দরকার তার চাইতে বেশী খাবেন না। এতে আপনার হজমের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, শরীরে খাদ্য শোষিত হবে ভালোভাবে আর তাছাড়া শক্তি এবং সক্রিয়তাও বৃদ্ধি পাবে।

ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করুন

সারা বছর ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে গেলে অনেকের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যাদের এমন সমস্যা নেই তারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করার অভ্যাস করতে পারেন। নিমিষেই ঘুম চলে গিয়ে কর্মোদ্যম ফিরে আসবে। শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ায়, বিষণ্ণতা কমায়, ত্বক এবং চুল ভালো রাখে, সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই ঠাণ্ডা পানির গোসল।

কথা কম বলার অভ্যাস করুন

অন্যদের সাথে যখনই কোনও ব্যাপারে আলোচনা করবেন অথবা আড্ডা দেবেন, তখন মনোযোগ দিয়ে কথা শুনুন এবং কথা বলার সময়েও একটু বেশী সময় ভাবুন। আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সমস্যাই হবার কারণ হলো আমরা বেশী কথা বলি এবং চিন্তা না করে কথা বলি। অন্যদের কথা শোনার সময় তাদের কথার সুরের দিকে লক্ষ্য রাখুন। কথা বললেই যে তার প্রত্যুত্তর দিতে হবে এমনটা নয়। দরকার না হলে উত্তর দেবেন না। আর এটা মনে রাখুন, যে নেতিবাচক কথা বলা বা ঝগড়া করার চাইতে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয়। লক্ষ্য করে দেখুন, কথা কম বলার ফলে আপনার কতটা উপকার হচ্ছে। অযথা কথা বলা কমিয়ে দিলে অন্যের কথার প্রতি আপনার মনোযোগ বাড়বে, কমে যাবে অযাচিত ঝগড়া এবং মনোমালিন্য। খুব সহজেই অনেক নেতিবাচক ব্যাপার থেকে মুক্ত হবে আপনার জীবন।

দিনে অন্তত ১০ মিনিট রৌদ্রে থাকুন

চোখে এবং ত্বকে সূর্যালোক এসে পড়লে মনটা ভালো হয়ে যাবে আপনা থেকেই। শুধু তাই নয়, বিষণ্ণতা দূর করতেও এটি কার্যকর। আর রৌদ্রে গেলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়ে এটা আমরা সবাই জানি। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর বিকল্প নেই।

টিভি বন্ধ করে দিন

টিভি দেখে যে সময়টা ব্যয় করছেন, সে সময়টা অনেক বেশী দরকারি কাজে ব্যয় করতে পারবেন আপনি। ভালো কোনও বই পড়ুন। প্রিয়জন, বন্ধু বা পরিবারের কারও সাথে কথা বলুন। অন্যরকম কিছু করুন। আপনার মনের ওপরেই তার প্রভাব পড়বে।

সৃজনশীল হয়ে উঠুন

সবাই শিল্পী হতে পারেন না বটে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি সৃজনশীল কিছু করতে পারবেন না। রান্না করতে পারেন, ইচ্ছে মতো নাচ-গান করতে পারেন, ডায়েরি লিখতে পারেন, নতুন একটা কৌতুক শিখতে পারেন। কত রকমের কাজ রয়েছে পৃথিবীতে। নিজে থেকে কিছু তৈরি করুন। সময় পেলে ঘরতাকে একটু অন্যভাবে সাজান, বাগান তৈরি করুন। আনন্দে মন ভরে উঠবে।

প্রকৃতি উপভোগ করুন

আমরা প্রকৃতিরই অংশ। আমাদের জীবন থেকে প্রকৃতি যত হারিয়ে যাচ্ছে, ততই আমাদের মাঝে একটু একটু করে কষ্ট জমা হচ্ছে। আমাদের শরীর তো বটেই মনেরও ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃতির সান্নিধ্য কমে যাওয়ায়। শুধু তাই নয়, নিজের জীবনটাকেও প্রকৃতির মতো স্বাভাবিক করে আনতে চেষ্টা করুন। খুব জোর দিয়ে কোনোকিছু করতে চাইবেন না। এটা মাথায় রাখুন , যে প্রাকৃতিক নিয়মেই সবকিছু হবে। নিজেকে কল্পনা করুন একটি বন্ফুলের মতো, সব প্রতিকূলতা সহ্য করেই যে টিকে থাকে।

সফল ও সুখী হতে চান?

জীবনে যারা সফল, তারা সব সময় সুখী হতে পারেন না। সফলতা ও সুখ অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো পথে হাঁটে। একাধারে সফল ও সুখী হওয়া কঠিন কাজ। এক্ষেত্রে সফল হওয়ার টিপস জানার মতো সুখী হওয়ার কৌশলও জানতে হবে।

নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন

যারা নেতিবাচক চিন্তা করে সবসময়, তারা মানসিক চাপ ও ব্যর্থতাকেই আগলে রাখে। সুখী হতে হলে ইতিবাচক চিন্তার বিকল্প নেই।

ছোট ভুলগুলো শুধরে ফেলুন

মানুষ ভুল করবেই। তবে একজন সফল মানুষ হিসেবে আপনাকে ছোট সব ভুলও শুধরে ফেলতে হবে।  কারণ ছোট ভুল ভবিষ্যতে বড় ধরনের ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে।

আফসোস ও অসন্তুষ্টি নয়

জীবনে কেউ পুরোপুরি সুখী নয়। তাই অপ্রাপ্তি নিয়ে উৎকণ্ঠায় না থেকে সেগুলো থেকে শিক্ষা নিন। মনে রাখবেন, জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর সুযোগ আপনার হাতেই রয়েছে।

নিজেকে এগিয়ে নিন

আপনি যদি সফলতা পেয়ে থাকেন, তাহলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগবেন না। নিজের কাজটাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে হবে। এতে করে জীবনটাকে প্রতি মুহূর্তে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন আপনি। তাতে সফলতা যেমন আসবে, তেমনি শান্তিও পাবেন।

সফলতা যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে

মনের শান্তি বজায় রাখতে হলে সফলতা যেন আপনার মাথায় জেঁকে না বসে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিজের মূল্যবোধকে আঁকড়ে রাখুন সবসময়। অহংবোধকে প্রশ্রয় দেবেন না। সফল হয়েও শান্তিতে থাকার সেরা উপায় এটি।

পরিবারকে গুরুত্ব দিন সবসময়

সবার জীবনেই পরিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন মানসিক চাপ গ্রাস করবে ও মন খারাপ থাকবে, তখন পরিবারের সদস্যদের মাঝে থাকুন। যতই অশান্তি থাকুক মনে, দেখবেন নির্মল এক প্রশান্তি ঘিরে রেখেছে আপনাকে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা বুঝবেন যেভাবে

সাধারণ পেটে ব্যথা এবং অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার পার্থক্য জানা আছে আপনার? পার্থক্যটা না বুঝলে আপনার এখনই হাসপাতালে যাওয়া উচিত কিনা সে বিষয়টি নির্ধারণ করা বেশ কঠিন। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হঠাৎ করেই শুরু হয় বলে এর উপসর্গ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন তাহলে জেনে নিই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার উপসর্গগুলোর বিষয়ে।

পেটের নীচের অংশে বৃহদান্ত্র এর সাথে সংযুক্ত থলির মত ছোট অঙ্গকে অ্যাপেন্ডিক্স বলে। যখন অ্যাপেন্ডিক্স ফুলে যায় ও উদ্দীপ্ত হয় এবং এর ভেতরে পুঁজ জমে তখন প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়। একেই অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা শুরু হয় নাভির চারপাশ থেকে। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যথা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তা তলপেটের ডান পাশে ছড়িয়ে যায়। প্রথম লক্ষণ দেখা যাওয়ার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে তীব্র ব্যথা হতে দেখা যায়। এর পরে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

যেকোন বয়সের যেকোন মানুষ যেকোন সময়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে। যদিও ১০-১৩ বছর বয়সের মানুষদেরই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হতে দেখা যায় বেশি।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ খুব অল্প সময়ে নির্ণয় করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জটিল বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে লক্ষণের বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে :

১। নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তা অন্যত্র অর্থাৎ তলপেটে স্থানান্তরিত হয়।

২। পেটের ডানপাশে অথবা পেছনে তীব্র ব্যথা হয়।

৩। ওই স্থানে চাপ দিলে অসহ্য ব্যথা হয়।

৪। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।

৫। কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

৬। সময়ের সাথে সাথে জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

৭। ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

৮। কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।

৯। বমি বমি ভাব থাকে এবং বমি হয়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার কারণ

বিভিন্ন কারণে হতে পারে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হচ্ছে অ্যাপেন্ডিক্সের মধ্যে কোন বাঁধার সৃষ্টি হলে। এটা হতে পারে খাবার বা মলের কারণে অথবা সংক্রমণের কারণে। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সংক্রমণের কারণেও হতে পারে অ্যাপেন্ডিসাইটিস।

ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে, যার কারণে পুঁজের মত সংক্রামক বস্তু বা তরল অ্যাপেন্ডিক্সকে পরিপূর্ণ করে তোলে। এর ফলে এপেন্ডিক্সে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

যদি অ্যাপেন্ডিক্স বার্স্ট হয়ে যায় তাহলে এর ভেতরের সংক্রমিত পদার্থ পেটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর  ফলে পেরিটোনাইটিস হয়, যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জটিলতা এড়ানোর জন্য অপারেশনের মাধ্যমে এপেন্ডিক্স সরিয়ে ফেলাই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা।

যদি আপনার নাভির চারপাশে ব্যথা হয় এবং আস্তে আস্তে এই ব্যথা পেটের ডানপাশে ও পেছনে ছড়িয়ে যায় এবং ওই স্থানে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা হয় তাহলে আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হচ্ছে বুঝতে হবে। এগুলোর পাশাপাশি তীব্র জ্বর আসলে, বমি বা ডায়রিয়ার সাথে রক্ত গেলে, পেটে শক্ত অনুভব হলে, বুকে বা ঘাড়ে ব্যথা হলে, প্রস্রাবের সময় ব্যথা হলে এবং মাথা ঘোরার অনুভুতি হলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা শুরু হয়েছে। এধরণের উপসর্গ দেখা যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত এবং জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে। অ্যাপেন্ডিসাইটিস প্রতিরোধ করা অসম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দিলে জটিলতা কমানোর জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

তথ্যসূত্র :   স্টেপ টু হেলথ 

পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা কখনোই করেন না এই ভুলগুলো

একজন মানুষ মানসিকভাবে কতটা পরিণত তা নির্ভর করে না তার বয়সের ওপর। অনেক ভালোবাসার সম্পর্কই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে উভয়ের মানসিক পরিপক্কতার মাত্রা না মেলার কারণে। একজন যখন চিন্তা করছেন সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের, অন্যজন ভাবছেন নিজেকে কীভাবে আরও সুন্দর করে প্রকাশ করবেন আর এজন্য সঞ্চয়ের পরিবর্তে পোশাক বা এ জাতীয় পণ্যে অর্থ ব্যয় করে ফেলছেন। আপাত চোখে এই পার্থক্য খুবই সামান্য মনে হলেও একসাথে জীবনযাপনে বার বার মতের পার্থক্য তৈরি করে মনের দেয়াল। উভয়ের বয়স এক হলেও মানসিক পরিপক্কতা এক নাও হতে পারে। আবার বয়সে যে বড় তার মানসিক পরিপক্কতা অপরজনের তুলনায় কমও হতে পারে।
আসুন জেনে নিই, পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা কোন কাজগুলো কখনোই করেন না। 
ম্যাচিউর একজন মানুষ কখনো তার সমস্যা থেকে পালিয়ে যান না
সমস্যা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলে তার সমাধান হয় না। বরং ভোগান্তি বাড়ে। আমরা যতই বড় হতে থাকি, নিজের ক্ষুদ্র গন্ডি থেকে বের হয়ে আসতে থাকি, ততই নানান সমস্যার সম্মুখীন হই। এমন অনেক কিছুর সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে যা আমরা আগে দেখি নি, জানি নি। কিন্তু পরিপক্ক মানসিকতার একজন মানুষ জানেন, মুখোমুখি মোকাবেলাই দিতে পারে মুক্তি। যতই এড়িয়ে যাবেন ততই আরও বাড়বে জটিলতা।

সমালোচনা করেন না
সমালোচনা করা কোন দায়িত্ব নেওয়ার পর্যায়ে পড়ে না। বরং ক্রমাগত সমালোচনা আপনার সাবলীলতা নষ্ট করতে যথেষ্ট। যিনি আপনাকে ভালবাসেন তিনি কখনোই আপনার সমালোচনা করবেন না। আপনার পোশাক, আর্থিক অবস্থা, পছন্দকে কটাক্ষ করবেন না। ম্যাচিউর একজন মানুষ সহযোগিতার মনোভাব রাখেন। আপনি খুশী হলেই সে খুশী। তার পছন্দে অন্যকে পরিচালনা করতে চান না তিনি।
আবেগ প্রকাশে ভয় করেন না
আবেগ প্রকাশ মানেই দূর্বলতা প্রকাশ নয়, ম্যাচিউর একজন মানুষ জানেন সেই কথা। তিনি আরও জানেন কীভাবে  আবেগ প্রকাশ করলে মানুষ তার সুযোগ নিতে পারবে না। একজন মানুষ হিসেবে তাই নির্ভয়ে তিনি তুলে ধরেন নিজেকে। সরাসরি জানান ভালোবাসার কথা, খারাপ লাগার কথা।

তার সঙ্গ আপনাকে অবহেলার অনুভূতি দেবে না

একজন ম্যাচিউর মানুষ খেয়াল রাখেন ভালোবাসার মানুষের আবেগের। তিনি চান আপনি ভাল থাকুন। তার সঙ্গ আপনাকে গর্বিত করে, কারণ তিনি আপনার মূল্যায়ণ করেন, আপনাকে সম্মান দেন। তার আরও অনেক দায়িত্ব থাকতে পারে। কিন্তু তা কখনো আপনার প্রতি হেলা করে পালন করবেন না তিনি।

তিনি মা্নুষকে সম্মান দিতে জানেন
সম্পর্কে সম্মান প্রকাশের অনেক ধরণ রয়েছে। একজন ম্যাচিউর মানুষ কখনোই আপনার ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে রক্ষা করবেন না। আপনার বিশ্বাসকে হেসে উড়িয়ে দেবেন না কখনো। আপনার আবেগকে যথাযথ সম্মান দেবেন তিনি। কারণ তিনি জানেন সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে।

বাবা-মাকে অসম্মান করেন না
মানসিক পরিপক্কতা একজন মানুষের মাঝে কৃতজ্ঞতা তৈরি করে। তাই এ ধরণের মানুষ কখনো অভিভাবককে অসম্মান করেন না। বরং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। খেয়াল রাখেন তাদের প্রয়োজনের। পাশে থাকেন মানসিক যে কোন পরিস্থিতিতে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
একজন ম্যাচিউর মানুষ শুধু বর্তমানের কথা ভাবেন না। তিনি ভাবেন ভবিষ্যতের কথাও। তাই করেন পরিকল্পনা। শুধু নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান না তিনি। সাথে খেয়াল রাখেন প্রিয় মানুষদেরও। ভালোবাসার মানুষের কথাও ভাবেন তিনি। তিনি স্বার্থপর নন, যত্নশীল নিজের প্রতি এবং সবার প্রতি।

সূত্র- ডেভিড ওলফ

দিল্লির লালকেল্লা লাল নয়, ছিল সাদা! জানুন এমন আরও না জানা কথা

দিল্লী ভ্রমণ মানেই লাল দূর্গে একবার অন্তত যেতেই হবে। মোগল স্থাপনার এই অনন্য নিদর্শন নিজের চোখে না দেখলেই নয়। আর একটি স্থাপনা শুধু পাথরের দেয়াল নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে অযান্ত্রিক যুগের মেধা আর শিল্পমনের পরিচয়, জড়িয়ে আছে সেই সময়ের শাসকের গল্প, শ্রমিকের গল্প, জীবনের গল্প। তাই সময়কে যারা জানতে চান তারা বার বারই ছুটে যান প্রাচীন স্থাপত্যের কাছে।

১৬৩৯ সালে যখন শাহ জাহান তার রাজধানী আগ্রা থেকে নিয়ে আসেন দিল্লীতে তখন তিনি এই দূর্গ নির্মাণের নির্দেশ দেন। তখন এই স্থানের নাম ছিল শাহজাহানাবাদ, বর্তমানে জায়গাটিকে আমরা পুরাতন দিল্লী হিসেবে চিনি। এর নির্মাণে সময় লেগেছিল এক দশক। যমুনা নদীর পানি দিয়ে পূর্ণ করা হত এর পরিখাগুলো। এখন সেই নদী আর নেই। সেই সময়ের গল্প আজও বিস্ময় জাগায়, অনেক কিছুই যেন বিশ্বাস হতে চায় না, অনেক প্রশ্নের উত্তর আজও মেলে না।
বেড়াতে যাওয়ার আগে জেনে নিন মজার কিছু তথ্য। আপনি সরসরি ভ্রমণেও অনেক কিছুই হয়ত মিস করে যাবেন। প্রচলিত ইতিহাসের পেছনেও আছে অনেক গল্প, অনেক কথা যা ইতিহাস আপনাকে জানাতে চায়। জানুন, এরপর দেখুন। ভ্রমণ হবে আরও উপভোগ্য।

তুলে ধরছি এমন কিছু মজার তথ্য-

রং মহল। ছবি- সংগৃহীত

লাল দূর্গ প্রকৃতপক্ষে ছিল সাদা

দূর্গটির নাম লাল আবার দেখতেও সবার আগে চোখে পড়ে এর লাল ইট রঙ্গা দেয়াল। কিন্তু দূর্গটি মোটেই এভাবে নির্মিত হয় নি। ইন্ডিয়ার নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, দালানের বিভিন্ন অংশে ব্যবহার করা হয়েছিল চুনাপাথর। তাই শ্বেতবর্ণই ছিল এর প্রকৃত বর্ণ। কিন্তু একসময় এর শুভ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর উজ্জ্বলতা মলিন হয়ে এলে বৃটিশরা দুর্গের দেয়ালে লাল রং করে দেয়।

লাল কেল্লার প্রকৃত নাম লাল কেল্লা নয়

উঁচু লাল দেয়াল যা ঘিরে আছে দূর্গটিকে তার রঙই দিনে দিনে মানুষের মুখে মুখে এর নাম দেয় লাল কেল্লা। দেয়ালটি নির্মিত হয়েছিল লাল পাথর আর ইট দিয়ে। ব্রিটিশরা দূর্গটিকে ডাকতে শুরু করে ‘রেড ফোর্ট’ আর স্থানীয়রা ডাকে ‘লাল কেল্লা’। কিন্তু এর প্রকৃত নাম ছিল ক্বিলা-ই-মুবারাক।

স্থাপত্যশিল্পী

বিশাল এই কেল্লাটির স্থাপত্যশিল্পীদের নাম নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন আপনি? আজকে যা দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হচ্ছেন আপনি তার নকশা করেছিলেন ওস্তাদ হামিদ এবং ওস্তাদ আহমেদ।

কোহিনূর ছিল এখানেই

শাহজাহানের সিংহাসনে স্থান পেয়েছিল কোহিনূর একথা জানি আমরা সবাই। সেই সিংহাসন ছিল লাল কেল্লায়। পুরো আসনটিই ছিল খাটি সোনার, খচিত ছিল নানান মূল্যবান রত্নে। দেওয়ান-ই-খাস এ রাখা ছিল সিংহাসনটি। সিংহাসনের শীর্ষে শোভা পেত বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিরাটি।

লাহোর গেট

লাল কেল্লার দুইটি প্রধান পথ। একটি দিল্লী গেট আর অন্যটি লাহোর গেট। ২য় পথটির নাম লাহোর গেট কারণ লাহোরের সাথে এর সংযোগ রয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ইন্ডিয়া আর পাকিস্তান এক সময় একই দেশ ছিল।

একটা ওয়াটার গেটও আছে এখানে
৩য় একটি বহির্গমণ পথ আছে দূর্গটির। যমুনা নদীর তীরেই ছিল কেল্লাটি। নদীর সাথে সহজ সংযোগ রাখতেই তৈরি হয়েছিল এই গেটটি। নদী যদিও এখন আর কাছে নেই, তবে আছে নামটি।

বার্ডস আই ভিউতে দূর্গটি দেখতে ছিল এরকম। ছবি- সংগৃহীত

দূর্গটি অষ্টকোণী
বার্ডস আই ভিউ থেকে চমৎকার এই স্থাপনাটি দেখতে অষ্টকোনী। ২৫৬ একর জায়গা জুড়ে এর বিস্তৃতি। লাল প্রাচীরের বেষ্টনীটি উপর থেকে দেখতে একটি পারফেক্ট অষ্টভূজ।

রং মহল
রং মহল বাস্তবেই ছিল রঙের প্রাসাদ। এখানে বাস করতেন সম্রাটের পত্নী, উপপত্নী এবং দাসীগণ। পাশের খাস মহলেই থাকতেন সম্রাট যাতে যে কোনো সময় আসতে পারেন রং মহলে। রাতের খাবার বা হালকা নাস্তা করতে এখানেই আসতেন তিনি। সম্রাট ছাড়া অন্য কারও মহলে প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ।

নাক্কারখানা
কেল্লার সঙ্গীতের আসর বসত এখানে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসত সেই আসর। প্রাসাদের সম্মুখেই অবস্থিত এই জায়গাটি। অভিজাত ব্যক্তিরা এখানে গান শুনতে আসতেন হাতির পিঠে চড়ে।

সুরক্ষা ব্যবস্থা
কেল্লাটিকে ঘিরে আছে একটি বিশাল পরিখা। এর পানি আসত যমুনা নদী থেকে। কেল্লার নিরাপত্তার স্বার্থে পরিখায় রাখা হত কুমির। কোনভাবে শত্রুপক্ষের কেউ যদি কুমিরের এই পরিখা পার হয়েও যেত তার জন্য কেল্লার গায়ে মাখানো থাকত তেল। যতই চেষ্টা করুক না কেন কুমিরের খাদ্য হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকত না তার।

বাহাদূর শাহ বন্দী ছিলেন এখানে
শাহ জাফর তখন দিল্লীর সম্রাট। বাহাদূর তার উপাধি। কিন্তু ভূখন্ড চলে গেছে ব্রিটিশদের দখলে। দেওয়ানি খাসের সামনে ব্রিটিশ কোর্ট বসে। সম্রাটকে রাজদ্রোহী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সেই কোর্টে! তার উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে নির্বাসন দেওয়া হয় বর্তমান মায়ানমারে।

কেল্লার সকল মূল্যবান বস্তু চুরি করে ব্রিটিশরা
মোগল শাসনের শেষ সময়ে ব্রিটিশরা কেল্লার দখল নেয়। তারা এর মূল্যবান সকল আসবাব, পাথর, রত্ন বিক্রী করে দেয়। স্থাপত্যের গায়ে খচিত রত্ন বিক্রী করার জন্য তারা স্থাপত্যের দেয়ালের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। আর এজন্যই আপনি আজ যে কেল্লা দেখতে পাবেন তাতে সেই রত্নশোভা আর নেই।

এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ
ইউনেস্কো লাল কেল্লাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে ২০০৭ সালে।

জ্ঞান আমাদের মনকে বড় করে। আপনি যত দেখবেন তত বদলে যাবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি। তাই দেখুন, জানুন। ভ্রমণ করুন, নতুন থেকে নতুনের কাছে যান। সৃষ্টি তা প্রকৃতির হোক আর মানুষের, তার রহস্য মুগ্ধ করবে আপনাকে।

শীতেও যেন হাড়ের জয়েন্ট থাকে সুস্থ

পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ করেই শরীরের সমস্যাগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে। জয়েন্টের ব্যথা এমনই একটি সমস্যা। কিন্তু এই শীতেও যেন আপনার শরীরের জয়েন্টগুলো স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী থাকে সেজন্য দিল্লীর ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান কনসালটেন্ট ডা. অনিল অরোরা সহজ কিছু টিপস দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞের দেয়া টিপসগুলো জেনে নিই চলুন।

১। নি-গার্ড পরুন

শীতের সময় হাঁটুকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য এবং ব্যথা কমানোর জন্য নি গার্ড পরুন। বাজারে বিভিন্ন ধরণের নি-প্রোটেক্টর পাওয়া যায় যা হাঁটুর ব্যথা থেকে আরাম দেবে এবং হাঁটুকে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

২। পর্যাপ্ত পানি পান করুন

জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে পানি। কিন্তু শীতে অনেকের পানি পান করার পরিমাণ কমে যায়। জয়েন্ট নড়াচড়া করার সময় যে ঘর্ষণ হয় তা ঠিকভাবে পরিচালনার জন্য পানি প্রয়োজন। তাই আপনার অস্থি ও জয়েন্টগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৩। সঠিক জুতা পরুন

সঠিক মাপের জুতা পরা হাঁটু, গোড়ালি ও জয়েন্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। বেশীরভাগ মানুষই সঠিক মাপের জুতা পরার বিষয়টিকে উপেক্ষা করেন। উঁচু হিলের জুতা দীর্ঘ সময় ধরে পরে থাকা উচিৎ নয়। এমন জুতা পরুন যাতে আঙ্গুলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে এবং হাঁটার সময় স্বস্তি পান।

৪। অবস্থানের পরিবর্তন করুন

আপনাকে যদি কাজের জন্য ফিল্ড ওয়ার্কে যেতে হয় অথবা আপনি যদি রেস্টুরেন্টে বা শপিং মলে কাজ করেন তাহলে আপনাকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর পরই নিজের দেহভঙ্গির পরিবর্তন করুন যাতে শুধুমাত্র পায়ের উপর বেশি চাপ না পড়ে।

৫। ব্যায়ামের পূর্বে ওয়ার্ম আপ করে নিন

কঠোর কোন ব্যায়াম শুরু করার পূর্বে ওয়ার্ম আপ করে নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে শরীর অনেক বেশি নমনীয় হবে এবং আঘাত পাওয়া এড়িয়ে যেতে পারবেন। এছাড়াও এর ফলে রক্ত সংবহনের  উন্নতি হয় এবং ব্যায়ামের আউটপুট ভালো পাওয়া যায়।

৬। সুষম খাদ্য খান

জয়েন্টের ব্যথায় যারা ভোগেন তাদের সুষম খাদ্য খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি, সি ও কে সমৃদ্ধ খাবার জয়েন্টের ব্যথার জন্য ভালো। কমলা, পালংশাক, বাঁধাকপি ও টমেটোর মত সুপারফুড হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে।

৭। নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

শীতে অনেকেই ব্যায়াম করাটাকে এড়িয়ে চলেন। শারীরিক সক্রিয়তার অভাবের কারণেই শীতের সময়ে জয়েন্টের ব্যথা হয়। এতে জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং সামান্য নড়াচড়াতেও ব্যথা করে। তাই শীতের সময়েও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

৮। ধূমপান বাদ দিন

যারা ধূমপান করেন তাদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। হাড়কে শক্তিশালী রাখতে ধূমপান বাদ দিন।

৯। ফিজিওথেরাপি নিতে পারেন

যদি আপনি অষ্টিওআরথ্রাইটিসে ভোগে থাকেন তাহলে আপনার নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেয়া দরকার। এতে করে জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

১০। ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন

স্বাস্থ্যকর হাড় ও জয়েন্টের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। একারণেই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন – দুধ, পনির, পালংশাক, সামুদ্রিক মাছ ও তিল বীজ ইত্যাদি খাবার এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ।

সূত্র:  দ্যা হেলথ সাইট

পায়ে অস্বস্তিকর কালো ছোপ ছোপ দাগ?

সূর্যের  ক্ষতিকর আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে আমাদের মুখের ত্বক, ঘাড় , হাত ঢেকে  রাখার অনেক চেষ্টা আমরা করলেও আমাদের পা দুটিকে সূর্য রশ্মি থেকে বাঁচানোর তেমন কোন প্রচেষ্টা  আমরা করিনা। আর এ কারনেই  গরমকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের পা সবচেয়ে বেশি । অতি মাত্রায় সূর্য রশ্মির কারনে পূড়ে যায় আমাদের পায়ের ত্বক। হয়ে ওঠে  রুক্ষ। দেখা যায় ছোপ  ছোপ কালো দাগও ।

এছাড়া, আমদের পা উন্মুক্ত থাকার ফলে প্রচুর ধুলা লাগে। নিয়মিত সঠিকভাবে পা পরিষ্কার না করার ফলে পায়ের ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ শুষ্ক।আমাদের মনে রাখতে হবে অন্যান্য জায়গার ত্বকের মতো পায়ের ত্বকেরও  যত্ন জরুরী। কারণ এটি সবচেয়ে বেশী  ধুলা ময়লার কাছাকাছি থাকে। আর অল্প একটু অযত্নের ছাপ পায়ের ত্বকে সহজেই দেখা যায়। আর আয়োজন করে পায়ের যত্ন নেয়াও হয়না।কিন্তু আপনার পায়ের পরিচ্ছন্নতা কিন্তু আপনার  রূপচর্চার ধরণের অনেকখানি প্রকাশ করে। আমরা অনেক কিছুর জন্য পার্লারে গেলেও পেডিকিউর করতে কম যাওয়া হয়। তাই আসুন পায়ের ত্বককে নরম কোমল আর রোদে পোড়া ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর করতে সহজ কিছু উপায় জেনে নিই-

 exfoliate

  • অল্প গরম পানিতে কিছুক্ষন পা ভিজিয়ে রাখুন। এবার লেবু আর চিনি মিশিয়ে একটি স্কার্ব বানিয়ে পাঁচ মিনিট পায়ের ত্বকে আস্তে আস্তে ঘষেস্কার্বিং করুন। পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • খাঁটি গরুর দুধ আপনার ত্বককে নরম কোমল করে আর দাগ দূর করতেও ভুমিকা রাখে । দুধ পায়ের পাতায় নিয়মিত ম্যাসাজ করুন আর তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সহজ একটি প্যাক হল টমেটোর রস, বেসন, শসার রস এবং লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে পায়ের কালো ছোপ ছোপ দাগে বা সম্পূর্ণ পায়ে লাগান। শুকানোর পর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার করুন। নিজেই আপনার পায়ের ত্বকের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
  • নারকেল তেল আর লবণ নিয়ে মিশিয়ে পায়ের ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। আপনি চাইলে এর মধ্যে লেবুর রসও নিতে পারেন । পরে কুসুম গরম পানিতে আপনার পা দুটি কিছুক্ষন ভিজিয়ে রেখে আস্তে আস্তে পায়ের ত্বক হতে প্যাকটি উঠিয়ে ফেলুন পা পানির মধ্যে থাকা অবস্থায়। পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। এটি পর পর কিছুদিন একই ভাবে পায়ের জত্ন নিলে খুব সহজেই পায়ের ত্বকের নিস্প্রান রুক্ষ ভাব দূর হয়ে ত্বকে ফিরে আসে টান টান সজিবতা। নারকেল তেল ময়েশ্চারাইজিং হিসেবে পায়ে খুব ভাল কাজ করে। লবন ত্বকের শুষ্ক মৃত কোষগুলোকে দূর করে ফেলে স্কার্বিং এর মাধ্যমে।
  • এক চা চামচ লেবুর রস ও মধু একত্রে মিশিয়ে ছোপ ছোপ কালো দাগের উপর  প্রতিদিন ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। রাতের বেলা করলে ভাল ফল পাবেন। নিয়মিত করলে কিছুদিনের  ভিতরে পায়ের কালো দাগ দূর হয়ে  পায়ের ত্বক নরম কোমল হয়ে উঠবে।
  • একইভাবে অলিভ অয়েল এবং চিনির মিশ্রণও আপনি ব্যবহার করতে পারেন। বেশী না সপ্তাহে একবার করলেই হবে। তবে উপরের যেটাই আপনি করেন না কেন পা পরিষ্কার করার পর প্রয়োজন মতন ময়েশ্চারাইজিং করুন আপনার প্রিয় লোশন বা গ্লিসারিন ব্যবহার করে। ।
  • আপনার পায়ের ত্বকের যত্ন নিতে, ত্বককে সুন্দর আর কোমল রাখতে উপড়ের সহজ উপায়ের যেকোনো একটি চেষ্টা করে দেখুন নিয়মিত। অবশ্যই ভালো ফল পাবেন।

লিখেছেন – রোকসানা আকতার, ছবি –  এভরিডেহেলথ.কম, মূল প্রতিবেদন: সাজগোজ কম

বন্ধু ভয়ঙ্কর!

ফাহিম মুরশেদঃ দেশের মাদকসাক্তদের মধ্যে ৩০ বছরের ব্যক্তির সংখ্যাই বেশি। এ সংখ্যা ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ। বেশির ভাগ মাদকাসক্তই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্ররোচণায় পড়ে আসক্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধুর প্ররোচণায় পড়ে প্রথম মাদকদ্রব্য গ্রহণ করেছে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১৫ সালের এই হারটি ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি। বাড়ছে শিশু মাদকাসক্তের সংখ্যাও। গত বছরের রোগীর মধ্যে ছিল ৫ দশমিক ৭৬; যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বাড়ছে মাদকাসক্তের হার যা ২০১৪ সালে ছিল ৯ দশমিক ৭২ এবং গত বছর বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ শুধুমাত্র ইয়াবা সেবন করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৫) এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার ২৬ জুন দেশে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ পালিত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৬ জুন সারা বিশ্বে মাদকবিরোধী দিন হিসেবে ব্যাপক কর্মসূচী পালিত হয়। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়ও হচ্ছে- ‘আগে শুনুন : শিশু ও যুবাদের প্রতি মনোযোগ দেয়াই হলো তাদের নিরাপদ বেড়ে উঠার প্রথম পদক্ষেপ।’

এ দিবসে প্রকাশের জন্যই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ডিএনসি, যা মঙ্গলবার ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য সভায় উপস্থাপন করা হবে।

ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ‘মাদকের হাত থেকে শিশু ও উঠতি বয়সের তরুণদের রক্ষা করা এবং মাদকের সহজলভ্যতা হ্রাস করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য এনালাইসিস করে আরো কাজ করতে হবে। দেশের ৩৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি এলাকায়ই মাদকবিরোধী কাজ করা আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিযানও চালানো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি চাহিদা হ্রাসকে।’

মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ডিএনসির তৈরি করা বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে, গত বছর মাদকাসক্ত রোগীদের মধ্যে যারা চিকিৎসা নিয়েছে তাদের ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়েছে। এই হার প্রতি বছর বাড়ছে। ২০১৪ সালে ছিল ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৬০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর মাদকাসক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে কৌতুহলে পড়ে। গত বছর এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৩; ২০১৪ সালে ২৪ দশমিক ৫৬; ২০১৩ সালে ৩২ দশমিক ৭ এবং ২০১২ সালে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তির হার বাড়ছে। গত বছর ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ মাদকাসক্ত ছিল শিক্ষর্থী, যা ২০১৪ সালে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০১৩ সালে ৮ দশমিক
৯৮ এবং ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৩।

পেশাগত অবস্থানের দিক থেকে মাদকাসক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল বেকার। গত বছর এই হার ৪১ দশমিক ৮৪ এবং ২০১৪ সালে ছিল ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর আগে ২০১৩ ও ২০১২ সালে ছিল যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ১৪ ও ৫৩ দশমিক ২৭।

গত বছর মানসিক অশান্তির কারণে শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ মাদকে আসক্ত হয়। আর পারিবারিক কারণে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ থেকে ৩০ বছরের রোগীর সংখ্যাই বেশি। গত বছরের পরিসংখ্যানের ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশই এই বয়সের। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ২১ থেকে ২৫ বছরের যুবারা। এই হার গত বছর ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ২০১৪ সালে ২০ দশমিক ১১; ২০১৩ সালে ২১ দশমিক ৭৩ এবং ২০১২ সালে ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

গত বছর ১৫ বছরের মধ্যে শিশু মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ; ২০১৪ সালে ছিল ৩ দশমিক ১০, ২০১৩ সালে ১ দশমিক ২২ এবং ২০১২ সালে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত বছর ১৬ থেকে ২০ বছরের মাদকাসক্ত রোগী পাওয়া গেছে ৯ দশমিক ৫৭; ২০১৪ সালে ১৩
দশমিক ৭৭; ২০১৩ সালে ১২ দশমিক ১৬ এবং ২০১২ সালে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মাদকাসক্তদের ১৯ দশমিক ১৪ শতাংশ শুধুমাত্র ইয়াবায় আসক্ত। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৭
দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০১৩ সালে ১০ দশমিক ৩৩ এবং ২০১২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াবায় আসক্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি কমছে ফেনসিডিল আসক্ত রোগীও। গত বছর এ ক্যটাগরির রোগী ছিল ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ; যা ২০১৪ সালে ছিল ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশ; ২০১৩ সালে ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৭২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত বছর দেশের সরকারি চারটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নয় হাজার ৪৭৪জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে সাত হাজার ২৬৬জন এবং ভর্তি করা হয় দুই হাজার আটজনকে। এক বছরে দেশের শতাধিক অনুমোদিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছে ছয় হাজার ৯১২জন মাদকাসক্ত রোগী। এ হিসাবে বছরে ১৬ হাজার ৩৮৬জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রতি বছরই একই সংখ্যাক অভিযান : ডিএনসির প্রতিবেদন অনুযায়ী অধিদপ্তর গত বছর ১১ হাজার ৩০০ জন মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ১০ হাজার ৫৪৮টি মামলা করে। উদ্ধার করা হয়- ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট; ১১ দশমিক ৩০২ কেজি হেরোইন, পাঁচ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেন, গাঁজা চার হাজার ৪৫৫ কেজি, গাঁজা গাছ ৪৭টি, কোডিন মিশ্রিত ফেন্সিডিল ৩০হাজার ৮১৮ তল, কোডিন মিশ্রিত খোলা ফেনসিডিল ৩৮৩ দশমিক পাঁচ লিটারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছর প্রায় একই সংখ্যাক মামলা করছে ডিএনসি; গড়ে ১০ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ৭২৩ মামলায় ১২ হাজার ৫৯০জনকে আসামি করা হয়। ২০১৩ সালে ১০ হাজার ১১১ মামলায় আসামি ১০ হাজার ৯৯০ এবং ২০১২ সালে ১০ হাজার ১৪ মামলায় আসামি ১১ হাজার ৪০জন।

গত বছর ১৪ হাজার ৯৩৭টি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সাত হাজার ৪৮৭ মামলায় সাত হাজার ৮২৩ আসামিকে দণ্ড দেয়া হয়। ২০১৪ সালে ১৪ হাজার ৮১৫ অভিযানে সাত হাজার ৯৪৮ মামলায় আট হাজার ৩২০ জনের দণ্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত।

বেড়েছে মাদকবিরোধী প্রচারণা : তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় চলতি বছর সচেতনতামূলক কার্যক্রম কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ডিএনসি।

প্রকাশিতব্য বার্ষিক প্রতিবেদন ও সাময়িকীতে বলা হচ্ছে, গত বছর দেশের ৮০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হযেছে। ২০১৪ সালে কমিটি করা হয় ৩০৯টি। তবে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের ২১ হাজার ৮৩টি প্রতিষ্ঠানে এই কমিটি গঠন করা হয়। মূলত গত বছরের ১৮ নভেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিধি উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর অফিস আদেশ জারি করলে ব্যাপকভাবে কমিটি গঠন শুরু করে ডিএনসি।

অধিদপ্তরের প্রকাশনার তথ্যমতে, ২০১৪ সালে মাদকবিরোধী পোস্টার তৈরি করেছে পাঁচ হাজার, ২০১৫ সালে ৩৪ হাজার পাঁচশ’ এবং চলতি বছরের ছয় মাসেই এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত দুই বছরে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার। আর চলতি বছরের ছয় মাসে তা করা হয়েছে সাত লাখ ৯৮ হাজার। দুই বছরে স্টিকার সাটানো হয়েছে ২৪ হাজার পাঁচশ’।

এবারের ছয় মাসে তা হয়েছে ১৭ হাজার। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও সেমিনার হয়েছে ৯ হাজার ৫৯৪। এ বছরের প্রথম চার মাসে করা হয়েছে দুই হাজার ৬৬৪টি। স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী বক্তৃতা হয়েছে দুই বছরে এক হাজার ৪৫৯টি। আর এ বছরের প্রথম চার মাসেই হয়েছে পাঁচশ’ ২৪টি। দুই বছরের সাময়িকী প্রকশনা হয়েছে তিন হাজার। এবার প্রথম চার মাসেই দেড় হাজার। গত জানুয়ারি মাসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মিনি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করে মাসব্যাপী মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা এবারই প্রথম। জানুয়ারিকে মাদকবিরোধী প্রচারণার মাস ঘোষণা করে ব্যাপক কর্মকাণ্ডও চালায় অধিদপ্তর। এসময় ৫১৭ মাদকবিরোধী আলোচনা সভা; ১৫৬টি র‌্যালি ও মানববন্ধন; ৩২৮টি গণস্বাক্ষর অভিযান; ৩২টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ২৭টি সড়কদ্বীপ সাজসজ্জা; ২২১টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন; ১২৮টি মাদকবিরোধী মাইকিং এবং ৪৪৮টি অভিযান চালানো হয়।

জেনে নিন আপনি অন্যের দ্বারা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত কিনা

কল্পনা করুন আপনার বাড়ির পেছনের দরজার কথা, সদর থেকে একটু ব্যক্তিগত। এই সদর দরজাটি এমন এক গণ্ডি বা সীমারেখা, যা পার করে আপনার নিজের ও বাড়ির গোপনীয়তা ও সুরক্ষা করে। আপনি যদি এই দরজাটির রক্ষক হন তাহলে সেই দরজা দিয়ে আপনি যে কাউকেই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিবেন কিনা, কাকে ড্রইংরুমে বসাবেন, কাকে অন্দরমহল দেখাবেন আর কার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে উভয়পক্ষকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজ নিজ বিশ্বাসযোগ্যতা, আস্থা প্রমাণের সুযোগ করে দেবেন সেটি আপনার উপর নির্ভর করছে। তেমনিভাবে আমরা যখন কারো সাথে কথা বলি, যোগাযোগ করি অথবা কোন সম্পর্ক তৈরি করি, প্রথমেই প্রয়োজন হয় একটি স্পষ্ট সীমারেখার। যেমন আপনি তাকে আপনার সম্পর্কে কতোটুকু তথ্য দিবেন, তাকে কতোটুকু কাছাকাছি আসতে দিবেন ইত্যাদি। শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তীয়, সামাজিক, আধ্যাত্মিক দিক সহ নেশাজাতীয় দ্রব্য ও যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিজের যত্ন নিশ্চিত করাই একটি সুস্থ গণ্ডি নির্ধারণের উদ্দেশ্য।

কোন সম্পর্কে পরস্পর পরস্পরের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল, সহযোগিতাপূর্ণ এবং যত্নশীল তা ব্যক্তির বাউন্ডারি বা সীমারেখার স্পষ্টতার উপর নির্ভর করে। এই গণ্ডির নমনীয়তার ধরণই পরিচয় দেয় আমাদের আত্মসম্মানবোধের। আপনার সাথে কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করছে, আপনার দুর্বলতায় হাসছে অথবা আপনার ভাল ব্যবহারের অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে এমন সময়গুলোয় অনেক সময় আমরা অপরপক্ষকে এমন কি নিজেকে দোষারোপ করে ফেলি।

তাই ব্যক্তিগত বাউন্ডারি বা সীমারেখা নির্ধারণ করা নিজের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষায় নিজেকেই বলিষ্ঠ হতে সাহায্য করে। এর স্পষ্টতা ও দৃঢ়তা সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা, আত্মসম্মান বজায় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় সাহায্য করে। ব্যক্তিগত গণ্ডি বজায় না রাখা আর বাড়ির সদর দরজা খোলা রাখা একই কথা, প্রত্যাশিত-অপ্রত্যাশিত যে কেউই যখন তখন অরক্ষিত বাড়িতে ঢুকতে ও বের হতে পারবে। আবার কঠোর সীমারেখা আপনাকে দুর্গের মত অনুদার দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন, একাকী আর বিচ্ছিন্ন করে রাখবে, আপনি নিজেও বের হতে পারবেন না অন্য কেউও কাছে এসে মিশতে পারবে না। এই অস্বাস্থ্যকর সীমারেখাই আমাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্কে সমস্যা বাড়ায়।  যার কারণে তৈরি হয় অতিনির্ভরশীলতা, বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা এবং শারীরিক অসুস্থতা।

 অস্বাস্থ্যকর মানসিক সীমারেখার কয়েকটি লক্ষণ

১। কাউকেই বিশ্বাস না করা অথবা সবাইকে বিশ্বাস করা –যেটাকে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট থিঙ্কিং বলা হয়।

২। যার সাথে কথা বলছেন সে ঐ মুহূর্তে ঐ বিষয়ে শুনতে আগ্রহী কিনা লক্ষ্য না করে একবারে বাজারদর থেকে শুরু করে পারিবারিক সমস্যা,গসিপ সব বলতে থাকা।

৩। প্রথম পরিচয়েই ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলা।

৪।  পরস্পরকে ভালভাবে বুঝার আগেই দ্রুত প্রেমে পড়া

৫।  নিজের ক্ষমতা, পছন্দ, বিকাশের দিকে লক্ষ্য না করে অন্যের দ্বারা ভীষণ প্রভাবিত হওয়া, যেমন কোন ধরনের ড্রেস পরবে, কোথায় কি দিয়ে যাবে, কোন বন্ধু বা বান্ধবীর সাথে মিশবে ইত্যাদি বলে দেয়া ও মেনে নেয়া।

৬। নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলোর জন্যও যথেষ্ট সময় না রেখে সারাখন অন্যজন যেন কষ্ট না পায় সেদিকে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকা।

৭। ফলাফল বা দায়িত্ব চিন্তা না করেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হওয়া।

৮।  নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পার্টনারের মন রক্ষা করতে শারীরিক সম্পর্ক করা

৯। নিজের মূল্যবোধ ও অধিকার খর্ব করে অন্যকে খুশি করার প্রবণতা।

১০। অন্যজন পছন্দ বা অনুমতি দিচ্ছে কিনা তা খেয়াল না করে তার ব্যক্তিগত সীমারেখার ভেতরে ঢুকে পড়া। যেমন অনেকেই কথা বলার সময় এত কাছে এসে কথা বলেন যে অপরজন অস্বস্তিবোধ করেন।

১১। যখন আপনি চাইছেন না, তারপরেও খাদ্যদ্রব্য, উপহার, স্পর্শ (যেমন- শরীরের কোথাও হাত রাখা) গ্রহণ করা, যৌন আবেদনে সাড়া দেয়া, অর্থাৎ “না” বলতে না পারা।

১২। অনুমতি ছাড়াই কাউকে স্পর্শ করা, যেমন হাত ধরা, কাঁধে বা পিঠে হাত রাখা, শরীরের গোপন স্থান স্পর্শ করা। কেননা সকলের উদ্দেশ্য সরল নাও হতে পারে, ব্যক্তি যৌন হয়রানির স্বীকার হতে পারেন।

১৩।  আরেকজনের উদারতা ও বিনয়কে পরোয়া না করে নিজের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিতে থাকা।

১৪। নিজের পরোয়া না করে অন্যদেরকে ইচ্ছামত স্বার্থ আদায় করে নেয়ার অনুমতি দেয়া।

১৫।  ‘আমার যা আছে সব তুমি নাও’- এই প্রবণতাটিও অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের লক্ষণ।

১৬। নিজের সক্ষমতায় আস্থা না রেখে কোন প্রশ্ন ছাড়াই অন্যের নির্দেশনা অনুযায়ী চলা ও সিদ্ধান্ত নেয়া।

১৭। ‘সব তো শুনলেন, এখন আপনিই বলেন, আমার কি অবস্থা, আসলে আমি কেমন’ – অর্থাৎ অন্যের মাধ্যমে নিজেকে মূল্যায়ণ করার প্রবণতা, যা মূলত ঐ ব্যক্তির বুদ্ধি-বিবেচনার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে, ফলে নিজের প্রকৃত অবস্থা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।

১৮। ‘তুমি বল তো আসলে আমি কেমন?’- এভাবে  আরেকজনকে দিয়ে নয়; আপনি নিজে নিজেকে জানুন ও সংজ্ঞায়িত করুন।

১৯। অন্যরা বা একমাত্র বিশেষ কেউই আপনার প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে বলে বিশ্বাস করা।

২০। নিজের প্রয়োজন, আপনি কি চাচ্ছেন তা স্পষ্টভাবে না বলে অন্যজন নিজ থেকেই আপনার চাহিদা বুঝে নেবে বলে আশা করা।

২১। নিজে সচেষ্ট না হয়ে নিজের যত্ন ও খেয়াল রাখার জন্য অন্য কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।

২২। ইতিবাচক ও সফলতার সময়গুলোর কথা না ভেবে নেতিবাচক ও ব্যর্থতার দিকগুলো মনে করে করে নিজেকে করুণা করা ও নিজের সমালোচনা করা।

লেখিকা সম্পর্কেঃ আফরিন উপমা। Trainee Counselling Psychologist , Psychological Services, DECP, DU

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা হাব ডট নেট