সেরা অভিনেতা মোশারফ করিম, গৌরনদীর গর্ব

গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর শামীম খলিফাই হচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান তারকা মোশারফ করিম। ছোট বেলা থেকেই চঞ্চল ও দূরান্তপনা পাশাপাশি এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে চলাই ছিল তার কাজ। গ্রামে থাকাকালীন সময়ের অধিকাংশ সময়ই নদীর তীরে আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছেন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তারকা মোশারফ করিমের গ্রামের বাড়ি ও বন্ধুদের হতাশার কথা ভক্তদের মাঝে তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

গৌরনদী উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার প্রত্যন্ত পল্লী ঐতিহ্যবাহী নলচিড়া ইউনিয়নের বোরাদী গরঙ্গল গ্রামে তার জন্ম। ১৯৮০ সালে পিংলাকাঠ চিপারটাইপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাশ করে পিংলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। গ্রামের বন্ধুবান্ধব, সহপাঠ, শিক্ষক ও পারিবারিক সদস্যদের দেয়া তথ্য মতে ছোট বেলা থেকেই মোশারফ করিম অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সব সময় দূরান্তপনা ও আড্ডা দিতেই বেশী পছন্দ করেন।

সোমবার সকালে নলচিড়া ইউনিয়নের বোরাদী গরঙ্গল গ্রামে রওয়ানা হলে পিংলাকাঠী হাইস্কুলের পূর্ব পাশ পর্যন্ত যাওয়ার পরে তারকা মোশারফ করিমের বাড়ি যেতে প্রায় আধা কিলোমিটর পথ বাড়ি দিতে হয়। বাড়ি পর্যন্ত যেতে ওই আধা কিলোমিটার পথ কোন রাস্তা নেই। অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে হাটু কর্দমাক্ত পথ বাড়ি দিয়ে বাড়িতে পৌছতেই ঘরের কোনে একটি সিঙ্গেল বাঁশের সাকো পাড় হতে হয়। বাড়িতে পৌছতেই দেখা যায় পুরানো একটি দোতালা টিনের ঘর। বাড়িতে জনমানব শুন্য। দেখলেই বোঝা যায় এ বাড়িতে কেহই থাকেন না। হয়তো বছরের মাঝে মধ্যে দু এক দিন কোন মেহমান রাত যাপন করে থাকেন।

মোশারফ করিমের বাড়ির পাশের জুলহাস(৪০) জানান, এ বাড়িতে কেহ থাকেন না। প্রতি বছর ঈদে শামীম খলিফা (মোশারফ করিম) বাড়িতে এসে ১/২দিন থাকেন এবং জমিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে আনন্দ ফূর্তি করে সময় কাটিয়ে ঢাকায় চলে যান। করিমের প্রতিবেশী ভাবি ফিরোজা বেগম(৬০) বলেন, ও(করিম) প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন এবং হৈ হুল্লর করে বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটান। গ্রাম ঘুরে দেখেন, এ বাড়িতে থেকে ও বাড়িতে ছুটে সবার খোজ খবর নেন। পুরো গ্রামটি মাতিয়ে রাখেন।

তিনি আরো বলেন, শামীম খলিফার সবচেয়ে পছন্দ হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর শাখা নদী পালরদী নদীর তীরে আড্ডা দেওয়া ও নদীতে গোসল করা। বাড়িতে এসেই প্রথমইে ছুটে যান শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত নদীর তীরে। গ্রামের লোকজন জানান, শামীম বাড়িতে আসলে যে কয় দিন থাকেন প্রতিদিন শত শত ভক্ত, বন্ধুবান্ধব হিতাকাঙ্খী বাড়িতে ভীড় জমায় কিন্তু শামীম সকলের সঙ্গে সৎ আচরন করে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। ধনী গরীব সকলের সঙ্গে সমহারে কোলে টেনে নেন। বিন্দুমাত্র হিংসা বিদ্বেশ নেই।

এবার ঈদে শামীম বাড়িতে না আসার খবরে গ্রাম জুড়ে হতাশ। পিংলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(অবঃ) মো. বজলুর রহমান বলেন, শামীম খলিফা ছোট বেলা থেকেই দুষ্ঠ প্রকৃতির হলেও সে ছিল খুবই মেধাবী। মানব দরদী। আজও সেই ধারা সে ধরে রেখেছেন।

করিমের বাড়ির অদূরেই বড় বোন হেলেনুর রহমান নিজ বাড়িতে বাস করেন। ওই বাড়িতে গেলে হেলেনুর রহমান জানান, তারা ৫ ভাই ৫ বোনের মধ্যে শামীম খলিফা (মোশারফ করিম) ৪র্থ। তার বাবা করিম খলিফা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক এবং মমতাজ বেগম ছিলেন একজন গৃহীনী। তিনি বলেন, শামীম ছিলেন গ্রামের সেরা দুষ্টু, তার পছন্দের একটি দিক ছিল বন্ধুদের নিয়ে স্কুল মাঠে আড্ডা দেওয়া। নদীর তীরে ছুটে চলা। করিমের কাছের বন্ধুরা অনেকেই ঢাকায় বসবাস করেন।

গ্রামের লোকজন ও এলাকাবাসী জানান, মোশারফ করিম দেশের গর্ব। তার বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা বা পথ নেই। সে বাড়িতে আসলে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ বাড়িতে ভিড় জমায়। বাড়িতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মান করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

এবারে বাড়িতে ঈদ করতে আসতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে মোশারফ করিম বলেন, গ্রামের সকল আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ভক্তদের প্রতি ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ঈদ সকলের জন্য কল্যান বয়ে আনুক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের আক্ষেপ, সাউদের খালপাড়ে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ

এনায়েত হোসেন মুন্না ॥ টগবগে যুবক আলী হোসেন মোল্লা। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার জহরগান্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে এসএসসি পাশ করেন। পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি গৌরনদী কলেজে একাদশ শ্রেনির মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া পর কলেজে সুবিধামত যাতায়াতের জন্য ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের মোঃ জয়নাল আবেদীন মিয়ার বাড়িতে গৃহ শিক্ষক হিসেবে থেকে পড়াশুনা শুরু করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ২৫ এপ্রিল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর সাউদের খালপাড় (কটকস্থল) নামকস্থানে পাক সেনাদের সাথে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ওই দিন আলী হোসেন মোল্লা নিজের জীবন বাজি রেখে পাক সেনাদের বুলেট থেকে তার গৃহকর্তার ছেলেকে রক্ষা করেন। শুধু তাই নয় দেশ ও মাত্রিকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দেশ স্বাধীন করেন।

গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার বান্দাবাড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৫২ সালের ১০ ডিসেম্বর আলী হোসেন মোল্লা জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোঃ কফিল উদ্দিন মোল্লা, মাতার নাম বড় বিবি। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মোল্লা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ২৫ এপ্রিল পাক সেনাদের সাথে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর সাউদের খালপাড় (কটকস্থল) নামকস্থানে। সেইদিনের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সাতজন পাক সেনা নিহত ও পাক মিলিটারীদের ছোঁড়া বুলেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঠৈ গ্রামের সেনা সার্জেন্ট সৈয়দ আবুল হাসেম, বাটাজোরের মোক্তার হোসেন, গৈলার আলাউদ্দিন সরদার ওরফে আলা বক্স ও চাঁদশী গ্রামের পরিমল মন্ডলসহ ঘটনাস্থলেই ১৫ জন এলাকাবাসী শহীদ হন। এ সময় পাক সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তান্ডবসহ হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেনাবাহীর তান্ডবে এলাকার লোকজন বাড়ি ছেলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য ছুটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় আমার (আলী হোসেন) গৃহকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদ্দীন মিয়ার ছোট ছেলে (মাত্র ৬ মাস বয়স) মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়াকে নিয়ে তার মা কি করবেন দিশে হারা হয়ে পরেন। এক পর্যায়ে কোন উপায়ন্ত না দেখে আমি গিয়াস উদ্দিনকে কাধে করে নিয়ে দৌড়ে পালাতে থাকি। এর মধ্যে ফাক সেনাদের হামলার মুখে পরি। আমি গিয়াস উদ্দিনকে আমার কাছে আমানত হিসেবে ভেবে তাদের বাড়ি পাশে ডোবার মধ্যে গিয়াসকে বুকের মধ্যে রেখে শুয়ে পরি। পাক সেনাদের গুলি বিদ্ধ হলে আমি হব। এ পরে উত্তরমাদ্রা গ্রামের সমদ্দার বাড়ির পাশে সাউদেরখালপাড়ে পৌঁছলে পাক সেনাদের বহরের সামনে পরি। এ সময় পাক সেনারা আমাকে লক্ষ করে এলোপাথালী গুলি ছুরতে থাকে। আমি কোন উপায়ন্ত না দেখে খালের পাশে লডা ক্ষেতের মধ্যে অবুঝ ছোট্র শিশুটিকে নিয়ে অনেক কষ্টে আশ্রয় নেই। পাক সেনারা আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে অন্যত্র চলে যায়। পরবর্তীতে আখ ও সুতা ক্ষেত, খাল, বিল পারি দিয়ে ছোট্র শিশুটিকে নিয়ে রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামে এক বাড়িতে আশ্রয় নেই। সে খানে দুই দিন পর গিয়াস উদ্দিনের মাকে খুজে বের করে তার হাতে দিয়ে পায়ে হেটে আমার গ্রামের বাড়ি কোটালীপাড়ার বাড়িতে আসি। এক দিন পর দেশ ও মাত্রিকার টানে আমি ও আমার চতুর্থ ভাই মোসলেম উদ্দিন মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভারতের বিহার ক্যাম্পে যাই। সেখানে ট্রেনিং শেষ করে দেশে ফিরে হেমায়েত বাহিনীর সাথে কোটালীপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করি। সে দিনের কথা মনে পড়লে আজো আমার গা শিয়রে উঠে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পরেও শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সাউদের খালপাড়ে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। ভয়াবহ দিনটিকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন আরো বলেন, আমি মরার আগে যেন ওই স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ দেখে যেতে পারি।

আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অতন্দ্র প্রহরি

মোঃ আহছান উল্লাহঃ আধুনিক বরিশাল গরার সপ্ন পুরুষ দেশের কৃষককুলের নয়নমনি বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ,আইনবীদ,সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী মন্ত্রী স্বাধীনতাযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি শহিদ আবদুর রব ছেরনিয়াবাদের যোগ্য উত্তর সূরি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অতন্দ্র প্রহরি পার্বত্য শান্তিচুক্তির প্রনেতা জাতীয় সংসদের বরিশাল এক আসনের (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা) বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক চীপ হুইপ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সফল রাজনৈতিক পরিবার।

আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুছলিম পরিবারের সদস্য সর্বজন শ্রদ্ধ্যেয় আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাগীনা, বর্তমানে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সকলের কাছে তিনি সমাদৃত । যিনি চলমান রাজনীতিক জীবনে স্বজন হাড়ানোর ক্ষত, শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে তিল তিল করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শর সোনার বাংলা গঢ়ার নিবেদিতপ্রান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে গভীর থেকে গভীর সরযন্ত্র উপেক্ষা করে বরিশালসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলের তৃনমূল পর্যায়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের হৃদয় জয় করেছেন সে জন্যই তিনি বঙ্গবন্ধু আদর্শের অতন্দ্র প্রহরি।

৭১ এর মুজিব বাহিনীর বরিশাল বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হাতের ছোঁয়ায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে রুপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কর্মজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন একাগ্রচিত্তে। এ অঞ্চলে নিজস্ব কিংবা সরকারি অর্থায়নে নির্মান করছেন হাসপাতাল,বৃদ্ধাশ্রম,স্কুল-কলেজ,টেক্সটাইল কলেজ, সাইক্লোন সেন্টার, মসজিদ-মন্দির ব্রিজ রাস্তাঘাট ছিন্নমূল অসহায় মানুষের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল কল কারখানা করার জন্য বিভিন্ন ব্যসায়ীদের সাথে ফলপ্রসু আলাপ আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন ।

স্বাধীনতার পর থেকে এ এলাকায় আঃলীগকে বিভিন্ন কারনে চ্যালেজ্ঞের মুখে ফেললেও বর্ষীয়ান এ নেতা বঙ্গবন্ধু আদর্শের অতন্দ্র প্রহরি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর গঠন মূলক চিন্তাকর্ষনের ভীতর দিয়ে সক্রীয়ভাবে এগিয়ে চলছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলের আঃলীগের রাজনীতি। সমমূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে শান্তিপ্রিয় সহাবস্থানের রাজনীতির চেষ্টা করে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। ৭৫ বছর বয়সেও তিনি থেমে নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিনত হবে সে লক্ষেই তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ মানবকন্ঠকে জানান বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কথাটা কিন্তু দার্শনিক দৃষ্ঠি কোন থেকে দেখতে হবে প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার এই অপার সম্ভাবনাময় দেশটাকে একটি সূখি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার যে সপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর সে আলোকেই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্ব দরবারেও অনেক গুরুত্ব বহন করছে। তাছারা স্বপ্নের পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের মধ্যো দিয়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার এক আমূল পরিবর্তন ইতমধ্যে শুরু হয়েছে। আর অনেক পুণ্যত্মার এই বরিশালে আমার বাবা শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাদসহ অনেক মহা পুরুষের জন্মস্থান এই বরিশাল পুণ্যত্মা মহপুরুষরা যুগে যুগে এসেছেন কর্মের মাধ্যমে সেবার মাধ্যমে মানুষকে উদ্দীপ্ত করেছেন আলোর পথ দেখিয়েছেন। আমারও জন্ম এ মাটিতে তাই এ জনপদের মানুষের কল্যানে যেন আমাকে নিবেদিত করে যেতে পারি মৃতুর আগমূহুর্ত পর্যন্ত সে আশাই করছি আল্লাহতায়ালার কাছে।
বর্ষিয়ান এ নেতার পরিবারটির রাজনৈতিক সফলতা নিয়ে গৌরনদী পৌরসভার বারবার নির্বাচিত মেয়র তরুন রাজনীতিক সু-সংগটক গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হারিছুর রহমান জানান, বর্ষীয়ান এ নেতা শুধু নিজেই নন পরিবারের সব কয়জন সদস্যই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর রাজনীতিকে সুসংগঠিত করার লক্ষে মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। এক কথায় পুরো পরিবারটিই যেন রাজনীতির জন্য উৎসর্গিত। একটি কথা না বললেই নয় তার সহ-ধর্মীনি বেগম শাহান আরা আব্দুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ এর সিনিয়র সভাপতি এবং আওয়ামীলীগ এর দূর্দিনে দলীয় নেতা কর্মীদের নিজ সন্তানের মত আগলে রাখার ইতিহাস কখনোই ভোলার মত নয়। বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তার সাংগঠনিক কর্মপ্রেরনা যেন বরিশাল মহানগরের এক জনপ্রিয় ব্যাক্তিতে পরিনত করেছে আগামী বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। মেজো ছেলে সেরনিয়াবাত মঈন আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য,সবার ছোট সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ এর কার্যনির্বাহী সদস্য। আশিক আব্দুল্লাহ গৌরনদী আগৈলঝাড়া তথা পার্শবর্তী বিভিন্ন উপজেলায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।

বর্ষীয়ান এ নেতার বড় বিচিত্র জীবন যে জীবনে ছিল যেমন দুঃখ-কষ্ট তেমনী ছিল আত্মপ্রত্যয়। কঠোর থেকে কঠোর পরিশ্রম পরম ধৈর্য আর সহিষ্ণুতা দিয়ে যেমন নিজ জীবনকে চালিয়েছেন আমাদেরকেও সে ভাবে চলার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। দুঃখের তিমির পেড়িয়ে তিনি অর্থ-বিত্ত ঐশ্বর্যের সন্ধান করেননি।

সমাজের সকল ক্ষেত্রেই ছিল তার আন্তরিক সহযোগিতা তিনি কখনও কারো প্রতিপক্ষ হতে চাননি সবসময় তিনি ভালো কাজের সহযোগী এজন্যই তিনি অনন্য-অসাধারণ একজন মানুষ।

সবচেয়ে বেশি অর্থ রোনালদোর, দ্বিতীয় মেসি

একটিও শিরোপা না জিততে পারলেও ২০১৫ সালে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফোর্বস সাময়িকীর হিসেবে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে পাঁচটি শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি।

রোনালদো গত বছর মোট ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার পান। এর মধ্যে বার্ষিক বেতন ও বোনাস ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ২ লাখ ৯০ লাখ ডলার তিনি পান এন্ডোর্সমেন্ট থেকে। তিন বারের বর্ষসেরা ফুটবলার ৩১ বছর বয়সী রোনালদো সব ধরনের দলীয় খেলাগুলোর মধ্যেও সর্বোচ্চ অর্থ পাওয়া খেলোয়াড়।

২০০৯ সালে ৮ কোটি পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়ালে নাম লিখিয়ে সেই সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড়ে পরিণত হওয়া রোনালদো ২০১৩ সালে স্পেনের সফলতম ক্লাবটির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করেন। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জেতা মেসি গত বছর মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার পান।

২০১৪ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা ২৮ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড বেতন ও বোনাস থেকে পান ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর এন্ডোর্সমেন্ট থেকে আসে বাকি ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পোর্টিং লিসবন দিয়ে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা রোনালদো তার ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৫ কোটি ডলার আয় করেছেন। আর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলা মেসি তার ১১ বছরের ক্যারিয়ারে পান মোট ৪৫ কোটি ডলার

সৌজন্যে:ইত্তেফাক

সিপাহী আলাউদ্দিন

১৯৪৬ সালের ১৬ জানুয়ারী বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার সুজন কাঠি গ্রামে সিপাহী মোঃ আলাউদ্দিন জন্মগ্রন করেন । তার পিতার নাম আবুল হাসেন এবং মাতার নাম ভানু বিবি।

১৯৬৪ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ মোঃ আলাউদ্দিন সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে সিপাহী আলাউদ্দিন দেশকে শত্রু মুক্ত করার জন্য মুক্তি বাহিনীতে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল ৯ নং সেক্টরে যুদ্ধ চলাকলীন বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে শাহাদাৎ বরন করেন।

শহীদ সিপাহী আলাউদ্দিন এর দেহ গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।