দু’দেশের সম্পর্কে জেরুজালেম বাধা নয়: ভারতে নেতানিয়াহু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পর এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ভোট দিয়েছে ভারত। এরপরেই ইসরায়েল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ৩ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার চুক্তি বাতিল করে নয়াদিল্লি। দু’দেশের সম্পর্কের এই টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার ছ’দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এ সময় কূটনীতির সব প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে পৌঁছে তাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক পর্যায়ে নেতানিয়াহুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন মোদি। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ভারসাম্য রাখতে নয়াদিল্লি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কী ধরনের চুক্তিতে এগোয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

দিল্লিতে পৌঁছেই জাতিসংঘে ভারতের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেম নিয়ে একটা ভোটে দু’দেশের সম্পর্ক বদলে যাবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দাবাহিনী বিশ্বের সেরা। ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ বছরই বিমান হামলার প্রায় ৩০টি ঘটনা আটকানো গেছে। ভারতের মতো মিত্র দেশের সঙ্গে আমরা সব সময়েই এই ধরনের তথ্য আদানপ্রদান করব।

নেতানিয়াহুর সফরকে সফল করতে দু’দেশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার দিল্লির তিন মূর্তি মার্গের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘তিন মূর্তি হাইফা চক’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইসরায়েলের হাইফা শহরটিকে মুক্ত করতে ভারতীয় সেনারা যুদ্ধ করেছিল। সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতে মূর্তির নাম পরিবর্তন অনুষ্ঠানে দুই রাষ্ট্রনেতাই উপস্থিত ছিলেন।

এখন দিল্লিতে কয়েকটি বৈঠক সেরে মুম্বাই, আগ্রা যাবেন নেতানিয়াহু। যাবেন মোদির রাজ্য গুজরাটেও। তার সফরের অধিকাংশ সময়েই সঙ্গী থাকবেন নরেন্দ্র মোদি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছে ১৩০ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। তাদের নিয়ে নেতানিয়াহু দেখা করবেন মুম্বাইয়ের শিল্পপতিদের সঙ্গে। গুজরাটের ভাদরাদে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রেও যাবেন তারা।

ভারত আশা করছে, সফরে দু’দেশের মধ্য বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হবে। সাইবার নিরাপত্তা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, অপ্রচলিত শক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও রয়েছে দু’দেশের।

মোদির ইসরায়ল সফরের ছ’মাসের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এ সফর ঘিরে ভারতীয় কূটনীতিকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। ১৫ বছর আগে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন এসেছিলেন দিল্লিতে। এরপর চলেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ঘিরে নয়াদিল্লির ভারসাম্য কূটনীতি। গত বছর মোদির সফরে নেতানিয়াহুর আতিথেয়তা সেই সম্পর্কে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল।

এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সফরের শুরু থেকেই একে সফল করার চেষ্টায় দু’দেশ। নয়াদিল্লিতে পা দেওয়ার আগেই নেতানিয়াহু ভারতকে ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ঐতিহাসিক সফরে তিনি ‘বন্ধু মোদি’র সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন। মোদিও টুইটারে নেতানিয়াহুকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নেতানিয়াহু’র সফরের মধ্যেই এ সপ্তাহে মুম্বইয়ে পা রাখতে চলেছে ইসরায়েলের কিশোর মোশে হোলৎসবার্গ। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় নারিম্যান হাউসে চোখের সামনে বাবা-মাকে হারিয়েছিল এই শিশু। গত বছর ইসরায়েল সফরের সময়ে মোশেকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও ভারতের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে ১১ বছরের কিশোরটি।

নেদারল্যান্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন তপন ও সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান নির্বাচিত

নেদারল্যান্ড এ বসবাসরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে রবিবার আমষ্টারডাম কম্পানিলে হোটেল এর  বলরুমে নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের ‘বর্ধিত সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহাম্মদ শামীম(নান্টু মৃধা )ও সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চারনেতা সহ ৩০ লাখ শহীদ ও দু’লক্ষ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে স্বরণ করে তাদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে জননেত্রী সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ও ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রানাড হামলার সকল নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের প্রতি মোনাজাত করা হয়।

কার্যকরী কিমিটির ‘বর্ধিত সভা’য় প্রস্তাব ও সমর্থনের মধ্য দিয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে- মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তপন সভাপতি ও মুরাদ খান কে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয় এবং কমিটির সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদক মণ্ডলীতে রদবদল করে একটি ‘কার্যনির্বাহী কমিটি ’পুনর্গঠন করা হয়।

 

নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের নবগঠিত ‘কার্যনির্বাহী কমিটি: ২০১৬-২০১৯

উপদেষ্টা পরিষদ: উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি, ইসমাইল হোসাইন।

সভাপতি, মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসাইন(তপন), সহ-সভাপতি, মুহাম্মদ শামীম(নান্টু), সহ-সভাপতি সালমা ইব্রাহিম, সহ-সভাপতি অপরুল মানিক, সহ-সভাপতি আসিয়ান মেনন, সহ-সভাপতি টুকু খান, সহ-সভাপতি নাসিম খান অভি, সহ-সভাপতি মাসুদ রহমান, সহ-সভাপতি আজিজ মোল্লা, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলী, সহ-সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রিপন।

নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের নবগঠিত ‘কার্যনির্বাহী সংসদে’র সম্মানিত সম্পাদকমন্ডলী: সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিলন বাচ্চু চন্নু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক পলাশ।

সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুজ্জামান কিরণ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

প্রচার সম্পাদক জসিম মৃধা, উপ-প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, দফতর সম্পাদক কামাল হোসেন, ইমিগ্রেশন সম্পাদক, চৌধুরী জ.এ পাপ্পু, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক নিপেন মল্লিক, সহ-প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল, ইসলাম সিদ্দীকি আল-আমিন, জনসংযোগ সম্পাদক খোরশেদ আলম মুন্না, সহ-জনসংযোগ সম্পাদক সম্রাট মৃধা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রোমান শেখ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা কামরুন নাহার বীথি, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মাকসুদা বেগম বেলী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মাইনুদ্দিন খান, সহ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জাফর ভাই, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আলিফ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, স্বাস্থ ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম স্বপন, তথ্য ও গভেষণা সম্পাদক মাসুদুর রহমান ছোট, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক  সবুজ, কোষাধ্যক্ষ বাবুল মিয়া সহ-কোষাধ্যক্ষ। পরবর্তীতে আরো কিছু নাম ঘোষণা করা হবে।

নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের নবগঠিত কার্যনির্বাহী সংসদে’র সম্মানিত সদস্যবৃন্দরা হলেন:

শামীম হক, রঞ্জন কুমার বড়ুয়া, জাহিদ হোসেন, শেখ গিয়াস উদ্দিন রাজু, বাবু, সোনালী শেখ, সৈয়দ ওয়াফি বিন দেলোয়ার, রেবেকা ওয়াফি. অনিক মৃধা, সাইফুল চৌধুরী, অমিত কাজল, জীবন ট্রিপড়া, পুলক, আশিক, জুয়েল, কামাল হোসেন বাহার, এবিএম জিয়া উদ্দিন, এস আলম, সুধীর মন্ডল, খান মুহাম্মদ মজিদ, লিটন মিরানুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, রানা আহমেদ, মুহাম্মদ রহমান (ভালানিনগেন), হামিদ, মৌলভী দিন মুহাম্মাদ, নুরুল ইসলাম নোমান, এরশাদ, মামুন(হিয়ারলেম), রতন, শাহীন, গৌতম ঘোষ, এখলাসুর রহমান বাচ্চু, রোজি নাহার, মনি, শুভ আহমেদ।

নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ:
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি, ইসমাইল হোসাইন, উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ: মাসুদ চৌধুরী মজনু, আনোয়ার হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আব্দুস সালাম, চৌধূরী নুরুজ্জামান চৌধুরী, আজিজ মোল্লা, বুলবুল জামান, অপরুল মানিক, জসিম উদ্দিন লিটন, মাহবুব রেজা সৈয়দ হাসান, মতিউর রহমান, ফাল্গুনী হাওয়া, কামরুল আহসান হাসান, মোহাম্মদ আফতাব ভাই। উপদেষ্টা পরিষদের আরো কিছু নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় যে, নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের  কার্যনির্বাহী কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভানেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ ভাই, সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, সর্বজন শ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত দাদা ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনাব এম এ গনি ভাইকে প্রেরণ করা হল।

উল্লেখ্য যে, ২৬শে জুন ২০০৫, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন এবং ২৮শে মার্চ ২০১০, মহান স্বাধীনতা দিবসে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের অভিষেক উপলক্ষ্যে কমিটি করা হয়। পরবর্তী সম্মেলন ২০১৩ হওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলন নিয়ে গড়িমসি করায় কার্যকরী কমিটির বর্ধিত সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে বর্তমান কমিটিকে পুনর্গঠন করা হয়।

আরও উল্লেখ্য যে, নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের ২০১৪ ও ২০১৬ সম্মেলন করার নির্দেশের চিঠি গোপন ও অস্বীকার করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয় এবং এই জনাকীর্ণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র রক্ষার্থে ও সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষেই কার্যকরী কমিটি রদবদল আনা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সম্মেলন ও অভিষেক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব

জামায়াত নেতা নিজামীর ফাঁসির প্রতিবাদে তুরস্ক তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের দু সপ্তাহ পর তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানিয়েছেন, ‘পরামর্শের জন্য’ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হলেও, সাংবাদিকরা ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক এখনো তাদের জানায়নি যে তারা তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে।

মন্ত্রী মন্তব্য করেন, অন্য দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ডেকে পাঠানো একটি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি নিয়ে তুরস্কের বর্তমান সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এই ফাঁসির নিন্দা না করার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খোলাখুলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

দিল্লিতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বুরাক আকচাপার গত সপ্তাহে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, নিজামীকে ফাঁসি দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরণের ভুল করেছে।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী দাবি করেন, তুরস্কের সাথে সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন নেই। ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক, অসুবিধা নেই।’

আঙ্কারা থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর কথা মন্ত্রী জানালেও, রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী পরে টেলিফোনে বিবিসিকে বলেন, তিনি এখনো এ ধরণের কোনো তলব পাননি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিজামীকে সর্বোচ্চ খেতাব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পাঞ্জাব পরিষদে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাঞ্জাব পরিষদে নিজামীকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ এ ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে ‘দুনিয়া টিভির’ এক সংবাদে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সদস্য আলাউদ্দিন শেখ মঙ্গলবার পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে ওই প্রস্তাব তোলেন।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ফাঁসি হচ্ছে। তাই তাদের ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করা উচিত।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১১ মে জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিজামী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি। সেই সূত্রে তিনি আল বদর বাহিনীরও নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় ওই বাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা দেয় এবং ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। যুদ্ধের শেষভাগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবী হত্যার নকশা বাস্তবায়ন করা হয় আল-বদর বাহিনীর মাধ্যমেই। আর সেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন নিজামী।

এর আগে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদেই একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছিল।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা মেহমুদুর রশিদের আনা ওই নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের প্রতি ‘ভালোবাসার’ কারণেই বাংলাদেশে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তুলে ধরতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই প্রস্তাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজ-উল হক সে সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভারত সরকারের নির্দেশনায়’ কাজ করছেন।

নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পার্লামেন্টেও একটি প্রস্তাব পাস হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সে সময় বলা হয়, ‘পাকিস্তানের সংবিধান সমুন্নত রাখাই নিজামীর একমাত্র অপরাধ।’

নিজামীর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ও একই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল পাকিস্তান।

ইসলামাবাদের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বিবেচনা করে এ বিষয়ে নাক না গলাতে বলা হয় ঢাকার পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের ওই অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ড্রোন হামলায়ে যেসব পাকিস্তানির মৃত্যু হয়েছে তাদেরকেও নিশান-ই-পাকিস্তান খেতাবে ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বিদেশি শ্রমিক নিতে চার খাতে নিষেধাজ্ঞা তুলছে মালয়েশিয়া

চারটি খাতে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার ওপর থেকে মালয়েশিয়া সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী লিও টিয়ংলাই।

কর্মী সঙ্কটে ভুগতে থাকা উৎপাদনমুখী কারখানা, নির্মাণ, প্ল্যান্টেশন ও আসবাব শিল্পের উদ্যোক্তাদের আবেদনে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইংরেজি নিউজ পোর্টাল স্টার অনলাইন।

ওই প্রতিবেদনে মন্ত্রী লিও টিয়ংলাইকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘লোকবলের তীব্র সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে এসব খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।’

টিয়ংলাই বলেন, মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কাজ করছে এবং তা শেষ হলে অন্যান্য খাতের ওপর থেকেও ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদিও ‘শিগগিরই’ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণার ইংগিত দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় রয়েছেন।

আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের সরকারে মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও পরদিনই বিদেশি শ্রমিক নেওয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার।

ওই সমঝোতা স্মারকে কতো শ্রমিক নেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকলেও মৌখিকভাবে বছরে তিন লাখ করে মোট ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে সে সময় বাংলাদেশি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে কেবল ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে শ্রমিক নেওয়া শুরু করে মালয়েশিয়া। এরপর গতবছর বাংলাদেশকে মালয়েশিয়ার জনশক্তির জন্য ‘সোর্স কান্ট্রির’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সেবা, উৎপাদন, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে কর্মী নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়।

এর ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত জায়েম এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

ওই চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ বাংলাদেশি কর্মী নেবে বলে অনুষ্ঠানের পর জানানো হয়।

কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী হামিদি বাংলাদেশসহ সব ‘সোর্স কান্ট্রি’ থেকে জনশক্তি আমদানি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘কত শ্রমিক আমাদের প্রয়োজন সে বিষয়ে সরকার সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বিদেশি কর্মী নেওয়া স্থগিত থাকবে।’

পাকিস্তানকে কড়া প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা নিজামীর ফাঁসি কার্যকর নিয়ে পাকিস্তান বিব্রতকর বিবৃতি ও দেশটির পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার দেশটির হাই কমিশনার সুজা আলমকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে দুইবার পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানাল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজা আলম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সচিব ও কনস্যুলার মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় পাকিস্তানের আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক পত্র তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে ১২ মে সকাল সাড়ে ১১টায় পাকিস্তানে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাজমুল হুদাকে তলব করে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তানের সংসদে যে শোক প্রস্তাব উঠেছে এবং তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে শোক বিবৃতি দিয়েছে সে অবস্থানে ‘অনড়’ থাকার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ। জবাবে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন পাকিস্তানকে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে পাকিস্তানি হাই কমিশনার জানান, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু বাংলাদেশ পাকিস্তান সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।

এর আগে ১০ মে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির নিজামীর ফাঁসির রায় কর্যকর করা হয়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা নিজামীকে।

এর পরেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে এবং নিজামীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় দেশটি।

ফাঁসি কার্যকর হওয়া পর ১১ মে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের কথিত অপরাধের দায়ে বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামির আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কর্যকর করায় পাকিস্তান গভীরভাবে শোকাহত। পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের প্রতি সমর্থনই ছিলো তার একমাত্র অপরাধ’।

বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ বিচারের মাধ্যমে নেতাদের হত্যা করে বিরোধীদলকে দমন করা হচ্ছে অভিযোগ এনে দীর্ঘদিন সামরিক শাসনাধীন থাকা পাকিস্তান বলছে- ‘এটা সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রের চেতনা বিরোধী’।

বিবৃতিতে পাকিস্তান আরও বলছে, ‘বাংলাদেশের যেসব মানুষ সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজামীকে নির্বাচিত করেছিলো, এ মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যও দুর্ভাগ্যজনক’।

এর আগেও নিজামীর বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গত ৬ মে বিবৃতি দেয় দেশটিরপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায়  ৯ মে সোমবার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

ইতিহাদ বিমানে আকাশে প্রচন্ড ঝাঁকুনি, ৩০ জনের বেশি আহত 

ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার সময় ইতিহাদ কোম্পানির একটি বিমান মাঝ আকাশে ‘প্রচণ্ড ঝাঁকুনি’ খেয়েছে। এতে ৩০ জনের বেশি যাত্রী আহত হন।

বিমান কোম্পানিটির পক্ষ থেকে একথা বলা হয়েছে। বুধবার আবুধাবি থেকে বিমানটি জাকার্তা যাচ্ছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জার্কাতা থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের দূরত্বে এই ঘটনা ঘটে। এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ বিমানটি অবশ্য নিরাপদেই অবতরণ করে।

তবে এই ঘটনায় ১০জন গুরুতর আহত বা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান কোম্পানিটি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেবিন লাগেজ বিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিমান কোম্পানিটি যাত্রীরা কতটা আহত হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও এতে ৯ যাত্রী ও ১ ক্রুকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাকীদের বিমানবন্দরের প্যারামেডিকসরাই চিকিৎসা দেন।

‘গভীর সংকটে বাংলাদেশ’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক এবং সাংবাদিক হিসেবে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন কানাডার নাগরিক গোয়েন ডায়ার। তার লেখা মতামত বিশ্বের ৪৫টির ও বেশি দেশের পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার লেখা ‘ক্লাইমেট ওয়্যারস’ বইটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচিত এবং বইটি জাপানিজ, ফ্রেঞ্জ, রাশিয়ান, চাইনিজসহ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সম্প্রতি জাপান টাইমসে বাংলাদেশ নিয়ে একটি মতামত লিখেছেন গোয়েন ডায়ার। ‘বাংলাদেশ গভীর সংকটে’ শিরোনামে লেখা তার মতামতটির চৌম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কট্টর প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পারে? যারা ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করেন এবং ধর্মের প্রতি অবিশ্বাসকে বিতর্কিতভাবে প্রকাশ করতে চান তাদের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিন্দা প্রকাশ করে বলেছন, মুক্তচিন্তার নামে নোংরা ভাষায় কোনোকিছু লেখা হলে বিষয়টি আমি বরদাস্ত করব না। লোকজনকে কেন এভাবে লিখতে হয়? কেউ যদি আমাদের নবীজি কিংবা অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।

সুতরাং তিনি কী এটা বোঝাতে চাচ্ছেন যে যারা এই ধরণের বইয়ের লেখক তাদের হত্যা করা ঠিক আছে? সচরাচর তাদের রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা? তিনি বিষয়টির সমর্থন দেননি কিন্তু তিনি সরাসরি না ও বলেননি। বিষয়টি অনুশোচনীয় যে সম্প্রতি বাংলাদেশে কিছু মানুষ এরকম হত্যার শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ‘নাস্তিক’ ব্লগার যারা জনসম্মুখে নিজের ধর্মে অবিশ্বাসের কথা স্বীকার করেছেন এবং কেন তারা ধর্মে অবিশ্বাস করেন সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তারা সরাসরি ইসলামের সমালোচনা করেননি কিংবা উপহাসও করেননি, তবে তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন যে ধর্মে বিশ্বাসটা অপরিহার্য নয়। তাদেরকে হত্যার জন্য কিছু মানুষের কাছে এটাই ছিল ছিল বিরাট কারণ।

গত বছর বাংলাদেশে চারজন হাই-প্রোফাইল ব্লাগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে তাদের হত্যার পর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে তা হচ্ছে হত্যার বিষয়টি নিয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একটি দেশ পরিচালনা করেন যে দেশে সাংবিধানিকভাবে বাক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং দেশটিতে সকল ধর্মের লোকেরা সমানভাবে বিবেচিত হবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লোকজনের সামনে হত্যার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ব্লগারদের কাজকে খারাপ বলে বক্তব্য দেন তখন বোঝা যায় তিনি বলতে চাচ্ছেন যে তারা হত্যার যোগ্য।

তিনি এ বিষয়টিও উল্লেখ করেন যে বিরোধী দল বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গী দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলাম এ হত্যায় যুক্ত। তবে দেশে ইসলামিক স্টেট কিংবা আল-কায়েদার উপস্থিতি থাকাকে অস্বীকার করেছেন তিনি।

বিদেশি কোনো ইসলামী জঙ্গী সংগঠন হত্যার ঘটনায় যুক্ত এমনটা স্বীকার করলে দেশ রক্ষায় তিনি ব্যর্থ এমনটা প্রমাণ পাবে এজন্য ঘটনাগুলোর দায় বিরোধী দলগুলোর উপর চাপানো তার রাজনীতির একটি ভালো দিক। কিন্তু হত্যাকারীদের প্রতি তার নিস্ক্রিয়তার কারণে চরমপন্থীদের হত্যার টার্গেট বাড়ছে।

এপ্রিলের ২৩ তারিখ খুন হন অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি একটি সাহিত্য ম্যাগজিনের সম্পাদনা করতেন এবং একটি গানের একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু কখনোই ব্লগ কিংবা ধর্ম নিয়ে কিছুই লিখেননি। নিজ কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময়ে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। তিনি ইসলামিক আচার-আচরণগুলো মেনে চললেও এমন কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন যেগুলো চরমপন্থীদের মতো অনৈসলামিক।

এর একদিন পর খুন হন সমকামী অধিকারকর্মী এবং সমকামী ম্যাগাজিনের সম্পাদক জুলহাজ মান্নান এবং তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়। সম্প্রতি আরও কিছু সহিংসতায় আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। এরমধ্যে ছিল শিয়া এবং আহমাদি মসজিদে হামলা, খ্রিষ্টান পাদ্রি এবং হিন্দুদের উপর হামলা।

সুতরাং বাংলাদেশের সমাজ কী আস্তে আস্তে এর পূর্বের শাসক পাকিস্তানের মতো হতে যাচ্ছে যে সমাজে সংখ্যালঘু বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে? দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ প্রশ্নের জবাব হ্যাঁ এবং এর এর দোষ মূলত বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতায় থাকা দুই নারী নেত্রীর উপর বর্তায়।

এই দুই নেত্রীর একজন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের বেঁচে যাওয়া দুই সদস্যের মধ্যে একজন শেখ হাসিনা। তিনি ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুন্থানে নিহত হন। অপরজন ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় ধর্ম ঘোষণা করা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিহত জেনারেল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালে এক সেনা অভ্যুন্থানে নিহত হন তিনি।

শেখ হাসিনার দল আওয়ামীলীগ ধর্ম নিরপেক্ষতাকে বহন করে, অপরপক্ষে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপির মূল সমর্থক রক্ষণশীল শিয়া মুসলিমরা। এই বিভেদটা প্রত্যেকটা ইসলামিক রাষ্ট্রেই আছে। কিন্তু গত ২৫ বছর যাবত পারস্পারিক ঘৃণা ছাড়নোর মাধ্যমে এই বিভেদটাকে আরও বড় করে তুলেছেন এই নেত্রী।

বিএনপি ইসলামিক দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় চরমপন্থীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা চলাচ্ছে এবং হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ইসলামিক অনুভূতিকে নিয়ে কূটনামী করে (ভোট না হারানোর জন্য) একইভাবে দল পরিচালনা করছেন। নি:সন্দেহে বাংলাদেশে সক্রিয় ইসলামিক স্টেট এবং আল-কায়েদা। বাংলাদেশ এখন গভীর সংকটে।

সিডনির অলিম্পিক পার্কে হতে যাচ্ছে বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব

ফজলুল বারী, সিডনি থেকেঃ বাংলা পঞ্জিকা-ইংরেজি ক্যালেন্ডার দেখে বাংলাদেশে-ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদযাপন হয়ে গেছে  ১৪ এপ্রিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এদিন ছিল কাজের দিন। সে কারনে এদেশের বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আগামী শনিবার ১৬ এপ্রিল যেমন ছুটির দিন দেখে গত শনিবার সিডনিতে একটি বৈশাখী মেলা হয়ে গেছে এখানকার টেম্পি পার্কে। আর ১৬ এপ্রিল যে বৈশাখী মেলাটি হবে সেটিকে বলা হয় বাঙালির দেশ বাংলাদেশের অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পৃথিবীর বৃহত্তম বাঙালি উৎসব-সমাবেশ!

এর কারন কী জানেন? দুনিয়ার বেশির ভাগ শহরে সভা-সমাবেশ হয় মিলনায়তনের ভেতরে। প্রচণ্ড শীত অথবা গরমের কারণে অনেক জায়গায় উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ করা যায় না। সংশ্লিষ্ট দেশ-কর্তৃপক্ষেরও অনুমতির বিষয় আছে। কিন্তু সিডনির এই বর্ষবরণের বৈশাখী মেলাটি হয় অলিম্পিক পার্কের মতো বিশাল ভেন্যুতে! এ উপলক্ষে শুধু সিডনি-ক্যানবেরা নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকি দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাঙালিরা আসেন সিডনিতে! এবং এই বাঙালি বলতে শুধু বাংলাদেশি বাঙালি না, ভারতীয় বাঙালিদেরও এটি সারা বছরের অপেক্ষার প্রাণের উৎসব। এ উৎসবে প্রায় সবাই বাহারি বৈশাখী রঙের জামা-কাপড়, শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসেন! বিদেশিরা অবাক হয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব দেখেন! আরেকটি তথ্য, অলিম্পিক পার্কের মতো ব্যয়বহুল ভেন্যুতে বৈশাখী মেলায় কিন্তু কেউ ফ্রি ঢোকেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ ডলারে টিকিট কেটে ঢোকেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় পঁচিশ হাজার বাঙালি। পার্কিং এর জন্যেও গুণতে হয় ১৫ ডলার করে। ভেন্যু থেকে এ দেশের পার্কিংগুলোও বেশ দূরে দূরে। সেখানে গাড়ি রেখে বিদেশে অনভ্যস্ত শাড়িপরা মেয়েরা বাচ্চাদের কোলে-কাঁধে নিয়ে অথবা স্ট্রলার ঠেলতে ঠেলতে হেঁটে আসেন অলিম্পিক পার্কে! প্রাণের আবেগ-টানটি এখানে কত ব্যাপক বুঝতে পারেন?

এবং প্রতি বছরই সিডনির এই বৈশাখী মেলার স্থান-সংকুলান নিয়ে আক্ষেপ-প্রশ্ন উঠছে বলে এবারের মেলাটি হচ্ছে আরও বড় ভেন্যুতে! এবার প্রথমবারের মতো বৈশাখী মেলা হবে অলিম্পিক পার্কের এএনজেড স্টেডিয়ামে! এর ধারন ক্ষমতা ৭৫ হাজার! গোটা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অত বাঙালি নেই। কিন্তু মেলা উপলক্ষে গোটা স্টেডিয়াম এলাকা জুড়ে যত বাহারি পণ্যের স্টল বসে, পান্তা-ইলিশ, পিঠাপুলি থেকে শুরু করে বই-শাড়ি-পাঞ্জাবি-লুঙ্গি-গামছা-ধুতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার নানা ব্যাংক, সেবা সংস্থা সহ নানান প্রতিষ্ঠানের স্টল-পসরা এখানে এক জায়গায় হয়, এবার ভেন্যুটি অনেক বড় হওয়াতে সবার চলাফেরা অনেক স্বচ্ছন্দের হবে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নানা সব বাহারি খাবারের পাশাপাশি কলকাতারও নানান স্টল থাকে মেলায়। এবার এএনজেড স্টেডিয়ামের বাইরেও স্টলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মূল সাংস্কৃতিক আয়োজনের মঞ্চটি থাকবে স্টেডিয়ামের ভিতরে।

আরেকটা মজার কথা বলি। দুনিয়ার নানান ভাষাভাষি-সংস্কৃতির মানুষজনের দেশ অস্ট্রেলিয়ার আর কোন জাতি-ভাষার মানুষের এতো বড় সমাবেশ কিন্তু এখানে সচরাচর হয়না। সে কারনে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকরা কিন্তু পারতপক্ষে এর দাওয়াত এড়াননা! এক জায়গায় এতো ভোটার! এবারের মেলায় সে কারনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী-বিরোধীদলের নেতা, নিউসাউথ ওয়েলস রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যোগ দেবার সম্ভাবনা আছে। গুরুত্বপূর্ণ সবাইকে পৌঁছে দেয়া হয়েছে মেলার দাওয়াত। প্রধানমন্ত্রী-বিরোধীদলের নেতা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দেশটিতে বসবাসরত বাঙালিদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বানী দিয়েছেন।  এসবের কারনে প্রশান্তপাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়ার বাঙালিদের গৌরবের আরেক নাম হয়ে গেছে সিডনির অলিম্পিক পার্কের এই বৈশাখী মেলাএটি এরমাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সঙ্গে বাঙালির। এর সংস্কৃতির।

কিন্তু এই মেলা একদিন আজকের মতো বড় ছিলোনা। বাঙালিও একদিন এতবেশি ছিলোনা এদেশে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে বাংলাদেশের বাঙালি ছিলেন মাত্র পাঁচজন! দিনে দিনে এখানে বাঙালির সংখ্যা যেমন বেড়েছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈশাখী মেলার পরিসরও। দুই দশক আগে ১৯৯৩ সালে সিডনির বারউড গার্লস স্কুল মাঠে সূচনা হয়েছিল এ মেলার। বাংলা সালটি ছিল ১৪০০ সাল। প্রথম মেলাতে দর্শক হয়েছিল মাত্র ২০০ জন। একটানা তের বছর সেখানে মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দিনে দিনে সেখানে স্থান-সংকুলানের সমস্যা বাড়ায় মেলাটি ২০০৬ সালের দিকে স্থানান্তর করা হয় সিডনি অলিম্পিক পার্কে। এখন প্রতি বছর মেলায় আসেন প্রায় পঁচিশ হাজার বাঙালি। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর ছাড়াও প্রতিবেশি নিউজিল্যান্ড থেকে অনেক বাঙালি আসেন। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাঙালিরা অস্ট্রেলিয়া আসার আগে জেনে নেন সিডনির বৈশাখী মেলার দিন-তারিখটিকেট কাটেন সেভাবেই।

মেলার আয়োজক বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি শেখ শামীমুল হক জানিয়েছেন, মেলা প্রেমিক বাঙালিদের ভোগান্তি এড়াতে এবার অনলাইনেও প্রবেশ ও পার্কিং টিকেট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাঙালিদের ব্যান্ড, শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও দাওয়াত করা করে আনা হয়েছে বাংলা গানের একজন স্বনামখ্যাত শিল্পীকে। তবে ফ্যাশন শো সহ নানাকিছুর নেতৃত্বে থাকবেন অস্ট্রেলিয়াবাসী বাঙালি প্রিয় প্রজন্ম।  উল্লেখ্য অলিম্পিক পার্কের সব আয়োজন পরিচালনা করে ভেন্যু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি। স্টল সজ্জা, লাইটিং-সাউন্ড, মঞ্চ পরিচালনা, ভেন্যুতে প্রবেশ-পার্কিং, টিকেট বিক্রি, নিরাপত্তা সহ সবকিছুই এএনজেড স্টেডিয়াম অনুমোদিত ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানির মাধ্যমে করাতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে এই বৈশাখী মেলা শেষ হয় বর্ণাঢ্য আতশবাজির মাধ্যমে! প্রতিবছর ইংরেজি নববর্ষের উদযাপনে সিডনির অপেরা হাউসকে ঘিরে আতশবাজির উজ্জ্বল ছবিটি সবার আগে পৃথিবীব্যাপী বর্ষবরনের প্রথম ছবি হয়। মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় সেই আতশবাজিতে। সেই একই শহর সিডনিতে বাঙালির বর্ষবরন পর্বও শেষ হয় উজ্জ্বল আতশবাজিতে! অলিম্পিক পার্কের আশেপাশের কয়েক বর্গ কিলোমিটার এলাকার লোকজন জানেন এখানে বর্ষবরন হচ্ছে বাঙালির! ভাবা যায়! এসবই কিন্তু এখন অস্ট্রেলিয়াবাসী বাঙালিদের সত্যি বাস্তব। বিশ্ববাসী বাঙালিরা ভাগীদার এই গৌরবের

[email protected]

একইসাথে হামলা হতে পারে লন্ডনের ১০ স্থানে!

ঢাকা: যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দিন দিন বাড়ছে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা। কর্তৃপক্ষের ধারণা, যে কোনো সময় প্যারিসের মতো হামলা হতে পারে শহরটিতে। দেশটির একজন মন্ত্রীর বরাত দিয়ে স্থানীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, লন্ডনে একইসাথে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। আর এজন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও।

নাম না প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম সানডে টাইমসকে ওই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একসাথে তিনটি হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। তবে প্যারিসের হামলা প্রমাণ করে আমাদের আরো বেশি প্রস্তুতি থাকা দরকার। সাত, আট, নয় কিংবা ১০টি হামলা মোকাবেলার জন্যও এখন আমরা প্রস্তুত।’

অগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অভিযান চালাতে আদেশ দেয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিকে। হামলা মোকাবেলায় সব সময়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশ ও বিশেষ বিমান বাহিনী (এসএএস)। আর তাদের সহায়তার জন্য আছে সেনা রেজিমেন্ট।

রাসায়নিক কিংবা জৈবিক বোমা হামলা রুখতে অক্সফোর্ডশায়ারে একটি বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম গঠন করছে সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন ইউনিট। হামলা ঠেকাতে সম্প্রতি এসএএসের একটি মহড়াও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এমনকি যুক্তরাজ্যের জেলে বন্দী চরমপন্থী ও জঙ্গিদেরও রাখা হয়েছে বিশেষ নজারদারীতে।

কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অমুসলিম কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালাতে পারে বন্দী সন্ত্রাসীরা। প্যারিস হামলার প্রধান সন্দেহভাজন আবদেসালামকে গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তার ব্যাপারে আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কারণ গ্রেপ্তারের সময় গুলি ছুড়েছিল আবদেসালাম। একটি তদন্ত সূত্র জানায়, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার মতো ভয় এখন নেই।

এক ‘সন্ত্রাসী’র ভয়ে আইফেল টাওয়ার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ।। এক ‘সন্ত্রাসী’র ভয়ে ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টাওয়ারের আশপাশ থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তাবাহিনী ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। রবিবার এক সন্দেহভাজন ‘সন্ত্রাসী’ আইফেল টাওয়ারে উঠেছে এমন সংবাদে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফরাসি পুলিশের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন যে ব্যক্তিকে টাওয়ারে উঠতে দেখা গেছে তার কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো ছিল। স্থানীয় সময় ৯টায় অ্যালার্ম বাজলে পুলিশ দ্রুত ওই স্থানে যায়। হেলিকপ্টারের সাহায্যে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফ্রান্সে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে আইফেল টাওয়ারেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

হল্যান্ড বাংলাদেশ দুতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও হল্যান্ড আওয়ামী লীগের যোগদান

হল্যান্ড: দি হেগস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস গত রোববার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ পালিত হয়েছে। হল্যান্ড আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংকৃতিক ও প্রবাসী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


বিজয় দিবস পালনের শুরুতেই পবিত্র কোরাআন থেকে তেলোয়াত পাঠ করেন মুহাম্মাদ মাসুদ ও গীতা পাঠ করেন উত্তম কুমার এর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ০১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্টপতি আব্দুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাপ্ত বাণী, পররাস্ট্র মন্ত্রী আ.হ মামুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলম এম পি প্রাপ্ত বাণী পাঠ করে শুনান দুতালয় প্রধান ইসতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।

বিজয় দিবসের তাৎপর্য আলোচনা বক্তব্য রাখেন, হল্যান্ড আওয়ামী সহ-সভাপতি জাকিরুল হক টিপু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবদীন। বক্তারা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লক্ষ্য শহীদ ও দু লক্ষ্য মা বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে কৃতজ্ঞতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, একমাত্র আপনার এবং আপনার সরকারের দাড়াই সম্ভব হয়েছে সেই ৭১ এর ঘাতক পরাজিত ঘির্ণিত জাতি শত্রু খুনি, রাজাকার, আল সামস ও আল বদর যুদ্ধপরাধীদের বিচারিক কাজ চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে এসে সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন আমরা প্রবাসীরা এই জন্য গর্ব বোধ করি।

murad-holland-awamiligue-in-fron-of-building
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের আরো উপস্থিত ছিলেন, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টুকু খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশীদ রানা সহ আরো অনেকে। টেলিফোন বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাঈদ ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন, এমরান হোসেন, সন্দীপ দাস, নান্টু মৃধা, যুগ্ম-ধারণ শ্যামল শীল, জসিম উদ্দিন,

ইমিগ্রেশন সম্পাদক দেওয়ান উজ্জল, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক বিষ্ণু বিস্বাস, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল বাবুল, যুব ক্রীড়া সম্পাদক শামীম আক্রাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নীপু দাশ ও কোষাধ্যক্ষ লক্ষন সরকার ও উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য জনাব মতিউর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় তাতে গান পরিবেশ করেন, ফাল্গুনী আপা, মিসেস ইসতিয়াক উদ্দিন, মিসেস উত্তম কুমার। বিজয় দিবসে উপস্থিত সকলেই করতালির মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং শেষ পর্যায় আমন্ত্রিত অথিতিদের জন্য আপ্যায়ন ব্যবস্থা করা হয়।

সংবাদ, মুরাদ খান, হল্যান্ড।