প্রার্থিতা ফিরে পেতে আরাফাত বিল্লাহ’র আপিল

ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল উপলক্ষে জাতীয়তাবদী ছাত্রদলের ৭৫ প্রার্থীর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৫ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাদ পড়েন ২৮ জন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৫ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে ৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।

ছাত্রদলের কাউন্সিলের আপিল কমিটির সূত্রে জানা যায়, প্রার্থিতা পুর্নবহালের জন্য যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে সভাপতি প্রার্থী-আল মেহেদী তালুকদার, মো. আসাদুল আলম টিটু, আজিম উদ্দিন মেরাজ, আরাফাত বিল্লাহ খান, এস এ এম আমিরুল ইসলাম এবং জুয়েল মৃধা।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আপিল করেছেন তারা হলেন- সিরাজুল ইসলাম, ফজলুল হক নীরব, এস এম বাবুল আক্তার শান্ত, জুবায়ের আল মাহমুদ রিজভী, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সাদিকুর রহমান সাদিক, জামিল হোসেন,এমদাদুল হক মজুমদার এবং মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে যে দুজন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন, তারা হলেন- মো. জুলহাস উদ্দিন এবং মো. জহিরুল ইসলাম (দিপু পাটোয়ারী)।

সভাপতি পদে আপিলকারী আরাফাত বিল্লাহ খান বলেন, যেহেতু দল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এগোচ্ছে তাই আপিল করেছি। আশঙ্কা করছি, কেউ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তার এ ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করে বৈধ প্রার্থীর তালিকায় চলে আসতে পারেন। সেটা যদি হয়ে থাকে তাহলে আমার প্রার্থিতা পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এটাই আশা করছি।

ছাত্রদলের সভাপতি’র দৌড়ে গৌরনদীর আরাফাত বিল্লাহ খান

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বর্তমানে নেতৃত্বহীন। পবিত্র ঈদ উল আযহা’র পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- বিলুপ্ত কমিটির স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মামুন খান, বৃত্তি ও ছাত্র কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মুক্তিযোদ্ধা গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাগর, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সিনিয়র সহসভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সহসভাপতি আমিনুর রহমান আমিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ইকবাল হোসেন শ্যামল, রিজভী আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি সুরুজ।

জানা গেছে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারনে মেধাবী, চৌকশ, অতীতে রাজপথে অবস্থান, কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতার খোঁজে দলটির শীর্ষ নেতারা।

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রক্তবহন করে আরাফাত। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং পদায়িত রয়েছে।

তার মেঝ ভাই আশরাফ বিল্লাহ খান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সাধারন সম্পাদক। ছোট ভাই আরিফ বিল্লাহ খান তেজগাঁও কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত আছে।

চাচা মিজানুর রহমান খান মুকুল বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য, সেই সাথে তিনি সাবেক ভিপি সরকারি গৌরনদী কলেজ ছিলেন এবং সভাপতি, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদল। তার আরেক চাচাতো ভাই মনিরুজ্জামান স্বপন বর্তমানে ডেনমার্ক বিএনপির সাধারন সম্পাদক। তিনিও সাবেক ভিপি ও সভাপতি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের।

শিক্ষা জীবন

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। আরাফাত সদ্য সাবেক কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য, যুগ্ন সম্পাদক জাসাস, শেখ মুজিব হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

রাজনৈতিক কর্মজীবন

জানা যায়, ২০১৩, ১৪-১৫ সালে দেশব্যাপী হরতাল, অবরোধের বিভিন্ন মিছিলে তিনি সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিলেন। এছাড়াও একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে হামলার শিকার হন। বিভিন্ন মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেন। সেই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ভিজিটিং লিডারশীপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করেন। সেখানে দেশের ইতিহাসে ছাত্রদলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দলের পক্ষে অংশগ্রহন করেন এবং দলের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও নির্যাতন সম্পর্কে দলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে আরাফাত বিল্লাহ খান বলেন, ছাত্রদলের মত এত বৃহৎ একটি ছাত্রসংগঠন পরিচালনা করতে হলে শুধুমাত্র আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়, বরং এগুলোর সাথে সাথে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আমি বিগত দিনে সবকটি আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি ও তিনবার কারাবরণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিগত জুয়েল–হাবিব পরিষদে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক টিমের সাথে কাজ করেছি। বর্তমান বিলুপ্ত কমিটির একমাত্র সম্পাদক আমি যার বিভাগ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কাজ হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৫০,৫১ ও ৫২ তম জন্মদিনে স্কুল বিষয়ক প্রকাশনা করে সারা বাংলাদেশে বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর রাজনৈতিক ফেলো। আমি ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে এ যাবত পর্যন্ত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহনে ৫০টির অধিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ উদ্দ্যোগে ২১টি নির্বাচনী আসনে ইলেকশন ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্ট ও পোলিং এজেন্ট ট্রেনিং করিয়েছি। এছাড়া ঢাকার ভেতরে অনেক সামাজিক সমস্যা প্রতিকারে কাজ করেছি যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে তরুণ নেতা হিসেবে তাদের দেশ ভ্রমণ করে এসেছি।

তিনি বলেন, এর বাইরে দীর্ঘদিন আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত রয়েছি। অতীতে যেহেতু আমার সফলতা রয়েছে সেহেতু আগামীতে আমার নানামুখী দক্ষতা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আরও ছাত্রবান্ধব, জনপ্রিয় ও অপরাপর ছাত্রসংগঠনের তুলনায় অধিকতর গ্রহনযোগ্য করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। সংগঠন গোছানোর স্বার্থে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সম্মানিত ভোটারবৃন্দ আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি।

মহান সংসদে ফের গৌরনদী জেলায় উন্নীতকরণের দাবী উপস্থাপন

ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত এবং বাণিজ্যিক, ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বরিশালের গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবী আজ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এই দাবী করা হয়ে আসছে। ১৯৭৪ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফণীভূষন মজুমদার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন জামাতা তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সাথে বরিশাল উত্তর জনপদের একমাত্র মহাকুমা গৌরনদীতে সফরে এসেছিলেন। ওইসময় তিনি (ফণীভূষন মজুমদার) গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে অত্র এলাকার জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি গৌরনদীতে এক সমাবেশে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি জেলা শহরে যেসব অফিস ও অবকাঠামো প্রয়োজন তার অধিকাংশই তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বে গৌরনদীতে নির্মান করা হয়। ওই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার বোন জামাতা আবদুর রব সেরনিয়াবাতকে নির্মমভাবে হত্যার পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টানোর সাথে সাথেই পাল্টে যেতে থাকে অত্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। ফিকে হতে থাকে গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখার স্বপ্ন।

তার পরেও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন গৌরনদীবাসী। অনেক আগ থেকেই গৌরনদী ছিলো মহকুমা। ১৯৮৪ সালে যখন সব মহকুমাগুলোকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয় তখনও গৌরনদীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার বরিশাল জেলাকে ভেঙ্গে আরও পাঁচটি জেলাতে ভাগ করলেও গৌরনদীকে মহকুমা থেকে ডিমোশন দিয়ে উপজেলা বানিয়ে রাখা হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘জেলা হবে গৌরনদী’ এমনই আশায় বুক বেঁধে আছেন গৌরনদীবাসী।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সরকারের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতি ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের স্বপ্ন গৌরনদীকে জেলা ঘোষণার জন্য জোর দাবী করেছেন। গত ২২ জুন বাজেটের উপর বক্তৃতা প্রদানের সময়ে তিনি এ দাবী করেছেন। একইসাথে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনবদ্য ভূমিকায় একসময়ের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সংগঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলে আরও যেসব উন্নয়ন কাজ দরকার তা উল্লেখ করতে গিয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রথমেই বলেন, গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের জন্য আমি ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বহুবার মহান সংসদে দাবী উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করা হয়নি। গৌরনদীকে জেলা ঘোষনার বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গৌরনদী জেলার প্রস্তাবিত মানচিত্র ॥ একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জরিপ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাাবিত গৌরনদী জেলার অধীনে থাকবে গৌরনদী সদর উপজেলা, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও কালকিনি উপজেলার একাংশ (কয়ারিয়া, রমজানপুর ও সাহেবরামপুর ইউনিয়ন)। প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার মোট আয়তন হবে ১১৭৭.৮২ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে বরিশাল জেলা থেকে আসবে ১১১৪.৫৭ বর্গ কিলোমিটার ও মাদারীপুরের কালকিনি থেকে যোগ হবে ৬৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার। গৌরনদী উপজেলার ১৪৪.১৮ বর্গ কিলোমিটার, আগৈলঝাড়া উপজেলা ১৬১.৮২ বর্গ কিলোমিটার, বাবুগঞ্জ থেকে ১৬৪.৮৮ বর্গ কিলোমিটার, মুলাদী থেকে ২৬১.০২ বর্গ কিলোমিটার, উজিরপুর থেকে ২৪৮.৩৫ বর্গ কিলোমিটার, বানারীপাড়া থেকে ১৩৪.৩২ বর্গ কিলোমিটার, কালকিনি থেকে ৬৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়ন থেকে ২০.৮১ বর্গ কিলোমিটার, রমজানপুর ইউনিয়ন থেকে ১৯.৫০ বর্গ কিলোমিটার ও সাহেবরামপুর ইউনিয়ন থেকে ২২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার।

প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার আয়তন হবে ১১৭৭.৮২ বর্গ কিলোমিটার। এ আয়তন নিয়েও জেলা গঠণ করা সম্ভব কারণ এই আয়তনের চেয়েও কম আয়তন নিয়ে বাংলাদেশে একাধিক জেলা রয়েছে। এরমধ্যে ঝালকাঠি জেলা ৭৪৯ বর্গ কিলোমিটার, মেহেরপুর জেলা ৫৪৯ বর্গ কিলোমিটার. নারায়ণগঞ্জ জেলা ৭৫৯ বর্গ কিলোমিটার, ফেনী জেলা ৯২৮ বর্গ কিলোমিটার, নড়াইল ৯৯০ বর্গ কিলোমিটার, মাদারীপুর ১১৪৫ বর্গ কিলোমিটার, মুন্সীগঞ্জ ৯৫৫ বর্গ কিলোমিটার, নরসিংদী ১১৪১ বর্গ কিলোমিটার, রাজবাড়ী ১১১৯ বর্গ কিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গা ১১৭৭ বর্গ কিলোমিটার, মাগুরা ১০৪৯ বর্গ কিলোমিটার ও জয়পুরহাট জেলার আয়তন মাত্র ৯৬৫ বর্গ কিলোমিটার।

কালকিনি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন যোগ হবে গৌরনদী সদর উপজেলার সাথে। কালকিনির ওই তিনটি ইউনিয়ন গৌরনদীর সাথে যুক্ত করার পেছনেও রয়েছে বেশ কিছু যৌক্তিক ব্যাখ্যা। এ তিনটি ইউনিয়ন ভৌগলিকগতভাবে মুলাদী ও গৌরনদী উপজেলার মাঝামাঝি অবস্থিত। এসব এলাকার লোকজন কালকিনি বা মাদারীপুরের চেয়ে গৌরনদীর উপরে বেশি নির্ভরশীল। ওই তিনটি ইউনিয়ন কেটে আনা হলে গৌরনদীতে ইউনিয়নের সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়াবে মোট ১০টি। ফলে আয়তন হবে ২০৭.৪৩ বর্গ কিলোমিটার।

সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলায় পৌরসভা হবে মোট চারটি। গৌরনদী, উজিরপুর, বানরীপাড়া ও মুলাদী। ইউনিয়ন সংখ্যা হবে মোট ৪৮টি। এরমধ্যে গৌরনদীর সাতটি, আগৈলঝাড়ার পাঁচটি, বাবুগঞ্জের ছয়টি, মুলাদীর সাতটি, উজিরপুরের নয়টি, বানারীপাড়ার ১১টি ও কালকিনির তিনটি। গৌরনদী জেলা হলে বরিশাল বিভাগের জেলা সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়াবে সাতটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত গৌরনদী জেলার আসন সংখ্যা হবে তিনটি। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ-মুলাদী ও উজিরপুর-বানারীপাড়া)।

গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের নানা কারণ ॥ বরিশাল সদর উত্তর মহাকুমা, দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের লক্ষ্যে জেলা সদরে যেসব অফিস থাকা প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত তা গৌরনদীতে স্থাপন করেছেন। পাঁচ থানা পুলিশের হেডকোয়ার্টার সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় অফিস, বন বিভাগের উপ-বিভাগীয় অফিস, বিদ্যুৎ অফিস, বিভাগীয় তাঁত বোর্ড অফিস রয়েছে গৌরনদীতে।

প্রথম উদ্যোগ ॥ ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করনের প্রথম পদক্ষেপ স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৌরনদী পৌরসভা গঠণ করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি গৌরনদীকে জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে গৌরনদীতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিভাগীয় বেবী হোমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন।

ভৌগলিক অবস্থান ॥ গোপালগঞ্জ জেলার পূর্ব সীমান্তে, মাদারীপুর জেলার দক্ষিণ, বরিশাল বিভাগীয় শহরের উত্তর সীমান্তে ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুখে ১৪৪.১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনে গৌরনদী উপজেলার অবস্থান। বরিশালের বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, আগৈলঝাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মধ্যবর্তীস্থানে গৌরনদী অবস্থিত। অতি প্রাচীণকাল থেকেই শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, ইতিহাস-ঐতিহ্যে গৌরনদীর সুনাম-সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পরে। এখনও তা বিদ্যামান রয়েছে। এখানে গড়ে উঠেছিলো উন্নত জনপদ। তাই মোগল যুগে ইসলাম প্রচারক খানজাহান আলী ও ইয়েমেনের বাদশার পুত্র হযরত মল্লিক দূত কুমার পীর সাহেব বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসে গৌরনদীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা এ অঞ্চলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, দীঘি ও সরাইখানা। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আল্লাহর মসজিদ, কমলাপুর মসজিদ, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বার্থী তাঁরা মায়ের কালী মন্দির, মাহিলাড়ার সরকার মঠ, সমাজ সেবক ছবি খাঁর হুজরা, পলাশীর যুদ্ধের দূর্গ ও কামান, শতিদাহ মঠসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশের সব মহাকুমাগুলো ইতোমধ্যে জেলা হয়ে গেলেও অবহেলিত রয়ে গেছে শুধুমাত্র গৌরনদী মহাকুমা। তাই গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হাত ধরে বাস্তবায়ন করা হবে সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন গৌরনদীবাসী।

৫২ পণ্য থেকে দূরে থাকুন

বিএসটিআই-এর পরীক্ষায় নিম্নমানের ৫২ ভোগ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদেশ দেওয়ার সময় আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা।

ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজন হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য আদালতের।

গত ৩ মে ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্ন মানের ও ভেজাল রয়েছে। এর আগে গত ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

বাসসের খবরে জানানো হয়, ভেজাল পণ্যগুলো হলো-সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রিন বি চিং এর সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদ গুড়া, ফ্রেশের হলুদ গুড়া, এসিআইর ধনিয়ার গুড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারী পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া, মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিন যুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ, কিং’য়ের ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডস এর সুজি, মঞ্জিলের হলুদ গুড়া, মধুমতির আয়োডিন যুক্ত লবন, সান ফুডের হলুদ গুড়া, গ্রীন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুড়া, ডলফিনের হলুদের গুড়া, সূর্যের মরিচের গুড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবণ, মদীনার আয়োডিন য্ক্তু লবণ, নুরের আয়োডিন যুক্ত লবণ।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে রিটটি করেন কনসাস কনজুমার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএসের) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, ‘প্রাণের মতো নামি প্রতিষ্ঠান আমাদের ভেজাল খাওয়ায়- এটা খুবই দুঃখজনক। মানুষ আসলে কাদের ওপর আস্থা রাখবে? এভাবে ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমরা আদালতে গিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার হচ্ছে কিনা সেটি এখন তদারকির বিষয়।

‘স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে’ হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে তার একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুজিববর্ষ উদযাপনে বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সভায় মন্ত্রী এ তথ্য দেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

“মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করবে। সরকার এ উপলক্ষে স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে জাতির পিতার প্রতিকৃতি তৈরি করবে।”

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গবন্ধুর ওই প্রতিকৃতি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হবে।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে বঙ্গন্ধুর বিশালাকার ওই প্রতিকৃতি স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।

মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে মিত্র বাহিনী সদস্যদের ৫০০ সন্তানের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের বাছাই করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় হাই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

“পাকিস্তানি শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর কবল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতার ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। জাতির পিতার জন্ম শতবর্ষ উদযাপন হবে জাতীয় জীবনের এক অনন্য সুন্দর উপলক্ষ।”

এর অংশ হিসেবে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বড়’ মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হবে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “বছরব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুজিব মেলার আয়োজন করা হবে।”

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এস এম আরিফুর রহমান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা সভায় ব্ক্তব্য দেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি করে সরকার।

এছাড়া জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে আটটি বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও করা হয়েছে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

আসছে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেন, এ আয়োজনে সকল বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। শিশু, তরুণ, যুবক- সকলের জন্য আলাদা কর্মসূচি থাকবে। আয়োজনের বিস্তৃতি থাকবে দেশের সকল ওয়ার্ড পর্যন্ত।

সেদিন তিনি বলেন, “জাতির পিতা রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করে গেছেন। তার রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।”

কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ের পর আওয়ামীলীগ সরকার ৪৭ জন মন্ত্রিসভায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সোমবার বিকালে এই ৪৭ জনের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ও দপ্তর জানিয়ে দেন।

পূর্ণ মন্ত্রীআ ক ম মোজাম্মেল হক (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক) , ওবায়দুল কাদের (সড়ক পরিবহন ও সেতু), আব্দুর রাজ্জাক (কৃষি), আসাদুজ্জামান খান কামাল (স্বরাষ্ট্র), হাছান মাহমুদ (তথ্য), আনিসুল হক (আইন), আ হ ম মুস্তফা কামাল (অর্থ), তাজুল ইসলাম (স্থানীয় সরকার), দীপু মনি (শিক্ষা), এ কে আবদুল মোমেন (পররাষ্ট্র), এম এ মান্নান (পরিকল্পনা), নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (শিল্প), গোলাম দস্তগীর গাজী (বস্ত্র ও পাট), জাহিদ মালেক (স্বাস্থ্য), সাধন চন্দ্র মজুমদার (খাদ্য), টিপু মুনশি (বাণিজ্য), নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজকল্যাণ), শ ম রেজাউল করিম (গণপূর্ত), মো. শাহাব উদ্দিন (পরিবেশ ও বন), বীর বাহাদুর ঊশৈ সিং (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক), সাইফুজ্জামান চৌধুরী (ভূমি), নুরুল ইসলাম সুজন (রেলপথ), ইয়াফেস ওসমান—টেকনোক্র্যাট (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), মোস্তাফা জব্বার—টেকনোক্র্যাট (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি)।

প্রতিমন্ত্রী: কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প), ইমরান আহমেদ (প্রবাসীকল্যাণ), জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া), নসরুল হামিদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), আশরাফ আলী খান খসরু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), মন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন), জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন), স্বপন ভট্টাচার্য (স্থানীয় সরকার), জাহিদ ফারুক (পানিসম্পদ), মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য), শরীফ আহমেদ (সমাজকল্যাণ), কে এম খালিদ (সংস্কৃতি), এনামুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), মাহবুব আলী (বিমান), শেখ মো. আবদুল্লাহ—টেকনোক্র্যাট (ধর্ম)।

উপমন্ত্রীহাবিবুন নাহার (পরিবেশ), এ কে এম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ), মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা)।

প্রধানমন্ত্রীর অবদান সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে: আল্লামা শফী

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক শিক্ষা ও আরবি) স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় আজ রোববার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে শুকরানা মাহফিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শুরু করেছেন।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এই শুকরানা মাহফিল হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী সংগঠনটির চেয়ারম্যান। তিনি সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। তিনি কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আল্লামা শফী শুকরিয়া স্বারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

বেলা ১১ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেখানে পৌঁছান। বেলা পৌনে একটার দিকে প্রধানমনন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন।

তবে সকাল থেকেই মাহফিলে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন।

মাহফিল উপলক্ষে সারা দেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ইমামদের ঢাকায় আনা হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করেন। তাঁদের বহনকারী বাস শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে রেখে তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা হোন। অনেকেই হেঁটেই পৌঁছান সেখানে।

নরসিংদীর দারুল তাকওয়া মাদ্রাসা থেকে আসা দুজন শিক্ষক নুরুল আমিন ও ফয়জুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস রিজার্ভ করে আজ সকালে তাঁরা ঢাকা পোঁছান। তিনি জানান, ভোরে তাঁরা নরসিংদী থেকে রওনা হন। ব্রাহ্মনবাড়িয়া, সিলেট, নরসিংদী সহ ওই অঞ্চলের বাসগুলোকে তেজগাঁও এলাকায় রাখতে হয়েছে। বাস রেখে তাঁরা হেঁটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছেছেন। ওই দুই শিক্ষক দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তেরর স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
নরসিংদীর নাদিয়াতুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক রমজান আলী জানান, তাঁদের মাদ্রাসায় ৪০ জন ছাত্রী রয়েছে। তবে মাহফিলে শুধু তাঁরা শিক্ষকেরা অংশ নিতে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সকাল ১০টার দিকেই কওমি মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমাগম হতে দেখা যায়।

শাহবাগ মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দীর দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে, বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।

৩০০ শিক্ষার্থীকে শেরে বাংলা স্মৃতি বৃত্তি প্রদান

বরিশাল বিভাগ কল্যাণ সংস্হা পরিচালিত শেরে বাংলা স্মৃতি বৃত্তি প্রদান শনিবার দিলকুশাস্হ রাজউক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ ইউনুসুর রহমান, সিনিয়র সচিব (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত), অর্থ মন্ত্রণালয়।

বরিশাল বিভাগ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও বাংলাদেশ  কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগ কল্যাণ সংস্থার উপদেস্টা ও সাবেক সচিব এ কে এম শামসুদ্দীন ও সাবেক অতিঃ সচিব এ এস মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম এবং শেরে বাংলা স্মৃতি বৃত্তি প্রদান কমিটির আহ্বায়ক ড. এম. কামাল উদ্দীন জসীম।

অনুষ্ঠানে ঢাকা অঞ্চলের ১০৯ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ ও সনদপত্র প্রদান করা হয় । প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ফজলে কবির বলেন এ ভূখণ্ডের মানুষের শিক্ষার উন্নয়নে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আজীবন কাজ করেছেন। তিনি আজ আমাদের প্রেরণা। তিনি বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন আপামর মানুষের বন্ধু।

দীর্ঘ দু’দশক যাবত এ সংস্হা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ বছর মোট ৩০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। তন্মধ্যে সম্মিলিত মেধায় বৃত্তি পেয়েছে ৩৪ জন, ট্যালেন্টপুলে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে মোট ৬৫ জন এবং সাধারণ মেধাবৃত্তি পেয়েছে ২০১ জন শিক্ষার্থী।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার

বদলে যাচ্ছে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে সকাল থেকেই সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের দৃঢ় ভূমিকা থাকায় সব ধরনের ঝামেলা কাটিয়ে ঈদযাত্রার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঈদযাত্রায় জনগণের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সজাগ ছিল। এ বছর রমজানের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছিল মন্ত্রণালয়। সম্পৃক্ত করা হয়েছে সকল স্টেক-হোল্ডারদের। এবার সমন্বয় সভাগুলো করা হয়েছে মাঠপর্যায়ে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর এবং ফেনীতে চারটি সমন্বয় সভার মাধ্যমে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।

মূলত, সমন্বয় সভায় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতায় সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আনন্দের সাথে এবারের ঈদ কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগের চারদিন এবং পরের চারদিন চব্বিশ ঘন্টা সারাদেশের সিএনজি স্টেশনসমূহ খোলা ছিল। ঈদের আগে তিনদিন মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, কাঁচা চামড়া এবং জ্বালানী বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত ছিল। যার কারণে মহা সড়কগুলোতে বাড়তি যানবাহনের কোনো চাপ ছিলো না।

মহাসড়কে যানবাহনের গতি অব্যাহত রাখতে ঈদের পূর্বের সাতদিন এবং পরে সাতদিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ব্যতিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কের উপর মোটরযান থামায় নি। কোনোভাবেই ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া হয় নি। ঢাকা মহানগরীতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সড়ক-মহাসড়কের যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করতে দেয়া হয় নি। এসব কারণেই যাত্রী ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

একইভাবে নৌ পথেও ছিলো বাড়তি নিরাপত্তা। সড়ক পথের মতো নৌ পথেও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, স্টিমার নদীতে নামানো হয়নি। এছাড়া কোনো লঞ্চ বা স্টিমারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয় নি।

এ প্রসঙ্গে কথা হয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সঙ্গে। তিনি বলেন, যাত্রী সুবিধা নিশ্চিতে গত বছরগুলোর মতো এবছরও যথেষ্ঠ সজাগ ছিলো সরকার। যার কারণে গত কয়েক বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে কথা মাথায় রেখে আমাদের এ প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

এর আগে একনেক সভায় দেশের ৫টি বিভাগে ১০১টি জেলা সড়ক প্রশস্তকরণ এবং মজবুতিকরণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল এছাড়াও ৩টি বিভাগের জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে ২৩টি সেতু, ২৪২টি কালভার্ট, ৩টি রেলওয়ে ওভারপাস, ১৪টি সড়ক বাইপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৩৪টি স্টীল ফুটওভার ব্রীজ, ৬১টি বাস-বে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করা হয়েছে।

পবিত্র রমজান মাসেও নিত্যপণ্যের দামে সংযম মানছেন না ব্যবসায়ীরা

পবিত্র রমজান মাসেও নিত্যপণ্যের দামে সংযম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। আত্মশুদ্ধির এ মাস আসার আগেই বাড়তে শুরু করেছে রমজানের প্রধান প্রধান উপকরণ ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর, টমেটো, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, লেবু, বেগুন ও শসার দাম। ফলে গতকাল মহল্লা থেকে সুপার শপ পর্যন্ত ছিল ক্রেতার আগমনে সরগরম। গত বছর কয়েকটি পণ্য যে দামে বিক্রি হয়েছিল, তার দাম চলতি বছর কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। এবার এক মাসের ব্যবধানে পণ্যের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ঈদ আর রোজা মানেই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বেশি বেশি লাভ— দীর্ঘদিন এ দেশে এমনটিই চলে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাড়তি মুনাফার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এদিকে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না। এজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ও মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। হালিপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ৬ টাকা। গতকাল ১ হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৬ টাকায়। গত বছর এই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৩২ টাকায়। এ ছাড়া বাজারভেদে ওঠানামা করছে চাল, ডাল ও রসুনের দাম। পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে আলুর দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ টাকা। খুচরা বাজারে বর্তমানে সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ ও লাল আলু ২৪ টাকায়। গত বছর এই সময়ে আলু বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়। বেড়েছে কাঁচা মরিচের দামও। পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা করে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। গত বছর এই সময়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মুরগির প্রতি কেজির দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। গরুর মাংস কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫২০ টাকায়। গত বছর এই সময়ে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকায়। খাসির মাংস ৮০০ টাকায়। গত বছর ছিল ৬৫০ টাকা। গত সপ্তাহের চেয়ে সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। করলার কেজি ৬০, গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৪০-৫০, শসা ৩৫-৪০, বরবটি ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৩০, কচুর লতি ৫০ এবং কাঁচকলা ও লেবু প্রতি হালি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এসব সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল।

রাজধানীর পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা ৮২-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক মাস আগে ছিল ৭২-৭৫ টাকায়। গত বছর এই সময়ে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। খেসারি ডাল ৬৮-৭০, ডাবলি ৩৫, মুগ ৯৫-৯৮ এবং মসুর মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে একই বাজারে ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে খুচরা বিক্রি করছেন ক্রেতারা। গত বছর একই সময়ে মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। এ ছাড়া কয়েক মাস ধরে বেড়েই চলেছে চালের দাম। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মোটা চাল নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪৬ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে একই মানের চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪২ টাকায়। এই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। বাজারে মোটা চালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে মিনিকেটও। গতকাল প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৫২ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। এক বছর আগে মোটা চালের দাম ছিল ৩৬-৩৮ টাকা। আর মিনিকেট ছিল ৪০-৪২।

বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

 

মন্ত্রীর মর্যাদায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ আদেশ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ করার লক্ষ্যে গঠিত চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুসাঙ্গিক অন্যন্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।’

এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুরোমাত্রায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দেশজুড়ে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে অন্তত চারটি প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। তিনি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুব দ্রুতই সারাদেশে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পোলিং এজেন্টদের  প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে। এ পরিকল্পনাটি খুব কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি অনুমোদন দিলেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ পরিকল্পনার আওতায় কমপক্ষে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ কর্মীকে পোলিং এজেন্ট করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে আগামী নির্বাচনে কমবেশি ৪৬ হাজার ৫০০টি ভোটকেন্দ্র হতে পারে। একেকটি ভোটকেন্দ্রে গড়পড়তা পাঁচটি করে বুথ করা হলে মোট বুথের সংখ্যা হবে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫০০টি। তবে এ সংখ্যার চেয়ে কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হবে।

আগামী মার্চ মাস থেকে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা শেখার পাশাপাশি সঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি শেখানো হবে।

তিনশ’ সংসদীয় আসনের আওতাধীন সাতটি প্রশাসনিক বিভাগের (আটটি রাজনৈতিক বিভাগ) পাশাপাশি ৬৪টি প্রশাসনিক জেলা ও ৪৯১টি উপজেলায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে। আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর পর শুরু হবে জেলা ও উপজেলা ওয়ারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নির্বাচনী আমেজ শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা সম্ভব হবে বলেও নেতারা মনে করছেন। সেইসঙ্গে প্রতিটি সংসদীয় আসনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের পাশাপাশি সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে বলে নেতাদের বিশ্বাস।

তারা বলেছেন, ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারে প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ধ্বংসাত্মক চিত্রও তুলে ধরবেন পোলিং এজেন্টরা। সেইসঙ্গে তারা রাজপথের বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেও সতর্ক থাকবেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হতে পারে। আর সেটা হলে রায় ঘোষণার পর বিএনপি সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচন নিয়েও আন্দোলনে নামতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

ওই সময়ে কথিত আন্দোলনের নামে আবারও জনগণের জানমাল ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে সতর্ক অবস্থায় রাখার প্রস্তুতি রয়েছে।

চার প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দলের প্রচার সেল এরই মধ্যে চার প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মূলত প্রিন্ট মাধ্যম, অনলাইন মাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইভেন্টভিত্তিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ চার প্রক্রিয়ায় প্রচার চালানোর সময় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক চিত্রও থাকবে। এ ছাড়া আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিবরণও তুলে ধরা হবে প্রচার কার্যক্রমে। এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোদমে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।