বাংলাদেশে না আসার আক্ষেপ নেই হেলসের

নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তিন মাস আগে বাংলাদেশে খেলতে আসেননি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। একই কারণে আসেননি অ্যালেক্স হেলসও। সম্প্রতি মরগ্যান বলেছেন, ওই সিদ্ধান্তে আর আটকে নেই তিনি।

এবার তার পথে হেঁটেছেন অ্যালেক্স হেলস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে না আসা নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই।

বললেন, ‘নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের সফর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটা খবর ছিল। কিন্তু ঢাকায় হামলার পর কোনো বিদেশি দলই ওখানে যায়নি। এমনই অস্ট্রেলিয়া দল সফর স্থগিত করেছিল। ফলে ওখানে গিয়ে আদৌ আমি ক্রিকেটে পুরো মনোযোগ দিতে পারবো কি না-সেটা নিয়ে সন্দেহ ছিল। আমি আমার সিদ্ধান্তে স্থির ছিলাম। সিদ্ধান্তটা নিয়ে আমার এক বিন্দুও আক্ষেপ নেই। এটা তো আর বাকি জীবন বয়ে বেড়ালে চলবে না।’

ভারত সফরের অপেক্ষায় আছেন অ্যালেক্স হেলস। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১৭১ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন হেলস। কিন্তু টেস্ট পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নির্বাচক কমিটি আদৌ তাকে বাংলাদেশ-ভারত সফরের জন্য বিবেচনা করবেন কি না-সেটা নিয়েও ছিল সংশয়। তবে হেলস নিজেই খেলতে আপত্তি জানান।

ব্রিটিশ মিডিয়া তাই হেলসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের মাটিতে বেন ডাকেট, হাসিব হামিদ, কিটন জেনিংসদের পারফরম্যান্সে হেলসের বিপদ বাড়ায়। তবে নির্বাচকদের আস্থা ফিরেছে হেলসের ওপর।

নির্বাচকদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে চান অ্যালেক্স হেলস। ছবি: সংগৃহীত

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন ২৮ বছর বয়সী হেলস। জানুয়ারিতে ভারতের মাটিতে তিন ওয়ানডে আর তিন টি-টোয়েন্টি খেলবে ইংল্যান্ড।

হেলস জানালেন বাংলাদেশে না আসার সিদ্ধান্তটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বললেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কোনো ভাবেই আমার জন্য সহজ ছিল না। ভাবতে ভাবতে অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলেছি, তারপরই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সূত্র: ডেইলি মেইল

সাইফ-তাসামুলের পর নাসিরের সেঞ্চুরি

সাইফ হাসান ও তাসামুল হক সেঞ্চুরির খুব কাছেই ছিলেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিন শেষে ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের এই দুই ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় দিনে এসে নিজেদের স্কোরকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছেন সাইফ ও তাসামুল। আর দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি করে ১০৫ রানে অপরাজিত আছেন রংপুর বিভাগের নাসির হোসেন। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনে তিনটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছে জাতীয় লিগ।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ভালোই জবাব দিচ্ছে খুলনা বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনশেষে পাঁচ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল খুলনা। তুষার ইমরান ৭১ রানে অপরাজিত আছেন। খুলনার দুই ওপেনার মেহেদী হাসান ৩৭ ও হাসানুজ্জাজামান ৩১ রান করেছেন। এছাড়া ৩৪ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন।

তবে প্রথম ইনিংসে এখনও ঢাকা বিভাগের চেয়ে ১৭১ রানে পিছিয়ে আছে খুলনা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৬৬ রান করেছিল পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বর দল ঢাকা বিভাগ। রকিবুল হাসান ১১১ এবং সাইফ হাসান ১০৯ রান করেন। ৪৫ রান করেন জয়রাজ সেখ। খুলনার বিভাগের অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক ১০৩ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে বরিশাল বিভাগকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন ৪৪ বছর বয়সী আল আমিন ও স্পিনার মনির হোসেন। এদের ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বরিশাল বিভাগ। আল আমিন ৪৫ ও মনির ৪০ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে এখনও ঢাকা মেট্রোর চেয়ে ১২৭ রানে পিছিয়ে আছে বরিশাল। এরআগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ আশরাফুলদের দল ঢাকা মেট্রো ২৯২ রান তোলে।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে নাসির হোসেনের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছে রংপুর বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছে রংপুর। বিপিএলে বেশ ভালো খেলেও জাতীয় দলে উপেক্ষিত থেকে যাওয়া অলরাউন্ডার নাসির হোসেন ১০৫ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে সিলেটের চেয়ে ৯৭ রানে পিছিয়ে আছে রংপুর। রংপুরের যাওয়া পাঁচ উইকেটের চারটিই নিয়েছেন সিলেটের খালেদ আহমেদ। এরআগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে জাকের আলীর ৮৮ রানের সুবাদে ১০ উইকেটে ২৭২ রান তোলে সিলেট।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি রাজশাহী বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২২৩ রান তুলতেই আট উইকেট খুইয়ে বসেছে তারা। অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমি সর্বোচ্চ ৯০ রান করেছেন, জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাট থেকে এসেছে ৬২ রান। প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রামের চেয়ে ৯২ রানে পিছিয়ে আছে রাজশাহী। চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩১৫ রানে। অধিনায়ক ইরফান শুকুর ৯০ রানে আউট হলেও তাসামুল হক খেলেছেন ১০৪ রানের দারুণ এক ইনিংস।

‘মুশফিক থাকলে ভিন্নভাবে দল সাজাতাম’

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ৭৭ রানের হার দিয়েই নিউজিল্যান্ড মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে মাঠে নামবেন মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে দলে নেই উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। শুধু দ্বিতীয় ওয়ানডেই নয়, সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে সাদা পোশাকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ককে।

সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডেতে মুশফিকের জায়গায় ডাক পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের নিয়মিত সদস্যকে হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ শোনা গেল দলের প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের কণ্ঠে। তার মতে, এমন ম্যাচে মুশফিককে হারানো দলের জন্য বড় ধাক্কা। একাদশেও আনতে হয়েছে পরিবর্তন। তবে যদি মুশফিক সুস্থ থাকতেন তবে অন্যভাবে দল সাজাতেন তিনি।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের লঙ্কান এই কোচ বলেন, ‘মুশফিক দীর্ঘদিন ধরেই তিন সংস্করণেই আমাদের দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। ব্যাটসম্যান হিসেবে তো বটেই, উইকেটকিপার হিসেবেও। তাকে হারানোটা অবশ্যই বড় এক ধাক্কা। তবে খেলোয়াড়দের চোট খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুশফিক আমাদের দলের অপরিহার্য অংশ। তবে ছেলেরা আত্মবিশ্বাসী। মাত্রই টিম মিটিং হলো। আমি খেয়াল করলাম, ছেলেরা আগের ম্যাচের চেয়েও এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী। মুশফিক যদি দলে থাকতো তাহলে আমরা ভিন্নভাবে দল সাজাতাম।’

এই ইনজুরিই মুশফিককে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। ছবি: বিসিবি

মুশফিকের ইনজুরিতে ওয়ানডেতে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ছয়টি ওয়ানডে খেলা নুরুল হাসান সোহানের। এ প্রসঙ্গে হাতুরুসিংহে বলেন, ‘দলে মুশফিকের জায়গায় সোহান ঢুকেছে। ব্যাট হাতে সে ভালো করার সক্ষমতা রাখে। তবে, আমি এটা বলছি না যে, সে মুশফিকের মতো ভালো। কিন্তু সে ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। সে নিজে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এখন আমরা মাঠের উপর ভিত্তি করেই স্কোয়াড সাজাব।’

দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা মুশফিক গত ছয় বছরে লাল-সবুজের হয়ে সবগুলো ওয়ানডে ম্যাচেই অংশ নিয়েছেন।২০১০ সালের ১৫ জুলাই থেকে শুরু করে চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর – ছয় বছরের বেশি এই সময়ে বাংলাদেশের হয়ে সবগুলো ওয়ানডে ম্যাচে দলে ছিলেন তিনি।

সোমবার কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩৮তম ওভারে দ্রুত সিংগেল নিতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে মুশফিকের। পরে রান নিতে গিয়ে ডাইভ দিলে আবারও ব্যথা পান।এতে ম্যাচের মধ্যখানেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।এই চোট তাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে থেকে ছিটকে দেয়।

এমনকি ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুশফিককে পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সাসেক্সের ৩০ হাজার পাউন্ড আর টানছে না মুস্তাফিজকে!

গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসে নাম লিখিয়েও খেলতে যাননি মুস্তাফিজুর রহমান। সেবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার।

এবার কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের হয়ে খেলার ক্ষেত্রেও একইরকম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তিনি। তবে, এবারের সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন নিজে থেকেই। ঢাকায় মুস্তাফিজের এক ঘনিষ্টজন সংবাদমাধ্যমকে বলে দিলেন, ‘ও তো ইংল্যান্ডেই যাবে না!’

ইংলিশ কাউন্টি দল সাসেক্স আইপিএল শেষেই পেতে যাচ্ছে একই ধরনের একটি দুঃসংবাদ! আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে, ব্রিটিশ ভিসার জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষে ঢাকায় ফিরবেন মুস্তাফিজ। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য ব্রিটিশ ভিসা এখন ইস্যুই হয় ভারতে!

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে নয় ম্যাচে ১৩ উইকেট পাওয়া মুস্তাফিজ আইপিএল মৌসুম শেষ হলেই দেশে ফিরবেন মুস্তাফিজ। তার কারণটাও জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজন, ‘মাঠের বাইরে ওর জীবনটা বড্ড একঘেয়ে। রুমেই থাকে। সাতক্ষীরার সাধারণ একটা ছেলের ওই পরিবেশ খুব ভালো লাগার কথা নয়। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু আর নিজের চেনা পরিবেশটা খুব মিস করছে মুস্তাফিজ। তা ছাড়া ওর সবচেয়ে বড় গুণ হলো নিজের অবস্থাটা বোঝে।’

আর এরচেয়েও বড় ব্যাপার হল ক্যারিয়ারের শুরুতেই টানা ম্যাচ খেলে বাড়তি চাপ নিতে চান না মুস্তাফিজ, ‘ক্যারিয়ারের মাত্রই শুরু। তাই দীর্ঘ সময় খেলার জন্য সবরকমের সতর্কতা মেনে চলে। সবাই ওর বোলিংয়ের প্রশংসা করেন। ওর এই গুণটা আরো অভাবিত। ভাবা যায় এককথায় পিএসএলের ৫০ হাজার ডলার ছেড়ে দিয়েছে। কাউন্টির ৩০ হাজার পাউন্ডও ওকে টানছে না!’

চোটের আশঙ্কায় মুস্তাফিজকে কাউন্টি খেলতে দিতে রাজি নয় বিসিবিও। চার দিনের ম্যাচ হলে তবু কথা ছিল, কিন্তু সাসেক্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলে মুস্তাফিজের উপকারের চেয়ে অপকারের আশঙ্কাই বেশি তাদের মনে।

সবচেয়ে বেশি অর্থ রোনালদোর, দ্বিতীয় মেসি

একটিও শিরোপা না জিততে পারলেও ২০১৫ সালে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফোর্বস সাময়িকীর হিসেবে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে পাঁচটি শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি।

রোনালদো গত বছর মোট ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার পান। এর মধ্যে বার্ষিক বেতন ও বোনাস ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ২ লাখ ৯০ লাখ ডলার তিনি পান এন্ডোর্সমেন্ট থেকে। তিন বারের বর্ষসেরা ফুটবলার ৩১ বছর বয়সী রোনালদো সব ধরনের দলীয় খেলাগুলোর মধ্যেও সর্বোচ্চ অর্থ পাওয়া খেলোয়াড়।

২০০৯ সালে ৮ কোটি পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়ালে নাম লিখিয়ে সেই সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড়ে পরিণত হওয়া রোনালদো ২০১৩ সালে স্পেনের সফলতম ক্লাবটির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করেন। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জেতা মেসি গত বছর মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার পান।

২০১৪ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা ২৮ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড বেতন ও বোনাস থেকে পান ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর এন্ডোর্সমেন্ট থেকে আসে বাকি ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পোর্টিং লিসবন দিয়ে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা রোনালদো তার ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৫ কোটি ডলার আয় করেছেন। আর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলা মেসি তার ১১ বছরের ক্যারিয়ারে পান মোট ৪৫ কোটি ডলার

সৌজন্যে:ইত্তেফাক

লাথি মারার সাজা পেলেন সাকিবদের নেতা!

পরাশক্তি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে সোমবার পাঁচ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়ের পর সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের লাগামছাড়া আচরণ দৃষ্টিকটু লেগেছে অনেকের কাছে। ব্যাপারটাকে ক্রিকেট মাঠের জন্য মর্যাদাহানিকর বলে মানছে খোদ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) গভর্নিং কমিটি।

আর এজন্য শাস্তিই পেতে হল কলকাতার এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে। গম্ভীর আইপিএলের কোড অব কনডাক্টের লেভেল ওয়ান পর্যায়ের আর্টিকেল ২.১.৮ ধারা ভঙ্গ করেছেন। এর ফলে তার ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশে কেটে নিয়েছেন ম্যাচ রেফারিরা।

বলা হয়েছে, ম্যাচ চলাকালে গম্ভীর ক্রিকেট সরঞ্জাম বা মাঠের সরঞ্জামের অবমাননা করেছেন। সেদিন ব্যাঙ্গালুরুর এন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে হাতের তোয়ালে ছুড়ে ফেলছেন মাটিতে, সঙ্গে ডাগআউটে তার বুটের আঘাতে ছিটকে পড়ছে চেয়ার। অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতলেও রগচটে গম্ভীরের আচরণ সেদিন যথেষ্ট সমালোচিতই হয়েছে।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে সাতেই আছে বাংলাদেশ; পাকিস্তানের অবনমন

গেল মাসের ২৫ তারিখ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসির) সভা থেকে তাকে এভাবেই বলা হয়েছে। কিন্তু ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে আসলে উন্নতি হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। ৯৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরেই থাকছে বাংলাদেশ।

বুধবার নতুন এই র‍্যাংকিং তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন এই র‍্যাংকিং তালিকা অনুযায়ী ওয়ানডেতে ১২৪ রেটিং নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া। তবে অবনমন হয়েছে পাকিস্তানের। ৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তারা নেমে গিয়েছে নয় নম্বারে।

এদিকে ১১৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় অবস্থানে আছে ১১২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ অবস্থানে আছে ভারত। তাদের রেটিং পয়েন্ট ১০৯। তালিকা পাঁচ ও ছয় নম্বরে আছে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড। তাদের রেটিং পয়েন্ট যথাক্রমে ১০৪ এবং ১০৩।

এছাড়া তালিকার অষ্টম, নবম এবং দশম অবস্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। তাদের রেটিং পয়েন্ট যথাক্রমে ৮৮, ৮৭ এবং ৫১।

এক নজরে ওয়ানডে র‍্যাংকিংঃ

১) অস্ট্রেলিয়া, ২) নিউজিল্যান্ড, ৩) দক্ষিণ আফ্রিকা, ৪) ভারত, ৫) শ্রীলঙ্কা,৬) ইংল্যান্ড, ৭) বাংলাদেশ, ৮) ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯) পাকিস্তান, ১০) আফগানিস্তান।

rankingbdcricket

আইপিএলে ধোনির দলে মাহমুদউল্লাহ?

এমনিতেই মাঠের পারফরম্যান্সে আশা পাচ্ছে না ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মহেন্দ্র সিং ধোনির দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। তার উপর কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা হয়ে এসেছে চার তুরুপের তাস – ফাফ ডু প্লেসিস, কেভিন পিটারসেন, মিশেল মার্শ ও স্টিভেন স্মিথের মত খেলোয়াড়ের ইনজুরি।

এখন তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে উন্নতির সাথে সাথে বদলী খেলোয়াড় নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে হাজির হলেন ক্রিকেট পণ্ডিত হার্শা ভোগলে।

বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে বা ‘অন্য কোন’ কারণে আপাতত তাকে আইপিএলের ধারাভাষ্যকক্ষে না দেখা গেলেও তিনি মজে আছেন সেই আইপিএলেই। তিনি মনে করছেন এই অবস্থায় ধোনির দলের জন্য ফিনিশার হিসেবে দারুণ কার্যকর হতে পারেন বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

Riyad__fbPost

এক টুইটে তিনি পুনের জন্য রিয়াদের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লসের সুপারিশ করে লিখেছেন, ‘পুনেতে আসছেন জনসন চার্লস? পুরোটা স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাট করতে পারে এমন কাউকেই তো দরকার টপ অর্ডারে। আর ফিনিশারের কাজটা কি মাহমুদউল্লাহ করবেন?’

আইপিএলের নবম আসরে ধোনির দল আছে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে। আট ম্যাচের মাত্র দু’টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে তারা।

এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় এমন দাবি ‍তুলেছিলেন আরেক ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া। লিখেছিলেন, “এই ‍মুহূর্তে তার চোখে রিয়াদই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান।”

মুস্তাফিজের খেলা দেখতে প্রতিমন্ত্রীর অপেক্ষা

মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য টেলিভিশনের সামনে বসা, এই মনোভাব বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেট প্রেমির। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মুস্তাফিজ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে খেলছেন। আর বাংলাদেশের মানুষ  তার জন্য খেলা দেখতে বসবেন এটাই স্বাভাবিক। আর সেই সাধারণ মানুষের সাথে যদি থাকেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে সম্মানটা আরও বেড়ে যায় বৈকি।

‘মুস্তাফিজ!!! তিন ঘণ্টা বসে আছি টিভির সামনে, ওর ২৪টা বল দেখার জন্যে।’ মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ আর বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে অনুষ্ঠিত শনিবার রাতের খেলা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজের টাইমলাইনে এমন স্ট্যাটাস লিখে কাটারবয় খ্যাত মুস্তাফিজ ভক্তির জানান দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।ShahRiar_AP

ছবিঃ ফেসবুক

শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টা পরে রাত সাড়ে নয়টায় এ ম্যাচ শুরু হয়। রাত বারো বাজার কয়েক মিনিট আগে যখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি দেন তখন তার মতো লাখো বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্ত মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্য দেখার জন্য টিভি সেটের সামনে বসে ছিলেন।

শাহরিয়ার আলমের ফেইসবুক স্ট্যাটাসের প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই বল হাতে তুলে নেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ৪ ওভার তথা ২৪ বল করে ৩২ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন তিনি।

এক রানের আফসোস

বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটিতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলেছে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৫ রানে। ফলে এক রানের আফসোসের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাশরাফি বাহিনী।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আশিষ নেহরার প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। কিন্তু বাউন্ডারি হবে কি হবে না, তা নিয়ে ছিলেন শঙ্কায়। তাই অপর ওপেনার মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জায়গা বদল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে উইকেটের মাঝখানে আসতেই বোলার নেহরার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তামিম। মাথায় আঘাত লাগায় অনেকক্ষণ শুয়ে থাকেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। শুশ্রূষার পর ফের ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। ওই ওভারের পঞ্চম বলেই আউট হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তামিম। নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিতে পারেননি নেহরা। বেঁচে গেলেন তামিম!

দলীয় ১১ রানের মাথায় বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের স্পিনারের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে হার্দিক পান্ডের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৩ বল খেলে ১ রান করেই সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তামিমের সঙ্গে পরিবর্তিত ওপেনিং জুটিতে এসে এ কী করলেন মিঠুন? পারলেন না নামের প্রতি সুবিচার করতে।

পঞ্চম ওভারে ফের জীবন পান তামিম। অশ্বিনের বল শুন্যে ভাসিয়ে দেন তিনি। ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে দুইবার জীবন পেয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না তামিম। রবিন্দ্র জাদেজার বলে ধোনির কাছে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। বিদায়ের আগে ৩২ বলে পাঁচটি চারে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান।

ভালোই খেলছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মান। কিন্তু সামান্য ভুলেই শেষ হয়ে গেল তার পথচলা। ভারতের পার্টটাইম বোলার সুরেশ রায়নার বলে শট নেন সাব্বির। কিন্তু ব্যাটে বলে ঠিকমতো হয়নি তার। একটা পা ভেতরেই ছিল, কিন্তু একটা সেকেন্ডের জন্য মাটি থেকে তার ওপরে উঠে যায়। ওই সময়েই স্টাম্প ভেঙে দিলেন ধোনি। মুখ ভার করে সাব্বির বেছে নিলেন সাব্বির। ১৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২৬ রান করেন তিনি।

সাব্বিরের বিদায় পর ব্যাট হাতে নেমে পড়েন অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু দ্রুতই ক্রিজ ছাড়লেন তিনি। জাদেজার বল খেলতে গিয়ে সামনে এগিয়ে আসেন। কিন্তু বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন টাইগার দলপতি। পাঁচ বলে ৬ রানেই বিদায় নেন তিনি। আশা জাগিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানও। কিন্তু ২২ রানেই থামে তার ইনিংস। হার্দিক পান্ডের বলে সুরেশ রায়নার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ১৫ বলে দুটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ সাবলিল ঢঙে ব্যাট করতে থাকেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। রানের চাকাও দ্রুত ঘুরতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দুটি ছক্কার মার খেলেও শেষ বলে সাজঘরে ফেরত পাঠান রোহিত শর্মাকে। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে তালুবন্দী হন রোহিত। তিনি করেন ১৬ বলে ১৮ রান। ভারতের দলীয় রান তখন ৪২। সপ্তম ওভারে আবারো বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাস। এবার সাকিব আল হাসান। সপ্তম ওভারের শেষ বলে ভারতের আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিছুই করার ছিল না ধাওয়ানের। পুরোপুরি পরাস্ত। সাজঘরে ফেরার আগে ধাওয়ান করে যান ২২ বলে ২৩ রান। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কার মার।

আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়ের নায়ক বিরাট কোহলি জ্বলে উঠতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভারতের এই পোস্টারবয়কে বেশিদূর এগোতে দিলেন না শুভাগত। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কোহলিকে সরাসরি বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। ২৪ বলে একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন কোহলি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিল সুরেশ রায়না ও হার্দিক পাণ্ডে। তবে ১৬তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে এই দুজনকে বিদায় করেন বাংলাদেশের পেসার আল আমিন হোসেন। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সুরেশ রায়না। ২৩ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ৩০ রান করে ফেরেন রায়না। এরপর আল আমিনের দ্বিতীয় বলেই আউট হার্দিক পাণ্ডে। দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন আবারো সৌম্য সরকার। পুল শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে সৌম্যের হাতে ধরা পড়েন পান্ডে। সাত বলে দুই চার ও এক ছয়ে ১৫ রান করেন ভারতের এই অলরাউন্ডার। ভারতের দলীয় রান তখন ১১২।

শেষের দিকে ঝড় তুলতে পারেন যুবরাজ। এমন শঙ্কা ছিল। তবে বাংলাদেশ শিবিরে এর কিছুক্ষণ পরই স্বস্তি এনে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ১১৭ রানের মাথায় যুবরাজকে আল আমিনের হাতে ক্যাচ বানান রিয়াদ। ৬ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে জাদেজাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৮ বলে ১২ রান করেন জাদেজা। শেষ পর্যন্ত ধোনি ও অশ্বিন অপরাজিত থাকলে খুব বেশি রান করতে পারেননি তারা। ধোনি ১২ বলে ১৩ ও অশ্বিন ২ বলে ৫ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে দখলে নেন দুই উইকেট। আল-আমিন হোসেনও নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে ৪ ওভারে তিনি খরচ করেছেন ৩৭ রান। ১ ওভারে চার রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোমও।

তাসকিনের জন্য মাশরাফির চোখে জল

ঢাকা: অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের বিরুদ্ধে আইসিসির এই সিদ্ধান্তটাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। মাশরাফি বিন মুর্তজাও রয়েছেন মানতে না পারার সেই দলে। তাসকিনের ঘটনায় ব্যথিত বাংলাদেশ দলনেতা।

সোমবার বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। তার আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক আবেগে-আপ্লুত হয়ে পড়েন। এক পর্যাযে মাশরাফি তার চোখের পানিও ধরে রাখতে পারলেন না। একটা পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, তাসকিনকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধি করা হয়েছে।

দলের অধিনায়ক হিসেবে আইসিসি প্রদত্ত সিদ্ধান্তটা মেনে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। বিসিবিকে সবকিছু জানানো হয়েছে। তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। বিসিবি আইসিসির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা এটাও আশা করছি যে তাসকিন ন্যায় বিচার পাবে।’

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য আইসিসি তাসকিনকে সাময়কিভাবে নিষিদ্ধ করলেও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থাটির ওপর আস্থা রয়েছে মাশরাফির, ‘আশা করছি তাসকিনের পাশে থাকবে আইসিসি।’

তাসকিনকে হারানো প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘দলের মনোবল ভালো নয়। তাসকিন ‌‌‌আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন বোলার, সে নিষিদ্ধ হওয়ায় দলের মনোবল ঠিক থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মাঠে নামব আমরা।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবেন মুস্তাফিজ

ঢাকা: ডান পাঁজরের ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপের শেষ দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। সাইড স্ট্রেনের ইনজুরি নিয়েই টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন এই বাঁহাতি কাটার মাস্টার। এরই মধ্যে বাছাই পর্বের তিনটি এবং সুপার টেনের একটি ম্যাচেও খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে এই পেসার।

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছেন আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। তাসকিনকে হারানোয় বাংলাদেশ দল বড় ধাক্কা পেয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকটি ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ডানহাতি এই তরুণ পেসার। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাসকিনের পরিবর্তে মুস্তাফিজকে খেলানোর বড় রকম ঝুঁকি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

কলকাতার ইডেন গার্ডেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুস্তাফিজের খেলার কথা ছিল। তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এই পেস বোলিং সেনসেশনকে আরও সময় দেয় দলটি।

এখন একাদশ সাজাতে আগলে রাখা মুস্তাফিজকে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার কথা জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ও (মুস্তাফিজ) যদি ২০ শতাংশও ফিট হয় তাকে আমাদের খেলাতে হবে। আমাদের আর কোনো বিকল্প খেলোয়াড় নেই।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুস্তাফিজকে ফিরে পেলেন কিন্তু তাসকিনকে হারালেন মাশরাফি। অধিনায়কের বিশ্বাস, দুই তরুণ এক সঙ্গে খেললেই বরং বেশি কার্যকর হত বাংলাদেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট।

এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন , ‘ও (মুস্তাফিজ) সেরে উঠছে। তবে বিশ্বের সেরা বোলারই হোক আর যেই হোক চোট থেকে সেরে উঠে সেরাটা দেয়া সব সময় কঠিন। তাসকিন থাকলে মুস্তাফিজ আরও বেশি কার্যকর হত। কারণ, সে সবে চোট থেকে সেরে উঠছে। তবে ও (মুস্তাফিজ) সেরে উঠছে তাকে খেলাতে হবে। ম্যাচের দিন সকালে আবার আমরা তাকে দেখব, এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’